যুক্তরাজ্যে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা-ছেলে, একই সময়ে দুজনই মেয়র
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানার একটি পরিবার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা পারভীন রানী এবং তার ছেলে তুষার কুমার একই সময়ে পৃথক দুই কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন। রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।
২০১৩ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় পরিবারটি। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ব্যবসায়ী সুনীল দাহিয়া বলেন, “২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, তুষার ও তার মা সবসময় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। লন্ডনে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তুষার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এই অর্জনের পরও পরিবারটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। হরিয়ানার রোহতকে এখনও তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে বসবাস করেন। তারা প্রতি বছরই ভারতে যান।
তুষার কুমারের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
লেবার পার্টির এই তরুণ নেতা ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে বলে মাস্কের অভিযোগের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে রিলায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাকে তারা ভয় পায় না। তবে স্টারলিংকসহ সব প্রতিষ্ঠানকে ভারতের আইন ও নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ভারত দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত। তবে এই সুযোগ আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সরকারের নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া দেশীয় ও বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রিলায়েন্স আরও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জিওর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও এখনো সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শুধু স্টারলিংক নয়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানায়, প্রতিযোগিতাকে তারা গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালে ভারতের টেলিকম বাজারে প্রবেশের সময় জিওর কোনো গ্রাহক ছিল না। পরবর্তী ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ কোটির বেশি হয়েছে। রিলায়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, জিও ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতেও স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। এদিকে রিলায়েন্সের এই বিবৃতির আগে ইলন মাস্ক ভারতের টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আম্বানির ব্যবসায়িক স্বার্থের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী যুক্তি তুলে ধরছেন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে বলা হচ্ছে, জিওর কম দামের ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে স্টারলিংক প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। অন্যদিকে স্টারলিংককে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই দুই অবস্থানকে পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাস্ক আরও দাবি করেন, ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকেরা বেশি বিকল্প পাবেন। এতে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে পারে, তবে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের টেলিকম বাজারে আম্বানির প্রভাব এত বেশি যে স্টারলিংকের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ভারত সরকার মাস্কের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে স্টারলিংকসহ সব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, স্টারলিংক এখনো ভারতে বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতের ভেতরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপন করতে হবে। একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংক এখনো এসব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে সম্মত হয়নি। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করে স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপনের শর্ত পূরণ করলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই। ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর পরিকল্পনায় রয়েছে রিলায়েন্স জিও, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংক। ভারতী এন্টারপ্রাইজেসের চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তাল জানিয়েছেন, তাঁদের স্যাটেলাইট উদ্যোগ ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব স্টারলিংকের আগেই অনুমোদন পেতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি আগে আবেদন করেছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশ নিয়ে মাস্ক ও রিলায়েন্সের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হলেও রিলায়েন্স আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কবে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারবে, তা নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের ওপর। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত মানেই বিপদ শেষ নয়, ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি এড়াতে থাকুন নিরাপদ আশ্রয়ে
ইংল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার দায়ে বাঙালি বংশোদ্ভূত শিক্ষকের ছয় বছরের কারাদণ্ড
নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী
ইসরায়েলভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিভাইসে স্পাইওয়্যার পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত পৃথক গবেষণায় কানাডার সিটিজেন ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের কনফিয়ান্ট এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষকদের মতে, হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করারও প্রয়োজন ছিল না। সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে প্রদর্শিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার সময় ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কিছু শনাক্তকারী তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে পৌঁছাত। গবেষকদের অভিযোগ, নির্বাচিত ডিভাইসে একই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বিজ্ঞাপনটি দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ডিভাইস স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়। গবেষণায় সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিভাইসে চালানো হামলার ক্ষেত্রে। সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৪৫টি ডিভাইসকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। আল জাজিরার দেওয়া নেটওয়ার্ক তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি ডিভাইসে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুর সফটওয়্যার সংক্রমণের প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকেরা। আল জাজিরা কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের ডিভাইস ও তথ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। তবে এসব নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর তথ্য থেকে সেখানে কারও ডিভাইসে স্পাইওয়্যার সংক্রমণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তদন্তে সহযোগিতা করে গুগল ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতের সংগঠন আইএবি ইউরোপও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ডিসকভার-টেকের অবস্থান স্থগিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে ডিসকভার-টেক ও ক্যান্ডিরুর পক্ষ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শুরু হলো নতুন প্রক্রিয়া
কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কথিত ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর এবং সিতি আক্তার। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলা বা উপজেলায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের একটি আরবি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনামে এক নারীর সঙ্গে মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত ইংরেজি প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগটিকে সাধারণভাবে অনৈতিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে তাঁরা ঠিক কী করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগটির যৌন প্রকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, নির্দিষ্ট কোনো যৌনকর্মে লিপ্ত থাকার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয় নাকি অন্য কোনো সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। ঘটনার সময় নিয়েও রয়েছে তথ্যের ঘাটতি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে কথিত অনৈতিক কাজটি ঠিক কবে ঘটেছিল, তাঁদের কখন আটক করা হয়েছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া কত দিন ধরে চলেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়রেখা প্রকাশ করা হয়নি। মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে রায় বহাল রাখা হয় এবং রাজকীয় আদেশের পর সাজা কার্যকর করা হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারিক যুক্তি কিংবা অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার অন্য কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সমর্থিত হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, ঘটনার তারিখ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের নিজ নিজ এলাকার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি কিংবা বাংলাদেশের কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যেতে পারে।
যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত, দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ
ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ