রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।
রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত?
রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ।
উচ্চ রক্তচাপের কারণ
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়?
অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়
এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
লবণ কম খাওয়া
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করা
সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়।
ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া
একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়।
মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন।
নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন
৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না।
নিয়মিত ওষুধ খান
ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক।
পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান
পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না।
ক্যাফেইন কমান
দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ। উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়। ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়। মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না। নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না। ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।