আন্তর্জাতিক

আমেরিকার হুমকিতে ইরান ভয় পায় না, ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধান বিচারপতি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১১:১৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মহসেনি এজেই। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানা গেছে। বিচার বিভাগের প্রধান অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, ইনশাআল্লাহ, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

 

গোলাম হোসেইন মহসেনি এজেই তাঁর বক্তব্যে ইরানি জনগণের দেশপ্রেম ও ধর্মীয় আবেগের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সকলের জানা উচিত যে, একজন ইরানি মুসলমানের কাছে মাতৃভূমি রক্ষা করা মানে কেবল মাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা নয়। এটি একই সাথে আমাদের ধর্মীয় সম্মান, জাতীয় পরিচয় এবং একটি বিশাল ঐতিহাসিক সভ্যতা ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার এক অন্তহীন লড়াই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ১০০ রাত ধরে চলা ইরানি জনগণের রাতের জাগরণ বা বিশাল গণ-উত্থানই প্রমাণ করে যে, শত্রুর যেকোনো ধরনের সামরিক বা কৌশলগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সাধারণ জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী কতটা দৃঢ় ও চূর্ণ-বিচূর্ণকারী জবাব দিতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

ইরানের এই শীর্ষ আইনি কর্মকর্তা বলেন, দেশের আমজনতার প্রত্যক্ষ ইচ্ছার ওপর ভর করে চার দশক আগে যে ইসলামি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, তা দেখতে দেখতে ৪৭ বছর পার করে দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যের মজবুত ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা এই বিপ্লবী পথটি বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক নানা জটিল উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষিত হয়েছে, কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এর অগ্রযাত্রা কখনোই থমকে দাঁড়ায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান বলেন যে, ইরানের জনগণ অবিচল ও অটল পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা ইসলামি ইরানের অস্তিত্ব রক্ষায় পবিত্র শপথ নিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে গোলাম হোসেইন মহসেনি এজেই স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের বীর জনগণ ট্রাম্প বা তাঁর মতো দুশ্চরিত্র ব্যক্তিদের হুমকিতে বিন্দুমাত্র ভীত বা শঙ্কিত নয়। তারা নিজেদের পবিত্র ধর্ম ও মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগ করাকেই প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ পথচলার আলো হিসেবে বিবেচনা করে। আমেরিকা এবং তার দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্টের খুব ভালো করে জেনে রাখা উচিত যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণে আর থাকবে না। ইসলামি ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকান হামলায় ৩ নাবিক নিহত, মার্কিন দূতকে তলব করল ভারত

ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকবাহী বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারে মার্কিন নৌবাহিনীর উপর্যুপরি বিমান হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে নয়া দিল্লি। এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেছে। বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে এই প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটার পর ওয়াশিংটনের প্রতি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মার্কিন কূটনৈতিক প্রধানকে ডেকে নিয়ে এই চলমান সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।   গত ১৩ এপ্রিল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী একতরফা অবরোধ শুরু করার পর থেকে এই প্রথম কোনো ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্কিত অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে অন্তত আটটি বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে অচল করে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। একই সময়ে আরও শতাধিক মালবাহী ও তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে না দিয়ে মাঝপথ থেকেই জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাস্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছেন যে, সমুদ্রপথে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক হামলা অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার সবসময় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি; যাতে দ্রুত এই উপদ্রুত অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তথ্য প্রকাশ করে জানান যে, মার্কিন নৌবাহিনী চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী মোট তিনটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজে উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে; যার মধ্যে সর্বশেষ মারাত্মক হামলাটি চালানো হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার।   এই চাঞ্চল্যকর হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সাড়া দেয়নি। অন্য দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, আমেরিকান নৌবাহিনীর নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা বারবার অমান্য করার কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ‘সেত্তেবেলো’ নামের ওই ট্যাংকারের ইঞ্জিন রুমে একটি নিখুঁত বা পিন-পয়েন্ট হামলা চালানো হয়। সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, ‘সেত্তেবেলো’ জাহাজটি মূলত মার্কিন আইন অমান্য করে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের চেষ্টা করে চলমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল।   তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই গুরুতর দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে জাহাজটির ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ‘আইওএস মেরিন এফজেডই’। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর কোনো ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা তারা উপেক্ষা করেনি এবং জাহাজটিতে ইরানের কোনো অপরিশোধিত তেলও ছিল না। তারা এই বর্বরোচিত বিমান হামলার ঘটনার পেছনে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে ভারতের নাবিকদের সংগঠন ‘ফরোয়ার্ড সিমেন্স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে, আক্রান্ত ‘সেত্তেবেলো’ জাহাজের সঙ্গে ইরান বা ইরানি তেলের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১১:৩২
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার হুমকিতে ইরান ভয় পায় না, ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধান বিচারপতি

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ বর্জন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা থেকে বাঁচার আশায় কিউবা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের পাসপোর্ট তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্য

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এক চরম বিব্রতকর নিরাপত্তা ত্রুটির শিকার হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের একটি প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচের অফিশিয়াল 'টিম শিট' বা দলীয় তালিকায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার পুরো দলের পাসপোর্ট নম্বর অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে গেছে।   সাধারণত ম্যাচ রেফারি ও অফিশিয়ালদের জন্য ইস্যু করা এই তালিকায় খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ থাকলেও গণমাধ্যমে প্রকাশের আগে তা অস্পষ্ট বা ব্লার করে দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্নস্থিত জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের ম্যাচের পর সেটি করা হয়নি। ফলে লিওনেল মেসি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজসহ আর্জেন্টিনার একাদশে থাকা এবং অতিরিক্ত বেঞ্চের সকল খেলোয়াড়ের গোপন পাসপোর্ট নম্বর ফাঁস হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।   অবশ্য আইসল্যান্ড দল তাদের তালিকায় পাসপোর্ট নম্বর জমা না দেওয়ায় এই যাত্রা রক্ষা পেয়েছে।   'রোড টু ২৬' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ম্যাচটি আয়োজিত হয়েছিল, যারা তুর্কি এয়ারলাইন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে। ৮৮ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে আইসল্যান্ডকে পরাজিত করে। ম্যাচে ইনজুরি কাটিয়ে ৭০ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই পেনাল্টি থেকে দারুণ গোল করেন ৩৮ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসি।   এছাড়া থিয়াগো আলমাডার করা দলের তৃতীয় গোলের পেছনেও রদ্রিগো ডি পলের উদ্দেশ্যে বাড়ানো মেসির একটি পাসের বড় অবদান ছিল। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন ভ্যালেন্টিন বারকো। এর আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় মেসির বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও, প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমে দুর্দান্ত ফিটনেসের জানান দিয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর।   ম্যাচ শেষে নিজের ফিটনেস এবং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মেসি। তিনি বলেন, "আমি খুব খুশি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং বরাবরের মতোই রোমাঞ্চিত। মাঠে নেমে নিজেকে বেশ ভালো লেগেছে। ইনজুরি নিয়ে যে একটা সুপ্ত ভয় কাজ করছিল, তা ঝেড়ে ফেলে স্বাধীনভাবে খেলতে চেয়েছিলাম। প্রথম ম্যাচের আগে আমাদের হাতে এখনো এক সপ্তাহ সময় আছে সবাইকে সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনার জন্য।   " উল্লেখ্য, ১১ জুন বৃহস্পতিবার থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও গ্রুপ 'জে' তে থাকা আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আগামী ১৭ জুন বুধবার। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠেয় সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁসের এই ঘটনা এখন ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১৯:৫৮
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

চীনের হুমকির মুখে তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে ‘হিমার্স’ রকেট মহড়া

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

হানিপট ট্র্যাপ পেতে ইউক্রেনীয় সেনাদের টার্গেট করছে রাশিয়া, অভিযোগ কিয়েভের

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

বেলফাস্টে ছুরি হামলার জেরে রণক্ষেত্র, অভিবাসীদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি হামলা

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরান থেকে প্রতি রাতে লাখ লাখ ব্যারেল তেল আনছে আমেরিকা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের কারণেই মূলত বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।   সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছি—সত্যিই লাখ লাখ ব্যারেল। প্রতি রাতে আমরা এই তেল সরিয়েছি।" আমেরিকার এই বিশেষ অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনা হয়েছে বলেই আজ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলারে না ঠেকে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পুরো কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের এই কথিত গোপন বা বিশেষ পদক্ষেপের ওপর দিতে চাচ্ছেন।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যার ফলে তীব্র রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নিজের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই ট্রাম্প তেলের বাজারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন।   একই সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হওয়া মাত্রই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। তবে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে থাকা ইরান থেকে ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই তেল সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১৬:৪৬
ছবিঃ ডেইলি মেইল

শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদ কমালে ভাতার টাকা কোথায় পাবো? প্রশ্ন ব্রিটিশ মন্ত্রীর

ছবিঃ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে মিলল চীনের গোপন ট্র্যাকিং ডিভাইস

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান | ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি বললেন এরদোয়ান

0 Comments