বেজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী মানসিক রোগী ছিলেন, জানাল চীন
চীনের রাজধানী বেজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু আকাশচুম্বী ভবনে গত সপ্তাহে একটি ছোট বিমান নিয়ে আঘাত করা ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। গত ২৬ জুন বেজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ঘটনার বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার। কড়া আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ নীতি থাকা সত্ত্বেও এই বিমান হামলার ঘটনাটি পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।
চাওইয়াং জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম লিউ। তিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি একা বসবাস করতেন এবং ২০২৪ সালে ব্যক্তিগত বিমান চালনার লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বেজিংয়ের বাইরের একটি বিমানবন্দর থেকে একক উড্ডয়ন শুরু করেন। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই তিনি নির্ধারিত আকাশসীমা থেকে বিচ্যুত হন এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি বিমানটি নিয়ে সরাসরি চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর সিআইটিআইসি (সিটিক) টাওয়ারে আঘাত করেন এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত লিউ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অনিদ্রা এবং মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরি তল্লাশি করে সেখানে বারবার "জীবন শেষ করে দেওয়ার" মতো আত্মঘাতী লেখা পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদের কারণে "জননিরাপত্তা বিপন্ন করার" একটি ঘটনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিমান দুর্ঘটনায় ভবনে থাকা অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারোরই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
উল্লেখ্য, চীনের রাজধানী বেজিংয়ে ড্রোন বা হালকা বিমান উড্ডয়নের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এই ভবনটি চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের বাসভবন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দ্রুত মুছে দেয় চীনা সেন্সরশিপ বিভাগ। চীনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত হতাশা থেকে সমাজের ওপর ক্ষোভ বা প্রতিশোধ নেওয়ার এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন সাধারণত এগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কাজ হিসেবেই বর্ণনা করে থাকে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreতৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আহমদিয়া নারীদের গয়না দানসহ কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে নির্মিত লন্ডনের ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সাউথফিল্ডসে অবস্থিত মসজিদটি ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের জন্য ১০ হাজার বেলা খাবার এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ হাজার ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবার বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। লন্ডনে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে পরিচিত ফজল মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ভারতের কাদিয়ানের মানুষের অনুদানের ইতিহাস। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা তাঁদের গয়না দিয়েছেন, শিশুরা দিয়েছে হাতখরচের টাকা, আর পুরুষেরা আয় ও সঞ্চয় থেকে অর্থ দিয়েছেন। দাতাদের প্রায় কেউই মসজিদটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি। নারীদের এই অবদান শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দূরদেশে একটি স্থায়ী উপাসনালয় গড়ে তুলতে তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছিলেন। তবে মসজিদটির নির্মাণে শুধু নারীদের অর্থ ছিল, এমন নয়। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি আহমদিয়া কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে নারীদের ত্যাগ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১৫০ জনের নামাজ আদায়ের জায়গা থাকা মসজিদটি একটি আবাসিক সড়কে অবস্থিত। শতবর্ষের কর্মসূচিতে শান্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের মধ্যে থাকা মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে। ঘোষিত সংখ্যাগুলো বছরব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজের হিসাব নয়। মসজিদটির ইতিহাস ও শান্তির বার্তা তুলে ধরতে অক্টোবর মাসে লন্ডনের ১০০টি বাসে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকাতেও এই প্রচার সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। আহমদিয়া কমিউনিটির বিশ্বপ্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশীর সেবা এবং ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। দীর্ঘ ইতিহাসে ফজল মসজিদ আহমদিয়া কমিউনিটির সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ নেতা মির্জা তাহির আহমদ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসে সাউথফিল্ডসে বসবাস শুরু করলে এখানে বিশ্ব সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শতবর্ষের বিবরণে এই অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটেনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে ভবনটি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা দেয়। চলতি বছরের মার্চে ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরো কাউন্সিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে একটি সবুজ ফলক প্রদান করে। শতবর্ষের আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান স্মরণ এবং বর্তমান সমাজে সেবার কর্মসূচি। এক শতাব্দী আগে যাঁরা নিজেদের গয়না, সঞ্চয় ও হাতখরচ দিয়ে লন্ডনে মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সেই অনুদানের ইতিহাস এবার তুলে ধরা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সামনে। একই সঙ্গে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদটির কমিউনিটি।
পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’
পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ৩৭ দিন পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় খোঁজ মিলেছে এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তিনি নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে জানান, ওই পর্যটক নেপালের কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে যান। ৩৭ দিন পর নিখোঁজ ওই পর্যটকের জীবিত থাকার খবর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, ভয়াবহ বন্যার এক দিন আগে, ওই পর্যটককে নাগথালি ভিউপয়েন্টে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। সেখানে বিদ্যুৎ ও খাবার পানিরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে তৈরি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রা ণ হা নি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভে ঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালের বন্যার পর কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক তখনো নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক ছিলেন। ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের জীবিত ফিরে আসার খবর তাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড
নির্দেশের পরও নিউইয়র্কে থাকা ইরানের দুই প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন মার্কিন প্রশাসন
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট
ভারতের হিমাচল প্রদেশের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় ভারতীয়দের কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সৃষ্টি খান্না। ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এসব এলাকায় বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এজে প্লাসের একটি ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। খান্নার দাবি, কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে আগে ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো; এখন অন্য দেশের পর্যটকদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট ও পার্বতী উপত্যকাসহ ইসরায়েলি পর্যটকদের জনপ্রিয় কয়েকটি ভ্রমণপথ অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে পরিচিত। এসব এলাকায় ইসরায়েলি পর্যটকদের উপযোগী খাবার ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য এমন সেবা চালু থাকা এবং অন্য গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য আলাদা বিষয়। চলতি বছরের মে মাসে ধরমকোটে বেড়াতে যাওয়া এক ভারতীয় পর্যটকও কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, কোথাও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি; কোথাও আবার পরে অর্ডার দেওয়া ইসরায়েলি পর্যটকেরা আগে খাবার পেয়েছেন। এনডিটিভি তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। কাসোলে ক্যাফে ঘিরে এমন বিতর্ক আগেও হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘ফ্রি কাসোল’ নামে একটি ক্যাফেতে ভারতীয়দের সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠলে স্থানীয় প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দেয়। সে সময় একজন অভিযোগকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, ক্যাফেটির মালিক ছিলেন ভারতীয়। মালিক অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেখানে ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্য চলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল। সূত্র: এজে প্লাসে প্রকাশিত সৃষ্টি খান্নার বক্তব্য;হিন্দুস্তান টাইমস।
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা ও বিয়ে, টিমের মধ্যেই নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন অনীতা
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী