সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৭
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার

যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।
 

এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম।


সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য।


নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।


তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।


সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।


গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না।


স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণে নতুন এআই সফটওয়্যার
স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পর রোগটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘টিউমারসাইট রিস্ক’ নামের এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে শিকাগোভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমবায়োসিস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রোগীর এমআরআই ছবি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও প্যাথলজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে এটি পাঁচ ও ১০ বছরের মধ্যে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।   এফডিএর নথি অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি রোগীর বয়স, জাতিগত পরিচয়, ক্যানসারের পর্যায়, লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না এবং টিউমারের গ্রেডের মতো তথ্য ব্যবহার করে। এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্তনের এমআরআই থেকে পাওয়া উপাত্ত। সবকিছু বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি স্কোর দেয়। সেই স্কোরের ভিত্তিতে রোগীর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—উচ্চ, মাঝারি ও কম। সিমবায়োসিসের ঘোষণা অনুযায়ী, এফডিএ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যারটির জন্য ছাড়পত্র দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানায়। তাদের দাবি, এমআরআইভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণে এটিই বিশ্বের প্রথম এআইচালিত টুল। তবে এই দাবি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বক্তব্য। নতুন প্রযুক্তিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চিকিৎসার নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ফলে ঝুঁকি নিরূপণের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, টিস্যুর নমুনা অন্যত্র পাঠানো কিংবা বিশেষ হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিকিৎসকেরা রোগীর বিদ্যমান তথ্য থেকেই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সফটওয়্যারটি সব ধরনের স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য তৈরি নয়। এফডিএর নথি অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের ক্ষেত্রে হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ (এইচআর-পজিটিভ) এবং এইচইআর২-নেগেটিভ ক্যানসার থাকতে হবে। ক্যানসারের পর্যায় হতে হবে স্টেজ ১ থেকে স্টেজ ৩এ পর্যন্ত। লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেও সফটওয়্যারটির ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সিমবায়োসিসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেসি স্টিভেন্স বলেছেন, রোগীর স্তনের এমআরআইতে আগে থেকেই থাকা জৈবিক ও শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রচলিত প্যাথলজি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা এখন ব্যক্তিভিত্তিক ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকেরা চিকিৎসা বেছে নেওয়ার সময় আরও স্পষ্ট ধারণা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২ হাজার ১২৯ জন রোগীর তথ্য নিয়ে একটি বহুকেন্দ্রিক গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সফটওয়্যারের স্কোর অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ঝুঁকির শ্রেণিতে থাকা রোগীদের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ গুণ বেশি ছিল। স্কোর ১০ পয়েন্ট বাড়লে ক্যানসার ফিরে আসার আপেক্ষিক ঝুঁকি ২২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। গবেষণার হিসাবে, সর্বনিম্ন স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে ক্যানসার ফিরে আসার আনুমানিক ঝুঁকি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ১০ বছরের হিসাবে এই ঝুঁকি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট স্কোরভিত্তিক রোগী গোষ্ঠীর আনুমানিক ঝুঁকি তুলে ধরে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ফিরে আসবে বা আসবে না, তা বলে না। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি ফিরে আসার ঝুঁকি নিরূপণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসকেরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা, কেমোথেরাপির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ক্যানসারের পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জিনভিত্তিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন। নতুন সফটওয়্যারটি এসব পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার একটি উপায় হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসার বাদ দিলে স্তন ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। ২০২৬ সালে দেশটিতে নারীদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৯১০টি নতুন আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে এ রোগে প্রায় ৪২ হাজার ১৪০ নারীর মৃ ত্যু হতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি ঝুঁকি নিরূপণে বাড়তি সহায়তা দিতে পারে। তবে সফটওয়্যারের ফলাফলকে রোগীর অন্যান্য পরীক্ষার ফল, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কেবল এআইয়ের স্কোরের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নয়। রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৬:৭
স্পেসএক্সের থ্রাস্টারসহ নতুন টেসলা রোডস্টার

আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি

চাঁদে হাঁটা সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক

ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর

চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান

সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম
মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভারতে বসবাসরত বয়স্ক মা বাবার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে মাইক্রোসফট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম। ২৩ বছরের কর্মজীবন শেষে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লিংকডইনে দেওয়া তাঁর ঘোষণার বিষয়ে ১১ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল।    শানমুগাম মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক এআই উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পছন্দের কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে জীবনের এই পর্যায়ে নিজের সময় ও মনোযোগ পরিবার এবং বন্ধুদের দেওয়াকেই উপযুক্ত মনে করেছেন তিনি।  অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করে শানমুগাম জানিয়েছেন, ভারতে থাকা তাঁর মা বাবার বয়স বাড়ছে। তাঁদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা থেকেই দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ছাড়ছেন। এক্সেল কোপাইলটের কাজে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় মাইক্রোসফটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শানমুগাম। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদেরও ধন্যবাদ দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।    লিংকডইনে তাঁর ঘোষণায় বহু মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, মন্তব্যকারীদের অনেকে মা বাবাকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। পছন্দের পেশা থেকে সরে এসে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২:১৯
জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম

ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা

আলেকজান্ডার ওয়াং

১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন
যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ‘সিলিকন রিভার’ নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গবেষণা, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা। ২০২৬ সালের ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিতে কাজের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের প্রধান স্থপতিদের একজন এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনায় সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি জীবপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসকে সমন্বিত একটি উদ্ভাবন কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।   এর উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব পণ্য, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করা। বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো এবং শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় চিপ অপরিহার্য।   এই খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নত চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের জন্য চিপ নকশা, গবেষণা, পরীক্ষা, উন্নত প্যাকেজিং এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাতে সক্ষমতা গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি গবেষণার জন্য সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স ইন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি বা ক্রেস্ট চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির লক্ষ্য সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তিতে গবেষণা বাড়ানো এবং নতুন গবেষক তৈরি করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা, বিশেষায়িত দক্ষতা তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তি শিল্পের যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির জন্য এ ধরনের গবেষণাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিবন্ধন করেন বলে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মেলনে ৩৮টি উদ্ভাবনকে আরও উন্নয়নের জন্য নির্বাচন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৩ হাজার ৫০০ জনের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশাদার চিপ নকশার সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন এবং অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন সেখানে ‘সিলিকন রিভার ভিশন অ্যাড্রেস ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর।   বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টেক্সাসের অস্টিনে এএমডি, এনএক্সপি এবং টোকিও ইলেকট্রনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষ জনবল, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসব যোগাযোগ ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনা হওয়া মানেই বিনিয়োগ বা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া নয়।   ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় পথ তুলে ধরছে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে ধারাবাহিক গবেষণা অর্থায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ জনবল, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার যে সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে কতটা গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং বাজারযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়, তার ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২৩:৫৪
রাইবোজ ও বোরনের রাসায়নিক সম্পর্কের চিত্র

প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

কোষকে তরুণ করার পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত

ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ

স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

0 Comments