আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২১:১৫
আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন বুলেটিনে পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

 

আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, F2A ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য।

 

জুলাই মাসে যেখানে F2A ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি, সেখানে আগস্টে তা এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই হয়েছে। এর ফলে এই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অনেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থবছরের শেষের দিকে ভিসার বার্ষিক কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

 

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন এবং ভিসা ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই দেশভিত্তিক বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যাটাগরিকে "অনুপলব্ধ" (Unavailable) ঘোষণা করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে।

 

এছাড়া ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরিতেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আরও পিছিয়ে যেতে পারে অথবা ক্যাটাগরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ এবং ইবি-৫ (অনির্ধারিত অংশ) ক্যাটাগরি ইতোমধ্যেই অনুপলব্ধ রয়েছে।

 

আগস্ট ভিসা বুলেটিনে ভারতের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সর্বশেষ ফাইনাল অ্যাকশন ডেট হলো:

  • ইবি-১: ১৫ অক্টোবর ২০২২
  • ইবি-২: অনুপলব্ধ
  • ইবি-৩: ১ জানুয়ারি ২০১৪
  • ইবি-৪: ১৫ অক্টোবর ২০২২
  • ইবি-৫: অনুপলব্ধ

 

মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কোন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের প্রায়োরিটি ডেট বুলেটিনে উল্লেখিত ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগের, তারাই সাধারণত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হলেও, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা হাজারো দক্ষ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া-মিনেসোটার মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় লাখো বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর স্বাস্থ্যসেবা

ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন।    মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে।    স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল।    প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি।    এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি।    অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ।    ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।    মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২২:৩২
ইরান যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। ছবি: সংগৃহীত

আর এক ডলারও নয়: ইরান যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরুদ্ধে কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি

ভোটার নিবন্ধন ত্রুটির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর মিকি শেরিল। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোট দিয়েছেন এমন ৭ হাজার ভোটার এর নাম প্রকাশ! নিউ জার্সিতে চাঞ্চল্য

ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া ফোনকল দিয়ে গ্রাহকদের লক্ষ্য করছে প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া রোবো কল, ৯০০ ডলার চুরির নতুন ফাঁদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সতর্কতা

ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
৬৫ ডলারের পার্কিং ফি নিয়ে তর্ক! মুহূর্তেই তিনজনকে গুলি করে হত্যা, এরপর যা করলেন

মাত্র ৬৫ ডলারের একটি পার্কিং চুক্তি বাতিল না করাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে এক অ্যাপার্টমেন্টের লিজিং অফিসে ঢুকে তিনজন সম্পত্তি ব্যবস্থাপককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৩০ বছর বয়সী তসেগাব আদেমাস্সু বিনেসুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ।   সোমবার সন্ধ্যায় ডাভার্ন পার্ক অ্যাপার্টমেন্টস থেকে গুলির শব্দ ও চিৎকারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী নানসি জি. ফুয়েন্তেস জামব্রানো, ৫৬ বছর বয়সী ডেনা এম. সিলকক্স এবং ৪৩ বছর বয়সী অ্যাডাম জে. উইলওয়ার্ডিং।   রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার আগে বিনেসু অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মাসিক ৬৫ ডলারের পার্কিং গ্যারেজ চুক্তি বাতিল করতে চান। কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি নবায়ন করা চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। ফোনেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সরাসরি অফিসে এলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না।   অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পরই তিনি লিজিং অফিসে যান। সেখানে প্রথমে অ্যাডাম উইলওয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও একাধিকবার গুলি করা হয়। এরপর ডেনা সিলকক্সকে পরপর গুলি করেন। পরে অফিসের ভেতরের আরেকটি অংশে পালানোর চেষ্টা করা নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোও গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লিজিং অফিসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার বড় অংশ ধরা পড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের ২১টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।   হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোর গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে সেন্ট লুইস কাউন্টিতে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, একটি খালি ম্যাগাজিন, আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতিপত্র এবং সদ্য কেনা ক্যাম্পিং সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার সময় যে পোশাক পরেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময়ও একই পোশাকে ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বিনেসুর সঙ্গে বসবাস করা এক রুমমেট পুলিশকে জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত তাকে ফোন করে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বললেও পরে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে বিনেসু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সাত বছরেও ইথিওপিয়ায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি ট্রাকচালকের চাকরিও ছেড়ে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে বারবার ‘এটাই সিস্টেম’ বলে দায় এড়িয়েছে।   তবে তদন্তকারীদের কাছে তিনি লিজিং অফিসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেখানে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য দেননি। পরে আইনজীবীর উপস্থিতি চান।   রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র ও সেন্ট পল পুলিশ জানিয়েছে, বিনেসুর বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি নির্ধারিত হয়েছে বুধবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২১:৪৭
জালিয়াতি ও আলামত ধ্বংসের অভিযোগে গ্রেপ্তার পার্ল রিভার কাউন্টির যাজকের স্ত্রী সাবরিনা ব্রাউন ও ছেলে ডসন ব্রাউন । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে যাজকের বাড়িতেই কিশোরী ধর্ষণের শিকার, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ধর্মযাজকের স্ত্রী ও ছেলে গ্রেপ্তার

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইভানা বালিস্ট্রেরি ও তার শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বেপরোয়া গতির টেসলার ধাক্কায় মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান মেয়র মামদানির, ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া বক্তব্য

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার চাইলে আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে "যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযুক্ত ব্যক্তি" হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আইসিসি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর বিচার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না।   মামদানি জানান, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রশাসন কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে সিটির আইন বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। তবে সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেব না। আইন যা অনুমতি দেয়, আমরা শুধু সেটুকুই করব।"   একই সঙ্গে মামদানি বলেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আমরা স্বাগত জানাই না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা হয়তো একা এই যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু অন্যায়ের মুখে নীরব থাকব কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।"   মামদানির এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিধান জড়িত থাকায়, কোনো মার্কিন শহরের মেয়রের পক্ষে এককভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা অত্যন্ত জটিল আইনি বিষয়। এ কারণে বিষয়টি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।   এদিকে মামদানির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২০:৫০
বিপদে পড়া এক অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারান অফ-ডিউটির ফায়ারফাইটার ক্যামেরন ডুভ্যাল। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে বিপদে পড়া অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অফ-ডিউটিতে থাকা তরুণ দমকলকর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন, প্রকাশিত হলো নতুন ৯ শহরের তালিকা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রী উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, অথচ অভিবাসন নিয়ে কড়া অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

0 Comments