পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউএস এম্বাসি ঢাকা।
এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে।
শুধু ভিসা বাতিলই নয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।তাই সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সবসময় ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস—শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থানের ক্ষেত্রে পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে পড়াশোনার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাও জরুরি।
দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreবাংলাদেশের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক মালবিকা সরকার আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা বিভাগের সহযোগী ডিন এবং আচরণগত ও সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাস্তবায়নবিজ্ঞান, মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োগ তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র। বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা দিয়ে তাঁর পেশাগত পথচলা শুরু। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস্বাস্থ্যের দিকে মনোনিবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে লিঙ্গ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণও নেন তিনি। পেশাজীবনের শুরুতে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন মালবিকা সরকার। কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা, প্রজননস্বাস্থ্য এবং নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাস্তবায়নবিজ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়। মালবিকা সরকার দীর্ঘ সময় ব্র্যাকের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর তিন দশকের বেশি সময়ের জনস্বাস্থ্য ক্যারিয়ারে প্রায় এক দশক তিনি ব্র্যাকের কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ও সাব সাহারান আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে তিনি অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্বও পালন করেন। একই সঙ্গে গবেষণার ফল কীভাবে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যনীতি ও মাঠপর্যায়ের সেবায় প্রয়োগ করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি বাস্তবায়নবিজ্ঞান ও সম্প্রসারণ বিষয়ক একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে যোগ দেওয়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষাদানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবায়নবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব তৈরির কাজেও তিনি যুক্ত। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মালবিকা সরকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী ডিন ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। এই পদে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কৌশল এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ করা। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে মালবিকা সরকার গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে এক কোটির বেশি মার্কিন ডলারের অনুদান সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর ১৫৫টির বেশি পিয়ার রিভিউড গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের একটি তথ্যে তাঁর ১৫৮টি গবেষণা প্রবন্ধ এবং সাতটি বইয়ের অধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বজনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনস এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও নেতৃত্বের ভূমিকায় তিনি কাজ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এইচআরপি অ্যালায়েন্সের গবেষণা সক্ষমতা উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিশ্বজনস্বাস্থ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে উইমেন ইন গ্লোবাল হেলথ তাঁকে ‘হিরোইন অব হেলথ’ সম্মাননায় ভূষিত করে। নারীর স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য গবেষণা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসাশিক্ষা থেকে শুরু করে হার্ভার্ড ও হাইডেলবার্গে উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশে ব্র্যাকের জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং বর্তমানে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নেতৃত্ব, মালবিকা সরকারের পেশাগত পথচলা বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক ও গবেষকের বিশ্বজনস্বাস্থ্য অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়েই হার্ভার্ডে, গবেষণায় পথ খুলেছেন জাবির রিপন
টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, আবেদন করতে পারবেন কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা
ডিগ্রি থাকলেও নিউইয়র্কে এবার বিনামূল্যে কলেজ, নতুন ক্যারিয়ারের দরজা খুলছে হাজারো মানুষের জন্য
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সামনে ছিল প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারের একাধিক সুযোগ। এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেছেন, জনতা ব্যাংকে ছিলেন এক্সিকিউটিভ অফিসার। ৩৪তম বিসিএসেও কোয়ালিফাই করেছিলেন। তারপরও সেই পরিচিত পথ ছেড়ে নায়লা শারাফ বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা সদরের পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর নায়লা প্রথমে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে অল্পদিনের মধ্যেই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পরে জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও সেখানেও স্থায়ী হননি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি প্রচলিত অর্থে আরও মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরির পথে যাননি। শেষ পর্যন্ত শিশুদের পড়ানোর মধ্যেই নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজে নেন। নায়লার ভাষ্য, অর্থ বা বড় পদ তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য নয়। সাধারণ জীবন এবং নিজের কাজ থেকে পাওয়া মানসিক তৃপ্তিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পান, সেটিই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়া শেষ করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নিজে হাতে ছবি আঁকা, বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। স্কুলের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন শহরের ভালো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো মানসম্মত শিক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই বাড়তি সময় দিয়ে কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের সততা, সাহস এবং নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন নায়লা। কোন কাজ সঠিক আর কোনটি ভুল, তা যেন তারা নিজের বিবেক দিয়ে বুঝতে শেখে, সেই মানসিকতা তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লীলা রানী ভৌমিকও নায়লার পাঠদানের ধরন, দায়িত্ববোধ এবং শিশুদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন। নায়লা নিজেও একসময় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে পড়েছেন। সেখানকার শিক্ষা ও সুযোগের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চান, প্রান্তিক এলাকার শিশুরাও যেন একইভাবে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। গত সাত বছর ধরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তবে বুয়েটের ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেননি সবাই। পরিচিতজন ও স্বজনদের কাছ থেকেও নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন নায়লা। তাঁর কাছে বড় চাকরির পরিচয়ের চেয়ে শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পেশা সম্পর্কে নায়লার উপলব্ধিও স্পষ্ট। অন্য কোথাও কাজ করলে হয়তো বেশি অর্থ বা সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়া যেত, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা তিনি পান, সেটিই তাঁর কাছে আলাদা। সেই ভালোবাসা এবং শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগই তাঁকে এই পেশায় ধরে রেখেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট
শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স-পিএইচডিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ভাতা ও টিউশন সহায়তা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম ও ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। মানিকগঞ্জের বেংরোয়া গ্রামের এই গবেষক যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন। আরটিভির ১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর থেকে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। উজ্জ্বলের গবেষণায় গুরুত্ব পাবে জীবাণুর জিনোমিক্স, ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি। অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকেও গবেষণার প্রস্তাব পেয়েছিলেন উজ্জ্বল। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র্যাটক্লিফের গবেষণাগার থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়ে অক্সফোর্ডের এই গবেষণা বেছে নেন। তাঁর গবেষণাটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের একটি বৃহৎ প্রকল্পের অংশ। এতে তিনটি মহাদেশের গবেষকদের সহযোগিতায় কাজ হওয়ার কথা রয়েছে। উজ্জ্বল বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগেও অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি। দেশের গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার নজির রয়েছে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক কাজেও। বাংলাদেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের জিনোম ও জিনগত পরিবর্তন নিয়ে একটি গবেষণাপত্রে তাঁর নাম রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির প্রকাশনায় সেই গবেষণায় তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের ফার্মাকোলজি বিভাগের উল্লেখ পাওয়া যায়। উচ্চতর গবেষণা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় পর্যায়ে জিনোমিক তথ্যের অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি দেশের গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। সূত্র: আর টিভি
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য