একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।
শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। খবর বিবিসি বাংলার।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।
এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।
অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।
সরকারি টিকা
সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।
ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেওয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্য ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বায়োহ্যাকার ব্রায়ান জনসন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে একটি বিরল ও নিরাময়হীন অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত। ‘অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (এআইজি)’ নামে পরিচিত এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই পাকস্থলীর আস্তরণে আক্রমণ চালায়। নিজের শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমার পাকস্থলী নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলছে।" ৪৮ বছর বয়সী ব্রায়ান জনসন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত বায়োহ্যাকারদের একজন। বার্ধক্যের গতি কমানো এবং যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই, কোলনোস্কপি, কঠোর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং নানা পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্যসেবা তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র Don't Die: The Man Who Wants to Live Forever তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে জনসন জানান, গত মে মাসে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস ধরা পড়ে। তবে তিনি নিশ্চিত নন, ঠিক কত বছর ধরে তিনি এই রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিকভাবে কম ফেরিটিন বা আয়রন সঞ্চয়ের মাত্রার কারণ অনুসন্ধান করতেই রোগটি শনাক্ত হয়। রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি এবং পাকস্থলীর বায়োপসির মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করা হয়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছর ধরে তার ফেরিটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পুষ্টি গ্রহণ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। পরে বিশেষায়িত পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে অ্যান্টি-প্যারিয়েটাল সেল অ্যান্টিবডির মাত্রা বেড়ে গেছে, যা অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পাকস্থলীর বায়োপসিতে রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তিনি আরও জানান, ২১ বছর বয়সেই তার হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়েছিল এবং প্রায় তিন দশক ধরে ওষুধের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই অন্য কোনো অটোইমিউন রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সংস্থা গাটস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনকারী কোষে আক্রমণ করে। ফলে আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ শোষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। রোগটির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বদহজম, বমি বমি ভাব, অল্প খাওয়াতেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি, পেটে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়। ব্রায়ান জনসন মনে করেন, শৈশবে অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিনিযুক্ত খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক চাপ ও মানসিক অবসাদ তার শরীরে অটোইমিউন সমস্যার সূচনা ঘটাতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সাধারণত চিকিৎসকেরা রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং সম্ভাব্য জটিলতা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। তবে জনসন জানিয়েছেন, তিনি এবং তার চিকিৎসক দল আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনভিত্তিক গবেষণা ও উন্নত জীববৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, "আজ পর্যন্ত অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত নিরাময় নেই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত জীববিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির এই যুগে শুধু অতীতে নিরাময় ছিল না বলেই কোনো রোগকে চিরস্থায়ীভাবে নিরাময় অযোগ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।" একই সঙ্গে তিনি জানান, তার লক্ষ্য এখনো অপরিবর্তিত, যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা।
পারিবারিকভাবে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় স্মার্টফোন ও টিভির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের চেয়েও বেশি ডিভাইস ব্যবহার করছেন অভিভাবকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, পারিবারিক খাবারের সময় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবারেই কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার দেখা গেছে। ‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ৩৫০-এর বেশি অভিভাবকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশের বেশি অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের শেষ পারিবারিক খাবারের সময় তারা ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার করেছেন। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে স্মার্টফোন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশও খাবারের সময় কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করেছে। পরিবার একসঙ্গে খাবার খেলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং শিশুদের খাদ্যাভ্যাসও তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর থাকে। তবে শুধু একসঙ্গে খাওয়াই যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন মনোযোগী ও বিভ্রান্তিহীন সময়। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মার্জি স্কিয়ার বলেন, পারিবারিক খাবার মূলত একটি নিয়মিত ‘চেক-ইন’ মুহূর্ত, যেখানে আবেগ ও অনুভূতি ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, এই সময় সন্তানরা অনুভব করে তারা গুরুত্ব পাচ্ছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান ফিশেল বলেন, পারিবারিক খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটিন, যা শিশুদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক পরিচয়ের অনুভূতি তৈরি করে। গবেষক সিসিলিয়া সাদা গারিবায় বলেন, সব ধরনের মিডিয়া ব্যবহার একই রকম নয়। বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে কিছু দেখা পারিবারিক বন্ধনের সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে প্রত্যেকে আলাদা জগতে চলে যায়—ফলে একসঙ্গে থেকেও সংযোগ কমে যায়। গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে পরিবারগুলোর মধ্যে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও সেটি অনেক সময় একাকী বা বিভক্ত মিডিয়া ব্যবহারের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় না পেলেও অন্তত সপ্তাহে একবার হলেও ডিভাইস ছাড়া একসঙ্গে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এমনকি পাঁচ থেকে বিশ মিনিটের ছোট পারিবারিক সময়ও সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব না হলেও সীমিত ও সচেতন ব্যবহারই পারিবারিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে। এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন। প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।