সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:৩২
আলেকজান্ডার ওয়াং
আলেকজান্ডার ওয়াং

বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন আলেকজান্ডার ওয়াং। কিন্তু প্রথম বর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফিরে যাননি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সহপ্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশের কোঠাতেই বিলিয়নিয়ার হন তিনি। বর্তমানে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াং।

 

তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের জুনে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা স্কেল এআইয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে এবং ওয়াংকে নিজেদের প্রযুক্তি কার্যক্রমে নিয়ে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য মেটার বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ওয়াংয়ের বয়স ছিল ২৮ বছর। ফলে মেটার এই বিনিয়োগের পর তিনি ২৪ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, এমন বর্ণনা সঠিক নয়। 

ওয়াংয়ের বিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস আরও আগের। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীরা স্কেল এআইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানার আনুমানিক মূল্য তখন তাঁকে বিলিয়নিয়ারদের কাতারে নিয়ে যায়। বয়স ছিল ২৪ বছর। ফোর্বস পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁকে সে সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী নিজের উদ্যোগে সম্পদ গড়া বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে।

 

এই সম্পদের হিসাব মূলত প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়লে তাঁর সম্পদের হিসাবও বাড়ে। আবার মূল্যায়ন কমলে সেই হিসাব বদলে যায়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন কমে যাওয়ার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। পরে স্কেল এআইয়ের মূল্যায়ন বাড়লে আবার তালিকায় ফেরেন। 

ওয়াংয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে। তাঁর মা ও বাবা দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই গণিত ও প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পেশাগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোরায় ফুলটাইম কাজ শুরু করেন তিনি।

 

কোরাতেই তাঁর পরিচয় হয় লুসি গুওয়ের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা দুজন মিলে স্কেল এআই গড়ে তোলেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ওয়াংয়ের পাশাপাশি গুওয়ের ভূমিকাও রয়েছে। এমআইটিতে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের ছুটিতে ব্যবসার কাজ শুরু করেছিলেন ওয়াং। ফোর্বসকে তিনি জানিয়েছিলেন, মা ও বাবাকে বলেছিলেন এটি শুধু গ্রীষ্মের ছুটির কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাননি। 

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা স্কেল এআইয়ের ব্যবসার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডেটা তৈরি ও প্রস্তুত করা। কোনো মডেলকে ছবি, লেখা বা অন্য তথ্য বুঝতে শেখানোর জন্য সঠিকভাবে চিহ্নিত ও যাচাই করা বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রয়োজন হয়। স্কেল সেই কাজের সেবা দিয়ে প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করে। মানুষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও চিহ্নিত করার কাজও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

শুরুর দিকে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তির জন্য ডেটা প্রস্তুতের কাজ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। গাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য থেকে বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করার মতো কাজে এমন ডেটা প্রয়োজন হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতেও কাজ শুরু করে স্কেল।

ফোর্বসের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সহায়তার জন্য স্কেল তিনটি চুক্তি পেয়েছিল। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চুক্তির সর্বোচ্চ সম্মিলিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রস্তুত করার ব্যবসা থেকে সরকারি কাজেও প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার ঘটে।

 

২০২৫ সালের ১২ জুন নিজেদের ঘোষণায় স্কেল জানায়, মেটার নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। একই ঘোষণায় ওয়াংয়ের মেটায় যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পান জেসন ড্রোগ। ওয়াং স্কেলের পরিচালনা পর্ষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

স্কেল আরও জানায়, মেটা সংখ্যালঘু মালিকানা পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। চুক্তির অর্থের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডার ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা শেয়ারধারীদের দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ফলে লেনদেনটি স্কেলকে পুরোপুরি কিনে নেওয়ার ঘটনা ছিল না। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের ডেটাসংক্রান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। 

 

বর্তমানে ওয়াং মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাঁকে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উনিশ বছর বয়সে শুরু করা একটি ডেটাভিত্তিক ব্যবসা থেকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রায় তাঁর উদ্যোগ, সহপ্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতের বাড়তে থাকা চাহিদা একসঙ্গে কাজ করেছে। 
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
আলেকজান্ডার ওয়াং
১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে

বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন আলেকজান্ডার ওয়াং। কিন্তু প্রথম বর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফিরে যাননি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সহপ্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশের কোঠাতেই বিলিয়নিয়ার হন তিনি। বর্তমানে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াং।   তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের জুনে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা স্কেল এআইয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে এবং ওয়াংকে নিজেদের প্রযুক্তি কার্যক্রমে নিয়ে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য মেটার বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ওয়াংয়ের বয়স ছিল ২৮ বছর। ফলে মেটার এই বিনিয়োগের পর তিনি ২৪ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, এমন বর্ণনা সঠিক নয়।  ওয়াংয়ের বিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস আরও আগের। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীরা স্কেল এআইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানার আনুমানিক মূল্য তখন তাঁকে বিলিয়নিয়ারদের কাতারে নিয়ে যায়। বয়স ছিল ২৪ বছর। ফোর্বস পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁকে সে সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী নিজের উদ্যোগে সম্পদ গড়া বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে।   এই সম্পদের হিসাব মূলত প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়লে তাঁর সম্পদের হিসাবও বাড়ে। আবার মূল্যায়ন কমলে সেই হিসাব বদলে যায়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন কমে যাওয়ার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। পরে স্কেল এআইয়ের মূল্যায়ন বাড়লে আবার তালিকায় ফেরেন।  ওয়াংয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে। তাঁর মা ও বাবা দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই গণিত ও প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পেশাগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোরায় ফুলটাইম কাজ শুরু করেন তিনি।   কোরাতেই তাঁর পরিচয় হয় লুসি গুওয়ের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা দুজন মিলে স্কেল এআই গড়ে তোলেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ওয়াংয়ের পাশাপাশি গুওয়ের ভূমিকাও রয়েছে। এমআইটিতে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের ছুটিতে ব্যবসার কাজ শুরু করেছিলেন ওয়াং। ফোর্বসকে তিনি জানিয়েছিলেন, মা ও বাবাকে বলেছিলেন এটি শুধু গ্রীষ্মের ছুটির কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাননি।  ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা স্কেল এআইয়ের ব্যবসার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডেটা তৈরি ও প্রস্তুত করা। কোনো মডেলকে ছবি, লেখা বা অন্য তথ্য বুঝতে শেখানোর জন্য সঠিকভাবে চিহ্নিত ও যাচাই করা বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রয়োজন হয়। স্কেল সেই কাজের সেবা দিয়ে প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করে। মানুষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও চিহ্নিত করার কাজও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   শুরুর দিকে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তির জন্য ডেটা প্রস্তুতের কাজ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। গাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য থেকে বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করার মতো কাজে এমন ডেটা প্রয়োজন হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতেও কাজ শুরু করে স্কেল। ফোর্বসের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সহায়তার জন্য স্কেল তিনটি চুক্তি পেয়েছিল। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চুক্তির সর্বোচ্চ সম্মিলিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রস্তুত করার ব্যবসা থেকে সরকারি কাজেও প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার ঘটে।   ২০২৫ সালের ১২ জুন নিজেদের ঘোষণায় স্কেল জানায়, মেটার নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। একই ঘোষণায় ওয়াংয়ের মেটায় যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পান জেসন ড্রোগ। ওয়াং স্কেলের পরিচালনা পর্ষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্কেল আরও জানায়, মেটা সংখ্যালঘু মালিকানা পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। চুক্তির অর্থের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডার ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা শেয়ারধারীদের দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ফলে লেনদেনটি স্কেলকে পুরোপুরি কিনে নেওয়ার ঘটনা ছিল না। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের ডেটাসংক্রান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।    বর্তমানে ওয়াং মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাঁকে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উনিশ বছর বয়সে শুরু করা একটি ডেটাভিত্তিক ব্যবসা থেকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রায় তাঁর উদ্যোগ, সহপ্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতের বাড়তে থাকা চাহিদা একসঙ্গে কাজ করেছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:৩২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র

প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

কোষকে তরুণ করার পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত

বার্ধক্যের প্রভাব কমিয়ে কোষকে তরুণ অবস্থার কাছাকাছি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় সম্ভাবনা দেখা যাওয়ার পর এবার মানুষের শরীরেও শুরু হয়েছে এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন গ্লুকোমা রোগীর মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, চিকিৎসাটি প্রয়োগের পর প্রথম ৫৬ দিনে কারও ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। এর মাধ্যমে সত্যিই বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।   বার্ধক্যের সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। জয়েন্টে ব্যথা, ধমনিতে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা কোষের ভেতরে বয়সের সঙ্গে তৈরি হওয়া কিছু পরিবর্তন আংশিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তির নাম ‘সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং’ বা কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং।   এই পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু বার্ধক্যের বাহ্যিক লক্ষণ কমানো নয়। বরং কোষের কার্যক্রমে বয়সের কারণে যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ করে কোষকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় এমন প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো সীমিত তথ্য রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান লাইফ বায়োসায়েন্সেস এ ক্ষেত্রে ইআর-১০০ নামের একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে। এটি চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্লুকোমার কারণে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। একবার স্নায়ুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই এই ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী।   ইআর-১০০ চিকিৎসায় চোখের ভেতরে একবার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর সঙ্গে আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন গ্রহণ করতে হয়। চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট জিনগত নির্দেশনার মাধ্যমে কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা, যাতে সেগুলোকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়।   ৮ অক্টোবর প্রকাশিত পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনজন গ্লুকোমা রোগী চিকিৎসাটি নেওয়ার পর ৫৬ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে ছিলেন। এ সময়ে তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো মাত্রা-সীমিত বিষক্রিয়া কিংবা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, স্টেরয়েড ব্যবহার অথবা আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পার্শ্বঘটনার কথা জানানো হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষামূলক ওষুধটির সরাসরি প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।   এই ফলকে চিকিৎসাটির প্রাথমিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাত্র তিনজন রোগীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।   পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন। তিনজনের মধ্যে দুজনের ভিজ্যুয়াল ফিল্ড বা দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ পরীক্ষায় একজন ব্যক্তি সামনে তাকিয়ে চারপাশের বিভিন্ন অংশের আলো শনাক্ত করতে কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে পরীক্ষার ফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়, চোখের দৃষ্টিক্ষেত্রের কিছু অংশে তাঁদের সক্ষমতা বেড়েছে।   তবে এ উন্নতির অর্থ এই নয় যে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সম্পূর্ণ নতুন হয়ে গেছে কিংবা দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে এসেছে। চিকিৎসাটি চোখের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং পরিবর্তনটি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে কি না, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক আই অ্যান্ড ইয়ার ইনফার্মারি অব মাউন্ট সিনাইয়ের প্রেসিডেন্ট ও গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জেমস সাই প্রাথমিক ফলকে উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখেছেন। তবে তাঁর মতে, এই চিকিৎসা সত্যিকার অর্থে হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারছে কি না, তা বলার জন্য আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। চোখের বিদ্যমান স্নায়ুর কার্যক্রমে উন্নতি হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুরোপুরি পুনর্গঠিত হওয়া এক বিষয় নয়।   প্রাথমিক ফল পর্যালোচনার পর স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বোর্ড পরবর্তী রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা তিন গুণ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এতে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে মাত্রা বাড়ানোর অনুমোদন পাওয়া মানেই চিকিৎসাটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।   অন্য রোগের চিকিৎসাতেও সম্ভাবনা   কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং প্রযুক্তির প্রতি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগজগতের কয়েকজন ধনকুবেরের আগ্রহ রয়েছে। জেফ বেজোস, পিটার থিল, ইউরি মিলনার ও স্যাম অল্টম্যানের মতো পরিচিত ব্যক্তিরা দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট বায়োটেক উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁদের আগ্রহের একটি বড় ক্ষেত্র হলো, বয়সের সঙ্গে কোষের কার্যক্ষমতায় যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ বা আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।   লাইফ বায়োসায়েন্সেসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইকেল রিঙ্গেলের ধারণা, ভবিষ্যতে সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং বয়সজনিত একাধিক রোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় বাতের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং আলঝেইমারের মতো মস্তিষ্কের রোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এসব রোগের চিকিৎসায় পদ্ধতিটি কার্যকর কি না, তা জানতে পৃথক মানবপরীক্ষা প্রয়োজন।   এদিকে, দীর্ঘায়ু গবেষণায় যুক্ত আরও কয়েকটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানও মানবপরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেফ বেজোসের সমর্থনপুষ্ট অল্টোস ল্যাবস এ ধরনের গবেষণায় কাজ করছে। অন্যদিকে, পিটার থিলের ফাউন্ডার্স ফান্ডের নেতৃত্বে নিউ লিমিট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে যকৃতের কোষ পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ের একটি চিকিৎসা নিয়ে মানবপরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। স্যাম অল্টম্যানের সমর্থনপুষ্ট রেট্রো বায়োসায়েন্সেসও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।   তবে বার্ধক্য ঠেকানো বা বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়ার চিকিৎসা এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব পড়ে, নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় কি না এবং রোগীর স্বাস্থ্যে বাস্তব উন্নতি ঘটে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।   বর্তমান পরীক্ষাটি মূলত চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও সহনীয়তা যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তিনজনের মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার প্রমাণিত সাফল্য বলা যাবে না। আরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ফলই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় কতটা কার্যকর হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:৫১
ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ

স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গারের এআই প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স

২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে এটিঅ্যান্ডটি সংযোগ সমস্যা

আইফোনের নতুন মডেল কিনেছেন, কিন্তু শিগগিরই বদলাতে হতে পারে ফোন!

ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন
ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

ফোনে হঠাৎ ভেসে উঠল অচেনা একটি মেসেজ—‘আপনার জন্য চাকরির সুযোগ’, ‘সহজ শর্তে ঋণ’, কিংবা এমন কোনো প্রস্তাব, যার জন্য আপনি কখনো আবেদনই করেননি। কৌতূহলবশত অনেকে মেসেজটি খুলে দেখেন, কেউ আবার সঙ্গে থাকা লিংকে ক্লিক করেন। আর এই সামান্য অসতর্কতাকেই কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষকে ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা।   নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনকল ও খুদে বার্তা এখন প্র তা রকদের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শুধু প্র তা রণার সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে প্র তা রকরা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং বড় পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল ২০২২ সাল থেকে পাওয়া প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার প্র তা রণার অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, প্র তা রকরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে এমন অনেক বৈধ ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ ও বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।   প্র তা রণার নতুন হাতিয়ার প্রযুক্তি   বেটার বিজনেস ব্যুরোর মুখপাত্র জশ প্লানোস বলেন, প্র তা রণা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্র তা রকরা তাদের কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেগুলো সহজলভ্য এবং ব্যবহারে বড় কোনো বাধা নেই।   প্র তা রণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফোন নম্বর, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা, সহজে ওয়েবসাইট তৈরির সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা।   এর ফলে একজন প্র তা রককে প্রতিটি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়েই হাজারো মানুষের কাছে একই ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।   নম্বর বদলালেই কি প্র তা রক বদলে যায়?   প্র তা রকদের আরেকটি কৌশল নিয়েও সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। কোনো একটি ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা মানুষ সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করলে প্র তা রকরা দ্রুত নতুন নম্বর ব্যবহার করতে পারে।   তাই নতুন বা অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলেই সেটিকে নতুন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই প্র তা রণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই বারবার নম্বর পরিবর্তন করে নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।   চাকরি ও ঋণের মেসেজে বিশেষ সতর্কতা   বিশেষ করে এমন মেসেজ নিয়ে সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো, যেখানে এমন চাকরি বা ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো আবেদন করেননি।   এ ধরনের মেসেজের সঙ্গে অনেক সময় একটি লিংকও দেওয়া থাকতে পারে। সেখানে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, কোনো ফরম পূরণ করা কিংবা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা হলে প্র তা রকরা সেটি পরবর্তী প্র তা রণায় ব্যবহার করতে পারে।   তাই অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের মেসেজ এলে কথোপকথন চালিয়ে না যাওয়াই নিরাপদ। অচেনা প্রেরকের পাঠানো কোনো লিংকেও ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো।   আইনও কি প্র তা রকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারছে না?   প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান টেলিযোগাযোগ আইন তাল মেলাতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জশ প্লানোসের মতে, বিদ্যমান অনেক টেলিযোগাযোগ বিধি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমান সময়ে খুদে বার্তা, ভার্চুয়াল নম্বর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নিয়মের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিমার্কেটিং বিক্রয়বিধি এবং টেলিফোন ভোক্তা সুরক্ষা আইনের মতো বিদ্যমান বিধি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন, যাতে খুদে বার্তাও আরও শক্তিশালী সুরক্ষার আওতায় আসে।   এখনই যে সতর্কতাটি নিতে পারেন   প্র তা রণা ঠেকাতে খুব জটিল কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বেটার বিজনেস ব্যুরোর পরামর্শ, নিজের মুঠোফোনের অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করে রাখুন। এতে সন্দেহজনক কল ও মেসেজ শনাক্ত বা ফিল্টার করতে সহায়তা মিলতে পারে।   তবে শুধু এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীকেও সচেতন থাকতে হবে। অচেনা নম্বর, অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের অফার, সন্দেহজনক লিংক কিংবা জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চাওয়া—এসবকে সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।   কারণ প্র তা রকরা নম্বর বদলাতে পারে, নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর বা ভিডিওও তৈরি করতে পারে।   তাই ফোনে আসা কোনো মেসেজ যতই আকর্ষণীয় হোক, যাচাই না করে তাতে সাড়া দেওয়া বা অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৫৪
দীর্ঘ ২১৭ বছর পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাঠোদ্ধার হওয়া নেপোলিয়ন বোনাপার্টের লেখা সেই সাংকেতিক চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

২১৭ বছর পর নেপোলিয়নের রহস্যময় চিঠির গোপন সংকেত উন্মোচন করল এআই

বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে ২জি, বদলে যাবে মোবাইল ব্যবহারের চিত্র

গিটারকে পেছনের যাত্রী ভেবে ৫০০ রুপির চালান দিল এআই ক্যামেরা

গিটারকে যাত্রী ভেবে বাইকারকে জরিমানা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হতবাক যুবক

0 Comments