সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাজ্য

কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর অপহরণ করে নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাত্রা আফগান নাগরিকের

বেলজিয়ামের একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের পর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আনার অভিযোগ উঠেছে এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলাটি ওঠার পর গত রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এর তথ্য প্রকাশিত হয়। অভিযোগের বিচার বেলজিয়ামে হওয়ার কথা রয়েছে।   দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির শুরু ২০২৫ সালের জুনে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে কিশোরীটিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে তাঁরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।   কিশোরীটি তুরস্কের নাগরিক বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বয়স নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে; কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের খোঁজা ওই ব্যক্তিকে গত ১৯ আগস্ট পশ্চিম লন্ডনের ফেলথামে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি হেফাজতে আছেন। অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সন্দেহজনক যানবাহন পরীক্ষা করছে ব্রিটিশ বাহিনী
বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে স ন্ত্রা স ও বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনে পাঁচজনকে আ টক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। রোববার সকালে আমেরিকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আ টক করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, আ টক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বি স্ফো র ক আইনের আওতায় অ প রা ধের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের স ন্ত্রা সী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গেও জড়িত থাকার সন্দেহে আ টক করা হয়েছে। তারা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।   ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ডের কাছের উইলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। উইলফোর্ড আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে।   ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বি স্ফো র ক-নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আ টক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ কাউন্টার টে র রি জ ম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে।   আরএএফ ফেয়ারফোর্ড আমেরিকান বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো মার্কিন বি মান অবস্থান করেছে।   ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, তারা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষ তি করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।   সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।   ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, জরুরি সাড়াদানকারী দল ও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদও ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।   আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে থাকা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং জানিয়েছে, ঘটনাটির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরএএফ লাকেনহিথের ৪৮তম ফাইটার উইং জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে লাকেনহিথ, মাইল্ডেনহল ও ফেল্টওয়েল ঘাঁটি নিয়ে গঠিত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি গাড়ির খবর পেয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: গেটি ইমেজ
যুক্তরাজ্যে ইউএস বোমারু বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার ৫

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি গাড়ির বিষয়ে খবর পেয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরের এ ঘটনার তদন্ত করছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। বিমানঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীও ব্যবহার করে।    পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত পৌনে একটার দিকে গাড়িগুলো বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল বলে খবর আসে। সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাছের হুইলফোর্ড এলাকায় পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে। প্রথমে বিস্ফোরক আইনে অপরাধের সন্দেহে এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁরা পুলিশ হেফাজতে আছেন।    গাড়িগুলো পরীক্ষা করছে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। সতর্কতা হিসেবে গাড়িগুলোর চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং আশপাশের প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। গাড়িতে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না কিংবা বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনাটিকে ব্যর্থ বোমা হামলা হিসেবে বর্ণনা করার ভিত্তি নেই।    পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও গাড়ি পরীক্ষার কাজ চলছে। তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত ঘটনা নিয়ে অনুমান না করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন পাচার: ২ আফগান ও ১ ভারতীয় নাগরিকের কারাদণ্ড
যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন পাচার: ২ আফগান ও ১ ভারতীয় নাগরিকের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল ফোন বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বিশাল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন আফগান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক।   মেট্রোপলিটন পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডন থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট এই তিনজনকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ দেন।   দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আমির মুহাম্মদ খাদিকখেল, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাত মিয়াখেল এবং ৩০ বছর বয়সী মনসুর মোহাম্মদ। আদালতে তারা চুরি করা মালামাল গ্রহণ এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।   খাদিকখেল ও মিয়াখেল চোরাই মাল দেশের বাইরে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক অ্যাডাম হিডলস্টন অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনা করে খাদিকখেলকে সাড়ে ৯ বছর, মিয়াখেলকে ৯ বছর এবং মনসুর মোহাম্মদকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, আর্থিকভাবে এই অপরাধের বিশালত্ব এবং চক্রটির কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও জটিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত আইফোনসহ দামি স্মার্টফোনগুলো সংগ্রহ করে চীনসহ অন্যান্য দেশে পাঠাত। রাস্তার ছিনতাইকারী বা ফোন চোরদের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে চীনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের প্রথম সন্ধান মেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।   এক ভুক্তভোগী তার চুরি যাওয়া ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে সেটি হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে ডিএইচএলের একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হংকংগামী একটি চালান থেকে প্রায় ৮৬৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে, যেগুলো সিগন্যাল আড়াল করার জন্য টিনের ফয়েল দিয়ে মোড়ানো ছিল।   এই ঘটনার পরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন ইকোস্টিপ’ নামে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুরো পাচার নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব লন্ডন থেকে খাদিকখেল ও মিয়াখেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অন্যদিকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মনসুর মোহাম্মদকেও তার গাড়ি থেকে সিগন্যাল জ্যামিং ফ্যারাডে ব্যাগ ও টিনের ফয়েলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজারের বেশি চোরাই ফোন উদ্ধার করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ পাউন্ড।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সের গ্র্যাভলিন থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিবাসীরা
একদিনেই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি প্রায় ৮০০ অভিবাসীর, ২০২৬ সালে নতুন রেকর্ড

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে ৭৮১ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। বুধবারের এই সংখ্যা চলতি ২০২৬ সালে একদিনে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর মোট সংখ্যা এখন ১৮ হাজার ৫৬৫ জন।   তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৫ সালের একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন ৩২ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ চলতি বছর এখন পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় অভিবাসী আগমনের সংখ্যা ৪২ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায়ও এ বছরের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।   বুধবার মোট ১০টি নৌকায় করে অভিবাসীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকায় গড়ে প্রায় ৭৮ জন করে ছিলেন। এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যে।   বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। এর আগে টানা দুই দিনে দুটি অভিবাসীবাহী নৌকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কেন্ট উপকূলে পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে ডোভারের স্যামফায়ার হো এলাকায় একটি নৌকা পৌঁছানোর পর ২১ জনকে আটক করা হয়।   এর একদিন আগে ফোকস্টোন উপকূলে একটি ছোট নৌকা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই তীরে পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল এমন প্রথম ঘটনা। নৌকাগুলোকে আটকাতে না পারার ঘটনাকে শাবানা মাহমুদ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   তবে দেশটির শিক্ষা সচিব লুসি পাওয়েল বলেন, সব নৌকা সব সময় আটকানো সম্ভব নয়। বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। এ কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে ছোট নৌকায় অভিবাসী পারাপারের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।   পাওয়েল বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশের পাশাপাশি ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ছোট নৌকায় পারাপার ঠেকাতে নিয়মিত কাজ চলছে। পরে তিনি জানান, তার বক্তব্যের একটি অংশ প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে সরকার প্রতিদিন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে রাতারাতি এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে নিয়মিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
হামলার পর কেন্দ্রটি পরিষ্কার এবং মেরামতের কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আশপাশের অমুসলিম প্রতিবেশীরা। (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সেন্টারে হামলার পর মেরামতে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে এবং মেরামতের কাজে সহায়তা শুরু করেন।   কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি ট্রুরোর কাছে কার্নন ডাউনস এলাকায় কুয়েঞ্চওয়েল রোডে অবস্থিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটির প্রবেশপথের লোহার ফটকে একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তেলসদৃশ একটি পদার্থ কেন্দ্রের চত্বর ও ভবনের বাইরের দেয়ালে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। অবস্থান ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় পুলিশ এটিকে আপাতত জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধমূলক ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্তের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হতে পারে। সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।   হামলার পর কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামতে এগিয়ে আসেন পাশের পেরানওয়েল স্টেশন এলাকার দুই বাসিন্দা রব ও জেমস। তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফটকটি মেরামত করেন। কেন্দ্রটির ট্রাস্টি ও পরিচালক টিপু চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দার এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে।   কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিক জানান, হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা এসেছে, তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিষ্কার করেছেন, আবার কেউ আর্থিক সহায়তা ও ফুল পাঠিয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভয়েস নিউজপেপার্সকে হাসান কিলিক বলেন, ঘটনার পর কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। শনিবার কয়েকজন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করেন এবং পরদিন দুই ব্যক্তি এসে ফটকটি মেরামত করে দেন।   কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর কর্নওয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রটির পাশে থাকার কথা বলেছেন।   কার্নন ডাউনসের এই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সেবারও কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে কর্নওয়ালের একমাত্র মসজিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।   হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করাও তাদের লক্ষ্য।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি বা ব্যক্তিকে দেখে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তথ্য দিতে পারেন। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেছেন, তদন্ত চলাকালে এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হবে।   এর আগে ২০০৮ সালেও একই ইসলামিক কেন্দ্রকে ঘিরে জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ভবনটির দরজায় একটি শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকানো এবং বর্ণবাদী লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর কেন্দ্রটির ইমাম হাসান কিলিক বলেন, হামলার ঘটনায় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও তারা ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান।   স্থানীয় মানুষের এই সহায়তাকে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে শুধু ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে বৃহত্তর স্থানীয় সমাজের অবস্থানেরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওয়া সহায়তা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা জোগাচ্ছে।   সূত্র: ভয়েস নিউজপেপার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। (ছবি: সংগৃহীত)
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই

জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পূরণ করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোরও কঠোর সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সংস্থাটি এমন এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে নিজেদেরকে মানবিক মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা একদল কর্মকর্তা কার্যত নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিচ্ছেন। মিলেই জাতিসংঘকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেন, যার বর্তমান কাঠামো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।   তবে তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। মিলেই বলেন, তাঁর দেশের কাছে মালভিনাস একটি ‘জাতীয় বিষয়’ এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা যথেষ্ট নয়।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বশাসিত বিদেশি ভূখণ্ড। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধের পর দ্বীপগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।   মিলেই বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপটির কাছে একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র এলাকায় ‘সি লায়ন’ নামে একটি বড় তেল প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলভিত্তিক নাভিটাস পেট্রোলিয়াম প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। আর্জেন্টিনা এই তেল অনুসন্ধানকে অবৈধ বলে মনে করছে।   এ প্রসঙ্গে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো যদি কোনো সুবিধা না পায় এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, ফকল্যান্ড ইস্যুতে জাতিসংঘ কার্যকরভাবে নিজেদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারছে না।   তবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ভিন্ন। ব্রিটিশ সরকার দ্বীপের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ব্রিটিশ বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে মত দেন। মিলেই অবশ্য এই আত্মনিয়ন্ত্রণের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   মিলেই তাঁর ভাষণে বলেন, আর্জেন্টিনা এই বিরোধের সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যকে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানিয়েছে, দেশটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর উপায়ে মালভিনাসের দাবি এগিয়ে নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।   জাতিসংঘ নিয়ে মিলেইয়ের এই বক্তব্য তাঁর আগের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে আসছেন। এবারের ভাষণে সেই সমালোচনাকে আরও সরাসরি করে তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।   এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর মেয়াদের শেষ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। ফলে এবারের সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের ভিন্নমতও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   মিলেইয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পুরোনো সার্বভৌমত্ব বিরোধও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিষয়টি আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স ও জাতিসংঘ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী বিদ্বেষের নতুন ঢেউ, প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ভিনদেশিরা
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী বিদ্বেষের নতুন ঢেউ, প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ভিনদেশিরা

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বসবাসরত একজন কেয়ার ওয়ার্কার অ্যাগনেস পিটার্স। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তার গায়ের রঙের কারণে চরম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। রাস্তায় নিজের পেশাগত ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেই তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করা হয় এবং একটি ধীরগতির গাড়ি থেকে তার গায়ে বিভিন্ন জিনিস ছুঁড়ে মেরে তাকে ‘নিজের দেশে ফিরে যেতে’ বলা হয়।   আশেপাশের অনেকেই সেই দৃশ্য দেখছিলেন এবং ভিডিও করছিলেন, কিন্তু মাত্র একজন পথচারী ছাড়া কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। গত বছর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান সমাজে বর্ণবাদ ও অভিবাসীবিরোধী ঘৃণার এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। ব্রেক্সিটের পর থেকে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও বৈষম্যের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১৫২টি মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এই বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একসময় যেসব বর্ণবাদী সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনকে চরম পর্যায় বলে মনে করা হতো, তা এখন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক সাধারণ ঘটনাতে পরিণত হয়েছে।   বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা বৈষম্য, জনসেবা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই ইসলামভীতি ও অভিবাসীবিরোধী এই ঘৃণাকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কট্টর ডানপন্থি কর্মীরা এই বিদ্বেষকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ভাষায় ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ড্যানিয়েল থমাস সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতিতেই একটি ভাসমান রেসকিউ বোট কেটে ফুটো করে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করেন।   তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ ডোভার ও পোর্টসমাউথ বন্দরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামেও এই কট্টরপন্থিরা সরকার-নির্ধারিত আশ্রয়প্রার্থীদের বাসস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে।   ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর ম্যানচেস্টার সংগঠক নাহেলা আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে মুখোশধারী ব্যক্তিরা কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।   দুঃখজনকভাবে, এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলো এখন রাজনীতির মাঠেও বৈধতা পাচ্ছে। রিফর্ম ইউকে দলের কট্টর ডানপন্থি এমপি সারাহ পোচিন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, অভিবাসী ও শরণার্থীরা আদিবাসী শ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।   দলটির স্বঘোষিত ‘শ্যাডো হোম সেক্রেটারি’ জিয়া ইউসুফ সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী লেবার পার্টির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বর্ণবাদের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যাকে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস 'সরাসরি বর্ণবাদ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে কনজারভেটিভ দলের সাবেক নেতা রবার্ট জেনরিক এবং নিক টিমোথিও বিভিন্ন সময়ে মুসলিম এবং অ-শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন।   ইউনিভার্সিটি অব নর্দাম্পটনের অধ্যাপক পল জ্যাকসন এবং বাথ ইউনিভার্সিটির গবেষক অরেলিয়েন মনডন মনে করেন, মূলধারার রাজনীতি ও গণমাধ্যম যখন ডানপন্থি কট্টর চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন চরমপন্থিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।   তবে এত নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো দেখছেন সমাজকর্মীরা। ম্যানচেস্টারের সংগঠক নাহেলা আশরাফ জানান, কট্টর ডানপন্থিদের অর্থায়ন ও প্রচারণার জোর থাকলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের নিজ উদ্যোগে শরণার্থীদের জন্য বই উপহার দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা টিকে আছে এবং ঘৃণা ছড়িয়ে বর্ণবাদীরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বিচারককে কাঁদাতে এআই দিয়ে ভুক্তভোগীর বিবৃতি লেখালেন পুলিশ অফিসার
বিচারককে কাঁদাতে এআই দিয়ে ভুক্তভোগীর বিবৃতি লেখালেন পুলিশ অফিসার

যুক্তরাজ্যের আদালতে বিচারককে আবেগপ্রবণ করে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর বিবৃতি তৈরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার তৈরি করা ওই বিবৃতির বিষয়টি সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী জেরোম গিবসন নামের এক আসামির সাজা কমানোর আপিল শুনানিতে সামনে আসে।   ২০২৪ সালের মে মাসে গিবসন তার সঙ্গীর বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ছুরি নিয়ে হুমকি দেওয়া এবং পালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম করার দায় স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নটিংহ্যাম ক্রাউন কোর্ট তাকে ৪৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি লন্ডনের কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেন।   মঙ্গলবারের আপিল শুনানিতে গিবসনের আইনজীবী লাকি থান্ডি আদালতকে জানান, মামলার নথিতে ভুক্তভোগীর যে ব্যক্তিগত বিবৃতিটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা মূলত মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে তৈরি করেছেন।   থান্ডির দাবি অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা কপাইলটে এমনভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে বিবৃতিটি পড়ে বিচারক বা পাঠক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অপরাধের সর্বোচ্চ মাত্রার ক্যাটাগরির সঙ্গে যেন সাজাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।   এর জবাবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের পক্ষে ডেনিস ব্যারি জানান, ফৌজদারি মামলায় অতিরঞ্জিত ভাষার চেয়ে বাস্তব তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিচারকের এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।   তবে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে তাকে সম্মুখভাগের দায়িত্ব বা ফ্রন্টলাইন ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   কোর্ট অব আপিলের তিন সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার এমন এআই ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করলেও আসামির সাজা কমানোর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।   আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এআই ব্যবহার করে আইনি বিবৃতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; তবে আগের বিচারক সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য আমলে নিয়েছিলেন সেগুলো কোনো কাল্পনিক বিষয় ছিল না, বরং ভুক্তভোগীর বাস্তব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই সাজানো হয়েছিল।   বিচারকদের মতে, এআই ব্যবহারের কারণে আসামির সাজা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ৪৪ মাসের কারাদণ্ডকেই যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে অভিনব এই ঘটনাটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই-এর অপব্যবহার এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে
সন্তানের অপরাধে মা-বাবার ভাতা বন্ধ, জেলও হতে পারে যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে সন্তান অপরাধে জড়ালে তার মা-বাবার ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত যুব অপরাধবিচার সংস্কারের আওতায় কোনো অভিভাবক সন্তানের আচরণ নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্বাসনে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে ভাতা কমানো বা বন্ধ করা, জরিমানা এমনকি চরম ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে কারাদণ্ড স্বয়ংক্রিয় হবে না; বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।   যুক্তরাজ্যের যুব বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, সন্তানকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।   এর ভিত্তি হলো সরকারের ‘ইয়ুথ জাস্টিস হোয়াইট পেপার’, যা মে ২০২৬-এ প্রকাশ করা হয়। এতে শিশু অপরাধীদের জন্য আগে থেকেই সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।   বর্তমানে ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর মাধ্যমে আদালত কোনো অভিভাবককে সন্তানের আচরণ নিয়ে কাউন্সেলিং বা নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। সেই আদেশ অমান্য করা ফৌজদারি অপরাধ এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার এই ব্যবস্থায় আরও কার্যকর শাস্তির সুযোগ তৈরি করতে চায়।   সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাদের সন্তানকে পুনর্বাসনে যুক্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হবে। নতুন ব্যবস্থায় ‘ইয়ুথ ইন্টারভেনশন কোর্ট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অপরাধের পেছনের কারণগুলো মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, অভিভাবকদের জরিমানা বা ভাতা কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও আর্থিক চাপে পড়তে পারে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর ব্যবহার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—২০০৯-১০ সালে যেখানে এক হাজারের বেশি আদেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ৩৩টিতে দাঁড়ায়। সরকার এখন এই ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে যুব অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চায়।   এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে অপরাধের জন্য দায়ী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১০ বছর। শিশুদের অপরাধের বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৪ করার দাবি থাকলেও যুব বিচারমন্ত্রী রিচার্ডস জানিয়েছেন, সরকার আপাতত এ পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।   অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত যুব বিচার সংস্কার, নতুন কোনো কার্যকর আইন নয়। সরকার অভিভাবকদের দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে, আর সেই ব্যবস্থায় আদালতের নির্দেশ অমান্যের ক্ষেত্রে আর্থিক ও অন্যান্য শাস্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের লোহার গেট গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক সেন্টারে হামলা, তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে একটি ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে ফেলা এবং পরে সেখানে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটিকে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ।   কর্নওয়ালের কার্নন ডাউনস এলাকায় অবস্থিত কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিককে এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কেন্দ্রের লোহার গেটটি ভেঙে কবজা থেকে ছিটকে গেছে।   তবে গেট ভাঙার পাশাপাশি কেন্দ্রের আঙিনা থেকে মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত এবং ভবনের দেয়ালে তেলজাতীয় একটি পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিলিক জানান, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে গেটে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এরপর দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তেল ছড়িয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   ঘটনার পর কিলিক বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে পারেনি বা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে জানান।   এটি ওই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে গত ১৮ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা। এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটি যে সাবেক মেথডিস্ট চার্চ ভবনে পরিচালিত হতো, তার দরজায় শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবনে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও লেখা হয়েছিল বলে CornwallLive জানিয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রটির নেতারা উত্তেজনার পরিবর্তে ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।   হাসান কিলিক CornwallLive-কে বলেন, ঘটনাটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্টদায়ক। তবে তারা এটিকে স্থানীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা হবে না।   শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক প্রধান নামাজের দিন হওয়ায় ওই দিন কেন্দ্রটিতে দেওয়া বক্তব্যেও শান্তি, ধৈর্য, ঐক্য ও আশার বার্তা তুলে ধরার কথা জানান কিলিক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের ভয় দেখাতে বা কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কর্নওয়াল ও আইলস অব সিলির পুলিশ কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেন, ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে জাতিগতভাবে প্ররোচিত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি কেউ দেখে থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাহিনীর আওতাধীন এলাকায় ২৮২টি ঘটনায় মুসলিমবিরোধী ধর্মীয় বিদ্বেষের ধরন নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো তথ্য নেই।   পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে অথবা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বেনামে তথ্য দিতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়।   সূত্র: CornwallLive, Devon & Cornwall Police

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়।   সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে।   মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়।   মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন।   চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়।   কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়।   মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না।   অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো টিনে সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো একটি টিনে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। প্রায় ৫০ বছর ধরে টিনটির ভেতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। অবিশ্বাস্য এই সঞ্চয়ের কথা স্ত্রী নিজেও জানতেন না।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি শেড পরিষ্কার করার সময় ভারী টিনটি পাওয়া যায়। সেটি খুলে প্রথমে কিছু রুপার মুদ্রা দেখা গেলেও পরে নিচের দিকে খুঁজে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো আলাদা প্যাকেটে রাখা ছিল। সঙ্গে ছিল সেগুলো কেনার সময়ের কাগজপত্র এবং একটি পুরোনো পকেট মানি গাইড।   টিনটিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড এবং ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুদ্রাই ১৯৭৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন।   নিলামকারী ডেভিড লে জানান, ওই ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে প্রতিটি মুদ্রার জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কয়েক হাজার পাউন্ড খরচ করে তিনি সোনা কিনেছিলেন। এরপর মুদ্রাগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেগুলোর কথা কাউকে জানাননি।   নিলাম শেষে শুধু ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড থেকেই পাওয়া গেছে ১ লাখ পাউন্ড। আর ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে সোনার মুদ্রাগুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি।   নিলামকারী ডেভিড লে বলেন, মুদ্রাগুলো আবিষ্কারের বিষয়টি ছিল তাদের জন্যও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, স্বামী যখন সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেড়েছে। মুদ্রাগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় নিজ নিজ প্যাকেটের মধ্যেই পাওয়া গেছে।   ১৯৭০-এর দশকে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু মানুষ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ ঘরে রেখে দিতেন। তবে একটি সাধারণ বিস্কুটের টিনে এত বড় অঙ্কের সোনা প্রায় ৫০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।   বাড়ি ছোট করার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্ত্রী যখন পুরোনো জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে স্বামীর সেই গোপন বিনিয়োগ। কয়েক হাজার পাউন্ডের সেই সিদ্ধান্ত পাঁচ দশক পর পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর অ ন্যা য়ের অভিযোগ—আদালতে ষাটোর্ধ্ব স্বামীর দোষ স্বীকার
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর নি র্যাতনের অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গুরুতর নি র্যাতনের ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি সোমবার আদালতে ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। চলতি বছরের শুরুতে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্ত্রীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর যৌ ন অপরাধের অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছিলেন। এর মধ্যে গুরুতর যৌ ন অপরাধ ও যৌ ন নি র্যাতনের অভিযোগ ছিল। সোমবার ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে হাজির হয়ে তিনি ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্ত্রীকে শারী রিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগসহ একই ধরনের আরও কয়েকটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। স্ত্রীর পরিচয় সুরক্ষিত রাখার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। আদালতে গাঢ় ধূসর স্যুট, নীল শার্ট ও নীল টাই পরে হাজির হন তিনি। কাঠগড়া থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে বাকি অভিযোগগুলোর জবাব দেওয়ার জন্য তাকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তার স্ত্রী আদালতের দর্শকসারির সামনের দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে ছিলেন। এর আগে ওই ব্যক্তি স্ত্রীর সম্ম তি ছাড়া তার ব্যক্তি গত ছবি ও ভিডিও ব্যক্তি গত উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনায় একই নারীকে ঘিরে আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্য থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একজোট হয়েছে তিন অঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের দাবিতে একজোট স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, আসছে নতুন ঘোষণা

যুক্তরাজ্য থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একজোট হয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক বৈঠকে তিন অঞ্চলের নেতারা যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত ছিলেন। তবে নেতারা বৈঠকে মূলত নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অংশ নেন, সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।   যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। ঘোষণায় যুক্তরাজ্য সরকারকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সাংবিধানিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলোর একটি।   স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৫৫ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি আবারও স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অবশ্য এখনই নতুন গণভোটের পক্ষে নন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, স্পষ্ট জনসমর্থন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোট আয়োজনের প্রশ্ন নেই।   নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলে ভবিষ্যতে সীমান্ত গণভোটের সুযোগ রয়েছে। সিন ফেইন মনে করে, এমন সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।   ওয়েলসের স্বাধীনতার প্রশ্নেও প্লেইড কামরু সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ স্বাধীনতার গণভোটের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি। তিন অঞ্চলের নেতারা স্বাধীনতার প্রশ্নের পাশাপাশি অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।   কার্ডিফের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।   কার্ডিফের এই বৈঠক যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো একই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিয়ে যৌথ অবস্থান নেওয়ায় ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
পোর্টসমাউথে বিক্ষোভে বোরকা পরায় ৭৬ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা
পোর্টসমাউথে অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভে মুসলিম নারীদের পোশাক বো রকা পরায় ৭৬ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মা মলা

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে মুখ ও পরিচয় ঢেকে রাখার অভিযোগে ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মা মলা করেছে পুলিশ। টিমোথি মিলার নামের ওই ব্যক্তি শনিবারের বিক্ষোভে বো রকা পরেছিলেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। বিক্ষোভস্থলে পরিচয় গোপন করার অভিযোগে তাকে অ ভি যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার পোর্টসমাউথ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সাউদাম্পটনের হেজ এন্ড এলাকার বাসিন্দা মিলারের বিরুদ্ধে অ ভি যোগ, বিক্ষোভের সময় তিনি এমন পোশাক পরেছিলেন, যা তার পরিচয় আড়াল করছিল। একই বিক্ষোভ থেকে আরও কয়েকজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী ডেভিড ম্যাকন্যালির বিরুদ্ধে মহাসড়ক অবরোধ এবং ক্ষতিসাধনের চেষ্টার অ ভি যোগ আনা হয়েছে। পোর্টসমাউথে বিক্ষোভের সময় মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করার বিরুদ্ধে নতুন পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে শহরের ইস্টনি মেরিনায় অভিবাসনবিরোধী একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সং ঘ র্ষের পর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। পরবর্তী বিক্ষোভের আগে হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানায়, নির্ধারিত এলাকায় নতুন ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্যের নতুন ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্ট ২০২৬-এর আওতায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কোনো এলাকায় বিক্ষোভ থেকে অ প রাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে একজন পরিদর্শক বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার জন্য ওই এলাকা নির্ধারণ করতে পারেন। এই বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার পাউন্ড জ রি মানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণ, কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন কিংবা ধর্মীয় পালনের উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নতুন আইনের উদ্দেশ্য ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করা নয়; বরং বিক্ষোভের সময় অ প রাধ করার উদ্দেশ্যে পরিচয় গোপনের সুযোগ বন্ধ করা। শনিবারের বিক্ষোভে পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী ও অভিবাসনপন্থী দুই পক্ষের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে এবং দুই পক্ষকে আলাদা রাখে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্টনি মেরিনায় প্রায় ২০০ জনের একটি বিক্ষোভে পুলিশের গাড়ি, কোস্টগার্ড ও বর্ডার ফোর্সের কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার তদন্তে ৪২ বছর বয়সী ডেল লিওন সোমারভিলকে সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হা ম লার অভিযোগে অ ভি যুক্ত করা হয়েছে। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ বলেছে, নতুন ক্ষমতা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সীমিত করার জন্য নয়। অ প রাধ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর পোর্টসমাউথে বিক্ষোভে মুখ ঢেকে পরিচয় গোপনের অভিযোগে মা মলা দায়েরের ঘটনাটি এ ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের ২৭০ কোটি ডলারের মামলা

ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের চালু করা অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিই এবার বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাপ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি ব্যবস্থা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেদের বিজ্ঞাপনসেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।   মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান পোপের নেতৃত্বে অ্যাটিটি কালেক্টিভ অ্যাকশন লিমিটেড এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হাউসফেল্ড মামলাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   অ্যাপল ২০২১ সালে অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাপ ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।   আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো নতুন অ্যাপ খোলার সময় অনেক ব্যবহারকারী যে অনুমতির বার্তা দেখতে পান, এটিই সেই ব্যবস্থা। সেখানে ব্যবহারকারীকে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপটি অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে কি না। ব্যবহারকারী অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।   মামলাকারী অ্যাপ নির্মাতাদের অভিযোগ, এই নীতি চালুর ফলে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর যে ধরনের অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে, নিজেদের সেবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেনি। এর ফলে অ্যাপলের নিজস্ব বিজ্ঞাপন ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা।   মামলার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান পোপ বলেন, অ্যাপলের নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটিশ ব্যবসাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অ্যাপলের প্রয়োগ করা নিয়ম সবার জন্য সমান কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও মামলার অন্যতম লক্ষ্য।   অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ মেনে নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। অ্যাপলের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত।   অ্যাপল আরও বলেছে, এটিটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতাদের মতো একই নিয়মের অধীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা এই গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন পক্ষও এর প্রশংসা করেছে।   যুক্তরাজ্যের এই মামলা অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে ইউরোপে চলমান নিয়ন্ত্রক নজরদারিরও অংশ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে একই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হয়েছে। ফ্রান্সে ২০২৫ সালে অ্যাপলকে ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ইতালিতেও প্রায় ১০ কোটি ইউরোর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।   তবে বর্তমান মামলায় ২৭০ কোটি ডলারের অঙ্কটি আদালতের দেওয়া জরিমানা নয়। এটি মামলাকারীদের দাবি করা সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। মামলা কীভাবে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   অ্যাপলের জন্য মামলাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতিকে নিজেদের পণ্য ও গোপনীয়তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অন্যদিকে অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, একই নীতি তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার ওপর অসম প্রভাব ফেলছে।   মামলাটি এখন প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। ফলে ক্ষতিপূরণের দাবি, অ্যাপলের নীতির প্রকৃত প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য নিয়ে আদালতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান। ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে। তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে একসময় যেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত, আজ সেখানে আজানের ধ্বনি আর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সুর ভেসে আসে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম শান্তিতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান ও লন্ডনপ্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেলের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।   বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি একটি পুরোনো মদের বার কিনে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত করেছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রূপান্তরিত এই সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪৫ লাখ) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এই মসজিদটির নামকরণ করেছেন নিজের মায়ের নামে।   তবে শুধু পূর্ব লন্ডনের এই মসজিদ নির্মাণেই জিয়া বিন রাসেলের দাতব্য কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারের আড়ালে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে বহুমুখী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের গাজা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি।   পাশাপাশি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান প্রদান, দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ বিতরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনিক শিক্ষায় নিয়মিত সহায়তা করে আসছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তায় ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন।   বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অধীনে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   জিয়া বিন রাসেল বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির অসংখ্য মহৎ কাজই কোনো ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কেবল সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই তার সহকর্মীরা সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।   লন্ডনে বার থেকে মসজিদ নির্মাণ হোক কিংবা গাজা-সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তার প্রতিটি পদক্ষেপই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলি। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র শহরে তীর্থযাত্রার সময় ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও চুমু, বিশপ আটক

যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলির বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ঘটনা। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী ওকলি তখন মধ্য চল্লিশের একজন ক্যাথলিক যাজক ছিলেন। মামলাটি খারিজের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে হাজির হন তিনি।    আদালতের নথি অনুযায়ী, ওকলির বিরুদ্ধে একটি যৌন নিপীড়ন এবং দুটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের লুর্দে ধর্মীয় তীর্থযাত্রার সময় তিনি ওই কিশোরীকে চুমু দেন। পরে একটি চার্চের আবাসিক ভবন এবং একটি খালের নৌকায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।    ওকলি বর্তমানে শর্তসাপেক্ষ জামিনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওল্ড বেইলিতে তার মামলায় অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও আদালতকে জানানো হয়, অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন আগামী ৪ জানুয়ারি শুনানি হবে।    এর আগে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর সারাহ ম্যাডেন জানিয়েছিলেন, লুর্দে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পর অভিযুক্ত ও কিশোরীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাবি করেছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্তত দুইবার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল।    স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশের ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধ তদন্তকারী দল তদন্তের পর গত জুনে ওকলির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পুলিশ তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে তিনি ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা অবস্থায় রয়েছেন।    ডেভিড ওকলি ১৯৮০ সালে ক্যাথলিক যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। ২০২০ সালে তিনি নর্থহ্যামটনের বিশপ হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ৪ জানুয়ারির শুনানিতে এগোবে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্ট বা এমডিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনজনের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিল যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশু!

বংশগত গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতিকে বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের মানব নিষেক ও ভ্রূণবিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের জন্য ৩৫ জন রোগীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন প্রোনিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতির চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হলো মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকা ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো।    মাইটোকন্ড্রিয়া মানুষের প্রায় সব কোষে থাকা ক্ষুদ্র কাঠামো, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ার জিনে ক্ষতিকর পরিবর্তন থাকলে গুরুতর ও কখনও প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। এসব রোগ মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে বংশগতভাবে যেতে পারে।    মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টে মা ও বাবার মূল জিনগত উপাদানের সঙ্গে একজন সুস্থ নারী ডোনারের ডিম্বাণু থেকে নেওয়া সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী মায়ের পারমাণবিক জিনগত উপাদান এমন একটি ডোনার ডিম্বাণুতে স্থানান্তর করা হয়, যার নিজস্ব পারমাণবিক জিনগত উপাদান আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর শুক্রাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।    এ কারণেই এ ধরনের শিশুকে অনেক সময় গণমাধ্যমে ‘থ্রি-প্যারেন্ট বেবি’ বলা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ও আইনগত অর্থে ডোনারকে শিশুটির তৃতীয় অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ডোনারের অবদান মূলত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পর্যন্ত সীমিত এবং এটি শিশুর মোট জিনগত উপাদানের ১ শতাংশেরও কম।    এই চিকিৎসা বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁদের গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এটি সাধারণ আইভিএফ চিকিৎসার মতো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো পদ্ধতি নয়।    যুক্তরাজ্য ২০১৫ সালে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনকে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হয়। দেশটির আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত ক্লিনিকগুলোকে প্রতিটি চিকিৎসার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে নিউক্যাসল ফার্টিলিটি সেন্টার অ্যাট লাইফ এই চিকিৎসা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেন্দ্র।    তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনো এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। এইচএফইএ জানিয়েছে, পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় ঝুঁকি ও সফলতার হার সম্পর্কে প্রমাণ এখনো সীমিত। জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।    এই সাফল্য গুরুতর বংশগত মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব, নিরাপত্তা এবং জিনগত চিকিৎসার নৈতিক সীমা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০