বাংলাদেশ

আসতে হবে না, সেবাই পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ‘প্রবলেম সলভিং’ বা সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

 

তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবার পদ্ধতি এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।
 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন’ গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই–নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সার্ভিস পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।’

 

পুরোনো আমলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘দেখা যায় ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপটুডেট না। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো ফল চোখে দেখা যাচ্ছে না। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে তারা উৎসাহ পায়।’


প্রধান উপদেষ্টা ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। এ ছাড়া এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি, যাতে তারা সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন।


বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এটিই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ কারণে ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রণয়নে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে।

 

এ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা উত্তরণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।


উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান–বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডির ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা উত্তরণের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।


প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি রোববার রাতে সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করে। ছবি: জাতীয় সংসদ
বিশেষ কমিটি যাচাই করলো অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ, ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে এই অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সময় ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারি দলের সঙ্গে একমত হয়নি এবং তারা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জমা দিয়েছে।   রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করে বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।   এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ যাচাইয়ের সময় সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয়ে পাস করানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিরোধী সদস্যরা ১৪-১৫টি বিষয়ে একমত হয়নি।   রফিকুল ইসলাম খান জানান, বিশেষ কমিটি বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সরকারি দল এগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পর্কেও একই পরিস্থিতি, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হয়েছে। সংবিধানে না থাকলে গণভোটের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হবে?   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। কিছু অধ্যাদেশের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে এবং বিল আকারে উত্থাপনের সময় সংসদ সদস্যরা মতামত দিতে পারবেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে আনা প্রয়োজন নেই। কমিটি আগামী ২ এপ্রিল সংসদে এই অধ্যাদেশ যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। ফাইল ছবি

লোন মওকুফ পেতে তনির ‘ভাঙচুর নাটক’? যা জানাল ফ্যাক্টচেকার

ফাইল ছবি।

‘প্রত্যেক নাগরিককে ২৫০০ টাকা বৈশাখী ভাতা’ দাবির সত্যতা যা জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি সংকট রুখতে ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

২০০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি, কুমিল্লার মুদি দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

তেল না পেয়ে সাতক্ষীরায় সড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও থেকে

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ভারত: জয়সোয়াল

ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহতের পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারি। শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে বাস বিকল হয়ে থামার পর রেললাইনে বসা—ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী ছিলেন, যা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পথেই থেমে যায়।   প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সন্ধ্যার দিকে কালিহাতীতে এসে তেল শেষ হয়ে থামে। বাসের কর্মীরা তেল আনতে গেলে যাত্রীরা নিচে নেমে আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন।   এ অবস্থায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে পড়লে পাঁচজন যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রেনের চালক হর্ন দিলেও নিহতরা সময়মতো সরে যেতে পারেননি বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), দোলা (৩৫), সুলতান (৩৩) ও রিফা (২৩)।   দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, বাসটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনে বসেছিলেন। হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় কেউ সরে যেতে পারলেও কয়েকজন আর উঠতে পারেননি। টাঙ্গাইল রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে সরাসরি তদারকি সম্ভব ছিল না। রেললাইনে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।   রেলের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে, ঈদকে ঘিরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।

টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশুসহ ৫ জনের

ছবি: সংগৃহীত

‘তেল নেই’ বোর্ড টানানো, ভেতরে মিললো ৯৭৮৩ লিটার মজুত জ্বালানি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ধরে আছেন কয়েকজন এবং একজনের হাতে জাতীয় ও আরেকজনের হাতে সাংগঠনিক পতাকা । ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ‘অবমুক্ত’, ছাত্রলীগের পতাকা উড়ানোর দাবি

0 Comments