আমেরিকা

একসময় ছিলেন গৃহহীন, এবার তাঁর নামেই নামকরণ হলো ডেট্রয়েটের একটি সড়ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১১:৫
এবার তাঁর নামেই নামকরণ হলো ডেট্রয়েটের একটি সড়ক
এবার তাঁর নামেই নামকরণ হলো ডেট্রয়েটের একটি সড়ক

একসময় গৃহহীন হয়ে ডেট্রয়েটের রাস্তায় দিন কাটিয়েছিলেন। আসক্তির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সংগ্রামী জীবনকে সম্মান জানিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে আরঅ্যান্ডবি সংগীতশিল্পী কেমের (KEM) নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার ডেট্রয়েটের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ড ও থার্ড স্ট্রিটের মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেম’–এর নামে সম্মানসূচক সড়কচিহ্ন উন্মোচন করা হয়। স্থানটি শিল্পীর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একসময় এই এলাকাতেই অবস্থিত ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘KEMISTRY’-এর কিছু গানও তিনি এই সময় লিখেছিলেন। 

 

অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেন, কেম শুধু একজন সফল সংগীতশিল্পী নন, তিনি মানবিক কাজ এবং সমাজসেবার জন্যও পরিচিত। কঠিন অতীতকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর এই সম্মান প্রমাণ করে যে প্রতিকূলতা পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। 

 

ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য মেরি ওয়াটার্স বলেন, এই সড়কচিহ্ন শুধু একজন শিল্পীকে সম্মান জানানো নয়, বরং এমন একটি জায়গাকে স্মরণীয় করে রাখা, যেখান থেকে কেমের নতুন জীবনের সূচনা হয়েছিল। তাঁর জীবনগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। 

 

কেমের জন্মদিন, ‘কেম ডে’ এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মাদকমুক্ত জীবনের বার্ষিকী উপলক্ষে একই দিনে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডেট্রয়েট রেসকিউ মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। 

 

গ্র্যামি মনোনীত এই আরঅ্যান্ডবি শিল্পী একসময় গৃহহীনতা ও মাদকাসক্তির কারণে জীবনের কঠিন সময় পার করলেও পরে নিজের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সংগীতের পাশাপাশি গৃহহীন ও আসক্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
শহরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বছরের পর বছর ধরে কমে আসছে।
নিউইয়র্কে ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় পাস করেনি, তবু পরের শ্রেণিতে উঠেছে প্রায় সবাই

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়া ও গণিতের শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ফল করতে পারেনি। এরপরও গত বছর এসব শ্রেণির প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে।   নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে তাদের অধিকাংশকেই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হয়েছে।   বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষা নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। অভিভাবকদের সংগঠন Parent Leaders for Accelerated Curriculum Education-এর সহসভাপতি জিন হান দ্য পোস্টকে বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জন না করেও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুতর ব্যর্থতা।   তবে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগ বলছে, শুধু শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীর রিপোর্ট কার্ড, শ্রেণিকক্ষের কাজ এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়।   শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীর কোর্সের ফলাফল থেকে তার নির্ধারিত শিক্ষাগত মান কতটা আয়ত্ত করেছে, তা বোঝা যায়। শুধু উপস্থিতি, আচরণ বা শ্রেণিকক্ষে কাটানো সময়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্ধারিত শিক্ষাগত প্রত্যাশা পূরণ করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করার কথা।   নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে রাখার হার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির আওতায় শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তোলার ক্ষেত্রে শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।   এর আগে ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। সে বছর ১ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। গত বছর সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে।   এ নিয়ে নিউইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় দুর্বল ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দিলে তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে কি না। অন্যদিকে শিক্ষা বিভাগের অবস্থান হলো, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি বিবেচনা করেই শ্রেণি উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৩:৩২
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ সেজে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ সেজে প্রতারণা, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে চিনবেন আসল-নকল

টেক্সাসে সিল করা রেল কনটেইনারে আটকে তীব্র গরমে সাত অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন | ছবি: সংগৃহীত

মানুষের পা দেখার পর দরজা খুলে উদ্ধার করা হয় ৬ টি মরদেহ! অভিবাসীর এমন মৃত্যুতে টেক্সাসে চাঞ্চল্য

দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সীমান্তেই আটকে দেওয়া হলো এক পরিবারকে | ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হলো না কানাডীয় পরিবারকে

বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে শর্তে ওয়ালনাট ক্রিকের একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইন তোলপাড় | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
বাসায় বসে অফিস করলেই দিতে হবে অতিরিক্ত ২০০ ডলার! ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু

ক্যামেরন বপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিক এলাকার একটি নতুন এক বেডরুমের ফার্নিশড এডিইউর মাসিক ভাড়া ৩,২৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউটিলিটি ও ওয়াই-ফাই অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিজ্ঞাপনে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে।   অস্বাভাবিক এই ঐচ্ছিক ফি দেখে ভাড়াটেদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা গেছে। বে এরিয়া এলাকার ভাড়াটে সামারা ওনদিমু এটিকে 'পাগলামি' বলেছেন। শিকাগোতে দূর থেকে কাজ করা ক্রিস্টফার উইলিয়ামস ও অপর ভাড়াটে কোডি হল জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন ফি দেখেননি এবং ধারণাটিকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন। উইলিয়ামস উল্লেখ করেছেন যে, এমনিতেই ভাড়া অনেক বেশি। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, বে এরিয়া এলাকায় গড় ভাড়া প্রতি মাসে প্রায় ৩,৬৫৫ ডলার, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮১% বেশি। ফলে অতিরিক্ত এই ফি আরও ধাক্কা দিয়েছে।   তবে হাউজিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফি পুরোপুরি নিয়মের বাইরে নয়। ইস্ট বে রেন্টাল হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও ডেরেক বার্নস একে ইউটিলিটি খরচ পুনরুদ্ধার বা পরিবেশগত সংরক্ষণ ফি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সারাদিন ঘরে কাজ করলে অফিসগামী মানুষের তুলনায় বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বেশি হতে পারে। তবে তিনি এই ফি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশা করছেন না, তবে এটি ইউটিলিটি ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।   কেজিও স্টেশন থেকে প্রপার্টিতে গিয়ে এবং বিজ্ঞাপনদাতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভাড়াটেরা আশা প্রকাশ করেছেন যেন এই ধারণা ছড়িয়ে না পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১০:২৪
সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আইসের হাতে আটক হলেন ইউক্রেনীয় নারী ইরিনা গোর্ব | ছবি: সংগৃহীত

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর আটক ইউক্রেনীয় নারী, উত্তাল সান ফ্রান্সিসকো

বিশ্বজুড়ে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্রুজ শিপেই স্থায়ী ঠিকানা গড়ছেন তরুণরা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বাড়ির ভাড়ার চেয়ে সমুদ্রে থাকা সস্তা! ক্রুজ শিপেই স্থায়ী ঠিকানা গড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স গত ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জন্ম নেওয়া তাদের চতুর্থ সন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্স ছবি প্রকাশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে ১৫৬ বছর পর নবজাতকের আগমন!

ট্রাম্পের পেছনে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে ভাইরাল সেই শিক্ষার্থী। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্পের পেছনে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে ভাইরাল সেই শিক্ষার্থী!  এবার মুখ খুলে জানালেন আসল ঘটনা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার সময় তার পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুখ খুলেছেন ওই ছাত্র। ২০ বছর বয়সী রাইলান ফার্গুসন বলেন, বুধবার ম্যারিটার হুইলার হাই স্কুলে প্রেসিডেন্টের ভাষণের সময় তার এই অনুকরণ ছিল সম্পূর্ণ মজার ছলে।   ভিডিওটিতে ফার্গুসনকে প্রেসিডেন্টের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রায় প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করতে দেখা যায়। এই ক্লিপটি ইতিমধ্যে ভারত, রাশিয়া এবং জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ দেখেছেন।   ফার্গুসন জানান, তিনি সুযোগ পেয়েই এই সমাবেশে অংশ নেন। হুইলার হাই স্কুলের সাবেক ছাত্র হওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসের কর্মীরা তাকে এবং তার বন্ধুদের পডিয়ামের পেছনে বসার জন্য মনোনীত করেন। ফার্গুসন বর্তমানে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, তিনি সর্বদা কমেডি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন এবং এই ভাইরাল মুহূর্তটি তার ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হতে পারে।   প্রায় এক ঘন্টা পনের মিনিটের ভাষণে ফার্গুসন তাঁর এই চরিত্রে ছিলেন। ক্যামেরা তাঁর প্রায় প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি অনুকরণের মুহূর্ত ধারণ করে। তবে ফার্গুসন জোর দিয়ে বলেন, এই অনুকরণ কোনো অপমান বা কটূক্তি ছিল না। তিনি প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করেন এবং এটি ছিল সম্পূর্ণ মজার উদ্দেশ্যে।   ফার্গুসনের বন্ধু জ্যাকসন স্টিফেনস বলেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময় ফার্গুসন প্রায়ই এই অনুকরণটি করে থাকেন। ফার্গুসন হাই স্কুলের কয়েক ব্লক দূরে থাকেন এবং তিনি আশা করছেন যে এই ভাইরাল মুহূর্তটি তাকে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ এনে দিতে পারে।   এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভিডিও ক্লিপ দেখেছেন কিনা, তা জানা যায়নি। তবে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং ফার্গুসন এখন পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৭:৩১
মিশিগানে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্তকাজ চালাচ্ছেন দমকলকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনায় ছয় শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

মিশিগানের একটি বাড়িতে আগুনের পর মর্মান্তিক দৃশ্য, ছয় শিশুসহ আটজনের মরদেহ উদ্ধার

করিম খান। ছবি:সংগৃহীত

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি

চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি’; ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

0 Comments