মস্তিষ্কে একাধিক টিউমার ভেবেছিলেন চিকিৎসকরা, পরীক্ষায় ধরা পড়ল ফিতাকৃমির
দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও আচরণগত কিছু পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্পেনের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার (মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন ক্যানসার) হয়েছে। তবে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার নয়, বরং জীবন্ত ফিতাকৃমির (টেপওয়ার্ম) লার্ভা বাসা বেঁধেছিল।
ঘটনাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Emerging Infectious Diseases-এ প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Fox News Digital।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের কাস্তেয়োন অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কখনো এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেননি, যেখানে এই রোগ সাধারণভাবে বেশি দেখা যায়। তবুও তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিস
(Neurocysticercosis) নামে পরিচিত একটি বিরল পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এটি Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম থেকে সৃষ্ট একটি রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে।
প্রথমে সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। সেগুলো দেখতে ক্যানসারের টিউমারের মতো হওয়ায় ধারণা করা হয়, শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে মস্তিষ্কে এসেছে।
এই সন্দেহের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা পুরো শরীরের স্ক্যান, কোলনোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোথাও ক্যানসারের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
এরপর আরও বিস্তারিত এমআরআই পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মস্তিষ্কে কয়েকটি তরলভর্তি সিস্ট রয়েছে এবং কয়েকটির ভেতরে ফিতাকৃমির মাথাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে রোগী নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত।
চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যালবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেল নামে দুটি পরজীবীনাশক ওষুধ এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, বহু বছর আগে অসাবধানতাবশত ফিতাকৃমির অতি ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করার ফলে এই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এমন কিছু সহকর্মীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন, যারা এমন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন যেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এটিকে নিশ্চিত সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে সাধারণত অন্ত্রে ফিতাকৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু নিউরোসিস্টিসারকোসিস হয় ভিন্নভাবে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্নায়বিক জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি একক রোগীর ঘটনা। তাই এর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই রোগ খুব কম দেখা যায়, সেখানেও এমন সংক্রমণ ঘটতে পারে, এ ঘটনাটি সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোসিস্টিসারকোসিসের ২ শতাংশেরও কম ঘটনা দেশীয়ভাবে সংক্রমিত বলে বিবেচিত হয়। আবার ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮টি।
গবেষকদের মতে, রোগীর ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও মস্তিষ্কে একাধিক রিং-আকৃতির ক্ষত দেখা গেলে শুধু ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো বিরল পরজীবী সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিল পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreহেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা থাকে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা খরচের ভয়ে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শহরের সরকারি কর্মসূচি ও কয়েকটি ফ্রি ক্লিনিকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব জায়গায় সব চিকিৎসা ফ্রি নয়। প্রথম ঠিকানা এনওয়াইসি কেয়ার। যাঁরা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তা বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি। সদস্যরা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কম দামে ওষুধ পেতে পারেন। খরচ আয়ের ওপর নির্ভর করে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সদস্য হওয়ার বাধা নয়। জানতে বা আবেদন করতে ফোন করুন ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে; বাংলায় সহায়তা চাইতে পারেন। দ্বিতীয় ঠিকানা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও কুইন্স হাসপাতালও এই নেটওয়ার্কের অংশ। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেখানে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিসট্যান্স বা ‘অপশনস’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিল কমতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে ৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে ফোন করে ৩ চাপুন। হাসপাতালের সেবা মাত্রেই ফ্রি হবে, এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তৃতীয় ঠিকানা ম্যানহাটনের উইল কর্নেল কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫০৫ ইস্ট ৭০তম স্ট্রিট। ইন্স্যুরেন্সবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই স্টুডেন্ট পরিচালিত ক্লিনিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাইমারি কেয়ার দেওয়া হয়। বর্তমানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিমেডিসিন এবং নির্দিষ্ট শনিবার সকালে সরাসরি সেবা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। নতুন রোগীকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন করতে হয়; অপেক্ষাও থাকতে পারে। ফোন ৬৪৬-৯৬২-৯২২২। চতুর্থ ঠিকানা ব্রুকলিন ফ্রি ক্লিনিক। ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার ধরন আগে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটি সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের তথ্য দেয়। তাই সেখানে যাওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনটি জানিয়ে যোগাযোগ করা জরুরি। পঞ্চম ঠিকানা নিউ ইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের ক্লিনিকগুলো। যৌনস্বাস্থ্য, যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং টিকাদানের জন্য আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। এসব সেবার অনেকগুলো বিনামূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়; তবে এগুলো সাধারণ সব রোগের প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিক নয়। কাছের কেন্দ্র, খরচ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করা যায়। এনওয়াইসি কেয়ারে ভর্তির সময় পরিচয়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস ও আয়ের প্রমাণ চাইতে পারে। পাসপোর্ট বা বিদেশি পরিচয়পত্রও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আগে ফোন করে নিজের পরিস্থিতি জানান। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না, এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। বাংলাভাষী ডাক্তার চাইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় দোভাষী বা বাংলায় সেবার ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিন। বেসরকারি চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে ফি এবং এনওয়াইসি কেয়ারের সেবা সেখানে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন। আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সাধারণ ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি রুমে যান বা ৯১১ নম্বরে কল করুন।
স্টেজ-৪ স্তন ক্যানসারে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দিল এফডিএ
বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে স্ট্রোকের হার, বলছে গবেষণা
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ কখন খাবেন! জানুন সঠিক সময় ও নিয়ম
অস্টিওসারকোমা হাড়ের এক ধরনের বিরল ক্যানসার। এটি সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে টিউমারটি হাঁটুর কাছের হাড়ে পাওয়া যায়। কখনো কখনো এক্সরেতে টিউমার থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা সরু রেখার মতো নতুন হাড় দেখা যায়। সূর্যের রশ্মির মতো দেখতে এই চিহ্নকে চিকিৎসকেরা ‘সানবার্স্ট’ বলে থাকেন। তবে অস্টিওসারকোমার সব এক্সরেতে এমন চিহ্ন দেখা যায় না। হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা এ রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। একই লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ বা এক্সরের চিহ্ন দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করেন। টিউমারের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ধূ ম পা ন করতেন, ওয়াইন ও চকলেটও ছিল পছন্দ, তবু বেঁচেছিলেন ১২২ বছর!
ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে খাবার বানাচ্ছেন মায়েরা, প্রমাণ কতটা!
এইচআইভির ওষুধ বদলে এমএস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, গবেষণায় মিলল সাড়া জাগানো ফল
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন। ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি। অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।
তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা
জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধে হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা, যা বলছে গবেষণা