বিশ্বজুড়ে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নেওয়া একটি বড় আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রকল্প মাত্র দুই বছরের মাথায় বাতিল ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। আফ্রিকা, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মেয়েকে উচ্চশিক্ষার আওতায় এনে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির দরপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
'স্ট্রেনদেনিং হায়ার এডুকেশন ফর ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট' বা 'শেফে' নামের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি দুই বছর আগে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের আমলে বেশ ধুমধামের সাথে চালু করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এই প্রকল্পের জন্য ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতের এই বড় উদ্যোগটি পুরোপুরি ভেস্তে গেল।
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুখে নারী অধিকার ও সুরক্ষার কথা বললেও বাস্তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য কমিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রান্তিক মেয়েদের উচ্চশিক্ষার অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ সুদানে মেয়েদের এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য নেওয়া ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের আরেকটি বড় প্রকল্পও বাতিল করেছিল ব্রিটিশ প্রশাসন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তাদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি অন্তত ছয় গুণ কমে যায় এবং তারা পারিবারিক সহিংসতার শিকারও কম হয়। তবে কেবল প্রকল্প বাতিলই নয়, যুক্তরাজ্য সরকার সুদান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও ক্যামেরুনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্টুডেন্ট ভিসাও বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে নিজ দেশে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত বহু নারী আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বা বৃত্তির মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এই বৈদেশিক সাহায্য বা আন্তর্জাতিক অনুদানের বাজেট কমানো হয়েছে। জাতিসংঘ যেখানে প্রতিটি উন্নত দেশকে তাদের জাতীয় আয়ের অন্তত শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা দেয়, সেখানে যুক্তরাজ্যের এই বাজেট কমিয়ে আনাকে বৈশ্বিক শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা ও চরম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু উপস্থিত ছিলেন। চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণ খাতের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উদীয়মান এই প্রযুক্তি খাতে একযোগে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সরকারি সফরে শাহবাজ শরিফ একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কেরও সক্রিয় সদস্য এই দুই মিত্র দেশ। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি আধুনিক করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দেশ দুটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ছোট্ট কফিন। সেটিই ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহবাহী কফিন। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছোট্ট কফিনটি বড় বড় কফিনের পাশে রাখা হয়। পাশে ছিল শিশুটির একটি ছবি। রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের বিশাল আয়োজনের মধ্যেও এই ছোট্ট কফিন অনেকের চোখে জল এনে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ নীরবে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেককে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার রাজনৈতিক গুরুত্বের বাইরে, ছোট্ট জাহরার কফিন মানবিক ক্ষতির একটি গভীর প্রতীক হিসেবে সামনে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদের একজন। শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর কফিন অন্য পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশেই রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, একটি শিশুর ছোট্ট কফিন যুদ্ধের মানবিক মূল্যকে সবচেয়ে নির্মমভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাহরার বিদায় তাই শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয়; বরং সংঘাতের মধ্যে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির এক মর্মান্তিক স্মারক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। তাঁর ছোট্ট কফিন যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য, আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য অনেক সময় নিরপরাধরাই দিয়ে থাকে।
তিস্তা নদী প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে চীনের পক্ষ থেকে কারিগরি ও ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পর, এই নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকার কাছে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ভারতের সহায়তা একটি পারস্পরিক সম্মত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে ভারতের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ইতোপূর্বেই ঢাকাকে জানানো হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিসিআরএমপি) নিয়ে ঢাকাকে দেওয়া আশ্বাস নয়াদিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে এই প্রকল্পে নয়াদিল্লির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যদিও এর দুই মাসের মাথায় গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সরকারের পতন ঘটে। অবৈধ অনুপ্রবেশসহ নানা ইস্যুতে বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যখন কিছুটা টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই নিজের প্রথম চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীন দীর্ঘদিন ধরেই বড় নদীতে বাঁধ নির্মাণে পারদর্শী এবং এবার তারা তিস্তা নদীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের কাজ ত্বরান্বিত করার চিন্তা করছে। ভারতের জন্য তিস্তা প্রকল্পটি রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌযান চলাচল সচল রাখতে এই নদীর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। তবে হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই নদীটি ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এই করিডোরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে, ফলে এখানে চীনের যেকোনো ধরনের উপস্থিতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিরাট চিন্তার বিষয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানির বণ্টন বরাবরই একটি প্রধান দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। দেশ দুটি প্রায় ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী শেয়ার করে এবং ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সফলভাবে স্বাক্ষরিত হলেও তিস্তার বিরোধ চার দশকের বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত। ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তীব্র আপত্তির মুখে তা ভেস্তে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত কার্যকর কোনো সুরাহা করতে না পারায় বাংলাদেশ এই নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা খোঁজে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারচায়না’ একটি প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন তৈরির চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক ও কৃষি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক কূটনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।