লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় সাইবার হামলা, বাংলাদেশী বংশদ্ভূত দুই হ্যাকারকে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
লন্ডনের গণপরিবহন সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল)-এর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনায় দুই তরুণ হ্যাকারকে কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার উলউইচ ক্রাউন কোর্টের রায়ে পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার ২০ বছর বয়সী থালহা জুবাইর এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসালের ১৯ বছর বয়সী ওউইন ফ্লাওয়ার্সকে সাড়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত জানিয়েছে, ২০২৪ সালে টিএফএল-এর আইটি ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। হামলার ফলে সংস্থাটির ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের তথ্য ও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
মামলার তদন্তে উঠে আসে, থালহা জুবাইর টিএফএল-এর সিস্টেমে অনুপ্রবেশের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে ওউইন ফ্লাওয়ার্স একই হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাইবার হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আধুনিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা এখন বিশ্বজুড়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
টিএফএল লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিবহন সংস্থা, যা বাস, ট্রেন, আন্ডারগ্রাউন্ডসহ শহরের বড় অংশের গণপরিবহন পরিচালনা করে। সংস্থাটির ডিজিটাল অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা হলে তা লাখো যাত্রীর সেবায় প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় হামলার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপ্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি টিকটকে প্রকাশ করেছিলেন মিলাগ্রোস নামের এক তরুণী। এরপর অন্য কয়েকজন নারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেন, একই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদেরও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মিলাগ্রোসের ভাষ্য, পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ২০ জনের বেশি নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তাঁকে বার্তা দিয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল কানসিয়েরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলাগ্রোস রাগবি খেলোয়াড় হুয়ান কারিনির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করে টিকটকের একটি ট্রেন্ডে অংশ নেন। এই ট্রেন্ডে সম্পর্ক ধীরে এগিয়ে নেওয়ার ধারণা নিয়ে মজা করে পরিচয় থেকে দ্রুত প্রেমে জড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। মিলাগ্রোসও প্রথম দিকের দেখা করা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব পাওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর প্রকাশ করা কথোপকথনের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম এক নারী দাবি করেন, হুয়ানের সঙ্গে তাঁর দুই বছরের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের পরিচয় হয়েছিল জিমে। আরেক নারী নিজেদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে কথোপকথনের স্ক্রিনশট পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তৃতীয় একজন জানান, এক সপ্তাহ আগেও হুয়ানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে এবং তিনি একই ধরনের ভালোবাসার বার্তা পেয়েছেন। তৃতীয় নারীর বার্তার জবাবে মিলাগ্রোস রসিকতার সুরে লেখেন, ‘ওহ না, তুমি তৃতীয়জন।’ পরে তিনি এসব কথোপকথন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এরপর আরও অনেকে যোগাযোগ করেছেন। তবে ২০ জনের বেশি নারীর যোগাযোগ করার দাবি থেকে প্রত্যেকের সঙ্গে একই সময়ে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে হুয়ান কারিনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্যও দেওয়া হয়নি।
টরন্টোয় শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ঢুকে যৌন নিপীড়নে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন
‘আমরা প্রতিযোগিতাকে ভয় পাই না’, ইলন মাস্কের অভিযোগের জবাব দিল আম্বানির রিলায়েন্স
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত মানেই বিপদ শেষ নয়, ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি এড়াতে থাকুন নিরাপদ আশ্রয়ে
ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের পোশাকের নিচের অংশের ছবি গোপনে তোলা এবং শিশুদের ছবি ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এআই ছবি তৈরিসহ একাধিক অপরাধে সাবেক সাপ্লাই শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বল্টন ক্রাউন কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী রহমান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। রহমান বল্টন, বুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্লাই শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্লাস চলার সময় এবং স্কুলের অন্য স্থানেও আইফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তুলতেন। তদন্তে এ ধরনের শতাধিক ছবি পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ছবিও তিনি এআই দিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবিতে রূপান্তর করেছিলেন। গত ২৮ মে রহমান আদালতে মোট ২১টি অপরাধের দায় স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের গোপনে তোলা অশালীন ছবিসংক্রান্ত ১২টি অভিযোগ ছাড়াও এআই ছবি তৈরি ও প্রকাশ এবং একটি ছবি অন্যের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। অপরাধগুলো ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সন্তানের স্কুলের পোশাক পরা ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখে উদ্বেগ জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কোনো স্কুলে কাজ করেননি বলে জানিয়েছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২০ বছরের জন্য স্কুলে কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী
অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে নজরদারির প্রমাণ মিলেছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ঘিরে
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ, ভিসাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। এরপর বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসারে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। কর্মীদের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রও প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের বহু মানুষের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে প্রবাসে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স খাতও উপকৃত হতে পারে। তবে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া আর সব কর্মীর আবেদন, নির্বাচন ও বিদেশযাত্রা সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। নিয়োগের বিস্তারিত সময়সূচি, যোগ্যতা, পেশাভিত্তিক চাহিদা এবং কর্মী নির্বাচনের চূড়ান্ত নিয়ম সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলমান বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কোন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাবে, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বিনা খরচে মালয়েশিয়া’ শিরোনামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কথায় টাকা না দেওয়া। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা, চাকরির চুক্তিপত্র, ভিসা ও অন্যান্য শর্ত যাচাই না করে পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা উচিত নয়। বিনা খরচে নিয়োগের ঘোষণার আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হতে হবে। সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়ানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো। এখন আগ্রহী কর্মীদের নজর থাকবে আনুষ্ঠানিক আবেদনপদ্ধতি, নিয়োগের শর্ত এবং প্রথম ধাপের কর্মী নির্বাচনের ঘোষণার দিকে।
কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব
সৌদি আরবে মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা জানা যাচ্ছে