সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৩৮
রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র
রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিকে থাকতে সাহায্য করে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাইবোজ নামের এক ধরনের শর্করা বোরনকে খনিজ পদার্থ থেকে পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বোরনও রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।


গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর মতো পরিবেশে বোরনযুক্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাইবোজের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, প্রকৃতিতে যেভাবে বোরন পাওয়া যায়, সেই পরিস্থিতিতে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা বোঝা।


রাইবোজ কেন গুরুত্বপূর্ণ


রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা। এটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএর মূল কাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান। আরএনএ কোষের মধ্যে জিনগত তথ্য ব্যবহার, প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএনএর গঠনেও রাইবোজের পরিবর্তিত একটি রূপ থাকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ।


বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, পৃথিবীতে প্রাণের সূচনালগ্নে আরএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। এই ধারণা ‘আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। এর মূল বক্তব্য, আধুনিক ডিএনএ ও প্রোটিনভিত্তিক জীবব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে আরএনএর মতো অণু জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার কাজে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।


কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। রাইবোজ তুলনামূলকভাবে অস্থিতিশীল। তাপ, ক্ষারীয় পরিবেশ ও অন্যান্য রাসায়নিক পরিস্থিতিতে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে। ফলে প্রাচীন পৃথিবীতে রাইবোজ তৈরি হলেও সেটি কীভাবে যথেষ্ট সময় ধরে টিকে ছিল, তা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


বোরন কীভাবে সাহায্য করতে পারে


গবেষণায় বোরনের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বোরন একটি উপধাতব মৌল, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থে পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বোরনযুক্ত যৌগ রাইবোজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল রাসায়নিক জটিল যৌগ তৈরি করতে পারে। এমন যৌগ রাইবোজকে কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।


তবে শুধু বোরন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্যালসিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতিতে বোরন পানিতে কম দ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে খনিজের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ফলে জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ কমে যায়।


এই সমস্যাটি বুঝতে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে তৈরি সাধারণ বোরাক্সের পাশাপাশি প্রকৃতিতে পাওয়া তিন ধরনের বোরনযুক্ত খনিজ ব্যবহার করেন। এগুলো হলো কার্নাইট, কোলেম্যানাইট ও ইউলেক্সাইট। খনিজগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম অথবা উভয় উপাদান রয়েছে। এসব খনিজ পানিতে মেশানোর পর রাইবোজ ছাড়া এবং রাইবোজসহ দুই অবস্থায় বোরন কতটা দ্রবীভূত হয়, তা তুলনা করা হয়।


পরীক্ষায় দেখা যায়, রাইবোজ যোগ করলে চার ধরনের বোরনযুক্ত উপাদান থেকেই পানিতে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ বাড়ে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খনিজের ক্ষেত্রে প্রভাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অর্থাৎ, রাইবোজ শুধু বোরনের সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং বোরনকে খনিজের মধ্যে আটকে পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।


প্রাকৃতিক পরিবেশেও পরীক্ষা


গবেষণাটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে বিজ্ঞানীরা ভারতের লাদাখ অঞ্চলের পুগা জলতাপীয় ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা বাষ্পীভবনের ফলে তৈরি একটি খনিজসমৃদ্ধ ভূত্বকের নমুনা ব্যবহার করেন। এ ধরনের পরিবেশে গরম পানি, খনিজ ও রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটে। প্রাচীন পৃথিবীর কিছু সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ বোঝার জন্য এ ধরনের নমুনা গুরুত্বপূর্ণ।


নমুনাটি পানিতে দেওয়ার পর প্রথমে দেখা হয়, রাইবোজ ছাড়াই কতটা বোরন দ্রবীভূত হয়। এরপর তাতে রাইবোজ যোগ করা হলে পানিতে নির্গত বোরনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয়, কেবল বিশুদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নয়, প্রকৃতিতে পাওয়া জটিল খনিজের ক্ষেত্রেও রাইবোজ বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে।


গবেষকেরা আরও পরীক্ষা করেন, তাপে ও ক্ষারীয় পরিবেশে পরিবর্তিত বা ভেঙে যাওয়া রাইবোজ একই কাজ করতে পারে কি না। পরীক্ষায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাইবোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কোলেম্যানাইট থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ পরিবর্তিত রাইবোজ যোগ করলে ৫০ শতাংশ বাড়লেও, তাজা রাইবোজ যোগ করলে একই খনিজ থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছিল।


এ ছাড়া সুক্রোজ ও গ্লুকোজের মতো অন্যান্য শর্করাও বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা যায়। তবে রাইবোজের প্রভাব ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, রাইবোজের অণুর বিশেষ গঠন বোরনের সঙ্গে স্থিতিশীল যৌগ তৈরির জন্য বেশি উপযোগী।


রাসায়নিক চক্রের ধারণা
 

এসব ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য পারস্পরিক নির্ভরতার চক্রের কথা বলেছেন। রাইবোজ বোরনকে পানিতে দ্রবীভূত থাকতে সাহায্য করে। দ্রবীভূত বোরন আবার রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত রাইবোজ থাকলে আরও বেশি বোরন দ্রবীভূত থাকতে পারে, আর সেই বোরন আরও রাইবোজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে।


তবে এই প্রক্রিয়া সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বোরনের যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে রাইবোজ তৈরির প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বোরনের পরিমাণ সীমিত রেখে রাইবোজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকতে পারে। পরে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন গবেষকেরা।


পরিবেশের অম্ল-ক্ষারত্বের মাত্রা বা পিএইচ পরিবর্তনও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গরম পানির উৎস বা জলতাপীয় পরিবেশে পিএইচের পরিবর্তনের কারণে বোরনের সঙ্গে যুক্ত রাইবোজ মুক্ত হয়ে অন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।


গবেষণাটি প্রাণের উৎপত্তি সরাসরি প্রমাণ করেনি। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রাকৃতিক খনিজের সঙ্গে শর্করার মিথস্ক্রিয়া প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলোকে টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে রাইবোজ ও বোরনের এই রাসায়নিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিকে থাকতে সাহায্য করে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাইবোজ নামের এক ধরনের শর্করা বোরনকে খনিজ পদার্থ থেকে পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বোরনও রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর মতো পরিবেশে বোরনযুক্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাইবোজের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, প্রকৃতিতে যেভাবে বোরন পাওয়া যায়, সেই পরিস্থিতিতে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা বোঝা। রাইবোজ কেন গুরুত্বপূর্ণ রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা। এটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএর মূল কাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান। আরএনএ কোষের মধ্যে জিনগত তথ্য ব্যবহার, প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএনএর গঠনেও রাইবোজের পরিবর্তিত একটি রূপ থাকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, পৃথিবীতে প্রাণের সূচনালগ্নে আরএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। এই ধারণা ‘আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। এর মূল বক্তব্য, আধুনিক ডিএনএ ও প্রোটিনভিত্তিক জীবব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে আরএনএর মতো অণু জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার কাজে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। রাইবোজ তুলনামূলকভাবে অস্থিতিশীল। তাপ, ক্ষারীয় পরিবেশ ও অন্যান্য রাসায়নিক পরিস্থিতিতে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে। ফলে প্রাচীন পৃথিবীতে রাইবোজ তৈরি হলেও সেটি কীভাবে যথেষ্ট সময় ধরে টিকে ছিল, তা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বোরন কীভাবে সাহায্য করতে পারে গবেষণায় বোরনের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বোরন একটি উপধাতব মৌল, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থে পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বোরনযুক্ত যৌগ রাইবোজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল রাসায়নিক জটিল যৌগ তৈরি করতে পারে। এমন যৌগ রাইবোজকে কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে শুধু বোরন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্যালসিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতিতে বোরন পানিতে কম দ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে খনিজের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ফলে জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ কমে যায়। এই সমস্যাটি বুঝতে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে তৈরি সাধারণ বোরাক্সের পাশাপাশি প্রকৃতিতে পাওয়া তিন ধরনের বোরনযুক্ত খনিজ ব্যবহার করেন। এগুলো হলো কার্নাইট, কোলেম্যানাইট ও ইউলেক্সাইট। খনিজগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম অথবা উভয় উপাদান রয়েছে। এসব খনিজ পানিতে মেশানোর পর রাইবোজ ছাড়া এবং রাইবোজসহ দুই অবস্থায় বোরন কতটা দ্রবীভূত হয়, তা তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, রাইবোজ যোগ করলে চার ধরনের বোরনযুক্ত উপাদান থেকেই পানিতে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ বাড়ে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খনিজের ক্ষেত্রে প্রভাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অর্থাৎ, রাইবোজ শুধু বোরনের সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং বোরনকে খনিজের মধ্যে আটকে পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশেও পরীক্ষা গবেষণাটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে বিজ্ঞানীরা ভারতের লাদাখ অঞ্চলের পুগা জলতাপীয় ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা বাষ্পীভবনের ফলে তৈরি একটি খনিজসমৃদ্ধ ভূত্বকের নমুনা ব্যবহার করেন। এ ধরনের পরিবেশে গরম পানি, খনিজ ও রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটে। প্রাচীন পৃথিবীর কিছু সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ বোঝার জন্য এ ধরনের নমুনা গুরুত্বপূর্ণ। নমুনাটি পানিতে দেওয়ার পর প্রথমে দেখা হয়, রাইবোজ ছাড়াই কতটা বোরন দ্রবীভূত হয়। এরপর তাতে রাইবোজ যোগ করা হলে পানিতে নির্গত বোরনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয়, কেবল বিশুদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নয়, প্রকৃতিতে পাওয়া জটিল খনিজের ক্ষেত্রেও রাইবোজ বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে। গবেষকেরা আরও পরীক্ষা করেন, তাপে ও ক্ষারীয় পরিবেশে পরিবর্তিত বা ভেঙে যাওয়া রাইবোজ একই কাজ করতে পারে কি না। পরীক্ষায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাইবোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কোলেম্যানাইট থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ পরিবর্তিত রাইবোজ যোগ করলে ৫০ শতাংশ বাড়লেও, তাজা রাইবোজ যোগ করলে একই খনিজ থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছিল। এ ছাড়া সুক্রোজ ও গ্লুকোজের মতো অন্যান্য শর্করাও বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা যায়। তবে রাইবোজের প্রভাব ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, রাইবোজের অণুর বিশেষ গঠন বোরনের সঙ্গে স্থিতিশীল যৌগ তৈরির জন্য বেশি উপযোগী। রাসায়নিক চক্রের ধারণা   এসব ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য পারস্পরিক নির্ভরতার চক্রের কথা বলেছেন। রাইবোজ বোরনকে পানিতে দ্রবীভূত থাকতে সাহায্য করে। দ্রবীভূত বোরন আবার রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত রাইবোজ থাকলে আরও বেশি বোরন দ্রবীভূত থাকতে পারে, আর সেই বোরন আরও রাইবোজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বোরনের যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে রাইবোজ তৈরির প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বোরনের পরিমাণ সীমিত রেখে রাইবোজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকতে পারে। পরে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন গবেষকেরা। পরিবেশের অম্ল-ক্ষারত্বের মাত্রা বা পিএইচ পরিবর্তনও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গরম পানির উৎস বা জলতাপীয় পরিবেশে পিএইচের পরিবর্তনের কারণে বোরনের সঙ্গে যুক্ত রাইবোজ মুক্ত হয়ে অন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। গবেষণাটি প্রাণের উৎপত্তি সরাসরি প্রমাণ করেনি। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রাকৃতিক খনিজের সঙ্গে শর্করার মিথস্ক্রিয়া প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলোকে টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে রাইবোজ ও বোরনের এই রাসায়নিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৩৮
কোষকে তরুণ করার পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত

ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ

স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গারের এআই প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স

২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে এটিঅ্যান্ডটি সংযোগ সমস্যা
আইফোনের নতুন মডেল কিনেছেন, কিন্তু শিগগিরই বদলাতে হতে পারে ফোন!

নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন কিছু গ্রাহকের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত অল্পসংখ্যক আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে সেলুলার সংযোগ হারানোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, সমস্যার কারণে আক্রান্ত ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ফোন কল করা, বার্তা পাঠানো কিংবা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগ্রস্ত ফোন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।   অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের একটি ছোট অংশকে প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ নতুন এই মডেলের সব ফোনে এমন সমস্যা হচ্ছে না। এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইসেই মূলত সমস্যাটি দেখা গেছে। আক্রান্ত ফোনে কখনো পুরোপুরি, আবার কখনো বিরতিতে নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিনে ‘এসওএস’ দেখাতে পারে।   অ্যাপল ইতোমধ্যে সমস্যাটি ঠেকাতে সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ২৭.০.১ প্রকাশ করেছে এবং নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের এই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব আপডেট নোটে আইওএস ২৭.০.১-এর বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।   এর পাশাপাশি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের জন্য ক্যারিয়ার সেটিংস আপডেটও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এই আপডেট আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। লক্ষ্য হলো নতুন করে যাতে একই সমস্যায় আরও ব্যবহারকারী আক্রান্ত না হন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফটওয়্যার আপডেট সব আক্রান্ত ফোনের সমস্যা সমাধান করবে—এমনটা অ্যাপল বলেনি। যেসব আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ইতোমধ্যে এই সমস্যার কারণে সেলুলার সেবা হারিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে অ্যাপল নিশ্চিত করেছে।   এটিঅ্যান্ডটিও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   তাই আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো ফোনে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করা। স্বাভাবিকভাবে ফোনে নেটওয়ার্ক কাজ করলে আপডেট করে নেওয়াই অ্যাপলের পরামর্শ। আর যদি ফোনে এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমে মোবাইল সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এরপর অ্যাপল সাপোর্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।   নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাজারমূল্যও কম নয়। এটিঅ্যান্ডটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে শুরু। ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৪৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার এবং ২ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ২ হাজার ৪৯৯ ডলার।   আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং এ২০ প্রো চিপ রয়েছে। অ্যাপলের নতুন প্রিমিয়াম আইফোন সিরিজের অংশ হিসেবে এটি বাজারে এসেছে। তবে নতুন ডিভাইসটির এই সংযোগ সমস্যা বিশেষ করে এটিঅ্যান্ডটি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   অ্যাপলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সমস্যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোনে সীমাবদ্ধ। তাই শুধু আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহার করছেন বলেই ফোন বদলাতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বরং ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না এবং সেটি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাগ্রস্ত ফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপল বা এটিঅ্যান্ডটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৮
ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন

ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

দীর্ঘ ২১৭ বছর পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাঠোদ্ধার হওয়া নেপোলিয়ন বোনাপার্টের লেখা সেই সাংকেতিক চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

২১৭ বছর পর নেপোলিয়নের রহস্যময় চিঠির গোপন সংকেত উন্মোচন করল এআই

বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে ২জি, বদলে যাবে মোবাইল ব্যবহারের চিত্র

গিটারকে পেছনের যাত্রী ভেবে ৫০০ রুপির চালান দিল এআই ক্যামেরা
গিটারকে যাত্রী ভেবে বাইকারকে জরিমানা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হতবাক যুবক

হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা। অভিযোগ, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই চমকে ওঠেন যুবকটি। কারণ, তার মোটরসাইকেলে কোনো যাত্রীই ছিলেন না—পেছনে বাঁধা ছিল একটি গিটার।   ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। সৌভিক দত্ত নামে ওই যুবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার।   পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি ই-চালানের বার্তা আসে। সেখানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ নেই। বরং সৌভিকের পিঠে থাকা গিটারটিই ক্যামেরার নজরে পড়েছে।   ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা গিটারটিকে পেছনে থাকা একজন যাত্রী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে।   বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং তার পিঠে ছিল একটি গিটার। একই সঙ্গে তিনি ভুল চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে তিনি চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন।   সৌভিকের পোস্ট নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এবং নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   ঘটনাটি এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রযুক্তির এমন ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে।   একটি গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরিমানা বা চালানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযুক্তির শনাক্তকরণ সঠিক কি না, তা যাচাই করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৩:২৭
অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

রাতে ফোন চার্জে রাখলে সবচেয়ে বড় যে ভুলটি এড়িয়ে চলতে হবে

চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও

চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও

কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন

কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন, টাকা ফেরত চাইছেন ক্রেতারা

0 Comments