সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

সৌদি প্রবাসীর সাতদিন আগে মৃত্যু, শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে চায় তিন কন্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ২১:২৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা তৈওয়েব আলী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটানোর আশা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই প্রবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি তার মরদেহ। ফলে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা।

 

নিহত তৈওয়েব আলী (৫৩) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হালিম মোল্যার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নানা চেষ্টা করছিলেন তৈওয়েব আলী। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরবে যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। সৌদি আরবে গিয়ে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই ঋণের প্রায় দুই লাখ টাকা এখনও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা তার লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এবং দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয় মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে।

 

নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন। সংসারের জন্য কত স্বপ্ন ছিল তার। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ বাকি আছে। তিন মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে চলব জানি না। সাতদিন হয়ে গেল, কিন্তু তার মরদেহ এখনও দেশে আসেনি। শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরি ও অন্যান্য শ্রমভিত্তিক কাজ করতেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গেলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

গ্রামের মানুষও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, যদি তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়, তাহলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় থাকলে সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

 

এদিকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেন স্ত্রী ও তিন কন্যা শেষবারের মতো তাদের প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’   পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তর এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিচ্ছে। রাশেদ খানের ভাষ্য, সরকারের ‘জনবান্ধব পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে এভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।   অন্যদিকে, মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হলেও শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।   বুধবার সকালে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ এলাকার হোপ মার্কেটের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন।   জামায়াত আমির আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খানের ‘জান্নাতি দাদু’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে মন্তব্যটি রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:৩৬
আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে ফিন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা নাবিল আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাবিলের নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফিনে দুই কোটি ডলার বিনিয়োগ, ঢাকায়ও অফিস

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

সকাল থেকে নিখোঁজ শিশু, জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।   উন্নয়নকাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য রংপুরের জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।   আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ও স্মৃতি আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করতে চায়।   এ সময় রংপুর স্টেডিয়াম আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ০:২৯
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি বিল তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ

রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন জটিলতা

রূপপুরের জ্বালানি আনতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় বাধাপ্রাপ্ত রুশ বিমান

আব্বাস প্রামানিক—বয়সের ভারেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন বলে পরিবারের দাবি
বয়স ১২৩, তবু চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামানিকের বয়স ১২৩ বছর। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯০৩ সালে। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে, চলাফেরায় এখন লাঠির প্রয়োজন হয়, কমেছে শ্রবণশক্তিও। তবে এই বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকার বিষয়টি পরিবারের কাছে বিস্ময়ের।   পরিবারের সদস্যদের দাবি, আব্বাস প্রামানিক এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন শরিফ পড়তে পারেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাঁর এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের।   দীর্ঘ জীবনে আব্বাস প্রামানিক ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময়, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় দেখেছেন। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দেওয়ারও অভ্যাস ছিল তাঁর।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আব্বাস সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। বিলাসিতা তাঁর পছন্দ ছিল না। জীবনের বড় একটি সময় তিনি হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। বর্তমানে বয়সের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন।   আব্বাস প্রামানিকের দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। স্ত্রী মরিয়ম আক্তার প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিরাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখাশোনা করেন। তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল।   তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রাও কঠিন হয়েছে। বাড়ির অবস্থাও ভালো নয়। চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বলেও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।   জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী ১২৩ বছরের আব্বাস প্রামানিকের জীবন বাংলাদেশের এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও কোরআন পড়ার অভ্যাস এখনো অটুট রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৫:৩১
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

0 Comments