১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একের পর এক গর্ভপাত, চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং গর্ভেই যমজ সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২০টি সন্তান হারানোর পর একসময় মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পরমজিৎ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও গর্ভধারণ করেন তিনি। এবার সুস্থ যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই নারী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরমজিৎ ও তাঁর স্বামী নামিন্দরের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সন্তান নেওয়ার জন্য এই দম্পতিকে একাধিকবার চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়েছে। আইভিএফ চিকিৎসা, বারবার গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভ নষ্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।
তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০১৮ সালে। সে বছর যমজ পুত্রসন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পরমজিৎ। সন্তান দুটির নামও রেখেছিলেন তাঁরা, অমৃত ও ফতেহ। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এটি গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা, যেখানে মায়ের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরমজিৎ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালেও প্রথমদিকে তাঁর উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে জানা যায়, তাঁর একটি সন্তানের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সন্তানটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়।
শেষ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তানকেই হারান পরমজিৎ ও নামিন্দর। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা টুইনস ট্রাস্টের প্রকাশিত বিবরণেও ২০১৮ সালে তাঁদের যমজ সন্তান অমৃত ও ফতেহকে হারানোর ঘটনাটি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে সন্তান দুটিকে হারান পরমজিৎ।
এই ঘটনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, যমজ সন্তান হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তান হারানোর শোক তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।
তবু মা হওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি। পরবর্তী কয়েক বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এই দম্পতি। কিন্তু বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে নতুন করে চেষ্টা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২২ সালে ভারতে সফরের সময় পরমজিতের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি অমৃতসর এবং শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান হজুর সাহিবে যান। সেখানে প্রার্থনা করেন, জীবনে যদি আবার সন্তান আসে, তাহলে সেই সন্তানকে নিয়ে তিনি পুনরায় সেখানে ফিরবেন।
পরমজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।
খবরটি আনন্দের হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে উদ্বেগও তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। কারণ এর আগেও যমজ সন্তান হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন গর্ভধারণের পর একই ধরনের জটিলতা আবার দেখা দিতে পারে কি না, সেই আশঙ্কা ছিল।
চিকিৎসকেরা তাঁর আগের গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইতিহাস বিবেচনায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখেন। পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সন্তানদের বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পরমজিৎ। দুই মেয়ের নাম রাখা হয় আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা এবং একের পর এক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর এই দুই শিশুর জন্ম তাঁদের পরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
পরমজিৎ জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথমবার দুই মেয়েকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বহন করার পর শেষ পর্যন্ত দুই মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আভনূর ও আজুনি এখন প্রায় তিন বছর বয়সী। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে পরমজিৎ ও নামিন্দরের। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের পর তাঁদের পারিবারিক জীবনে এসেছে পরিবর্তন।
নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান হারানো কিংবা দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান পরমজিৎ। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে থাকা নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসকদের যথাযথ মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ২০১৮ সালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গর্ভাবস্থায় শারীরিক উপসর্গ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে এর আগে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা এবং হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায় না।
পরমজিতের জীবনের এই ঘটনা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, বারবার গর্ভপাতের মানসিক প্রভাব এবং জটিল গর্ভাবস্থায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর সফল গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা থেকে সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা এবং ২০টি সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর শেষ পর্যন্ত দুই কন্যাসন্তানকে কোলে পেয়েছেন পরমজিৎ। একসময় যে দম্পতি আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সংসারে বেড়ে উঠছে আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যক্তিগত শোক এবং চিকিৎসার নানা জটিলতা পেরিয়ে এই দুই শিশুর জন্মই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একের পর এক গর্ভপাত, চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং গর্ভেই যমজ সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২০টি সন্তান হারানোর পর একসময় মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পরমজিৎ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও গর্ভধারণ করেন তিনি। এবার সুস্থ যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই নারী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরমজিৎ ও তাঁর স্বামী নামিন্দরের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সন্তান নেওয়ার জন্য এই দম্পতিকে একাধিকবার চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়েছে। আইভিএফ চিকিৎসা, বারবার গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভ নষ্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০১৮ সালে। সে বছর যমজ পুত্রসন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পরমজিৎ। সন্তান দুটির নামও রেখেছিলেন তাঁরা, অমৃত ও ফতেহ। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এটি গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা, যেখানে মায়ের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পরমজিৎ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালেও প্রথমদিকে তাঁর উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে জানা যায়, তাঁর একটি সন্তানের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সন্তানটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তানকেই হারান পরমজিৎ ও নামিন্দর। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা টুইনস ট্রাস্টের প্রকাশিত বিবরণেও ২০১৮ সালে তাঁদের যমজ সন্তান অমৃত ও ফতেহকে হারানোর ঘটনাটি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে সন্তান দুটিকে হারান পরমজিৎ। এই ঘটনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, যমজ সন্তান হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তান হারানোর শোক তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল। তবু মা হওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি। পরবর্তী কয়েক বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এই দম্পতি। কিন্তু বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে নতুন করে চেষ্টা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে ভারতে সফরের সময় পরমজিতের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি অমৃতসর এবং শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান হজুর সাহিবে যান। সেখানে প্রার্থনা করেন, জীবনে যদি আবার সন্তান আসে, তাহলে সেই সন্তানকে নিয়ে তিনি পুনরায় সেখানে ফিরবেন। পরমজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। খবরটি আনন্দের হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে উদ্বেগও তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। কারণ এর আগেও যমজ সন্তান হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন গর্ভধারণের পর একই ধরনের জটিলতা আবার দেখা দিতে পারে কি না, সেই আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁর আগের গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইতিহাস বিবেচনায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখেন। পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সন্তানদের বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পরমজিৎ। দুই মেয়ের নাম রাখা হয় আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা এবং একের পর এক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর এই দুই শিশুর জন্ম তাঁদের পরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথমবার দুই মেয়েকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বহন করার পর শেষ পর্যন্ত দুই মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আভনূর ও আজুনি এখন প্রায় তিন বছর বয়সী। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে পরমজিৎ ও নামিন্দরের। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের পর তাঁদের পারিবারিক জীবনে এসেছে পরিবর্তন। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান হারানো কিংবা দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান পরমজিৎ। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে থাকা নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসকদের যথাযথ মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০১৮ সালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গর্ভাবস্থায় শারীরিক উপসর্গ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে এর আগে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা এবং হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায় না। পরমজিতের জীবনের এই ঘটনা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, বারবার গর্ভপাতের মানসিক প্রভাব এবং জটিল গর্ভাবস্থায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর সফল গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা থেকে সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা এবং ২০টি সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর শেষ পর্যন্ত দুই কন্যাসন্তানকে কোলে পেয়েছেন পরমজিৎ। একসময় যে দম্পতি আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সংসারে বেড়ে উঠছে আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যক্তিগত শোক এবং চিকিৎসার নানা জটিলতা পেরিয়ে এই দুই শিশুর জন্মই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।
হামের সংক্রমণ বাড়ায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্ত প্রায় চার হাজার
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান কর্মীরা
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি বোতল প্রত্যাহার
লেজারের সাহায্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার পর ত্বকে ছোট ছোট লাল ফোলা দানা দেখা দিতে পারে। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি সাধারণ কারণ হলো চুলের গোড়ার চারপাশে সাময়িক ফোলা ও প্রদাহ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পেরিফলিকুলার ইডিমা’। স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেজার চিকিৎসার পর ত্বকে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও তা সব সময় গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দেয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেজার হেয়ার রিমুভালের পর লাল দানায় ভরা ত্বকের কয়েকটি ছবি এক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। ছবিতে চিকিৎসা করা স্থানে ছোট ছোট লাল ও ফোলা দানা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই প্রতিক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো লেজারের তাপ চুলের গোড়ার আশপাশের টিস্যুতে প্রভাব ফেলা। সাধারণত চুলের রং তৈরি করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। লেজার সেই রঞ্জককে লক্ষ্য করে তাপ তৈরি করে, যা চুলের গোড়ার আশপাশের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চুল যে অংশ থেকে জন্মায়, সেই গোড়াকে ঘিরে থাকা টিস্যুতে তাপের প্রভাবে সাময়িক প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ফলে ত্বকের ওপর ছোট ছোট লালচে ফোলা দানা দেখা দেয়। এই প্রতিক্রিয়া চেনার একটি লক্ষণ হলো, দানাগুলো সাধারণত ওই এলাকার চুলের গোড়ার বিন্যাস অনুসরণ করে দেখা যায়। তবে ত্বকে লাল দানা দেখা গেলেই সেটিকে পেরিফলিকুলার ইডিমা বলে নিশ্চিত করা যায় না। ত্বকের ধরন, লেজারের মাত্রা, চিকিৎসার পদ্ধতি এবং অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ফোলা সাধারণত লেজার চিকিৎসার পরপরই দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তা নিজে থেকেই কমে যায়। আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত গরম পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী, ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এবং কঠোর ত্বক পরিচর্যার পণ্য সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলা ভালো। তবে ত্বকে বরফ সরাসরি লাগানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ ও ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ প্রতিক্রিয়া ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। ফোসকা পড়া, ক্ষত বা খোসা তৈরি হওয়া, তীব্র ব্যথা, ত্বকে কালচে দাগ দেখা দেওয়া কিংবা কয়েক দিন পরও প্রদাহ না কমার মতো সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ কখনো কখনো ত্বকে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত বা অন্য কোনো জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে লেজার চিকিৎসার পর উপসর্গ বাড়তে থাকলে বা আক্রান্ত স্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞের বার্তায় আরেকটি বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য লেজার চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। অন্য কারও চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা সৌন্দর্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কারণে কাউকে এ ধরনের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা ঠিক নয়। লেজার হেয়ার রিমুভাল একটি প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এর কিছু ঝুঁকি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের ত্বকের ধরন, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পরবর্তী যত্ন সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লেজার চিকিৎসার নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক যন্ত্র নির্বাচন, উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর। ত্বকের রং, চুলের ধরন ও কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে একই চিকিৎসায় মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা এবং চিকিৎসার পর দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল
মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য
আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারের এক নারী কর্মীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত মানচিত্রে গত সাত বছরে কোন কোন দেশে মানুষের মধ্যে প্লেগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, সেই চিত্র সামনে এসেছে। তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ায় মৃ ত্যু হওয়া ওই ল্যাবকর্মীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রুশ সরকারি স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, ওই গবেষণাগারে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। স্বাধীন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমে অবশ্য ওই ঘটনাকে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২ অক্টোবর তার মৃ ত্যু হয়। তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’র কথা জানিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবিত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর শিপিলোভা তার সহকর্মীদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বুরিয়াতিয়া থেকে কাজের সফর শেষে ফেরার পর অসুস্থ হয়েছিলেন। বুরিয়াতিয়ার আঞ্চলিক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, তিনি ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ঘটনাটি ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের বড় একটি অংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেগ সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্লেগ কী এবং কত দেশে ছড়িয়েছে—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’। সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ, সংক্রমিত তরল বা উপাদানের সংস্পর্শ এবং বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো কণার সংস্পর্শেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক এবং সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক এবং গুরুতর ধরনগুলোর একটি। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া সংক্রমিত কণার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ডব্লিউএইচওর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের ১০টি দেশ মানুষের মধ্যে সন্দেহভাজন প্লেগের ঘটনা জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দেশে নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণও নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৬০টি সন্দেহভাজন ঘটনা এবং ৪২৩ জনের মৃ ত্যুর তথ্য সংস্থাটির কাছে জমা পড়েছে। এই সময়ের নিশ্চিত সংক্রমণের বড় অংশই আফ্রিকার দেশগুলোর। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, উগান্ডা, চীন ও মঙ্গোলিয়াতেও নিশ্চিত মানব প্লেগের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের নিশ্চিত সংক্রমণের প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচওর মানচিত্রে থাকা তথ্যের অর্থ অবশ্য সব দেশের পরিস্থিতি একই রকম—এমন নয়। কোনো দেশ ওই সময়ে কোনো ঘটনা রিপোর্ট না করলেও সেখানে প্লেগের প্রাকৃতিক উৎস থাকতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটি ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে মানুষের মধ্যে সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনা আফ্রিকাতেই ঘটেছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে। রাশিয়ার বর্তমান ঘটনাটিও তাই এখনো সতর্কতার সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ পরিস্থিতির ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনাটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি সম্পর্ক সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত প্লেগ প্রাদুর্ভাব হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক তথ্য বলছে, প্লেগ এখনো বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অধিকাংশ মানব সংক্রমণ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা
প্রথমবারের মতো রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং সার্জারি, নতুন আশায় স্তন ক্যানসার রোগীরা