ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
‘হরমুজ প্রণালিতে টোল নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান নয়’: ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে টোল বা শুল্ক আরোপের বিষয়টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া উচিত, ইরানের নয়।   বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরাই কেন টোল নেব না? আমি বরং সেটাই করতে চাই, তাদের নিতে দেওয়ার চেয়ে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে।   সম্প্রতি তেহরান প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের ওপর নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইরান এটিকে তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তবে ট্রাম্পের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এই নৌপথে শুল্ক আরোপের অধিকার তাদেরই থাকা উচিত।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো পক্ষের টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তেল ও দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের! সরকার পরিবর্তনের নজিরবিহীন দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার এবং দেশটির প্রধান তেল হাব ‘খারগ দ্বীপ’ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের তেল দখল করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম বিকল্প। ট্রাম্পের মতে, দ্বীপটি দখল করা হবে অত্যন্ত সহজ কারণ সেখানে তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।   অন্যদিকে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে ইতিবাচকভাবে ‘সরকার পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, আগের সরকারের শীর্ষ নেতারা প্রায় সবাই মারা গেছেন এবং এখন যারা পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তারা বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকেও তিনি একই সুরে বলেছিলেন যে, আগের নেতাদের হঠানোর মাধ্যমেই সরকার বদল হয়ে গেছে এবং ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে আসতে পারে।   তবে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। খারগ দ্বীপ দখলের হুমকিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং প্রধান তেল টার্মিনাল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি হাতছাড়া হলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ড্রোন কৌশল অনুসরণ করছে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বাস্তবতার শঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ড্রোন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান—এমনটাই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক তার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এফপিভি (FPV) ড্রোনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্যামিং-প্রতিরোধী ড্রোন বাগদাদে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এসব হামলায় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো যায় না, যা প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকাংশে অকার্যকর করে দেয়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল ও নৌ অভিযান চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হতে পারে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি—যা ইরাক বা আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন।   ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কফম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এফপিভি ড্রোন প্রযুক্তি ও এর সামরিক প্রভাব পুরোপুরি অনুধাবনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল মার্টিন স্যাম্পসনের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এ ধরনের ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করতে মস্কো যেমন কাজ করছে, তেমনি সেই অভিজ্ঞতা তেহরানও গ্রহণ করছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোদনিয়ুক বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে, যুদ্ধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেছে এফপিভি ড্রোন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ড্রোন নিয়ন্ত্রিত ‘কিল জোন’ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে।   তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো এই নতুন ধরনের যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: এ আই
ট্রাম্পের হামলার হুমকি স্থগিত রাখার পর বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার মুখে এই স্থগিতাদেশ আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্পের এই নির্দেশের পর ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—উভয় ধরনের তেলের দামই ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।   এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তারা আরব দেশগুলোর বড় তেল ও গ্যাস ফিল্ডগুলো উড়িয়ে দেবে। এই উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আল জাজিরার তথ্যমতে, জিএমটি ১১:০৮ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, হামলার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ আসায় তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংকট পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
জাহাজ চলাচলে ইরানের সঙ্গে বেশ কিছু দেশের যোগাযোগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যেই তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে তেহরানের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরানের দরজা সবসময় খোলা।   আরাগচি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন কোন জাহাজ যাতায়াত করবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গত শনিবার ভারতে গমনাগমনকারী দুটি তেলের ট্যাংকার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিরাপদে অতিক্রম করেছে। তবে কৌশলগত কারণে তিনি যোগাযোগকারী অন্যান্য দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি।   চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে না। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী আত্মরক্ষার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আন্তর্জাতিক শক্তির সহযোগিতা চাইছেন, অন্যদিকে ইরান সরাসরি দেশগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে যুক্তরাষ্ট্র; দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি "প্রচুর অর্থ উপার্জন" করে। তবে এই আর্থিক লাভের চেয়েও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।   মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে "শয়তান সাম্রাজ্য" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর্থিক মুনাফার চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানিদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শহীদদের প্রতিদান দিতে ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভাষণে নতুন নেতা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে সব ঘাঁটি বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন।   আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের লক্ষ্য কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। যতদিন ইরানের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে, ততদিন এই প্রতিরোধ ও হামলা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের ভবিষ্যতের স্বার্থে সর্বোচ্চ নেতার পদের গুরুত্ব বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক চাপে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটানোই লক্ষ্য: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করা হবে।   যুদ্ধের দশম দিনে এসে ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি সোমবার তেহরানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নেই। তার মতে, এই সংঘাত এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ হতে পারে।   খারাজি বলেন, যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংঘাত থামাতে বাধ্য করতে পারে। তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে সংঘাত দ্রুত বন্ধ করা যায়।   খারাজির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে উঠবে।   এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারেও। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় আহত এক মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।   সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি বাহিনীর হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়া ওই সেনাসদস্য রোববার রাতে মারা যান। গত ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সময় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এ নিয়ে মোট সাতজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   মার্কিন সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, নিহত সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়লেও চিন্তিত নন ট্রাম্প, যুদ্ধই এখন অগ্রাধিকার

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গ্যাসের দাম গত ছয় দিনে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে তার অগ্রাধিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির বাজার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র–এর লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে জরুরি তেলের বড় মজুত রয়েছে। তবে আপাতত এই মজুত ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই।   ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২১ দিন আলোচনা চলে, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।   পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন এপিক ফিউরি। একই সময়ে ইসরায়েল অপারেশন রোরিং লায়ন নামে অভিযান শুরু করে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বলে জানা গেছে।   এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং রয়টার্স তথ্য প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

ইরানকে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান–এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না দেশটি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যাদের তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন। তার মতে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে, যাতে দেশটি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে পারে।   এর আগে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য অঞ্চলটির উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে কুর্দি হামলায় সমর্থনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানে কুর্দি যোদ্ধারা হামলা চালালে তা সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন Donald Trump। তিনি বলেছেন, কুর্দিরা যদি ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি তাদের সমর্থন দিতে প্রস্তুত।   এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কুর্দিদের এমন পরিকল্পনা “অসাধারণ উদ্যোগ” হতে পারে। তবে সামরিকভাবে তাদের সহযোগিতা দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু জানাননি।   বার্তা সংস্থা Reuters–কে ট্রাম্প বলেন, কুর্দি যোদ্ধারা হামলা চালালে তারা জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই অভিযান পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সম্ভাব্য স্থল হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে কি না, সে বিষয়টি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে কুর্দি যোদ্ধারা Iran–এর ভেতরে হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান সরকার পরবর্তীতে এ তথ্য অস্বীকার করে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে United States ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলা প্রতিহতে প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। চলমান উত্তেজনার মধ্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান প্রতিহত করতে ইরানের সামরিক বাহিনী সক্ষম।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনা অভিযান নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয়। তিনি বলেন, “আমরা তাদের (মার্কিন স্থল বাহিনী) জন্য প্রস্তুত। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারব। যদি United States স্থল হামলা চালায়, তা তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।”   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংঘাতে ইরান যুদ্ধবিরতি চাইছে না। তিনি উল্লেখ করেন, Israel–এর সঙ্গে আগের সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ এসেছিল প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেই।   আরাগচির মতে, চলমান যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই একক বিজয় নেই। তবে ইরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। Iran কর্তৃপক্ষ বারবার তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা তুলে ধরছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সীমিত করতে প্রস্তাবের বিপক্ষে ৫২ রিপাবলিকান সিনেটর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ জন রিপাবলিকান সিনেটর। ফলে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত ওই প্রস্তাবটি পাস হয়নি। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো যাবে না এবং চলমান শত্রুতামূলক কার্যক্রম থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   কিন্তু সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। তাদের যুক্তি, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও চলমান সামরিক কৌশলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ডেমোক্র্যাট ও কিছু সমালোচকের মতে, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।   মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ট্রাম্প ইরানে সেনা মোতায়েন করতে পারেন বলে উদ্বেগ জানান সিনেটর। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মার্কিন সিনেটরের

যুক্তরাষ্ট্র এর প্রশাসন ভবিষ্যতে ইরান এ সেনা মোতায়েন করতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত একটি গোপন ব্রিফিংয়ের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্লুমেন্থাল বলেন, ওই ব্রিফিংয়ের পর তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হয়তো তেহরানে পাঠানো হতে পারে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সিনেটর বলেন, প্রশাসনের অগ্রাধিকার কী ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নষ্ট, নাকি সরকার পরিবর্তন তা পরিষ্কার নয়।   তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কে শুধু কংগ্রেস নয়, বরং সাধারণ মার্কিন জনগণকেও অবহিত করা প্রয়োজন। কোনো তথ্য গোপন রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ব্লুমেন্থাল সতর্ক করে বলেন, সামরিক লক্ষ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে হামলার অভিযোগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী কেন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা এই সরু সামুদ্রিক পথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।   হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার হলেও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পথ মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার। এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই দুই দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে। OPEC–ভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে রপ্তানি হয়। এসব তেল মূলত এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হয়।   এ ছাড়া কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি তাদের প্রায় পুরো এলএনজি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবহন করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা চাপে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান-এর কম খরচে তৈরি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হতে পারে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এই ব্যয় বৈষম্যকে সামরিক কৌশলবিদদের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং সৌদি আরব-এ অবস্থিত মার্কিন ও মিত্র সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য বলছে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন মজুত থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির।   ২০২৫ সালের জুন মাসের সংঘাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) প্রায় ১৫০টি ‘THAAD’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে প্রতিটি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে কয়েক বছর সময় লাগে।   স্টিমসন সেন্টার–এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার উৎপাদনের চেয়ে বেশি হওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্যাসিফিক ফোরাম–এর উইলিয়াম আলবার্ক জানিয়েছেন, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই সীমিত ছিল। চলমান সংঘাতে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব অস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যয় কমাতে পশ্চিমা সামরিক মহল এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েল–এর ‘আয়রন বিম’ লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে লেজার প্রযুক্তির সীমিত ইউনিট বর্তমানে কেবল ইসরায়েলেই চালু রয়েছে।   সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার ইয়াল পিনকো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং দেশটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এশীয়ার শেয়ারবাজারে ধস

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে, একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তেল সূচক ব্রেন্ট ক্রুড এর দাম এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টোকিও সময় দুপুর পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলার। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব সরাসরি দামে পড়েছে।   এদিকে, এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো সপ্তাহের শুরুতেই নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় দেড় শতাংশ কমেছে।   মার্কিন বাজারেও নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিয়মিত লেনদেনের সময়ের বাইরে হওয়া ফিউচার সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়, যা ওয়াল স্ট্রিটে দুর্বল সূচনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।   ফিউচার লেনদেনে মানদণ্ড সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট উভয়ই প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম অবস্থানে ছিল।   বিশ্ববাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান। । ছবি: কোলাজ
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরানকে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জামায়াত আমিরের

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   রোববার (১ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই আমির।   বার্তায় শফিকুর রহমান লেখেন, খামেনির মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন ইরানের জনগণ এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি অর্জন করতে পারেন।   তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল একটি দেশের নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো হামলা বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   শফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদে পাল্টা আঘাত হানানো হবে বলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রমণের শিকার হলে এসব ঘাঁটি ও সম্পদ ইরানের কাছে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচিত হবে।   বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   চিঠিতে গত বুধবার ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।   ইরাভানি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। শক্তি ব্যবহারের বেআইনি হুমকি বন্ধ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।   চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।   এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। গত মাসে তিনি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলেন এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ সামনে আনেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় আছে, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিতও দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0