সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:৪০
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের পরিবারের। নিজের পাসপোর্ট করাতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকেই ঘুষের অভিযোগ জানানোর জন্য তৈরি করেছেন ‘ঘুষ ডট সাইট’।

 

ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন শাহেদের মা আমিনা খাতুন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অসুস্থতায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর পরিবারের পাওনা ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড।

 

শাহেদের পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

 

পরিবারটির দাবি, এখনো কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থের ফাইল এগিয়ে নিতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

 

এই অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহেদ। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি ও কোডিংয়ে আগ্রহ রয়েছে তার।

 

দুই ঘণ্টায় তৈরি ‘ঘুষ ডট সাইট’

 

একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে সাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় সাইটটি চালু করা হয়। গত ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়েই এটি আলোচনায় আসে।

 

উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে সাইটটিতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।

 

অভিযোগগুলো যাচাই করতে বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল কাজ করছে। যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

পরিচয় গোপন রাখার উদ্যোগ

অভিযোগকারীরা যাতে নতুন করে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য তাদের পরিচয় গোপন রাখছে ‘ঘুষ ডট সাইট’। আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

 

শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমও ছেলের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে তাকেও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং এখনো প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থ পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

 

তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনও বলেন, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছেন শাহেদ। তার লক্ষ্য—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যেন কাউকে ঘুষ দিতে না হয় এবং অনিয়মের তথ্য মানুষের সামনে আসে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
স্পেসএক্সের থ্রাস্টারসহ নতুন টেসলা রোডস্টার
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র‍্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র‍্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:২৭
চাঁদে হাঁটা সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক

ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর

চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান

সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম

মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট

জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।   ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে।   নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন।   তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।   নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।   শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে।   মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে।   এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।   একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:৪৫
আলেকজান্ডার ওয়াং

১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিকে থাকতে সাহায্য করে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাইবোজ নামের এক ধরনের শর্করা বোরনকে খনিজ পদার্থ থেকে পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বোরনও রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর মতো পরিবেশে বোরনযুক্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাইবোজের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, প্রকৃতিতে যেভাবে বোরন পাওয়া যায়, সেই পরিস্থিতিতে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা বোঝা। রাইবোজ কেন গুরুত্বপূর্ণ রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা। এটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএর মূল কাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান। আরএনএ কোষের মধ্যে জিনগত তথ্য ব্যবহার, প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএনএর গঠনেও রাইবোজের পরিবর্তিত একটি রূপ থাকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, পৃথিবীতে প্রাণের সূচনালগ্নে আরএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। এই ধারণা ‘আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। এর মূল বক্তব্য, আধুনিক ডিএনএ ও প্রোটিনভিত্তিক জীবব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে আরএনএর মতো অণু জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার কাজে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। রাইবোজ তুলনামূলকভাবে অস্থিতিশীল। তাপ, ক্ষারীয় পরিবেশ ও অন্যান্য রাসায়নিক পরিস্থিতিতে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে। ফলে প্রাচীন পৃথিবীতে রাইবোজ তৈরি হলেও সেটি কীভাবে যথেষ্ট সময় ধরে টিকে ছিল, তা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বোরন কীভাবে সাহায্য করতে পারে গবেষণায় বোরনের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বোরন একটি উপধাতব মৌল, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থে পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বোরনযুক্ত যৌগ রাইবোজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল রাসায়নিক জটিল যৌগ তৈরি করতে পারে। এমন যৌগ রাইবোজকে কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে শুধু বোরন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্যালসিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতিতে বোরন পানিতে কম দ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে খনিজের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ফলে জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ কমে যায়। এই সমস্যাটি বুঝতে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে তৈরি সাধারণ বোরাক্সের পাশাপাশি প্রকৃতিতে পাওয়া তিন ধরনের বোরনযুক্ত খনিজ ব্যবহার করেন। এগুলো হলো কার্নাইট, কোলেম্যানাইট ও ইউলেক্সাইট। খনিজগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম অথবা উভয় উপাদান রয়েছে। এসব খনিজ পানিতে মেশানোর পর রাইবোজ ছাড়া এবং রাইবোজসহ দুই অবস্থায় বোরন কতটা দ্রবীভূত হয়, তা তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, রাইবোজ যোগ করলে চার ধরনের বোরনযুক্ত উপাদান থেকেই পানিতে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ বাড়ে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খনিজের ক্ষেত্রে প্রভাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অর্থাৎ, রাইবোজ শুধু বোরনের সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং বোরনকে খনিজের মধ্যে আটকে পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশেও পরীক্ষা গবেষণাটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে বিজ্ঞানীরা ভারতের লাদাখ অঞ্চলের পুগা জলতাপীয় ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা বাষ্পীভবনের ফলে তৈরি একটি খনিজসমৃদ্ধ ভূত্বকের নমুনা ব্যবহার করেন। এ ধরনের পরিবেশে গরম পানি, খনিজ ও রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটে। প্রাচীন পৃথিবীর কিছু সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ বোঝার জন্য এ ধরনের নমুনা গুরুত্বপূর্ণ। নমুনাটি পানিতে দেওয়ার পর প্রথমে দেখা হয়, রাইবোজ ছাড়াই কতটা বোরন দ্রবীভূত হয়। এরপর তাতে রাইবোজ যোগ করা হলে পানিতে নির্গত বোরনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয়, কেবল বিশুদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নয়, প্রকৃতিতে পাওয়া জটিল খনিজের ক্ষেত্রেও রাইবোজ বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে। গবেষকেরা আরও পরীক্ষা করেন, তাপে ও ক্ষারীয় পরিবেশে পরিবর্তিত বা ভেঙে যাওয়া রাইবোজ একই কাজ করতে পারে কি না। পরীক্ষায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাইবোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কোলেম্যানাইট থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ পরিবর্তিত রাইবোজ যোগ করলে ৫০ শতাংশ বাড়লেও, তাজা রাইবোজ যোগ করলে একই খনিজ থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছিল। এ ছাড়া সুক্রোজ ও গ্লুকোজের মতো অন্যান্য শর্করাও বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা যায়। তবে রাইবোজের প্রভাব ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, রাইবোজের অণুর বিশেষ গঠন বোরনের সঙ্গে স্থিতিশীল যৌগ তৈরির জন্য বেশি উপযোগী। রাসায়নিক চক্রের ধারণা   এসব ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য পারস্পরিক নির্ভরতার চক্রের কথা বলেছেন। রাইবোজ বোরনকে পানিতে দ্রবীভূত থাকতে সাহায্য করে। দ্রবীভূত বোরন আবার রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত রাইবোজ থাকলে আরও বেশি বোরন দ্রবীভূত থাকতে পারে, আর সেই বোরন আরও রাইবোজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বোরনের যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে রাইবোজ তৈরির প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বোরনের পরিমাণ সীমিত রেখে রাইবোজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকতে পারে। পরে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন গবেষকেরা। পরিবেশের অম্ল-ক্ষারত্বের মাত্রা বা পিএইচ পরিবর্তনও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গরম পানির উৎস বা জলতাপীয় পরিবেশে পিএইচের পরিবর্তনের কারণে বোরনের সঙ্গে যুক্ত রাইবোজ মুক্ত হয়ে অন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। গবেষণাটি প্রাণের উৎপত্তি সরাসরি প্রমাণ করেনি। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রাকৃতিক খনিজের সঙ্গে শর্করার মিথস্ক্রিয়া প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলোকে টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে রাইবোজ ও বোরনের এই রাসায়নিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৩৮
কোষকে তরুণ করার পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত

ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ

স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গারের এআই প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স

২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স

0 Comments