যুক্তরাজ্য

দীর্ঘদিন ভুল রোগ নির্ণয়ের পর বিরল জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে অ্যাবিগেইল লুইসের। ছবি: সংগৃহীত
চার বছর ধরে বলা হয়েছিল ‘প্যানিক অ্যাটাক’, পরে ধরা পড়ল বিরল জন্মগত হৃদরোগ

চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত।   ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে।   আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু।   রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন।   অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।   প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।"   তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না।   অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী।   তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুল রোগ নির্ণয়ের পর ১১ বছরের মেলির শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমা। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন টনসিল, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল ১১ বছরের শিশুর স্টেজ-৪ ক্যানসার

যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অসুস্থতাকে প্রথমে সাধারণ টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে বিরল ও অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তার শরীরে চতুর্থ ধাপের বারকিট লিম্ফোমা (Burkitt lymphoma) রয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেই বারোজ-পিট, যাকে পরিবারের সদস্যরা ‘মেলি’ নামে ডাকেন, গত মে মাসে ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দায় ভুগতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার খেলাধুলা কমে যায় এবং বেশিরভাগ সময় শুয়ে থাকতে চাইত।   মেলির মা নিকি বারোজ-পিট জানান, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকেরা এটিকে টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে মেলি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে।   পরবর্তীতে মেলিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষা করেন। প্রথমদিকে তার শরীরে সেপসিস, যক্ষ্মা বা বিদেশ সফরের সময় কোনো সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর তাকে বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   সেখানেই গত ৩ জুলাই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, মেলি স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমায় আক্রান্ত। এটি শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া বিরল ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এক ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমা, যা শ্বেত রক্তকণিকার বি-সেল থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   চিকিৎসকেরা জানান, মেলির ক্ষেত্রে ক্যানসারটি ইতোমধ্যে প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার ছয় মাসব্যাপী কেমোথেরাপি চলছে।   মা নিকি বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, বিষয়টি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়। কারণ মেলি সবসময়ই খেলাধুলাপ্রিয়, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় ছিল। কিন্তু সে হাঁটতে, খেতে এমনকি কথা বলতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল।   তিনি বলেন, "বারবার বলা হচ্ছিল, ওর কিছু হয়নি। কিন্তু একজন মা হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর শরীরে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের ছিল।"   প্রথমদিকে মেলির ঘাড়ে ব্যথা ছিল। পরে পায়ের শিন ও কুঁচকিতেও ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের ধারণা ছিল, হয়তো জিমন্যাস্টিকস অনুশীলনের সময় পাওয়া কোনো আঘাতের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ক্যানসারের লক্ষণ ছিল।   বর্তমানে মেলির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে। তার খালা এমা হোয়াইট জানান, চিকিৎসার ফাঁকে মেলিকে কিছু আনন্দের সময় উপহার দিতে চান তারা। ক্যানসারের কারণে পরিবারের বেশ কয়েকটি ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। মেলির ইচ্ছার তালিকায় রয়েছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড ফ্লোরিডা ও ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণ।   পরিবারটি বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকালীন সহায়তা দেওয়া রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বারকিট লিম্ফোমা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ব্যথা বা স্বাভাবিক আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।   একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭০ কোটি পাউন্ডে নেমেছে। ফলে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বাণিজ্যঘাটতিও বেড়েছে।   বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশজুড়ে ছিল নিট ও ওভেন পোশাক।    সর্বশেষ এক বছরের পরিসংখ্যানেও সেই চিত্রই স্পষ্ট। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এর বাইরে টেক্সটাইল ফেব্রিক, প্রক্রিয়াজাত মাছ, জুতা এবং অন্যান্য পণ্যও যুক্তরাজ্যের বাজারে যাচ্ছে।   বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর তৈরি পোশাক খাতের নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে পোশাক খাত থেকে। তবে ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।    অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যেও ২০২৬ সালের মার্চে রপ্তানি বেড়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে, ওই মাসে যুক্তরাজ্যের মোট পণ্য রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।    বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারের গুরুত্ব আরও বাড়ছে সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধার কারণে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ধরে রাখা ও বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, জুতা এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   সার্বিকভাবে, এক বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বাড়ার তথ্য দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শক্ত অবস্থান এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
হোটেলে এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়ের চিহ্ন দেখান ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিফেনসন। ছবি: সংগৃহীত
বিখ্যাত হোটেল এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়, পেলেন লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এক হোটেলে এক রাত কাটানোর পর ছারপোকার ভয়ংকর কামড়ের শিকার হয়েছেন হান্নাহ স্টিফেনসন নামের এক নারী। ৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি, ক্যামব্রিজের ট্রাভেলজ হোটেলে এক রাত থাকার পর তার হাত, পা, বুক ও মুখমণ্ডল ছারপোকার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেয়ার করা ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।   সামাজিক মাধ্যম টিকটকে এক পোস্টে স্টিফেনসন তার কামড়ে ফুলে যাওয়া লাল দাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, "এই হোটেলে এক রাতের জন্য ছিলাম। সকালে উঠে দেখি প্রচণ্ড চুলকানি আর বালিশে রক্তের দাগ। এমনকি আমি ছারপোকাগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।" পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে।   তিনি অভিযোগ করেন, ক্যামব্রিজের নিউমার্কেট রোডে অবস্থিত ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার এই দুর্দশার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অবস্থায় আমাকে একটা পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে হয়েছে। জঘন্য এই কামড়ের দাগ ঢাকতে নতুন জামাকাপড় কিনতে হয়েছে। একটানা চুলকানির কারণে আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি আমার প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে।"   প্রাথমিকভাবে দ্য পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাভেলজ ইউকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বাজেট হোটেল ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, "স্টিফেনসনের এমন অভিজ্ঞতার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এমন ঘটনা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছি।"   গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার বদলে ট্রাভেলজ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, "ক্যামব্রিজের সুন্দর জায়গা ও পাবগুলোতে খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছারপোকার কামড়ে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। রক্ত আর ছারপোকাগুলো দেখার আগে আমি বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে।" তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার মুখ ও হাতের লালচে ফোলা দাগগুলো কমেনি। এ সময় তাকে প্রচুর অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হয়েছে, যা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার কারণে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি।   এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাস করা এই ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, "ক্যামব্রিজের মতো জায়গায় এমন কিছু ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" তবে টিকটকে তার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।   গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিফেনসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাভেলজ হোটেল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ টাকা) গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, "এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার শত্রুরও যেন না হয়।" তিনি আশা করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা ও ছারপোকা দমনের ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে।   ট্রাভেলজ হোটেলের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবার আগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ এবং তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞ পরিচালিত কঠোর ব্যবস্থা বজায় রাখি। কোনো হোটেলে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার আশেপাশের রুমগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিই।"   ছারপোকার সমস্যা শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, আমেরিকাতেও প্রকট। সম্প্রতি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এক দর্শনার্থী ফ্লোরিডায় তাদের রিসোর্টে থাকার সময় ছারপোকার কামড় খাওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, ছারপোকার উপদ্রবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোর পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান।   গবেষকদের মতে, ছারপোকার কামড় সাধারণত ব্যথাহীন হলেও এর ফলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
নৌকায় অভিবাসীদের বহনকরার সময়। ছবি:সংগৃহীত
এক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে, জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে একটি মাত্র নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। সোমবার ভোরে ডোভার উপকূলে পৌঁছানো এই বড় আকারের ইনফ্ল্যাটেবল নৌকাটি এখন পর্যন্ত এক নৌযানে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। ঘটনাটিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটি স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ২টার দিকে ডোভারে পৌঁছায়। এতে থাকা ২৩০ জন অভিবাসীকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে এক নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ১৬৫ জন। নতুন ঘটনায় সেই রেকর্ড উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নৌকাটিকে ‘মেগা-ডিঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ধারণক্ষমতা একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপজ্জনক ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর সেটি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।    রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী এক নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফারাজ ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন।    রিফর্ম ইউকে এরই মধ্যে ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ নামে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল মেরিনসকে ব্যবহার করে ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকা আটকে দেওয়া এবং ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।    তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সমুদ্রে নৌকা আটকে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাটি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন এবং এর আইনি ও নিরাপত্তাগত জটিলতাও রয়েছে।    সাম্প্রতিক রেকর্ডের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। দ্য টাইমসের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৯ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে ব্রিটিশ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষ অবৈধ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে নজরদারি ও উপকূলীয় টহল জোরদার করেছে।    তবে মোট সংখ্যা কমলেও একটি নৌকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পাঠানোর মতো নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী এসব নৌকা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ফলে সাম্প্রতিক রেকর্ডটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
বিয়ের আগে আইল্যাশ এক্সটেনশন করিয়ে গুরুতর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হন যুক্তরাজ্যের তরুণী পলি বিবি। ছবি: সংগৃহীত
বিয়েতে 'রাজকন্যার' মতো সাজতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম কনের, যেতে হলো হাসপাতালে

বিয়ের দিন নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাতে চান সব নারীই। আর এই বিশেষ দিনে রাজকন্যার মতো সাজার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী পলি বিবির। পেশায় ইলাস্ট্রেটর এই তরুণী সাধারণত খুব হালকা মেকআপ করতে পছন্দ করলেও, বিয়ের জন্য নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। আর সেই শখ পূরণ করতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পাপড়ি বা 'ফলস আইল্যাশ' লাগিয়েছিলেন তিনি, যার জেরে মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হয়ে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন এই হবু কনে।   মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইল্যাশ এক্সটেনশন বা চোখের কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন পলি। এর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাঁর ত্বকে প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। শুরুতে নিজের এই নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন তিনি।   কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পার্লার থেকে ফেরার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁর হবু স্বামী ২৯ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মে খেয়াল করেন পলির চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে পানি পড়া এবং ব্যথার উপসর্গগুলোকে পলি প্রথমে সাধারণ অ্যালার্জি বা হে ফিভার ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করতে থাকে এবং হলদেটে আঠালো পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা একে অপরের সঙ্গে আটকে যেতে থাকে।   নিজের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পলি। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। উপায় না দেখে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা নম্বরে কল করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কেমব্রিজের হিঞ্চিংব্রুক হাসপাতালের চক্ষু ইউনিটের নার্সরা তাঁর চোখ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, আইল্যাশ এক্সটেনশনে ব্যবহৃত আঠা বা রাসায়নিক থেকেই এই মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়েছে।   চিকিৎসকরা পলিকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমানোর জন্য কৃত্রিম পাপড়িগুলো খোলার আগে তাঁকে তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। পাপড়িগুলো অপসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পলি জানান, তাঁর মনে হচ্ছিল যেন চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথায় তিনি চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও তাঁর চোখ লালচে হয়ে আছে, পাতা ফুলে আছে এবং দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা রয়ে গেছে।   এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ অফথালমোলজির ওয়েবসাইটের এক বিবৃতিতে ন্যাশভিলের বোর্ড-সার্টিফাইড চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা জে. টেলর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, চোখের নিরাপত্তার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অভিজ্ঞ রূপসজ্জাকরের মাধ্যমে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো উচিত। এ ছাড়া ত্বকের জন্য নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় চোখের পাতা বা কর্নিয়ায় আঘাত, সংক্রমণ, আঠার কারণে অ্যালার্জি এবং স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে আসল পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেও চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও বিয়ের দিন পর্যন্ত চোখের লালচে ভাব সম্পূর্ণ দূর হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন পলি। অন্য কনেদের সতর্ক করতে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় দিনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন কোনো বিউটি ট্রিটমেন্ট বা রূপচর্চার ঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের মুখে বিয়ের দিন নানা অঘটন ঘটার কথা মজার ছলে শুনলেও, নিজের বেলায় এমন কিছু ঘটবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। কৃত্রিম পাপড়ির বদলে সাধারণ মাশকারা ব্যবহার করাই তাঁর জন্য ভালো ছিল বলে এখন মনে করছেন তিনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার
৩৫ বছর আগের মার্স বার খুঁজে অবাক ক্লিনার, বর্তমান চকলেটের পাশে রাখতেই চোখ কপালে

যুক্তরাজ্যের একটি বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে ১৯৯১ সালের একটি পুরোনো মার্স চকলেট বার খুঁজে পেয়েছেন পেশাদার ক্লিনার ভিক্টোরিয়া গর্ডন। ৩৫ বছর আগের সেই চকলেটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের মার্স বারের তুলনা করতেই সামনে এসেছে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য। পুরোনো বারটি শুধু আকারেই বড় নয়, ওজনেও বর্তমান সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া গর্ডন যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারে একটি বাড়ি পরিষ্কার করার সময় পুরোনো মার্স বারটি খুঁজে পান। তিনি এমন একটি ক্লিনিং ব্যবসা পরিচালনা করেন, যেখানে অত্যন্ত নোংরা বাড়ি, দীর্ঘদিন ধরে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা বাড়ি এবং বিশেষায়িত পরিষ্কারের কাজ করা হয়।   চকলেটটির মোড়ক দেখে বোঝা যায়, সেটি ১৯৯১ সালের। কৌতূহল থেকে গর্ডন বর্তমান সময়ের একটি মার্স বার কিনে দুটির আকার তুলনা করেন। পাশাপাশি রাখার পর পার্থক্য দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হন।   ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে একটি সাধারণ মার্স বারের ওজন ছিল ৬৫ গ্রাম। ১৯৯৫ সালের একটি সমসাময়িক প্রতিবেদনে ৬৫ গ্রামের মার্স বারের তথ্যও পাওয়া যায়। বিপরীতে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রচলিত একটি মার্স বারের ওজন ছিল ৫১ গ্রাম।   অর্থাৎ ৬৫ গ্রামের পুরোনো বারের তুলনায় ৫১ গ্রামের সংস্করণে চকলেটের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ কম।   তবে ২০২৬ সালে বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয়বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেটার রিটেইলিং জানায়, চলতি বছর কিছু সিঙ্গেল মার্স বারের ওজন ৫১ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪০ গ্রাম করা হয়েছে। মার্চ থেকে নতুন ছোট সংস্করণ বাজারে আসতে শুরু করে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ১৯৯১ সালের দাম নিয়েও তুলনা করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। তাদের হিসাবে, সে সময় যুক্তরাজ্যে একটি মার্স বারের দাম ছিল আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ পেন্স। বর্তমানে একই পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি, যদিও দোকান ও প্যাকেজের ধরন অনুযায়ী খুচরা মূল্য পরিবর্তিত হয়।   পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দাম একই রাখা অথবা দাম বাড়ানোর এই প্রবণতাকে সাধারণভাবে ‘শ্রিংকফ্লেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ ক্রেতা আগের সমান বা বেশি অর্থ ব্যয় করলেও প্যাকেটের ভেতরে পণ্যের পরিমাণ কম পান। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।   তবে পণ্যের আকার ছোট করার পেছনে উৎপাদনকারীদেরও ব্যয়ের চাপ রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মার্স রিগলি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের একজন মুখপাত্র পণ্যের আকার পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছিলেন, কোকোর দামসহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানকে কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্যের আকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেওয়া হয় না এবং চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের।   লিংকনশায়ারের বাড়িতে পাওয়া ১৯৯১ সালের মার্স বারটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু পুরোনো একটি চকলেট হিসেবে আলোচনায় আসেনি। কয়েক দশকে পরিচিত একটি পণ্যের আকার ও ওজন কীভাবে বদলে গেছে, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও এটি মানুষের নজর কেড়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা

আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভ এবার সহিংসতায় রূপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ডে। টানা তিন রাত ধরে বিক্ষোভের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীরা থাকেন বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ঢোকার চেষ্টা হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ও থুতু দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   ঘটনার সূত্রপাত থেটফোর্ডের কাছাকাছি সাবেক সামরিক স্থাপনা আরএএফ বার্নহ্যামকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে। জুনে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানায়, সাবেক এই সামরিক স্থাপনাটি আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাইটটি ব্যবহারের আগে বিস্তারিত যাচাই, পরিকল্পনা অনুমোদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরএএফ বার্নহ্যামসহ তিনটি সাবেক সামরিক স্থাপনায় মোট প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর আবাসনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বার্নহ্যাম সাইটের ক্ষেত্রে হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শুরুতে সীমিত সংখ্যক মানুষকে পর্যায়ক্রমে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বাসিন্দারা হবেন ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী একক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, যারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে আসছে। ১ জুলাই ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিলের বিশেষ সভায় কাউন্সিলররা সর্বসম্মতভাবে আরএএফ বার্নহ্যামকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য অনুপযুক্ত বলে মত দেন। তাদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে এলাকার গ্রামীণ পরিবেশ, সীমিত অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সেবা ও সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য চাপ।    ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিল জানিয়েছে, হোম অফিস ইতোমধ্যে আরএএফ বার্নহ্যাম ব্যবহারের জন্য জরুরি সরকারি পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছে। এর অর্থ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এমন নয়। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাদের আপত্তি জানাতে পারবে।    এই পরিকল্পনা ঘিরে বিক্ষোভ প্রথমে সাবেক সামরিক ঘাঁটির বাইরে শুরু হলেও ৪ আগস্ট রাতে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়। থেটফোর্ডের সেন্ট জনস ওয়ে, ব্র্যাকেন রোড ও এলম রোড এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীরা থাকেন বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বিক্ষোভকারী বাড়িগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপত্তার জন্য তাদের আবাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   নরফোক পুলিশের প্রধান কনস্টেবল পল স্যানফোর্ড বলেছেন, পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারতেন এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারত।   বুধবার রাতের ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একজন কর্মকর্তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অন্যজনের দিকে থুতু ছোড়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।   বৃহস্পতিবার দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক ঘৃণা উসকে দেওয়ার সন্দেহ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও পুলিশের কাছে পরিচয় দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার পুলিশ অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে। পুলিশ পাভা স্প্রেও ব্যবহার করেছে। এটি পেপার স্প্রের মতো হাতে বহনযোগ্য একটি রাসায়নিক স্প্রে, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির আক্রমণাত্মক বা বিপজ্জনক আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।   তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি mobility scooter-এ থাকা এক নারীকে পাভা স্প্রে করার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ অবশ্য তাদের পদক্ষেপকে পরিস্থিতির তুলনায় প্রয়োজনীয় ও যথাযথ বলে দাবি করেছে।   নরফোক পুলিশের প্রধান কনস্টেবল স্যানফোর্ড বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকারকে পুলিশ সম্মান করে। তবে বিক্ষোভের নামে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা বা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।   থেটফোর্ডের এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। সরকার বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে সাবেক সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দিকে যাচ্ছে। হোম অফিস জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে ৩১টি আশ্রয় হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং শত শত আশ্রয়প্রার্থীকে সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিকল্প আবাসনে নেওয়া হয়েছে।    সরকারের দাবি, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার তুলনায় সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলোতে পরিচালিত আবাসন ব্যবস্থা কম খরচের এবং দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আরএএফ বার্নহ্যামের ক্ষেত্রে হোম অফিস ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং স্থানীয় পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।    তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিলগুলোর উদ্বেগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের কারণে বিষয়টি এখন শুধু আবাসন পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। থেটফোর্ডের ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি, স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো!
অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো! থেটফোর্ডে উত্তেজনা থামছেই না

যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে টানা কয়েক রাত ধরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।    পুলিশের তথ্যমতে, শতাধিক বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একজন কর্মকর্তা পাথরের আঘাতে আহত হন, একজন নারী কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেকজন কর্মকর্তার ওপর থুতু নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।    সহিংসতার কারণে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট এলাকায় মুখ ঢেকে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত টহলসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের এমপি টেরি জার্মি এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাইরের উসকানিদাতারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।    এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে থেটফোর্ডের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ বার্নহাম সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। কয়েক মাস ধরেই এ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ চলছিল। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।    নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামিক পোশাক পরে ডিউটিতে বাধা
ইসলামিক পোশাক পরে ডিউটিতে বাধা, এনএইচএসের বিরুদ্ধে আদালতে মুসলিম কর্মী

যুক্তরাজ্যের একটি এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মী নজিয়া আয়ুবের করা ধর্মীয় বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, এনএইচএস কর্তৃপক্ষ তাকে ইসলামিক পোশাক ‘জিলবাব’ পরে কাজ করতে না দিয়ে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বৈষম্য করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, হাসপাতালের ইউনিফর্ম নীতি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এতে বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ব্রিটিশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নজিয়া আয়ুব ২০২১ সালের মার্চ থেকে নর্দার্ন কেয়ার অ্যালায়েন্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে হেলথকেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভেন্টিলেশন-নির্ভর শিশুদের সেবার দায়িত্ব পালন করতেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি মাথায় হিজাব এবং গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রাখে এমন ‘জিলবাব’ পরতেন।    ২০২৩ সালের মে মাসে তার লাইন ম্যানেজার ওয়েন্ডি বেকন লক্ষ্য করেন, আয়ুব হাসপাতালের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ট্রাউজারের পরিবর্তে টিউনিকের নিচে লম্বা কালো পোশাক পরেছেন। তিনি বিষয়টি তুলে ধরলে আয়ুব জানতে চান, ম্যানেজারের ‘মুসলিম পোশাক নিয়ে কোনো সমস্যা’ আছে কি না। জবাবে ম্যানেজার জানান, মুসলিম পোশাক নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে কর্মীদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব।   শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে ঢিলেঢালা ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাকের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আয়ুব তা প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কর্মস্থলে কী পরবেন, তা নিয়ে কোনো সমঝোতা করবেন না। ট্রাইব্যুনালে তিনি আরও বলেন, ঢিলেঢালা ট্রাউজারও তার কাছে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; তার জন্য লম্বা স্কার্ট বা ড্রেসই আবশ্যক।    পরবর্তীতে তিনি ধর্মীয় বৈষম্য, হয়রানি এবং বর্ণবাদের অভিযোগ এনে মামলা করেন। তবে এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়, এনএইচএস ট্রাস্টের ইউনিফর্ম নীতি রোগী, কর্মী ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। আদালত মনে করেছে, এ নীতি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং আয়ুবের অভিযোগগুলো আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তার সব দাবি খারিজ করা হয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নিকাহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিবাহকে সহজে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক নিকাহ কি পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি পাচ্ছে!

যুক্তরাজ্যে প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিবাহ আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নিকাহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিবাহকে আরও সহজে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারি পরামর্শ গ্রহণ (কনসালটেশন) চলছে, যা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।    যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ভবনভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অফিসিয়েন্টভিত্তিক কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, বিয়ে কোথায় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সরকার অনুমোদিত ও নিবন্ধিত অফিসিয়েন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে আইনি শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না। এ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত ধর্মীয় অফিসিয়েন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বিবাহও আইনি বৈধতা পেতে পারে, যদি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত নোটিশ, নিবন্ধন ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হয়।    বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনেক মুসলিম দম্পতি শুধুমাত্র ধর্মীয় নিকাহ সম্পন্ন করলেও সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন না করায় তাদের বিবাহ রাষ্ট্রীয় আইনে স্বীকৃতি পায় না। ২০২০ সালে ‘আখতার বনাম খান’ মামলায় কোর্ট অব আপিল এমন অনিবন্ধিত নিকাহকে ‘নন-কোয়ালিফাইং সেরিমনি’ হিসেবে উল্লেখ করে, ফলে বিচ্ছেদ বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে অনেকেই, বিশেষ করে নারীরা, আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।    প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নিবন্ধিত অফিসিয়েন্টদের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও থাকবে। বিয়ের আগে বর-কনের স্বাধীন সম্মতি নিশ্চিত করা, উভয়ের আইনসম্মত বয়স যাচাই করা এবং জোরপূর্বক বা ভুয়া বিয়ের সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।    আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামিক স্কলাররা বলছেন, এই সংস্কার কার্যকর হলে বহু বছর ধরে চলা আইনি জটিলতা কমবে এবং ধর্মীয় বিধান মেনে বিবাহ করেও মুসলিম পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পাবে। বিশেষ করে বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, সম্পত্তির অধিকার এবং আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের আইনি অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।   যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারেজ বিল পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। বিলটি পাস হলে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজসহ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনেক দম্পতিকে আর আলাদা করে ধর্মীয় ও সিভিল—দুই ধরনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে না। তবে উল্লেখ্য, এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত সংস্কার; চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হলে আইনটি পার্লামেন্টে পাস হতে হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
বানাজ মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত তার বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে খুন করালেন বাবা

যুক্তরাজ্যে আলোড়ন তোলা বানাজ মাহমুদ হত্যা মামলার দুই দশক পর নতুন করে সামনে এসেছে ঘটনাটির বেদনাদায়ক স্মৃতি। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা বানাজের ছোট বোন বেখাল মাহমুদ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বোনকে শেষবার যখন দেখেছিলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ বছর বয়সী বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার অজুহাতে তার বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদ ও চাচা আরি আঘা মাহমুদ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন।   সম্প্রতি জারা ম্যাকডারমটের উপস্থাপিত Truth Be Told অনুষ্ঠানে বেখাল মাহমুদ বলেন, শেষবার যখন তিনি বানাজকে দেখেন, তখন তার চেহারা ভেঙে পড়েছিল এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও আটকে আছেন।   বানাজ মাহমুদ ১৯৯৮ সালে পরিবারের সঙ্গে ইরাক থেকে যুক্তরাজ্যে যান। পরে তাকে নিজের চেয়ে প্রায় ১০ বছর বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বেখালের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্পর্কে বানাজ নিয়মিত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতেন। পরে তিনি ওই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজের পছন্দের একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান।   প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত মামলায় বলা হয়, এই সিদ্ধান্তকে পরিবার তাদের ‘সম্মানের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।   ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি দক্ষিণ লন্ডনের মিচামের পারিবারিক বাড়িতে বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভাড়াটে হামলাকারী মোহাম্মদ হামা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে বার্মিংহামে নিয়ে গিয়ে গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।   বানাজের নিখোঁজ হওয়ার পর তার প্রেমিক রহমান সুলেমানি বিষয়টি পুলিশকে জানান। প্রায় তিন মাস পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে বানাজের বাবা, চাচা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালত বানাজের বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, যার ন্যূনতম মেয়াদ ২০ বছর। চাচা আরি আঘা মাহমুদকে একই সাজা দিয়ে ন্যূনতম ২৩ বছর কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই চাচাতো ভাইও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।   বেখাল মাহমুদ বলেন, নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ। তিনি বলেন, প্রতিবার ভয় পেলে তিনি শুধু ভাবতেন “বানাজ আর বেঁচে নেই। তার জন্য কথা বলবে কে?”   বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় জীবন কাটানো বেখাল জানান, পরিচয় গোপন রেখে বসবাস করা অত্যন্ত নিঃসঙ্গ একটি জীবন। নিজের মাতৃভাষায় কাউকে কথা বলতে শুনলেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্যদের পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখলে নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের কথা মনে পড়ে।   এদিকে বেখাল বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ‘বানাজস ল’ (Banaz's Law) নামে একটি আইনি উদ্যোগের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনে আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ রান্নাঘর, বাগান কিংবা বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ কাজে ছুটি নিচ্ছেন, আবার সামর্থ্যবানদের একটি অংশ ঠান্ডা পরিবেশে রাত কাটাতে হোটেল বুক করছেন। নাগরিক সহায়তা সংস্থা সিটিজেনস অ্যাডভাইসের এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির প্রতি ছয়জনের একজন গরম মোকাবিলায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।    সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ মানুষ এমন বাড়িতে আটকে আছেন, যেগুলো গরমের সময় সহজে ঠান্ডা করা যায় না। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ মানুষ জানান, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অসহায় মনে করেন। দুর্বল নকশা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং এয়ার কন্ডিশনারসহ কুলিং সরঞ্জামের উচ্চ খরচকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জানালায় টিন ফয়েল, কার্ডবোর্ড বা ভেজা চাদর লাগানোর মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেক পরিবার শোবার ঘরে টিকে থাকতে না পেরে তুলনামূলক ঠান্ডা রান্নাঘরে ঘুমাচ্ছে। কেউ বাগান ও বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে অসুস্থতার ছুটি বা বেতনবিহীন ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন।   ভাড়াটিয়াদের অবস্থা আরও কঠিন বলে জরিপে উঠে এসেছে। প্রাইভেট ও সোশ্যাল হাউজিংয়ে বসবাসকারী ৫১ শতাংশ ভাড়াটিয়া মনে করেন, ঘর অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, হিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক গ্রীষ্মকালেও তাদের সেন্ট্রাল হিটিং বন্ধ করতে পারেননি বলে জরিপে জানানো হয়েছে।    সিটিজেনস অ্যাডভাইসের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্লেয়ার মরিয়ার্টি বলেন, বহু মানুষের কাছে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ রোদ উপভোগের বিষয় নয়। বরং অসহনীয় গরমের ঘরে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের অনেক বাড়ি গ্রীষ্মে বড় ধরনের হিট ট্র্যাপ এবং শীতে বরফশীতল ঘরে পরিণত হচ্ছে।   সংস্থাটি সরকারের কাছে বাড়ির ইনসুলেশন, ভেন্টিলেশন এবং হিট নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ঘরগুলোকে শুধু শীতে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করলেই হবে না, গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখতে হবে।   গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই। ইংল্যান্ডে মাসজুড়ে মাত্র ৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ওয়েলসে ৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯ মিলিমিটার, যা ওই অঞ্চলের যেকোনো মাসের সর্বনিম্ন রেকর্ড।    জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতিতে দাবানল, খরা এবং পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় উষ্ণতম এবং রেকর্ডে সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল জুলাই ছিল।    সিটিজেনস অ্যাডভাইসের জরিপটি জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠলে অপর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের মরদেহ দীর্ঘদিন ফ্রিজারে রেখে দেওয়ার ঘটনায় কারাদণ্ড পেয়েছেন ক্রিস্টোফার ফিলিপস। ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক সুবিধার জন্য তিন বছরের বেশি সময় ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হলো মায়ের লাশ, ছেলের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।   গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন।   তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।   পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।   মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প
' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে ‘দেউলিয়া দেশ’ আখ্যা দিয়ে উত্তর সাগরে (নর্থ সি) তেল ও গ্যাস উত্তোলন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ আরও বেশি কাজে লাগাতে পারলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নীতি ও জলবায়ু ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। তার ভাষ্য, অতিরিক্তভাবে বায়ুশক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো হলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এ বিষয়ে বাস্তববাদী অবস্থান নেবেন।    তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, সরকার উত্তর সাগরের বিদ্যমান তেল ও গ্যাস সম্পদের ব্যবহার নিয়ে ‘বাস্তববাদী’ নীতি অনুসরণ করবে। তবে তিনি নতুন অনুসন্ধান লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং লেবার পার্টির পূর্বঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান প্রকল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।    উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ নিয়ে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। একদিকে জ্বালানি শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, নতুন তেল-গ্যাস প্রকল্প অনুমোদন যুক্তরাজ্যের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, উত্তর সাগরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ রয়েছে। তবে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে পরিমাণ সম্পদের কথা বলেছেন, তা বিদ্যমান শিল্প মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান উৎপাদন ও মজুতের ভিত্তিতে উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা সীমিত এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।    বার্নহাম সরকারের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উত্তর সাগরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও পরিবেশ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ। ছবি:সংগৃহীত
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই। সংস্থাটির নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।    ইওয়াইর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং অচলাবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তবে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বছরের শেষ নাগাদ ৬ শতাংশের বেশি হতে পারে। এতে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হবে, যার প্রভাব ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়বে।    তবে ইওয়াই আশা প্রকাশ করেছে, যদি চলতি বছরের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য মন্দা এড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে সুদের হার প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হতে পারে, যা আবাসন বাজার ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।   এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। আলোচনার অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাময়িকভাবে কমেছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা
ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের ঢেউ এবার ব্রিটেনে, পার্লামেন্টের সামনে শিক্ষার্থীদের শক্ত অবস্থান

ভারতে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের প্রভাব এবার পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যেও। দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের একটি দল প্রতীকী ‘তেলাপোকা’ সেজে বিক্ষোভ করেছে। তাদের অভিযোগ, ক্রমবর্ধমান ছাত্রঋণের বোঝা লাখো তরুণের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং বর্তমান ঋণব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।    লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, মুখোশ ও প্রতীকী পোশাক ব্যবহার করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেও অনেক তরুণ চাকরি, বাড়ি কেনা কিংবা স্বাভাবিক আর্থিক জীবন শুরু করতে পারছেন না। তাদের মতে, ছাত্রঋণের সুদ ও পরিশোধের বর্তমান কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।   বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উচ্চশিক্ষাকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে বছরের পর বছর ঋণের বোঝা বহন করছেন। ফলে কর্মজীবনের শুরুতেই তারা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়ছেন।   এই প্রতিবাদের বিশেষ দিক ছিল ‘তেলাপোকা’ প্রতীকের ব্যবহার। ভারতে সম্প্রতি যে ‘ককরোচ’ আন্দোলন বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে, সেটি শুরু হয়েছিল অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে। পরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তা লাখো তরুণের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের চাপে ভারতের শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবি জোরালো হয় এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও ঘটে।    পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই প্রতিবাদ দেখিয়ে দিল যে শিক্ষা-পরবর্তী ঋণের বোঝা ও তরুণদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এটি অনেক উন্নত দেশের জন্যও বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের প্রতীক ব্যবহার করে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা সেই বৈশ্বিক উদ্বেগের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ভুলবশত বসবাসের অনুমতি দেওয়ায় ইইউ নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। ছবি: সংগৃহীত
ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, হাজারো নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিকের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ‘ভুলবশত’ অনুমোদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির হোম অফিস। ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জনকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় চাকরি, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন অনেক অভিবাসী। একই সঙ্গে বিষয়টি যুক্তরাজ্য-ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি লঙ্ঘনের আশঙ্কাও তৈরি করেছে।   হোম অফিসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যাদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস যথাযথ নথিপত্র ছাড়া অনুমোদিত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যতে সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়ার আবেদনও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   এমনই একজন গ্যাব্রিয়েলা, যিনি পর্তুগিজ নাগরিকত্বের অধিকারী। তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ কর্মরত এবং একই সঙ্গে পিএইচডি গবেষণা করছেন। হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তিনি জানান, তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।   গ্যাব্রিয়েলার ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার অভিবাসন অবস্থাকেই নয়, চাকরি, বাসা ভাড়া, ব্যাংকিং সেবা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বৈধভাবে বসবাসের অধিকার হারালে চাকরি ও বাসস্থানের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ব্রেক্সিটের আগে পাঁচ বছরের কম সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ১৩ লাখ ইইউ নাগরিককে ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের আওতায় প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তাদের অনেকেই সেটেলড স্ট্যাটাসে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান।   তবে বর্তমানে হোম অফিস বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে—যেমন শিশু, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-বহির্ভূত পরিবারের সদস্য এবং ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের—তাদের কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করছে।   গ্যাব্রিয়েলার ক্ষেত্রে হোম অফিসের দাবি, আবেদন করার সময় তিনি নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক ইইএ নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। তাই তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ভুলবশত অনুমোদিত হয়েছিল।   তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন গ্যাব্রিয়েলা। তার দাবি, বাবা পর্তুগিজ হওয়ায় তিনি জন্মসূত্রেই ইইউ নাগরিক। আবেদন করার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং সব প্রয়োজনীয় তথ্যই যথাযথভাবে দিয়েছেন।   অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘দ্য থ্রি মিলিয়ন’ জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের আরও ডজনখানেক ঘটনার তথ্য রয়েছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যক্তি একই ধরনের চিঠি পেতে পারেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জনকে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে।   সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, বহু মানুষ হোম অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে জীবন গড়েছেন। তাদের সন্তানরা এখানকার স্কুলে পড়ছে, অনেকেই স্থায়ী চাকরিতে আছেন। পাঁচ বছর পর এসে যদি বলা হয় তাদের স্ট্যাটাস শুরু থেকেই ভুল ছিল, তাহলে তা শুধু অন্যায্য নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর উদ্বেগের বিষয়।   এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং অথরিটি জানিয়েছে, হোম অফিসের এই নীতি প্রত্যাহার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।   অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, তারা পৃথক কোনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে যাদের স্ট্যাটাস ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা চাইলে অন্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কেউ যদি মনে করেন তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস সঠিকভাবেই দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তিনি নতুন আবেদন করার পাশাপাশি আইনি আপিলের সুযোগও পাবেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্র্যাজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!

যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেও কাজ পাননি এক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের বাস্তব চাকরির বাজারের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না।   ধ্রুভ নাথালাল নামের ওই তরুণ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে কলেজের দুটি কোর্স সম্পন্ন করার পর গত ১২ মাস ধরে তিনি খুচরা বিক্রয় (রিটেইল), আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির জন্য ধারাবাহিকভাবে আবেদন করে আসছেন। তবে শত শত আবেদন পাঠিয়েও একটি চাকরির প্রস্তাব পাননি।   ধ্রুভ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল না যে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। তার দাবি, তিনি এমন অনেক তরুণকে দেখেছেন, যারা ভালো ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না।   তার মতে, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই অনেক তরুণ বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধানের মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এর সর্বশেষ তথ্যও দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা এবং তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।   ধ্রুভর অভিজ্ঞতা এখন যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। শত শত আবেদন করেও চাকরি না পাওয়ার ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কে টমি রবিনসনকে যুক্তিতে হারালেন অক্সফোর্ডের মুসলিম শিক্ষার্থী
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কে টমি রবিনসনকে যুক্তিতে হারালেন অক্সফোর্ডের মুসলিম শিক্ষার্থী

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক বহুল আলোচিত বিতর্কে ইসলামবিরোধী একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সদস্যদের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার লরেন্স ফক্স। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, গাজার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম শিক্ষার্থী আরওয়া এলরায়েস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ।   গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের প্রতি সন্দিহান হওয়া উচিত।’ দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে সদস্যদের ভোটে ৩৩–৩০ এবং চেম্বারের ভোটে ৫৭–৪১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।   বিতর্কে টমি রবিনসন ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে দাবি করেন, ইসলাম অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে না। এর জবাবে আরওয়া এলরায়েস বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া উদ্ধৃত করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়।   তিনি বলেন, সন্দেহের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সহিংসতা ছড়ায়—কোনো ধর্ম বা তার অনুসারীরা নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মুসলমানরাও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন এবং অনেক মুসলিম নারীও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও সমর্থন দেখা যায়।   অন্যদিকে লরেন্স ফক্স বিতর্কে দাবি করেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধযন্ত্রের’ মতো। এর প্রতিবাদ করে আরওয়া এলরায়েস কোরআনের ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ধর্মকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মূল ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃহত্তর অনুসারীদের বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা উচিত।   বিতর্কে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগও ইসলামবিরোধী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। তার মতে, যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একটি ধর্মকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা শরিয়া আইন ব্রিটিশ আইনের বিকল্প হয়ে উঠবে—এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।   অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ভিডিও ও বিশেষ করে আরওয়া এলরায়েসের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপস্থাপিত যুক্তি, পাল্টা প্রশ্ন এবং বিতর্ক পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের শিশু ইসাবেল রোজ ওয়েলশ হত্যা মামলায় রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরের কন্যাসন্তানের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হত্যা: জন্মদাত্রী মা ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার এবং মায়ের সঙ্গী হ্যারিসন সিম্পসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে ওয়াকারকে অন্তত ২২ বছর এবং সিম্পসনকে অন্তত ২৮ বছর কারাভোগের পর মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। সিম্পসন শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুজনই শিশু নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।   ইংল্যান্ডের টিসসাইড ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে উঠে আসে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যাওয়া দুই বছরের ইসাবেল রোজ ওয়েলশ দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২১টি হাড় ভাঙা, ৯৭টি নরম টিস্যুর আঘাত এবং আরও একাধিক গুরুতর জখমের প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালতে উপস্থাপিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে শিশুটির ওপর বারবার সহিংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল।   প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ইসাবেলের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন হ্যারিসন সিম্পসন। পরে শিশুটি গুরুতর আহত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মা আলেকজান্দ্রা ওয়াকার ইন্টারনেটে "আমার ছোট শিশুর রক্তপাত কেন হচ্ছে" লিখে তথ্য খোঁজেন। আদালতে উপস্থাপিত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় তিনি বাড়ির ভেতরে এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন এবং জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন।   আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সময় ওয়াকার তার মেয়েকে নাম ধরে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন, "তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছ।" তবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করতে তিনি বিলম্ব করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, শিশুটির অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠার অনেক পরে, পরিবারের এক সদস্যের পরামর্শে তিনি জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। পরে প্যারামেডিকরা শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মামলার শুনানিতে ইসাবেলের নানি ক্লেয়ার ওয়াকার জানান, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে নাতনির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে খুবই প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমান এবং সুস্থ স্বাভাবিক হিসেবে জানতেন। তবে শেষ দিকে তার শরীরে একের পর এক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একটি পর্যায়ে শিশুটির পা ভেঙে যাওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। পরে বাড়িতে গিয়ে তার পিঠেও আঘাতের দাগ দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি।   তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরে ঝাঁকানো হয়েছিল এবং শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আঘাতই তার মারাত্মক মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়। আদালতে আরও বলা হয়, শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বর্ণনা আদালত সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে এবং শিশুর মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে।   ওয়াকার ও সিম্পসন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তারা হত্যা, শিশু নির্যাতন, শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে জুরি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।   এই রায়ের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০