আমেরিকা

গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ছাড়লেন মার্কিন নাগরিকত্ব, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

মার্কিন সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ব্যক্তি তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০। যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

 

মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণের কথাও তুলে ধরছেন।

 

সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক লিলি, যিনি একই সঙ্গে বেলজিয়ামের নাগরিকও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের সহায়তাকারী একটি সংস্থাকে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল তার কাছে এক ধরনের প্রতিবাদ। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যক্তিগত উপায়।

 

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এরিন ক্ল্যাট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি আর্থিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই।

 

ক্ল্যাট বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মনে করেননি। পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও তিনি হতাশ ছিলেন।

 

একই ধরনের মতামত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্যক্তি, যিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি না হলে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতেন না।

 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কারণ যতটা আলোচনায় আসে, বাস্তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা।

 

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নাগরিকদের বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রম। কোনো মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাকে প্রতি বছর আইআরএসের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এমনকি বহু বছর ধরে বিদেশে বসবাস করলেও এই বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে।

 

ফলে বিদেশে বসবাসরত অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দ্বৈত কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলায় পরিণত হয়। অনেকেই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ বেছে নেন।

 

নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নাগরিকত্ব হারানোর সনদের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়, যার একটি অবশ্যই সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হয়।

 

এ ছাড়া আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয় এবং এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিও স্বীকার করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কনস্যুলার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।

 

এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবলেও ব্যয়ের কারণে পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখন আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন, করনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও খুবই ছোট, তবুও বিষয়টি দেশটির নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে।

 

সূত্র: আইআরএস, ফেডারেল রেজিস্টার, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ান-বি ভিসাধারী কর্মীদের সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-ওয়ান-বি ভিসাধারীদের সবচেয়ে বেশি বেতন দেয় যেসব মার্কিন প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এইচ-ওয়ান-বি ভিসাধারী কর্মীদের মধ্যে জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন দেয় এমন সাতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বিশ্লেষণটি করেছে এইচ-ওয়ান-বি স্কোপ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের জাতীয় মধ্যম বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০৭ ডলার। তবে তালিকাভুক্ত সাতটি প্রতিষ্ঠানে এই কর্মীদের মধ্যম বেতন অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। একই সঙ্গে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের জাতীয় মধ্যম বেতন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জাতীয় মধ্যম বেতন ৫৯ হাজার ২২৮ ডলারেরও বেশি।   তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ ফিজিশিয়ানস। প্রতিষ্ঠানটিতে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের মধ্যম বেতন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৫ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রোবলক্স, যেখানে মধ্যম বেতন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর রয়েছে সিটাডেল সিকিউরিটিজ আমেরিকাস সার্ভিসেস, যার মধ্যম বেতন ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। নেটফ্লিক্সে এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের মধ্যম বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ১৫৮ ডলার। এছাড়া ক্রেডিট কারমা, টু সিগমা ইনভেস্টমেন্টস এবং টিটি কমার্স অ্যান্ড গ্লোবাল সার্ভিসেসও জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন দিয়েছে।   বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশন প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে অন্তত ৫০০টি অনুমোদিত এইচ-ওয়ান-বি আবেদন রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মধ্যম বেতনের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হওয়ায় এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ এইচ-ওয়ান-বি কর্মীর বেতনের চিত্র তুলে ধরে, অল্প কয়েকজন উচ্চ বেতনভোগীর নয়।   প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে। মেটা, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, সেলসফোর্স, উবার, এয়ারবিএনবি ও ডোরড্যাশের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সিটাডেল সিকিউরিটিজ, টু সিগমা, ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজ, বার্কলেজ ক্যাপিটাল ও মরগ্যান স্ট্যানলির মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বেতন দেয়।   এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-ওয়ান-বি ভিসা কর্মসূচিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের নতুন কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের আদেশে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি লটারিভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে প্রশাসন।   বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উচ্চ বেতন দক্ষ জনবলের চাহিদার প্রতিফলন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বেতন পুরো এইচ-ওয়ান-বি কর্মসূচির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না এবং মার্কিন কর্মসংস্থানের ওপর কর্মসূচিটির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখনো রয়ে গেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১১:৫৮
ইন-এন-আউট রেস্টুরেন্টে প্রথমবার খাবার খেতে এসে বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালেন ক্রিস্টোফার ক্লঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত

ভিড় কমার অপেক্ষায় ছিলেন, ইন-এন-আউট রেস্টুরেন্টে প্রথম দিনেই বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালেন ব্যক্তি

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে ফ্ল্যাট কেনার অনন্য সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে ফ্ল্যাট! কেনার আগে জেনে নিন শর্ত

টানা সমালোচনার পর জনসম্মুখ থেকে সাময়িক বিরতিতে যাচ্ছেন মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। ছবি: সংগৃহীত

টানা সমালোচনার পর জনসম্মুখ থেকে বিরতিতে যাচ্ছেন আরিয়ানা গ্রান্ডে!

মায়ের কোল থেকে নিয়ে যাওয়া ১১ দিনের নবজাতককে ২০০ মাইল দূর থেকে অক্ষত উদ্ধার করল পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের নবজাতককে নিয়ে যান বাবা, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হেফাজতের আইনি অধিকার না থাকা বাবার বিরুদ্ধে ১১ দিনের নবজাতক ছেলেকে অনুমতি ছাড়া নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতভর অনুসন্ধানের পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে উইন্সলো এলাকার কাছ থেকে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করেছে পুলিশ।    কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩১ জুলাই শুক্রবার রাতে পশ্চিম অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ শহর থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন একটি গাড়ির বিবরণসহ রাজ্যজুড়ে ‘অ্যাটেম্পট টু লোকেট’ বা এটিএল বার্তা পাঠানো হয়।   বার্তাটি পাওয়ার পর নাভাহো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা সম্ভাব্য গাড়িটির সন্ধান শুরু করেন। ১ আগস্ট শনিবার সকালে উত্তর অ্যারিজোনার উইন্সলো এলাকায় গাড়িটি শনাক্ত করে থামানো হয়। পরে গাড়ির ভেতর থেকে নবজাতকটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। অভিযানে অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সদস্যরাও সহায়তা করেন।    শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে বয়স মাত্র ১১ দিন হওয়ায় সতর্কতামূলকভাবে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।    সারপ্রাইজ পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাবা তার আইনগত হেফাজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১০:৪৬
ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা ছবি শেয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের পোস্টে চাঞ্চল্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ভেনেজুয়েলার মানচিত্র

দ্রুত সাক্ষাৎকারের জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নতুন সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত সাক্ষাৎকারের জন্য ৭৫০ ডলার দিয়ে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নতুন সুযোগ

গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি

ইতালির বিখ্যাত পিসার হেলানো মিনার (Leaning Tower of Pisa) এবং এর পাশে বাতাসে উড়ন্ত ইতালির জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
ইতালির স্থায়ী রেসিডেন্সি মিলবে না যাদের, প্রকাশ হলো ৫টি শ্রেণির তালিকা

ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে পাঁচটি শ্রেণির বিদেশি নাগরিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান।   ইতালির অভিবাসন–সংক্রান্ত নিয়মাবলি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আবেদনকারীদের বৈধভাবে ইতালিতে বসবাস, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আয়ের প্রমাণ এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।    স্থায়ী বসবাসের জন্য যোগ্য পাঁচটি প্রধান শ্রেণি হলো:    প্রথমত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশের নাগরিক, যিনি বৈধভাবে টানা অন্তত পাঁচ বছর ইতালিতে বসবাস করেছেন এবং বৈধ আবাসন অনুমতি, পর্যাপ্ত আয় ও ইতালীয় ভাষার মৌলিক জ্ঞান প্রমাণ করতে পারেন।    দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশের নাগরিক এবং তার পরিবারের সদস্যরা, যারা ইতালিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্তত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করেছেন, তারাও স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে পারেন।    তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।    চতুর্থত, ইতালীয় নাগরিক বা বৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা, পারিবারিক পুনর্মিলনের আওতায় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।    পঞ্চমত, দীর্ঘদিন বৈধভাবে কাজ বা অন্য অনুমোদিত কারণে ইতালিতে অবস্থানরত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরাও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।    স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেলে ইতালিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ আরও স্থিতিশীল হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা গ্রহণও সহজ হয়। তবে এটি ইতালির নাগরিকত্ব নয়; নাগরিকত্ব পেতে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।    ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৯:১৬
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের একজন বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক (Psychiatrist) ডা. হেমিক আগরুয়ল। ছবি:সংগৃহীত

বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে এবার কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন | গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইসরায়েলকে ঘৃণা করলে মিলবে না যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের

পাসপোর্ট ও আমেরিকার প্রিক্রিয়া যাওয়ার। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতির আওতায় এলো আরও ৫ দেশ

0 Comments