বিশ্ব

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে ওবামা

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ২:৫৭
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রস্তাব সমর্থন করলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে এবং একতরফা সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে।

 

আগামী ২১ এপ্রিলের এই গণভোটে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—রাজ্যের আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারবে কি না। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, এর আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে যেসব আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে বিরোধীরা এটিকে পক্ষপাতদুষ্ট উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করছে।

 

রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, একটি বহুমাত্রিক রাজ্যে একদলীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।

 

গণভোট ঘিরে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা তুলনামূলক বেশি অর্থ ও জনসমর্থন পাচ্ছে। এতে হলিউড অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন এবং সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো পরিচিত মুখও যুক্ত হয়েছেন।

 

তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরেও একমত নয় সবাই। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী মানচিত্র এভাবে বদলানো ন্যায্যতার প্রশ্ন তোলে।

 

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অল্প ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে তারা বেশি সক্রিয় হতে পারেন; অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার
জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার

প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডায় এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।   পুলিশ জানায়, ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এয়ার কানাডার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেন। এই সময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী বিমান চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   তদন্তে আরও বলা হয়, ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স তার ছিল না। তবুও তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে দীর্ঘদিন বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছিলেন।   পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতারণা জননিরাপত্তা ও যাত্রীদের আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে শত শত ফ্লাইটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছেন।   অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে তাদের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটি জানায়, প্রতিটি পাইলটকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এবং অভিযুক্ত পাইলটও এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন।   ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি কানাডার পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স যাচাই করলেও নতুন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।   এদিকে বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে বিরল ও ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান হাসান শাহিদি বলেন, এখানে মূল সমস্যা অদক্ষতা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা। তার মতে, এটি লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে।   তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, এবং আদালতে মামলার অগ্রগতির ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৭:৫৯
ইন্দোনেশিয়ায় চার সেনা কর্মকর্তার কারাদণ্ড

মানবাধিকারকর্মীর ওপর অ্যাসিড হামলা: ইন্দোনেশিয়ায় চার সেনা কর্মকর্তার কারাদণ্ড

ইউরোপে জেট জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে সৌদি আরব

ইউরোপে জেট জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে সৌদি আরব, বিকল্প রুটে রপ্তানি জোরদার

ছবি: সংগৃহীত

চীন–উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ

ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজ প্রণালির চিত্র । ছবি: রয়টার্স
হরমুজ সংকটের মধ্যেও ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার সময়ের তুলনায়ও বেশি হয়েছে।   কেপলারের তথ্য বলছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবাহ।   অন্যদিকে ভরটেক্সারের হিসাব অনুযায়ী এই সময়কালে রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে।   কেপলারের পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ ছিল জানুয়ারিতে, তখন দৈনিক গড় রপ্তানি ছিল ৭৭ হাজার ব্যারেল।   সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ হতো, যা ইউরোপের প্রধান জোগানদাতাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যকে শীর্ষে রেখেছিল। ওই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে মোট আমদানি ছিল প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ লাখ ব্যারেল।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা।   এদিকে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকেও জেট ফুয়েল আমদানি বাড়িয়েছে। মে মাসে এই দুই দেশ থেকে ইউরোপে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১:১৯
এক লটারিতে ভাগ্য বদলে গেল তায়েব খানের । ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে লটারিতে ১০০ কোটি টাকা জিতলেন নিরাপত্তাকর্মী, ভাগ দিবেন পাঁচ বন্ধুকেও

নানইউকিতে মার্কিন ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করছে পুলিশ । ছবি: এএফপি

কেনিয়ায় মার্কিন ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, গুলিতে নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চীনে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
ফেসবুক পোস্টে নতুন বিতর্ক: ‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত শনিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন কি?”—এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।   সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পোস্টটিতে হালকা ও রসাত্মক মন্তব্য করলেও সাধারণ মানুষের একাংশ এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহ হাসির প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব।” শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখারেল লেখেন, “আমি কি তাঁকে মেসেজ করব?” সংসদ সদস্য টিকা সাংগ্রৌলা কৌতুক করে বলেন, “আমার কাছে আছে, কিন্তু আপনাকে দেব না।”   এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে যখন সরকার চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের ‘ডিজিটাল নাটকীয়তা’ জনআলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।   জেন-জি প্রজন্মের নেত্রী তনুজা পান্ডে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কূটনৈতিক পদ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে রসিকতা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”   সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী যাদব দেবকোটা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ নির্বাহী পদের মর্যাদাকে খাটো করছে। একইভাবে সারিতা তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েও।   এ বিতর্কের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সচিব কৃষ্ণ হরি পুষ্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলারা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে প্রশাসনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে।   এর আগে ২৭ এপ্রিল বিতর্কিত অধ্যাদেশ পাশ করাতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময়ও জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে আড়াল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।   মানবাধিকারকর্মী মজিদ আনসারি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নয়।”   সমালোচকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২০:৫৮
মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি

মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি, তৃণমূলের ভেতরে অস্থিরতা

আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন

আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার

আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন

ইরানে হামলার পর আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন

0 Comments