সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৮:৪৬
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।


আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।


এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি:
মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।
 

হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

ফ্যাশনে জনপ্রিয় ক্ল’ ক্লিপ গাড়ি দুর্ঘটনার সময় গুরুতর মাথা ও ঘাড়ের আঘাতের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে চিকিৎসকদের এক আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে সিটের হেডরেস্টে আঘাত করলে মাথার পেছনে লাগানো ক্ল’ ক্লিপের দাঁত বা শক্ত অংশ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে।   জরুরি চিকিৎসক ডোরিয়ান ও’লিয়ারি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা জোরে পেছনের দিকে ছিটকে গেলে ধাতব ক্ল’ ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এমনকি ক্লিপ মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং সেটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   একজন অবসরপ্রাপ্ত আইসিইউ নার্সও একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্ল’ ক্লিপ মাথার খুলিতে ঢুকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আর একজন ডেথ ইনভেস্টিগেটর জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর সময় তিনি নিজে কখনো ক্ল’ ক্লিপ পরেন না।   এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিনা পানেসার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় মাথায় থাকা চুলের ক্লিপটি মাথায় ঢুকে যায়। এতে তার মাথার খুলি, মুখ ও চোখের চারপাশে গুরুতর আঘাত লাগে।   অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার এল্লা কার্টার গাড়ি দুর্ঘটনায় প্লাস্টিকের ক্ল’ ক্লিপ পরা অবস্থায় গুরুতর কনকাশনে আক্রান্ত হন। তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন।   ক্ল’ ক্লিপ মূলত দ্রুত চুল বাঁধার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ১৯৮০-এর দশক থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের ফ্যাশনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এটি আবারও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে।   তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা মূলত গাড়িতে ক্ল’ ক্লিপ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনার সময় মাথা ও হেডরেস্টের মাঝখানে শক্ত কোনো বস্তু থাকলে সেটি আঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই গাড়ি চালানো বা যাত্রার সময় এ ধরনের শক্ত ক্লিপের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:১
১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত

চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক

সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা

সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

রোগীরা হাসপাতালে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।   রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে।   মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:১৩
চুল পড়া রোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা

অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে ছাড়ের প্রলোভনে পড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট (বিবিএল) করাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু

নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন ড. হংমেই ওয়াং। ছবি: সংগৃহীত

বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা

নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা

ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে।   গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।   গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২১:৪৫
অ্যালকোহল ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়

তীব্র ব্যায়ামের পর কিছু পুরুষের শরীরে সাময়িক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ

মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি

মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি

0 Comments