সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২২:৩৭
ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত
ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের এম৪ মহাসড়কে লরির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের মা জো ল। ৩১ বছর বয়সী জো গত ৯ সেপ্টেম্বর উইন্ডসরের কাছে মহাসড়কটিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। পরে তার পরিবার জানতে পারে, কাছাকাছি যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মী ঘটনাস্থলে থেমে তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তাদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই জোর মৃত্যু হয়।

 

জোর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা ওই জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। জোর খালা সামান্থা নিল বলেন, শেষ মুহূর্তে তার পাশে মানুষজন ছিলেন এবং তারা তাকে সাহায্য, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, বিষয়টি পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। যারা গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করেছেন বা জোর পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

 

জো ল তার তিন সন্তান হার্ভি, ১২, আইলা, ৯ এবং পার্কার, ৪ বছরকে নিয়ে থাকতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানরাই ছিল তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। জোর খালা তাকে সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটানো, মোটরবাইক চালানো ও ডার্ট বাইকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের অংশ। সন্তানদের সঙ্গে মজা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও বানানোও পছন্দ করতেন জো।

 

জোর পরিবার জানিয়েছে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনেরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছেন। জোর খালা জানান, তারা বড় একটি পরিবার এবং পরস্পরের কাছাকাছি বসবাস করেন। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আগস্টে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ইবিজায় ছুটিও কাটিয়েছিলেন। সেই সময়টিকে এখন পরিবারের কাছে বিশেষ স্মৃতি হিসেবে মনে হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার পর জোর পরিবার তার শেষকৃত্যের খরচ এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ৭ হাজার পাউন্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি তহবিল চালু করা হলেও পরে সেখানে ১৭ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা পড়ে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ জোর শেষকৃত্যের খরচে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের জন্য রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পরিবার। জোর শেষকৃত্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

জোর খালা বলেন, তিন সন্তানকে ঘিরেই তার জীবন আবর্তিত হতো এবং তারা এখন খুব অল্প বয়সেই মাকে হারানোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোকে যারা ভালোবাসতেন তাদের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সন্তানরাও যেন সবসময় জানতে পারে, তাদের মা কতটা ভালোবাসা ও যত্নের মধ্যে ছিলেন, সেটিই এখন পরিবারের অন্যতম প্রত্যাশা।

 

জো ল কেন্টের গ্রেভসেন্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের পুরোটা সময় সোয়ানলিতে কাটিয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এম৪ মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা এখন একদিকে শোক সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে তিন সন্তানকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন, এই তথ্যটিও পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিচ্ছে।

 

সূত্র: ডেইলি মেইল


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত
মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান।   ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল।   ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে।   ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।   হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২৩:৪৪
ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

নভিগের বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। ছবি: সংগৃহীত

সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার

আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার পথে ৩ ভারতীয় অপহরণ, এক কোটি রুপি মুক্তিপণ দাবি

ভারতে সিআইএসএফ সদস্য
সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় নিজ বাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে কোম্পানি কমান্ডারসহ চারজন সিআইএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামের সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।   নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং দুই কনস্টেবল সন্দীপ কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। আহত অবস্থায় তাদের কাছের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনই মারা যান।   প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং সহকর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০০৯ ব্যাচের সদস্য। ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।   ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় একটি শিশুকে কর্মস্থলে আনা নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও কথা-কাটাকাটি হয় এবং এরপরই গুলির ঘটনা ঘটে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।   সিআইএসএফ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে কোর্ট অব ইনকোয়ারি বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাঠুয়া পুলিশও ঘটনার তদন্ত করছে।   ঘটনাস্থলটি জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার বাসোহলি এলাকায়, হিমাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি। সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় সিআইএসএফ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৭:১৪
১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন দুই বন্ধু

১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা

দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা

মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত উপলক্ষে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে মসজিদ ও পুরোনো শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় হেবরনের পুরোনো শহরের কয়েকটি সড়ক ও পাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদের পরিচালক মু’তাজ আবু সুনেইনা জানান, ওই দিন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওতে বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান।   মসজিদ বন্ধের কথা জানিয়ে WAFA বলেছে, কর্তৃপক্ষ সুক্কোত উৎসবের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছে। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথের সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোও বন্ধ করা হয়। পুরোনো শহরের কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি আশপাশের পাড়ায় চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।   ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। উৎসব ও বিশেষ সময়ে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রেখে বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২:৩৬
মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি

মুসলিম শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম শেখাতে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি

শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার

শরণার্থী পুনর্বাসন চালু করছে যুক্তরাজ্য, আফগান নারী ও ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার

বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও সংসার চালাতে হিমশিম দুই সন্তানের মা

বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও সংসার চালাতে হিমশিম দুই সন্তানের মা, জামাকাপড় কেনাও বন্ধ

0 Comments