ওয়াল স্ট্রিটের মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে এখন বাড়ি থেকেই ঘণ্টায় ১ হাজার ডলার আয়, শিক্ষক স্টিভ মেনকিংয়ের অনুপ্রেরণার গল্প
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে ছয় অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের পছন্দের পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন স্টিভ মেনকিং। এক দশক পর সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। বর্তমানে বাড়ি থেকেই ব্যক্তিগতভাবে পড়িয়ে তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ এক হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এবং বছরে পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। সিএনবিসি মেক ইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই যাত্রার গল্প তুলে ধরেছেন তিনি।
বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী স্টিভ মেনকিং কর্মজীবনের শুরুতে নিউইয়র্কভিত্তিক এসএমবি ক্যাপিটালে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন। উচ্চ বেতন থাকলেও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং তীব্র মানসিক চাপ তাঁকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলে। ২৫ বছর বয়সের কিছুদিন পর তিনি উপলব্ধি করেন, এই জীবনধারা তাঁর জন্য নয়। এরপরই তিনি চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় পূর্ণসময়ের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মেনকিং জানান, ওয়াল স্ট্রিটে যোগ দেওয়ার আগে তিনি শিক্ষক সহকারী ও ব্যক্তিগত টিউটর হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার মধ্যেই তিনি প্রকৃত তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। পরে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আবার শিক্ষা পেশায় ফিরিয়ে আনে।
চাকরি ছাড়ার পর শুরুটা সহজ ছিল না। স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন টিউটরিং প্রতিষ্ঠানে নিজের জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে হয়েছে। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেশাজীবীদের মধ্যে তাঁর সুনাম তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী, বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী তরুণ এবং আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
মেনকিং সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা কাজ করেন। ব্যক্তিগত টিউটরিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন কোর্স তৈরি, প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং আর্থিক পরামর্শ দিয়েও আয় করেন। তাঁর ভাষায়, আগের চাকরির তুলনায় এখন কাজের চাপ অনেক কম, তবে পেশাগত সন্তুষ্টি অনেক বেশি।
শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহীদের জন্য তিনি তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে, যা অন্যদের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, শুরুতেই বড় আয়ের আশা না করে ধীরে ধীরে সুনাম ও দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
স্টিভ মেনকিংয়ের এই গল্প দেখায়, শুধু উচ্চ বেতনের চাকরিই সফলতার একমাত্র পথ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভিন্ন পেশাতেও আর্থিক সাফল্য এবং ব্যক্তিগত তৃপ্তি, দুটিই অর্জন করা সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদনে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কোথাও আর্থিক অসচ্ছলতার ভিত্তিতে আবেদন করা যায়, কোথাও নির্দিষ্ট ভর্তি তথ্যসেশন বা ওপেন হাউসে অংশ নিলে এই সুবিধা মেলে। তবে আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া মানেই পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ পাওয়া নয়। ভর্তি, ফি মওকুফ ও পড়াশোনার অর্থায়নের জন্য পৃথক শর্ত পূরণ করতে হয়। স্টকটন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক কারণে আবেদন ফি দিতে অসুবিধা হলে ফি মওকুফের অনুরোধ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের গ্র্যাজুয়েট স্কুলেও আর্থিক প্রয়োজন বা সংকটের ভিত্তিতে ফি মওকুফ চাওয়া যায়। নটর ডেমের আবেদনপত্রে এ অনুরোধ জানানোর এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের আবেদনকারী যোগ্যতা অনুযায়ী এই সুবিধা পেতে পারেন। ভর্তি বিষয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও আবেদন ফি বাঁচানোর সুযোগ আছে। স্টিভেন্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ভর্তি বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আবেদন ফি মওকুফ দেওয়া হয়। ভার্চুয়াল ওপেন হাউসের তথ্যেও এই সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ডিয়ারবর্নের গ্র্যাজুয়েট ইভেন্টস পাতায়ও অংশগ্রহণকারীদের ফি মওকুফের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ নীতিতে ফি মওকুফ সীমিত এবং আগে আসলে আগে বিবেচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ও প্রোগ্রামের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়টির লিবো কলেজ অব বিজনেসের এমবিএ ও বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের আবেদনবিষয়ক কিছু কর্মশালায় ফি মওকুফের সুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যেকোনো ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নিলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে ফি মওকুফ পাওয়া যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের ঘোষণায় সুবিধাটি আছে কি না, তা দেখতে হবে। কিছু প্রোগ্রামে আবেদন ফি নেওয়াই হয় না। লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি প্রোগ্রামের সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য প্রকাশিত তথ্যে কোনো আবেদন ফি নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে একটি বিভাগের এই নিয়ম অন্য বিভাগ বা ডিগ্রির জন্যও প্রযোজ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়নের পার্থক্য নটর ডেমের তথ্যেও স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুলে টিউশন স্কলারশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। মাস্টার্স প্রোগ্রামে সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তা থাকে, আবার কোনো ক্ষেত্রে পূর্ণ টিউশনের সঙ্গে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। নটর ডেমের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট প্রেসিডেনশিয়াল ফেলোশিপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিবেচিত হন। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পূর্ণ টিউশন এবং প্রোগ্রাম অনুযায়ী বার্ষিক ৩৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ ডলার স্টাইপেন্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের পূর্ণ ব্যয়ও এই ফেলোশিপের অন্তর্ভুক্ত। এটি নির্দিষ্ট ফেলোশিপের সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য সাধারণ ঘোষণা নয়। ‘৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করা তালিকাতেও একটি সংশোধন প্রয়োজন। সেখানে লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর দুটি প্রোগ্রাম আলাদা করে গণনা করা হয়েছে। ফলে ৩০টি ক্রমিক থাকলেও পৃথক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে ২৯টি। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের কোন ক্যাম্পাসের কথা বলা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় সবগুলোর সব প্রোগ্রামে একই সুবিধা রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য প্রথম কাজ হলো পছন্দের ডিগ্রি ও বিভাগ নির্ধারণ করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশনস ও ফান্ডিং নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, ফি মওকুফের পদ্ধতি এবং অর্থায়নের শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। অর্থায়নের প্রস্তাব পেলে কত বছরের টিউশন, কত মাসের স্টাইপেন্ড এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটুকু ব্যয় দেওয়া হবে, তা লিখিত প্রস্তাবেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষার্থীদের ফুল ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ! জানুন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের আর্থিক সহায়তার আবেদন আগেভাগেই শুরু, শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সল পার্লমুটারের সঙ্গে একই গবেষণাপত্রের সহলেখক হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল জামান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যয়নরত এই গবেষক লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি প্রকল্পের একটি গবেষণাপত্রে যুক্ত আছেন। ‘দ্য লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি: আর্কিটেকচার অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিজ’ শিরোনামের গবেষণাপত্রটি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রের প্রকাশিত প্রথম পৃষ্ঠায় অনলাইনে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ অক্টোবর ২০২৬। এতে পার্লমুটার ও আবদুল্লাহ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকের নাম রয়েছে। লেখক তালিকায় আবদুল্লাহর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের নাম দেওয়া হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আবদুল্লাহ জানান, তিন বছর আগেও নোবেলজয়ী কোনো পদার্থবিজ্ঞানীর সঙ্গে গবেষণাপত্রের সহলেখক হওয়ার কথা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো। যে স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে তিনি কাজ করেছেন, সেটির গবেষণাপত্রে পার্লমুটারের পাশাপাশি নিজের নাম দেখে তিনি আনন্দিত। এই কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নিজের গবেষণা উপদেষ্টা অধ্যাপক ইয়ান জে. এম. ক্রসফিল্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, ক্রসফিল্ড তাঁদের এই কাজের উপযুক্ত মনে করেছিলেন বলেই প্রকল্পটিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর সহকর্মী জেসন পেরোও গবেষণাপত্রটির সহলেখক। লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি নিয়ে গবেষণাপত্রটিতে প্রস্তাবিত মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগারের প্রাথমিক নকশা ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। এটি তিন মিটার অ্যাপারচারের একটি টেলিস্কোপভিত্তিক প্রকল্প, যা দৃশ্যমান আলো থেকে নিকট অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য পরিকল্পিত। এর গবেষণার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ঘটনা, নক্ষত্র ও গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন। সৌরজগতের বাইরের গ্রহের ছবি ধারণ ও সেসব গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের সক্ষমতাও প্রকল্পটির পরিকল্পনায় রয়েছে। গবেষণাপত্রটি মূলত পর্যবেক্ষণাগারের নকশা ও সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে লেখা। আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত একাডেমিক পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যাপক ক্রসফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এক্সোল্যাবে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে গবেষণা করছেন। এর আগে তিনি ঢাকার নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সল পার্লমুটার দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে, এমন আবিষ্কারের জন্য ২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। একই আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে ব্রায়ান পি. স্মিট ও অ্যাডাম জি. রিসও ওই বছর পুরস্কৃত হন। এই অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত জীবনের স্মরণীয় অর্জন হিসেবে দেখছেন আবদুল্লাহ। পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যতে নাতি-নাতনীদের কাছে গল্পটি তিনি বাড়িয়ে বলবেন। এমন একটি গবেষকদলের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মীমের ২৫টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ অফার
কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ
এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে এবং অকৃতকার্য হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি আয়োজিত ৪৯তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি অকৃতকার্য ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এগিয়ে গেলে চলবে না, পিছিয়ে পড়াদের জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে ফল প্রকাশের পর দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পুনঃপরীক্ষাতেও সফল না হলে তাদের কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে পুনঃপরীক্ষার সময়সীমা ও সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, আবেদন কীভাবে করতে হবে কিংবা পরীক্ষার ফি ও সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একই অনুষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এসব কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। সাধারণ শিক্ষায় বারবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা সরদার কেরামত আলী। উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। সূত্র: একাত্তর টিভি
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে