রাতে ফোন চার্জে রাখলে সবচেয়ে বড় যে ভুলটি এড়িয়ে চলতে হবে
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে।
বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে।
গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে।
স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে।
ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে।
তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে।
এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreরাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
চ্যাটজিপিটির নতুন প্ল্যান মাসে ৫০০ ডলার, বদলাচ্ছে ২০০ ডলারের সুবিধাও
কেনার কয়েক সপ্তাহেই রং বদলাচ্ছে ১,১৯৯ ডলারের নতুন আইফোন, টাকা ফেরত চাইছেন ক্রেতারা
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অনুপ্রবেশ, জবাব দিতে সিনেটে স্যাম অল্টম্যান
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে প্রথমবার সরাসরি রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করলেন গবেষকরা, মিলেছে চৌম্বকক্ষেত্র
সাইবার নিরাপত্তার ত্রুটি শনাক্ত করে মার্কিন বিচার বিভাগের তালিকায়, আলোচিত ১৯ বছরের ভারতীয় তরুণ
২৫ বছর বয়সী ইরানি উদ্যোক্তা আলীর এআই স্টার্টআপে বড় বিনিয়োগ, কোম্পানির মূল্য এখন ৪০০ কোটি ডলার
ত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার ভয়াবহ বি প র্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেছেন, এআই এতটাই শক্তিশালী যে এটি এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে শতকোটি মানুষের মৃ ত্যু হয়। গেটসের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস বা প্রা ণ হা নির হিসাব নয়। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে সংখ্যাটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষ তি কর উদ্দেশ্যের মানুষের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা। আগস্টে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় গেটস এআই দিয়ে সাইবার হা ম লা, প্র তা র ণা ও জী বা ণু অ স্ত্র তৈরির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তিটি দ্রুত উন্নত হতে থাকায় এর ক্ষ তি কর ব্যবহার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে এআইয়ের সুফলের সম্ভাবনাও দেখছেন গেটস। তাঁর মতে, যথাযথ সুরক্ষা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মেটার শেয়ারে পতন, এক দিনেই জাকারবার্গের সম্পদ কমল ৮.৯ বিলিয়ন ডলার
আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া