বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী অবস্থান ও ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে চীন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির কারণে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডলারের মান চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যার দাম আউন্সপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার ডলারেরও বেশি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব মুদ্রা রেনমিনবিকে বিকল্প বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান আদর্শিক সাময়িকী কিউশিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি রেনমিনবিকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রায় রূপ দেয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন। বর্তমানে এই ভূমিকা পালন করছে মার্কিন ডলার, যা অধিকাংশ আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রধান মুদ্রা এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।
যদিও খুব শিগগিরই ডলারের অবস্থান বদলে যাবে- এমনটা কেউই আশা করছে না, তবে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ডলারের মূল্যে বড় ধরনের পতন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। চিউশির প্রতিবেদন বলছে, শি জিনপিং সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন, চীনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি “শক্তিশালী মুদ্রা” গড়ে তোলা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। এর পাশাপাশি একটি “ক্ষমতাশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক” থাকবে, যা বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈশ্বিক মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারবে।
২০২৪ সালে ব্যক্তিগতভাবে দেয়া এই মন্তব্য এখন প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। অর্থাৎ চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ফলও পাচ্ছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে রেনমিনবিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং তথাকথিত “ডি-ডলারাইজেশন” প্রবণতা চীনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রার ওপর আস্থা কমিয়েছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা (জেরোম পাওয়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ট্রাম্পের কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন) মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
গত বছর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছেন। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ পর্যন্ত ইউরোর বড় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে ডলারের বিকল্প খুঁজতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেক দেশ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডলার বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে কম সুদে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়া এবং অন্যান্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ডলারের পাশাপাশি ইউরো, রেনমিনবি, জাপানি ইয়েন, কানাডীয় ও অস্ট্রেলীয় ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং এবং সুইস ফ্রাঁসহ আরও ৭টি মুদ্রাকে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীন রেনমিনবির অবস্থান শক্তিশালী করে মার্কিন আর্থিক আধিপত্য থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে চায়। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থায়নে নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বেইজিং।
চীন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার, বন্ড ও পণ্যের মতো আর্থিক খাতে প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছে এবং সীমান্তপারের লেনদেন সহজ করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে রেনমিনবির ব্যবহার বেড়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে রেনমিনবির ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।
গত গ্রীষ্মে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান গংশেং বলেন, রেনমিনবি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অর্থ মুদ্রা এবং তৃতীয় বৃহত্তম পেমেন্ট মুদ্রা। তিনি ডলার আধিপত্যের পরিবর্তে “বহুমুখী মুদ্রা ব্যবস্থা” গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডলারকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে এই ব্যাপারে বেশ বিচলিত ট্রাম্পও। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ব্লক ‘ব্রিকস’ একটি নতুন রিজার্ভ মুদ্রা তৈরির ধারণা উত্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথা বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যদি কখনও এ ব্যাপারে এগিয়ে যায় তবে তিনি ১০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে ডলারের জায়গায় রেনমিনবি আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক রিজার্ভে ডলারের অংশ প্রায় ৫৭ শতাংশ, ইউরোর ২০ শতাংশ এবং রেনমিনবির মাত্র ২ শতাংশ। চীনও সরাসরি ডলারকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলছে না, বরং নিজের মুদ্রার ভূমিকা বাড়াতে চায়।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনে অর্থ প্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা। পাশাপাশি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ধরে রাখতে চীন হয়তো রেনমিনবির মান তুলনামূলক কম রাখতেই আগ্রহী থাকবে।
ট্রিভিয়াম চায়নার বাজার গবেষণা প্রধান ডিনি ম্যাকমাহন বলেন, ‘ডলার বা ইউরোর মতো পর্যায়ে রেনমিনবির গ্রহণযোগ্যতা পৌঁছাবে- এমন বিশ্ব কল্পনা করা কঠিন। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বেইজিং অন্তত কিছুটা জায়গা করে নেয়ার সুযোগ দেখছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.৫৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ২২০.৪৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঈদ উৎসবের আগে স্বস্তি যোগ করেছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম টানা দ্বিতীয় দিনে কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। এই নতুন দাম শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে স্থানীয় তেজাবী সোনার দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন দামের মধ্যে ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৯০৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়েছিল। চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম ৪২ বার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৬ বার দাম হ্রাস করা হয়েছে।
টানা দুইবারের পতনের পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বেড়েছে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ২৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৪ বার কমানো হয়েছে।