২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে জরিপে শীর্ষে এওসি, কে এই সাবেক বারটেন্ডার থেকে উঠে আসা কংগ্রেসওম্যান?
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রার্থী ঠিক না করলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, যিনি ‘এওসি’ নামেই বেশি পরিচিত।
ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ২২ জুলাই প্রকাশিত সাম্প্রতিক জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন এওসি। ২১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তার ঠিক পেছনে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তবে এটি নিউ হ্যাম্পশায়ারভিত্তিক একটি জরিপ, জাতীয় জরিপ নয়। এওসি এখনো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দেননি।
কে এই এওসি? আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে। তার পারিবারিক শিকড় পুয়ের্তো রিকোয়। বাবা ছিলেন ছোট ব্যবসায়ী ও স্থপতি। মা পরিবার চালাতে গৃহপরিচারিকার কাজও করেছেন।
এওসি বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ডেমোক্রেটিক সিনেটর টেড কেনেডির কার্যালয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজ করেন।
কলেজে পড়ার সময় ক্যানসারে তার বাবার মৃত্যু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বদলে দেয়। বাড়ি ঋণের কারণে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে পরিবারকে সহায়তা করতে এওসি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন ও বারটেন্ডারের কাজ করেন।
বারটেন্ডার থেকে কংগ্রেসে: ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন এওসি। এরপর ২০১৭ সালে নিউইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রচার শুরু করেন। সে সময়ও তিনি ম্যানহাটনের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচার এবং রেস্তোরাঁর চাকরি কিছু সময় পাশাপাশি চালিয়েছেন।
২০১৮ সালের জুনে ডেমোক্রেটিক প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে কংগ্রেসে থাকা এবং দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। একই বছরের সাধারণ নির্বাচনেও জয় পান। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ২৯ বছর বয়সে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ নারী।
কেন এত আলোচিত? এওসি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পক্ষে তিনি সোচ্চার।
অভিবাসন প্রশ্নেও তার অবস্থান তুলনামূলক উদার। নথিবিহীন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি পথ তৈরি, শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নথিবিহীন অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে তিনি কথা বলেছেন। গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সোচ্চার এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? এওসির নির্বাচনী এলাকা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস ও কুইন্সের অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো যেসব বিষয় তিনি সামনে আনেন, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এওসি শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একটি অঙ্গরাজ্যের জরিপ দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ প্রার্থীও নির্ধারণ করা যায় না। তবে রেস্তোরাঁয় কাজ করতে করতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা সেই তরুণী আট বছরের মধ্যে সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসায় তার রাজনৈতিক উত্থান নতুন করে নজর কাড়ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য অন্য কাউকে ক্ষমতা দিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। তবে দলিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী খসড়া, স্বাক্ষর, সত্যায়ন এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। শুধু একটি কাগজ নোটারি করিয়ে পাঠালেই সব ধরনের কাজে তা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের কনস্যুলেট ক্ষমতাদাতার সশরীরে উপস্থিতির নির্দেশনা দিয়েছে। প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে, কাকে ঠিক কোন কাজের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষমতাদাতার স্বার্থ রক্ষা ও পরবর্তী জটিলতা কমাতে তারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে। তাই সম্পত্তি বিক্রি, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্য কাজের ক্ষমতা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের আইনি শ্রেণিবিভাগও গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বিক্রয়চুক্তি, ঋণের বিপরীতে সম্পত্তি বন্ধক এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভূমি উন্নয়নের ক্ষমতা অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আওতায় পড়ে। এ ধরনের দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শুধু দলিলের শিরোনামে ‘জেনারেল’ বা ‘স্পেশাল’ লিখে নিবন্ধনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা যায় না। নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্ষমতাদাতাকে মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। কনস্যুলার অফিসারের সামনে দলিল ও ছবিতে স্বাক্ষর এবং টিপসই দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে আগে থেকেই সব স্বাক্ষর করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপত্র, ক্ষমতাদাতা ও ক্ষমতাগ্রহীতার পরিচয়পত্রের কপি, সাদা পটভূমিতে সদ্য তোলা ছবি এবং ক্ষমতাদাতার ইউএস ফটো আইডির কপি। সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল, নামজারি বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত প্রমাণও চাওয়া হয়। নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আদালতের আদেশের কপি প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রকাশিত নিয়মিত ফি ৫৫ ডলার, ষষ্ঠ পাতা থেকে অতিরিক্ত প্রতি পাতায় ৫ ডলার প্রযোজ্য। অ্যাপোস্টিল নিয়ে পুরোনো তথ্য অনুসরণ করাও সমস্যার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ নয়, এমন তথ্য এখন সঠিক নয়। এই কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের সরকারি অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার স্বীকৃত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। তবে অ্যাপোস্টিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বিষয়বস্তু, সম্পাদন ও নিবন্ধনের শর্ত আলাদা বিষয়। তাই সব দলিলের জন্য কাউন্টি ক্লার্ক, সেক্রেটারি অব স্টেট, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন একসঙ্গে বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া ঠিক নয়। নোটারি বা অ্যাপোস্টিলের পথে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন এবং দেশে দলিল গ্রহণকারী দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে মূল দলিল পৌঁছানোর পরও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই সেট ফটোকপিসহ সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ও নিবন্ধনের আইনি বিধানও অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধনযোগ্য দলিলের মূল কপি, পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির তথ্য দেশে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁর কাছে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রযোজ্য সময়সীমা ও কাগজপত্র নিশ্চিত করলে সত্যায়িত দলিল পাঠানোর পর সংশোধন বা পুনরায় সম্পাদনের ঝামেলা কমবে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা
ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। এতে পরিবারের যাতায়াত ও দৈনন্দিন ব্যয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। আগের মাসে এই বৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হার সেই পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৌসুমি সমন্বয়ের পর সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানির দাম ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এর বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এপির প্রতিবেদনে জ্বালানির দামে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রভাবকে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সব খাতে একইভাবে দাম বাড়েনি। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমলেও বাইরে খাওয়ার খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। আবাসন খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির অর্থ, ভোক্তা মূল্যসূচকে অন্তর্ভুক্ত পণ্য ও সেবার গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় ওই হারে বেড়েছে। পরিবারের নিজস্ব ব্যয় কতটা বেড়েছে, তা নির্ভর করে গ্যাসোলিন, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য খাতে তাদের খরচের ওপর। তাই জাতীয় গড়ের সঙ্গে প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা এক হবে না।
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের
এআই নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার নাম বদলালেন মেলানিয়া ট্রাম্প
বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ
নিউইয়র্ক সিটিতে স্পিড ক্যামেরার টিকিট পেলে ড্রাইভার লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হয় না। তবে ৫০ ডলারের এই জরিমানা বাতিল করতে হলে যথাযথ কারণ ও প্রমাণসহ হিয়ারিং চাইতে হবে। অন্য কেউ গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিংবা স্কুল বন্ধ ছিল, শুধু এসব যুক্তিতে বর্তমান নিয়মের টিকিট বাতিল হয় না। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স এবং এনওয়াইসি ৩১১-এর নির্দেশনায় বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। স্কুল স্পিড জোনে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ঘণ্টায় ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালালে ক্যামেরার মাধ্যমে টিকিট দেওয়া হয়। অর্থাৎ, গতিসীমা ৩০ মাইল হলে ৩৮ মাইলে চালানো এই ক্যামেরা টিকিটের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে না। তবে সেটিও গতিসীমা লঙ্ঘন, যার জন্য পুলিশ আলাদাভাবে টিকিট দিতে পারে। ক্যামেরায় ধরা পড়লে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের কাছে সাধারণত প্রায় ১৪ দিনের মধ্যে নোটিশ অব লায়াবিলিটি বা এনওএল পাঠানো হয়। এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যামেরা টিকিটের কারণে লাইসেন্সে পয়েন্ট বা ইন্স্যুরেন্সে প্রভাব পড়ে না। এটি গাড়ির মালিকের দায়সংক্রান্ত জরিমানা। টিকিট চ্যালেঞ্জ করার প্রথম কাজ হলো নোটিশে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে ছবি এবং উপলব্ধ ভিডিও প্রমাণ দেখা। গাড়ির নম্বরপ্লেট, ঘটনার স্থান, সময় ও রেকর্ড করা গতি মিলিয়ে দেখুন। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দিন। ছবির ক্ষেত্রে কখন সেটি তোলা হয়েছে, সেই তথ্যও রাখুন। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের নির্দেশনায় গ্রহণযোগ্য আপত্তির উদাহরণ হিসেবে ভুল গাড়িকে শনাক্ত করা, ঘটনার দিন ক্যামেরা ত্রুটিপূর্ণ থাকা এবং ঘটনার আগে গাড়ি চুরি হয়ে আর উদ্ধার না হওয়ার প্রমাণের কথা বলা হয়েছে। পাশে অন্য গাড়ি ছিল বলেই টিকিট বাতিল হবে না, প্রমাণে দেখাতে হবে ভুল গাড়ির জন্য আপনাকে দায়ী করা হয়েছে। ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না, সে বিষয়ে ডিওটির সার্টিফিকেশনও চেয়ে দেখা যায়। মালিকের অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ গাড়ি চালালেও নিবন্ধিত মালিক সাধারণত দায়ী থাকেন। আবার ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে নিউইয়র্ক সিটির স্পিড ক্যামেরা সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তাই সাম্প্রতিক টিকিটের ক্ষেত্রে স্কুলের সময়ের বাইরে গাড়ি চালানোর যুক্তি প্রযোজ্য নয়। হিয়ারিংয়ের আবেদন করা যায় ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের অনলাইন ব্যবস্থা, এনওয়াইসি পে অর ডিসপিউট অ্যাপ, ডাকযোগে অথবা সরাসরি উপস্থিত হয়ে। নোটিশের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করা জরুরি। হিয়ারিংয়ের জন্য টিকিটের টাকা আগে পরিশোধ করতে হয় না। সরাসরি উপস্থিত হলে টিকিট বাতিলের সম্ভাবনা বাড়ে, এমন দাবিও ডিওএফ সমর্থন করে না। ৩০ দিন পার হওয়ার পর হিয়ারিং চাইলে এবং দায়ী সাব্যস্ত হলে লেট পেনাল্টি দিতে হতে পারে। ডিওটির প্রতিবেদনে মূল ৫০ ডলারের সঙ্গে দেরিতে পরিশোধের জন্য একবার ২৫ ডলার যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই হিয়ারিংয়ে হারলেও সব ক্ষেত্রে শুধু ৫০ ডলার দিতে হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হিয়ারিংয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে চাইলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। স্পিড ক্যামেরার এই প্রক্রিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স পরিচালনা করে। পুলিশ অফিসারের দেওয়া স্পিডিং টিকিটের নিয়ম আলাদা, তাই নিজের নোটিশটি কোন ধরনের টিকিট, তা আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক ভিসায় পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগ, স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে চাপে বাংলাদেশিরা
অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা