আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ—এই দুই খাতকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার মতে, এই দুটি বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের অন্যান্য অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধানের পথে আসবে। শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান। তারেক রহমান বলেন, প্রথমেই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলা। মানুষ যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে—আপনি, আমি, সবাই। এটা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। দুর্নীতিকে দেশের অগ্রগতির বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি নানা রকম, নানা স্তরে আছে। যেভাবেই হোক, এটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। যদি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিকে ভালোভাবে মোকাবিলা করা যায়, তাহলে বাকি সমস্যাগুলোর অনেকটাই স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। এটা আমার পরিকল্পনা। আলোচনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে স্বামীহারা নারী ও সিঙ্গেল মাদাররা এ কার্ড পাবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ১৩৮টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু রেখেছে। কিন্তু এগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে না। কোথাও একজন তিনটি সুবিধা পাচ্ছে, আবার কোথাও কেউ একটাও পাচ্ছে না। এতে রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও সার্বজনীন করার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ডকে ইউনিভার্সাল করতে চাই। যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এর আওতায় আসে। উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, একজন কৃষকের স্ত্রী যেমন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রীও পাবেন, আবার একজন অফিসিয়াল কর্মচারীর স্ত্রীও পাবেন। সবাই যেন একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আসে— এটাই লক্ষ্য। নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুবিধা সেখানে থাকবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভারে হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল কস্টলি এবং জায়গা বেশি নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধা। ছোট ছোট বগি এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় এটিকে কানেক্ট করা যায়। প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন তরুণরা। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখতে পারি। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে জনগণের ভাবনা ও প্রস্তাবকে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার লক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ১১টি বিষয়ের ওপর এক মিনিটের রিলস বানানোর এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে জনমত (৩০% মার্ক) ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে (৭০% মার্ক) ১০ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত এই ১০জনই আজ তারেক রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার সুযোগ পান।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নতুন প্রজন্মের এক শ্রেণির নেতার ‘অহংকার’ ও ‘অযোগ্যতা’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেছেন এনসিপির সাবেক শীর্ষ নেত্রী তাজনুভা জাবীন। তাঁর মতে, দেড় বছরের মাথায় এই নতুন নেতারা সাধারণ মানুষের ঘৃণার সেই পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন, যেখানে পৌঁছাতে পুরনোদের যুগের পর যুগ লেগেছে। এক ফেসবুক পোস্টে তাজনুভা জাবীন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন: নেতৃত্বের বিচ্যুতি: “হওয়ার কথা ছিল গণ-অভ্যুত্থানের নেতা, হয়ে গেছে ওবায়দুল কাদের আর শওকত ওসমান।” শহিদদের রক্তের অবমাননা: হাজারো মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে একেকজন ‘উদ্ধত’ ও ‘বেয়াদব’ নেতা বের হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিছু প্রার্থীর আচরণ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন: “একেকজনের বক্তব্য দেখতেসি আর নিজেকে বিশ্বাস করাচ্ছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গর্ভ থেকে কোন লেভেলের ধান্দাবাজ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কথা বলার সময় এই অহংকার, এই দাম্ভিকতা পরিষ্কার প্রমাণ এদের দৈন্যতা সম্পর্কে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেও নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে এদের অবস্থান ‘ঘোড়ার ডিম’। নিজের চোখে না দেখলে এরা যে কতটা ‘অসহনীয় পর্যায়ের অযোগ্য’ তা বিশ্বাস করা কঠিন বলে তিনি দাবি করেন। তাজনুভা জাবীন তাঁর লেখায় স্পষ্ট করে বলেন যে, পুরনো চাঁদাবাজ বা ধর্ম ব্যবসায়ীদের চেয়েও বড় বিপদ হলো এই ‘নতুন ধান্দাবাজরা’। তিনি বলেন, “বাকিদের মানুষের ঘৃণা কামাইতে যুগের পর যুগ লাগছে, এরা দেড় বছরে ওই পর্যায়ে চলে গেছে।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে যে দলটি আজ ভোট চাইতে আসছে, তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের ১৯৭১ সালের কথা মনে আছে, যুদ্ধের কথা মনে আছে। আমরা নিজেরাই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদের হয়ে যুদ্ধ করে দেয়নি। আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। কিন্তু যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসছে। আপনারাই বিচার করুন, তারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল নাকি বিপক্ষে। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যা হবে মা–বোনদের একটি কার্যকর অস্ত্র। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাই। আপনারা যখন আমাকে সমর্থন করেন, তখন আমি সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করি। পথসভায় উপস্থিত কয়েকজন ভোটার মঞ্চে উঠে বিগত সময়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুলের সময়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তারা কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধিতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে নতুন উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা জানান। নির্বাচিত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর প্রতিশ্রুতিকে ভোট কেনার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা-১১ আসনের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর ও নূরেরচালা এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন: মিথ্যা আশ্বাস: মানুষ আগে অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনেছে, যা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ভোটাররা এখন আর এসবে বিশ্বাস করছে না। জনগণের সাড়া: মাঠের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, মানুষ এসব কার্ডের প্রলোভনে ওতটা সাড়া দিচ্ছে না। প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না, তার বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা থাকা জরুরি। ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন: ব্যানার ছেঁড়া: “আমরা আচরণবিধি মেনে ব্যানার টাঙালেও আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।” ভীতি প্রদর্শন: নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে যাতে মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসতে দ্বিধা করে। তবে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই ভোট নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির নাম উল্লেখ না করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল বেড়েছে। তিনি বলেন: “ভূমি দখল আওয়ামী লীগের আমলেও হয়েছে, এখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা সেই ধারা বজায় রাখছেন। তাঁরা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকলেও আমাদের কাছে এই সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।” নাহিদ ইসলাম মনে করিয়ে দেন যে, এবারের সাধারণ নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাই মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, সেদিকেই নজর দিচ্ছে ১০ দলীয় জোট। এদিন সকালে শাহজাদপুর বাঁশতলা, নূরেরচালা বাজার ও নবধারা সড়ক এলাকায় প্রচারণার সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং ১০ দলীয় ঐক্যের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি অমান্য করে প্রচারণা চালিয়েছেন সারজিস আলম। অভিযোগগুলো হলো: অবৈধ তোরণ নির্মাণ: নিয়মবহির্ভূতভাবে জনসভার জন্য বিশাল তোরণ নির্মাণ করা। অতিরিক্ত বিলবোর্ড ও ব্যানার: নির্বাচনী প্রচারণার নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে যত্রতত্র বিলবোর্ড এবং বড় আকারের ব্যানার স্থাপন করা। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপের পোস্টার এবং ব্যানার ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সারজিস আলমের পক্ষ থেকে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সারজিস আলম বা তাঁর নির্বাচনী প্রচার টিমের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় এনসিপি ও জোটের নেতাকর্মীদের দাবি, এটি জনসভার সাজসজ্জার অংশ ছিল, সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে নয়।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পড়াশোনাকে শিশুদের কাছে ‘বোঝা’ নয় বরং ‘আনন্দ’ (Fun) হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে এক অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাকে কেবল বইবন্দি না রাখার ওপর জোর দেন। তাঁর পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো: খেলাধুলা ও সংস্কৃতি: শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, শিক্ষাব্যবস্থায় আর্ট, কালচার এবং খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি খেলাধুলাতেও পাশের নিয়ম থাকবে। ডিজিটাল আসক্তি রোধ: পড়াশোনাকে আকর্ষণীয় করার মাধ্যমে শিশুদের ইন্টারনেটের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের মানোন্নয়ন: শুধু ভবন নির্মাণ নয়, শিক্ষকদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে যাতে তাঁরা শিশুদের সঠিক সামাজিক মূল্যবোধ শেখাতে পারেন। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে তৈরিকারক ও ক্রেতার মধ্যকার অনৈতিক মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৃষককে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে যাতে পণ্য পরিবহনে খরচ কমে এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে। ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে তারেক রহমান নতুন একটি ধারণা পেশ করেন: স্যাটেলাইট টাউন: চাকরি ও সেবাকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে শহরের বাইরে আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে। মনোরেল: তারেক রহমানের মতে, মেট্রোরেল ব্যয়বহুল এবং বেশি জায়গা নেয়। এর বিকল্প হিসেবে ঢাকার অলিগলিতে ছোট বগির ‘মনোরেল’ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে মেট্রোরেলের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিদেশে তরুণদের অদক্ষ অবস্থায় না পাঠিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে পাঠানোর কথা বলেন তিনি। এছাড়া সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখার আশ্বাসও দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তারেক রহমান জানান, সরকারের বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সামাজিক সুবিধাকে একীভূত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে। দুর্নীতি রোধ এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান ভিত্তি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বড় কাজ নয়, বড় মন এবং ভিশনের দরকার। আমাদের চুরির টাকাগুলো যদি আমরা ফেরত পাই আর নতুন চোরদের হাত যদি অবশ করে দিতে পারি, বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে।’ উত্তরবঙ্গের নদী নিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলা আল্লাহর নিয়ামত। কিন্তু অতীতের ৫৪ বছরের সরকার এসব নদী সংরক্ষণ করেনি। একসময় যে নদীতে জাহাজ চলতো, সেখানে এখন সাধারণ নৌকাও চলাচল করতে পারে না। পানি উবে গিয়ে নদীগুলো এখন মরুভূমি, কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া এবং ব্রহ্মপুত্র- সবগুলোর একই অবস্থা।’ নদী মরে যাওয়া মানে আমাদের মাটি মরে যাওয়া উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সবার ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে মরা নদীগুলাদের ওপর। পুরো উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। এখানকার মানুষ সহজ সরল জীবনযাপন, অল্পেতুষ্ট, কঠোর পরিশ্রমী। তাদেরকে তাদের পরিশ্রমের জায়গাটা তৈরি করে দিতে হবে।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলাকে জীবন দেয়ার মহাপরিকল্পনা নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান। কারও লাল চক্ষুকে ভয় করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো আধিপত্যের ছায়া বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই। কারও ওপর খবরদারী করতে চাই না। আর কেউ এসে এই দেশের ওপর খবরদারী করুক তাও দেখতে চাই না। ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বন্দোবস্তে তৈরি হওয়া ফাসিবাদী শাসনও আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন। সেই আমূল পরিবর্তনের সময়টা দেশবাসীকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, ১২ ফেব্রুয়ারি।’ জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদ বাংলাদেশকে পরিবর্তন করে দিয়ে গেছে। ওরা কি চেয়েছিল? ওরা চেয়েছিল একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, একটা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ, একটা ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ, একটা আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ, একটা উন্নয়নের বাংলাদেশ। পরপর তিন তিনটা নির্বাচনে কেউ একটাও ভোট দিতে পারে নাই। যুবসমাজ তাদের জীবনেও একটা ভোট দিতে পারে নাই। এবার অনেক অপেক্ষার পর আগামী ১২ তারিখ আসছে। দিনটিতে শহীদদেরকে সম্মান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ারে অতীতের বস্তাপচা সব ব্যবস্থা যেন ভেসে যায়।’ সবাইকে সতর্ক করে তিনি বেলন, ‘নীল আকাশে মাঝে শকুনের ছায়া দেখা যায়। ওই শকুনের ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে পড়তে না পারে, এজন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন এই অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে রাজধানীর দিকে। কথা দিচ্ছি, ঘরে বসে উত্তরবঙ্গকে আপনারা রাজধানী বানাবেন। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেবো না। আমরা প্রতিটা তরুণ-তরুণীর হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করব। তাদেরকে বাস্তব শিক্ষা দিয়ে দক্ষতা তাদের হাতে তুলে দেবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ হচ্ছে খাদ্যের একটি ভান্ডার। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না। দুই কারণে পণ্যের মূল্য পায় না তারা। একটা- মধ্যস্বত্বভোগীরা এসে এখানে কামড় দেয়। আরেকটা- ঘাটে ঘাটে চাদাবাজরা অস্থির করে তুলে। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করবো। ডা. শীফকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ বলে নদী শাসন, শাসন করলে তো ওরা ভয় পাবে। নদীগুলো কান্নাকাটি করবে, দুঃখ পাবে। আমরা নদী আপন করে তুলে নিব, আমাদের সন্তান বানাবো প্রত্যেকটা নদীকে। সন্তানকে যেভাবে মানুষ লালন-পালন করে, আমরা নদীগুলাকে কোলে নিয়ে সেইভাবে লালন-পালন করব।’
হাতিয়া (নোয়াখালী): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন, এমন যে কেউ দেশের কল্যাণে এই জোটে অংশ নিতে পারেন। এমনকি সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যারা বিগত সময়ে কোনো জুলুম, নির্যাতন বা অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন না, তাদের জন্যও জোটের সাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) হাতিয়া উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের সাগরিয়া বাজারে গণসংযোগ শেষে এক বিশাল পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ তাঁর বক্তব্যে প্রবাসীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের এই যে নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসংযোগ সচল রয়েছে, তার পুরো কৃতিত্ব আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের। তাঁদের পাঠানো আর্থিক সহযোগিতার কারণেই আমরা প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে যেতে পারছি।” প্রবাসীদের এই ত্যাগের প্রতিদান দিতে তিনি এক যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দেন। হান্নান মাসউদ ঘোষণা করেন, “ইনশাআল্লাহ, যদি আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, তবে হাতিয়ায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ফ্রি যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা হবে। এটি হবে তাঁদের প্রতি আমার এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক নগণ্য সম্মাননা।” পথসভায় হাতিয়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, শাহবাগ থানা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহ্ মাহফুজুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি হাতিয়ার প্রধান সমন্বয়কারী শামছুল তিব্রিজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা হাতিয়াকে সব ধরণের দখলদারিত্ব ও মাফিয়াতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে হান্নান মাসউদকে জয়ী করার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হান্নান মাসউদের এই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ রাজনীতি এবং প্রবাসীবান্ধব পরিকল্পনা হাতিয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যা ব্যালট যুদ্ধে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্নচর) আসনে ধানের শীষ মনোনীত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের জমিদার হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বলেন, “মানুষ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে জনগণের সরকার হবে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ হবে এবং বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও বলেন, বিএনপি পরিবর্তিত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশের গুণগত পরিবর্তন এনেছেন, বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বে আসলে দেশ হবে জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা। সভায় শাহজাহান উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি, তাহলে আগামী নির্বাচন অর্থবহ ও শান্তিপূর্ণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।” তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অভাবগ্রস্ত ও অনগ্রসর নারী ও পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হবে। সভা এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ্যডভোকেট আবদুর রহমান, জেলা জজ আদালতের পিপি আ্যডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ ও সদস্য সচিব ভিপি জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বরং একটি গর্বিত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে আফগান, ইরান বা পাকিস্তান বানাতে চাই না; আমরা গড়তে চাই মদিনার মডেলে এক সাম্যের বাংলাদেশ।" শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০-দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন:"আমাদের কাছে মদিনার সনদের বাইরে আর কোনো মডেল নেই। সেই মডেলে প্রতিটি ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চায় না। তবে ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে বেকারত্বের অভিশাপ দূর করা এবং প্রতিটি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং সকল ধরনের অন্যায় সমূলে উৎপাটন করা হবে। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা 'লাল কার্ড' প্রদর্শনের মাধ্যমে জালিয়াতি ও অপশাসনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেন। রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ৫৪ বছরেও উত্তরাঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এ অঞ্চলের নদীগুলো মরে যাচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তিনি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন:"জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়ন করা। তিস্তা বাঁচলে উত্তরবঙ্গ বাঁচবে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।" উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকেই ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় (পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর) নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় তিনি রংপুরের জনসভায় যোগ দেন, যেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দেশবাসীকে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে দলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি প্রধান নির্বাচনী আইনের তোয়াক্কা না করে মধ্যরাতেও মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময়সীমা রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও তারেক রহমান মধ্যরাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করছেন। তিনি শুধু নিজেই নিয়ম ভাঙছেন না, বরং বিএনপির অন্য প্রার্থীদেরও আইন ভঙ্গের জন্য উৎসাহিত করছেন।” এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অনেক এলাকায় বিএনপি প্রার্থীরা নির্ধারিত মাপের বাইরে এবং নিষিদ্ধ স্থানেও পোস্টার ব্যবহার করছেন। নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন: সেনাবাহিনীর অবস্থান: কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘আশঙ্কাজনক’ বলে অভিহিত করেন। সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) প্রতি নমনীয় আচরণ করছে। তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।” এছাড়াও বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায়। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে দেশে প্রকৃত সুশাসন ও ইনসাফ কায়েম করা হবে বলে পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ খাতের বিশাল সিস্টেম লস এবং আমলাতন্ত্রের সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘তিনতন্ত্র’-এ আপলোড করা এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের গত ১৭ মাসে বিদ্যুৎ খাতে যে ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হয়েছে, তা দিয়ে দেশের মানুষকে কয়েক বছর বিনামূল্যে চাল খাওয়ানো সম্ভব ছিল। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে রনি এই আলোচনা শুরু করেন। শেখ বশিরউদ্দিন বলেছিলেন, পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে চালের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। এর জবাবে গোলাম মাওলা রনি বলেন: পদ্মা সেতুর খরচ: “পদ্মা সেতু একটি আইকনিক প্রজেক্ট, যেখানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর কারণে চালের দাম বাড়ার অজুহাত অযৌক্তিক।” সিস্টেম লসের অঙ্ক: তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত ১৭ মাসে বিদ্যুৎ খাতে যে ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হয়েছে, তা দিয়েই আরেকটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। এই বিপুল অর্থ অপচয় না হলে চালের দাম বাড়ার বদলে ২০ টাকা কমানো সম্ভব হতো। গোলাম মাওলা রনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই সিস্টেম লস অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই সরকারের আমলে কেন ৩৪ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম লস হলো? এই দায়ভার কার?” সরকারের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন: আমলাতন্ত্রকে সন্তুষ্ট করতে সরকার যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে, তাতে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। রনির ভাষ্যমতে, এই টাকা দিয়ে প্রতি বছর তিনটি করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে আমলাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে তিনি হঠকারী বলে অভিহিত করেন। রনি তাঁর ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাত দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, অথচ প্রশাসনিক অপচয় ও সিস্টেম লস রোধে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ‘ডাল-ভাত’ খাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার চেয়ে আমলাদের খুশি করা সরকারের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেড় দশকের ভোটাধিকার হরণ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির পর এবার জনগণের সামনে এসেছে নতুন এক সুযোগ। তিনি একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতি কড়া সমালোচনা ও দলের কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃঢ় আশ্বাস দেন। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগকালে ঠাকুরগাঁও–১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আগের রাতেই ভোট হয়ে যেত, জনগণ শুধু ফলাফল দেখেছে। এখন সেই অবস্থা বদলানোর সুযোগ এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “হাসিনা আপা চলে গেছেন ভারতে। তিনি ভারতে গেছেন, ভালোই করেছেন। কিন্তু এলাকার কর্মী-সমর্থকদের বিপদের মুখে ফেলে রেখে গেলেন কেন?” ফখরুল জানান, যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি হবে, আর যারা নির্দোষ তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের পাশে আছে। নিজের রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে ৭৮ বছর বয়সী বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি কখনো জিতেছেন, কখনো হেরেছেন, কিন্তু এলাকার মানুষকে কখনো ছেড়ে যাননি। এখনো মন তরুণ, সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যা সমাধানে আরও কাজ করতে চান তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা নয়, সবাই একসঙ্গেই বসবাস করে।” অন্য দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিই পরীক্ষিত দল, যা অতীতে উন্নয়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও নতুন স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ঢাকা–৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গণসংযোগের সময় নোংরা পানি ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মগবাজার মৌচাক মার্কেট ও বাংলা টিভির গলিতে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকের সময় পাশের একটি ভবন থেকে হঠাৎ তার ওপর নোংরা পানি ছুড়ে মারা হয়। কিছুক্ষণ পরেই ডিম নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ভিন্নমত দমন এবং ভয় দেখানোর এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র একজন প্রার্থী নয়, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।” হঠাৎ হামলায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজে সামনে এসে নেতাকর্মীদের শান্ত করেন এবং ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। রাজনীতির এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তাত্ক্ষণিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান উঠেছে।
একটি শক্তি বিদেশিদের গোলামী করে বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। যারা ভারতের পক্ষে তারা ভারতে পালিয়েছে। আরেকটি শক্তি বিদেশিদের গোলামী করে বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করছে। আমরা বাংলাদেশের শক্তি, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরে বেগম আয়েশা হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান সবার একই পরিণতি হবে-এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহিদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীনভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। এর আগে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান সালাহউদ্দিন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বিতীয় দিনে প্রচারণার শুরুতে লবণ শ্রমিকদের কাছে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। কুশলবিনিময়ের পর শ্রমিকদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেও উঠলেন তিনি। শ্রমিকদের সঙ্গে তুললেন সেলফিও। লবণমাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছিলাম। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবে। এখন অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের বলে আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করিয়েছি।’ নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’ কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ছরওয়ার আলম কুতুবী। জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৯ জন ও নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬২০ জন। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯০ জন। আর পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ জন। এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৫টি এবং মোট বুথ (কক্ষের) ১ হাজার ৬টি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভাষানটেকে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতায় গেলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। জনসভায় অংশ নেয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন। এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দিনে আমি-ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচন করে রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছিল। উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট হয়েছে। এটা আর হবে না। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়লাভ করলে আপনাদের সমস্যা দূর করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের স্ববলম্বি করব। বেকার সমস্যা দূর করব। তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসার জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জনসভাস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশের বেকারত্ব কমিয়ে আনা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনি এলাকা ভাসানটেকের বিআরপি মাঠে জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই বিআরপি মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমাবেশ শুরুর অনেক আগেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। ধানের শীষ প্রতীক হাতে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ভাসানটেক এলাকা।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির কোনো দলীয় প্রার্থী থাকছে না। এই শূন্যতা পূরণে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে এখন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনকেই সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জসিম উদ্দিন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এখন এই আসনে বিএনপি জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেন, “যেহেতু মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাই জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেবিদ্বারে জসিম উদ্দিনই হবেন আমাদের অভিন্ন প্রার্থী।” তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ এখনও হাল ছাড়তে নারাজ। তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। আগামী সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল শুনানি রয়েছে। যদি আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে, তবে নির্বাচনী সমীকরণ আবার বদলে যেতে পারে। এই আসনে লড়াই কিন্তু দ্বিমুখী নয়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ইতিমধ্যে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জসিম উদ্দিনকে পৃথকভাবে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান ইতিমধ্যে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। দেবিদ্বারের বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ): বিএনপি জোটের একাংশের সমর্থন নিয়ে ‘ট্রাক’ বা ‘চশমা’ (নিবন্ধিত প্রতীক অনুযায়ী) মার্কার দিকে নজর কাড়ছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি/১০ দলীয় জোট): জুলাই অভ্যুত্থানের ইমেজ ও জামায়াতের ভোটব্যাংক নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন। অন্যান্য: এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
উত্তরবঙ্গ কোনো দরিদ্র অঞ্চল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে এই জনপদকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই অঞ্চলই সারা দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি জোগায়।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ও সহযোগী দলগুলো সরকার গঠনের সুযোগ পেলে: বন্ধ চিনিকল: পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের বন্ধ থাকা সব চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ: প্রতিটি যুবক-যুবতীকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে যাতে উত্তরবঙ্গে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে না হয়। মেডিকেল কলেজ: উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড়বাসীকে আর ঢাকামুখী হতে হবে না; জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশে পাচার হওয়া প্রতিটি টাকা উদ্ধার করা হবে। কাউকে আর জনগনের সম্পদ লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াতের কোনো ‘কার্ড’ নেই, বরং দেশের সাধারণ মানুষই তাদের শক্তির উৎস। জনসভার এক পর্যায়ে জামায়াত আমির পঞ্চগড়-১ আসনের জন্য ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলমের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ পরিবার ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি আমরা ঋণী। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সেই ঋণ শোধের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।” তিনি বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ ব্যক্ত করেন।