বিশ্ব

সব ধরনের হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর, নিজেদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ধনী এই উপসাগরীয় দেশটি। 

 

সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখার শর্তে ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান বৃহত্তর দরকষাকষির চূড়ান্ত পর্বে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই আমিরাতের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।

 

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের জন্য মোট ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন (১ হাজার থেকে ২ হাজার কোটি) ডলার ছাড় করতে রাজি হয়েছে আবুধাবি। এরই মধ্যে প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস কী—তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতি ব্যাংকিং সিস্টেমে আটকে থাকা ইরানেরই কোনো বৈধ অ্যাকাউন্ট থেকে অবমুক্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। 

 

এদিকে খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পুরো তথ্যটিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও বানোয়াট' বলে দাবি করেছে। তবে এর আগে দেশটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছিলেন, তারা যেকোনো মূল্যে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈরিতা ও প্রকাশ্য শত্রুতার পর দুই দেশের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাত এবং নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ধাক্কা খেয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সমঝোতা মার্কিন-ইরান সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে এমন এক অভিনব উপায় তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের রেডলাইন পার হতে হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ইরান যেমন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি করতে পারবে, তেমনি ওয়াশিংটনও দায় এড়াতে পারবে। 

 

অন্যদিকে আবুধাবি নিজেদের নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের বাণিজ্যিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। এই চুক্তির আওতায় কেবল হামলা বন্ধই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ইরান একই ধরনের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও অন্তত দুটি আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতার পেছনে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ আমানত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকলেও, পর্দার আড়ালের এই আলোচনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। কদিন আগেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আবুধাবিতে এসে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করার পরই এই আলোচনার গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। 

 

ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো পাবে। ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলার পর গত এক মাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকা মূলত এই সুদূরপ্রসারী গোপন সমঝোতারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নতুন জরিপে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের মতামতের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন কতটা, তা নিয়ে নতুন এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় একটি অংশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   জরিপে অংশ নেওয়া অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে তারা সমর্থন দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় নিতে হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন জনগণের মনোভাব বিভিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন এই জরিপ আবারও দেখাচ্ছে, বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ২১:৪৫
আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত

আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

২৭ বছর পর ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য ফাঁস!

২৭ বছর পর ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য ফাঁস!

বোমা নয়, ইরানকে কাবু করবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
বোমা নয়, ইরানকে কাবু করবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’: ইরান

ইরানের ওপর সামরিক হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপকে আরও কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ দীর্ঘমেয়াদে তেহরানের ওপর বোমা হামলার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই ১৩ দিনের টানা সামরিক অভিযানের পর হামলা স্থগিত রেখে ওয়াশিংটন এখন কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চাইছে।    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমানকে যৌথ ভূমিকা দেওয়ার একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, অবরুদ্ধ সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন অর্থ দপ্তরের আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছে।    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে জ্বালানি ঘাটতি, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা এবং অর্থপ্রবাহের সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি ইরান তাদের মিত্র যোদ্ধাদের অর্থায়নেও সমস্যায় পড়ছে বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি। এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান যুদ্ধের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের আর্থিক পদক্ষেপকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।    তবে এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে সবাই একমত নন। ওবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের বিশ্লেষক ব্রেট এরিকসনের মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইরান প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার তেল রপ্তানি আয় করেছে। তাই শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় আনতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ব্যয় ও গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এরপরই ট্রাম্প সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট, কূটনীতি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় পথেই চাপ বাড়ানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ৩:৫৭
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা

জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা, অভিবাসন ইস্যুতে নতুন বিভাজনের আশঙ্কা

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার

ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু

অরেঞ্জের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ছাড়াই ২০ বছর সম্পূর্ণ বেতন দেয়ায় সেই কোম্পানির বিরুদ্ধেই করলেন মামলা

ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভ। তার অভিযোগ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোম্পানি নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দিলেও তাকে কোনো কাজ, দায়িত্ব বা কর্মস্থল দেয়নি। ফলে তিনি পেশাগতভাবে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা, মানসিক অবসাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।    জন্মগতভাবে আংশিক পক্ষাঘাত ও মৃগীরোগে আক্রান্ত লরেন্স ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ফ্রান্স টেলিকমে যোগ দেন, যা পরে অরেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে তিনি সচিব ও মানবসম্পদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০২ সালে বাসস্থানের কাছাকাছি বদলির আবেদন করার পর তার কর্মজীবনে মোড় আসে। তার দাবি, নতুন কর্মস্থল তার শারীরিক অবস্থার উপযোগী ছিল না এবং পেশাগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামতেও সেটি উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে কার্যত তাকে কোনো নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।    লরেন্সের অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে তিনি কোনো অফিস, নির্দিষ্ট কর্মস্থল, সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বা পেশাগত দায়িত্ব ছাড়াই কেবল বেতন পেয়ে গেছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি বাইরে থেকে সুবিধাজনক মনে হলেও বাস্তবে এটি তাকে গভীর মানসিক সংকটে ফেলে। দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় থাকায় তিনি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হন।    তার আইনজীবীর দাবি, অরেঞ্জ প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য আইনসম্মত ও যৌক্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাকে এমন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চাকরিতে থেকেও কার্যত কর্মজীবনের বাইরে চলে যান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।    অন্যদিকে অরেঞ্জ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, লরেন্সের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে শতভাগ বেতন অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং তার জন্য উপযোগী বিভিন্ন পদে কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিয়মিত অসুস্থতার ছুটির কারণে সেসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।    এই মামলাটি ফ্রান্সে কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী কর্মীদের অধিকার এবং নিয়োগকর্তার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মামলার বিচার এখনো চলমান। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত লরেন্স ভ্যান ওয়াসেনহোভের অভিযোগ এবং অরেঞ্জের জবাব, উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ০:২
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের নিন্দা: ৩৩ মাস ধরে একাকী কারাবাসে ইমরান খান

উপগ্রহ চিত্রে চীনের হোটান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তে চিনের ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ স্টিলথ ফাইটার, চিন্তায় নয়াদিল্লি

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অনুরোধেই হামলা বন্ধ, সমঝোতা না হলে আবারও আঘাত করা শুরু হবে: ট্রাম্প

0 Comments