যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্ক ভ্রমণে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল অব্যাহত রাখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয় পুলিশ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে সেন্ট্রাল পার্কের জনপ্রিয় ট্যাভার্ন অন দ্য গ্রিন এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ঘোড়ার গাড়িতে পুনরায় উঠছিলেন। ঠিক সেই সময় ‘স্যাম্পসন’ নামের ঘোড়াটি হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই ছিল না। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি ছুটে যাওয়ার সময় ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণটি গাড়ি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে দ্রুত ম্যানহাটনের ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ি থেকে একজন যাত্রী ছিটকে পড়ছেন। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্ঘটনার সময় গাড়িচালক গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চালক যাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ঘোড়ার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে পার্কে কাজ শুরু করা ঘোড়াটি কেন হঠাৎ ভয় পেয়েছিল, সেটি এখনও তদন্তাধীন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর গাড়িটি আরেকটি ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ওই সময় গাড়িতে আরও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আলেকজান্ডার কেম্প বলেন, একজন যাত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তার মতে, কোনো চালকেরই যাত্রীদের ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইক, পেডিক্যাব, ডেলিভারি যান এবং ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।
এদিকে সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, তারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, একজন তরুণ পর্যটক আনন্দময় সময় কাটাতে পার্কে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন। এমন ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নগর পার্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই তারা নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের কাছে দ্রুত ‘রাইডার্স ল’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটাও (পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস) এ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। জননিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের স্বার্থে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সেন্ট্রাল পার্কে যাত্রী পরিবহনের সময় ‘ডেনিজ’ নামের আরেকটি ঘোড়ার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, বিষাক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা বাড়িয়েছিল।
সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নর্থ ব্রান্সউইকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চার শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তাদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে শিশুদের উপস্থিত বুদ্ধি, পরিবারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং এক প্রত্যক্ষদর্শীর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সফল হয়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু লুনার বিরুদ্ধে চারটি অপহরণচেষ্টা এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ মে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ওই দিন প্রথমে নর্থ ব্রান্সউইক লাইব্রেরির কাছে দুই স্কুলপড়ুয়া ছেলের কাছে যান লুনা। তিনি তাদের জানান যে তিনি তাদের বাড়ি পৌঁছে দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের বাড়ির ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চান। অভিযোগে বলা হয়, শিশুদের আস্থা অর্জনের জন্য লুনা দাবি করেন যে তিনি তাদের স্কুলে কাজ করেন। তবে তিনি যে দিকে স্কুলের অবস্থান দেখিয়েছিলেন, সেটি প্রকৃত স্কুলের অবস্থানের সঙ্গে মিলছিল না। তিনি আরও বলেন, ছেলেরা সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে এবং তাদের একজনের মাকে তিনি চেনেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দুই শিশুই সেখান থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তকারীদের একজন শিশু জানায়, সে জরুরি সেবার নম্বর ৯১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে হাত কাঁপতে থাকায় সে কল সম্পন্ন করতে পারেনি। একই দিনে পরে আরও দুই শিশুর কাছে যান লুনা। এবার তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাদের খুঁজছে এবং তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে। এতে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। তাদের একজন সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ ফোন করে, আরেকজন তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফোনের ওপাশে থাকা মা একজন পুরুষের কণ্ঠ শুনতে পান, যিনি বারবার বলছিলেন, “আমার সঙ্গে চলো।” পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাকে দেখে লুনা হাত উঁচু করে পিছিয়ে যেতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে আটক করে। পরে আদালতে অনুষ্ঠিত আটক-সংক্রান্ত শুনানির পর লুনাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ডেভিড এ. ল্যাম্পারেলো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার মক্কেল সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। আমরা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখি এবং আদালতে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার অপেক্ষায় আছি।” আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ আগস্ট মামলার প্রাথমিক অভিযোগপত্র দাখিল-পূর্ব শুনানিতে আবারও হাজির হওয়ার কথা রয়েছে লুনার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুদের লক্ষ্য করে অপরিচিত ব্যক্তিদের এ ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিরা যদি নিজেদের শিক্ষক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা বা পরিবারের পরিচিত বলে দাবি করে, তাহলে শিশুদের সতর্ক থাকা এবং দ্রুত বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে জানানো উচিত। নর্থ ব্রান্সউইকের ঘটনাটিও সেই সচেতনতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মার্কিন নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) বাতিলের এক নজিরবিহীন ও আগ্রাসী অভিযানে নেমেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ২৫০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় (ন্যাচারালাইজড) নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির ইউএস সিটিজেনশিপ বাতিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ফেডারেল সরকারের এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কয়েক ডজন নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক যদি জালিয়াতি, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কিংবা ফৌজদারি অপরাধের তথ্য গোপন করে অবৈধ উপায়ে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন, তবে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিচার বিভাগ তা বাতিল করতে পারে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২ কোটি ৪০ লাখ ন্যাচারালাইজড নাগরিকের তুলনায় ২৫০টি মামলা খুবই সামান্য একটি অংশ, তবুও এটি অতীতের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে একটি চরম ও নাটকীয় বৃদ্ধি। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯0 থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মার্কিন সরকার প্রতি বছর গড়ে মাত্র ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করত। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যার উল্লম্ফন মার্কিন অভিবাসন নীতিতে এক বড় ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে, নাগরিকত্ব বাতিলের মতো এই দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়াটি কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধী বা চরম সহিংস অপরাধীদের মতো গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রেই সংরক্ষিত থাকত। কারণ এই প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউটরদের ফেডারেল বিচারকদের সামনে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হয়। তবে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি সংশোধন করে নাগরিকত্ব বাতিলের আওতায় নিয়ে আসার অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরি বা পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে ছোটখাটো তথ্য গোপন বা জালিয়াতির মামলাও এখন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে এই নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হচ্ছে, তারা আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালতে যদি মার্কিন সরকারের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে ওই ব্যক্তিরা আমেরিকান নাগরিকত্বের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে হারাবেন। এর ফলে তারা আবার তাদের আগের অভিবাসন মর্যাদায় (সাধারণত গ্রিন কার্ড হোল্ডার বা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে) ফিরে যাবেন এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাদের নিজ নিজ জন্মভূমিতে ফেরত বা ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি হতে হবে।
নিউইয়র্কে প্রায় ৩০ লাখ গৃহস্থ ও প্রবীণ নাগরিকের জন্য মোট ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স রিলিফ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। চলতি গ্রীষ্মে স্টার (School Tax Relief) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫ লাখ ডলারের কম আয় করা অধিকাংশ গৃহস্থ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তারা সাধারণত ৩৫০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স রিলিফ পাবেন। একই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ নাগরিকরা, যাদের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের নিচে, তারা ৭০০ থেকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, অনেক পরিবারের জন্য এই অর্থ দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে সহায়ক হবে। জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। নিউইয়র্ক সিটির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই ধরনের সহায়তা সাধারণ পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার গৃহস্থ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তাদের জন্য মোট প্রায় ১৪৯.৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, যোগ্য নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের স্টার চেক বা ডাইরেক্ট ডিপোজিটের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।