মেয়ের জীবন বাঁচানো হাসপাতালকে ভুলেননি জনি ডেপ, কৃতজ্ঞতায় দিলেন লাখো ডলার অনুদান
২০০৭ সালের শুরুর দিকের কথা। হলিউড সুপারস্টার জনি ডেপের মেয়ে লিলি-রোজ ডেপের বয়স তখন মাত্র ৭ বছর। ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এই সংক্রমণের কারণে তার কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং ব্যাপক চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে টানা তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিল লিলি-রোজ। সেই কঠিন সময়ে জনি ডেপ নিজেও জানতেন না তার ছোট্ট মেয়েটি আদৌ বেঁচে ফিরবে কি না। বছর কয়েক পর ২০১৫ সালে 'দ্য গ্রাহাম নর্টন শো'-তে এসে সেই দুর্বিষহ দিনগুলোকে নিজের জীবনের 'সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এই খ্যাতিমান অভিনেতা।
লিলি-রোজ সুস্থ হয়ে উঠলেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ছাপ জনি ডেপের মনে গভীরভাবে থেকে যায়। পরের বছরই তিনি গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। কিছু কিছু প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, তার এই অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ ডলার। তবে হাসপাতালের সাথে জনি ডেপের সম্পর্ক কেবল অর্থ প্রদানের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়নি।
পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি তার বিখ্যাত সিনেমা 'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান'-এর জনপ্রিয় চরিত্র 'ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো' সেজে বিভিন্ন শিশু হাসপাতালে উপস্থিত হতে শুরু করেন। এসব পরিদর্শনের সময় তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাক স্প্যারোর চরিত্রেই মেতে থাকতেন, শিশুদের সাথে গল্প করতেন এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ছোট্ট রোগীদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন।
অস্ট্রেলিয়া, স্পেন ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে তিনি এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। জ্যাক স্প্যারো হিসেবে তার এই সারপ্রাইজ ভিজিটগুলো অনেক অসুস্থ শিশু এবং তাদের পরিবারের কাছে চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।
মেয়ের অসুস্থতার সেই চরম ভীতিকর অভিজ্ঞতাই মূলত জনি ডেপকে অসুস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এবং হাসপাতালগুলোতে সহযোগিতা করতে আরও বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে তুলেছে। নিজের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ও অন্ধকার এক অভিজ্ঞতাকে তিনি রূপ দিয়েছেন গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে আনার এক মহান উদ্যোগে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more২০০৭ সালের শুরুর দিকের কথা। হলিউড সুপারস্টার জনি ডেপের মেয়ে লিলি-রোজ ডেপের বয়স তখন মাত্র ৭ বছর। ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এই সংক্রমণের কারণে তার কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং ব্যাপক চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে টানা তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিল লিলি-রোজ। সেই কঠিন সময়ে জনি ডেপ নিজেও জানতেন না তার ছোট্ট মেয়েটি আদৌ বেঁচে ফিরবে কি না। বছর কয়েক পর ২০১৫ সালে 'দ্য গ্রাহাম নর্টন শো'-তে এসে সেই দুর্বিষহ দিনগুলোকে নিজের জীবনের 'সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এই খ্যাতিমান অভিনেতা। লিলি-রোজ সুস্থ হয়ে উঠলেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ছাপ জনি ডেপের মনে গভীরভাবে থেকে যায়। পরের বছরই তিনি গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। কিছু কিছু প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, তার এই অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ ডলার। তবে হাসপাতালের সাথে জনি ডেপের সম্পর্ক কেবল অর্থ প্রদানের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি তার বিখ্যাত সিনেমা 'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান'-এর জনপ্রিয় চরিত্র 'ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো' সেজে বিভিন্ন শিশু হাসপাতালে উপস্থিত হতে শুরু করেন। এসব পরিদর্শনের সময় তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাক স্প্যারোর চরিত্রেই মেতে থাকতেন, শিশুদের সাথে গল্প করতেন এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ছোট্ট রোগীদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন। অস্ট্রেলিয়া, স্পেন ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে তিনি এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। জ্যাক স্প্যারো হিসেবে তার এই সারপ্রাইজ ভিজিটগুলো অনেক অসুস্থ শিশু এবং তাদের পরিবারের কাছে চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। মেয়ের অসুস্থতার সেই চরম ভীতিকর অভিজ্ঞতাই মূলত জনি ডেপকে অসুস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এবং হাসপাতালগুলোতে সহযোগিতা করতে আরও বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে তুলেছে। নিজের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ও অন্ধকার এক অভিজ্ঞতাকে তিনি রূপ দিয়েছেন গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে আনার এক মহান উদ্যোগে।
কানাডা থেকে ডিপোর্টের তালিকায় শীর্ষে ভারত, ৬ মাসে ফেরত ৩ হাজারের বেশি; অপেক্ষায় আরও ৭,৬৬৯ জন
গ্রিসজুড়ে ৩৬ স্থানে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশেও সতর্ক করল ইসরায়েল
৩০০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন তৈরি করে পাকিস্তানের চমক
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে রোববার গ্রিসজুড়ে সমন্বিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্স ও থেসালোনিকির পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বীপ ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাসহ অন্তত ৩৬টি স্থানে সমাবেশ ও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো। ৯ আগস্টকে দেশব্যাপী ফিলিস্তিনের সমর্থনে কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে ‘মার্চ টু গাজা গ্রিস’, ‘বিডিএস গ্রিস’ এবং গ্রিসে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটিসহ কয়েকটি সংগঠন। আয়োজকদের আহ্বানে শহরের পাশাপাশি দ্বীপ, পাহাড়ি এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে এথেন্স, থেসালোনিকি, করফু, রোডস, সান্তোরিনি, পারোস, কোস, সিরোস এবং ক্রিটের বিভিন্ন এলাকা। এথেন্সে সন্ধ্যায় মোনাস্তিরাকি স্কয়ারে জমায়েত হয়ে সিনতাগমা স্কয়ারের দিকে মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে রাজধানীর এই কর্মসূচিতে তুলনামূলক বেশি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপগুলোতেও কর্মসূচি থাকায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। করফুতে অ্যানুনজিয়াটা স্কয়ার, রোডসে ওল্ড সিটির প্রবেশপথ, সান্তোরিনির ওইয়া, পারোসের পারিকিয়া এবং কোসের এলেফথেরিয়াস স্কয়ারসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় জমায়েতের কর্মসূচি রয়েছে। মাইকোনোস, জাকিনথোস, পাটমোস, লেরোস ও লেফকাদাসহ আরও কয়েকটি এলাকাতেও বিক্ষোভের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ নজর রয়েছে ক্রিটের আগিওস নিকোলাওসের দিকে। সেখানে ইসরায়েলি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ ‘ক্রাউন আইরিস’ ভেড়ার কথা রয়েছে। জাহাজটির আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ বা ইসরায়েলি পর্যটকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে ইসরায়েলি পর্যটকবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিরোস দ্বীপে বিক্ষোভের কারণে একটি ইসরায়েলি ক্রুজ জাহাজের যাত্রীরা তীরে নামতে পারেননি। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গ্রিসের পর্যটন এলাকায় এ ধরনের প্রতিবাদ এরপরও বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। রোববারের দেশব্যাপী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রিসে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় প্রকাশ করে এমন প্রতীক প্রদর্শনে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে গ্রিস ভ্রমণ এড়িয়ে চলার সামগ্রিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আয়োজকদের ঘোষণায় মূল লক্ষ্য হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই কোনো সহিংসতা ঘটবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বিমান উড্ডয়নের পর বড় ধাক্কা, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের মাদক পরীক্ষা
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ঘিরে গ্রিসে ইসরায়েলিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের কারণে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শনিবার প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাল্ড রেঞ্জ দাবানলটি মাত্র এক রাতের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করে। আগুনের বিস্তৃতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর বা ২৩ হাজার ৫০০ একর। দক্ষিণাঞ্চলের ওকানাগান লেকের পশ্চিমে সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয় evacuation order। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি জানান, একজন অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা আগুনের ভয়াবহতা বোঝাতে এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। আগুন এতটাই তীব্র যে বড় গাছের ওপর আগুনের শিখা উঠে যাচ্ছে এবং দাবানল নিজস্ব আবহাওয়াও তৈরি করছে। এর ফলে বজ্রপাত সৃষ্টি হয়ে আবার আগুনের তীব্রতা বাড়ছে। দাবানলের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাড়িঘর ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় কয়েকজন বাসিন্দা আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিক কতটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস জানান, অনেক কৃষিজমিও আগুনের কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বাসিন্দা মধ্যরাতের দিকে এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। কেউ দক্ষিণে পেন্টিকটন, আবার কেউ উত্তরে কেলোনার দিকে চলে যান। পরে আগুনের ঝুঁকিতে কয়েকটি হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামারল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য পানি ফুটিয়ে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দাবানলের কারণে পানি পরিশোধন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই অঞ্চল কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়াইন উৎপাদন এলাকা। সামারল্যান্ড ও পিচল্যান্ডের মতো এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন এবং কৃষি ও পর্যটনও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এটি সবচেয়ে বড় evacuation event। প্রদেশটিতে একসঙ্গে ১০০টির বেশি দাবানল মোকাবিলা করছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের দমকলকর্মীরাও সহায়তা করছেন। চলতি বছর কানাডাজুড়ে দাবানলের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে। কানাডিয়ান ইন্টারএজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশটিতে দাবানলে প্রায় ৪০ লাখ হেক্টর বা ৯৯ লাখ একর এলাকা পুড়ে গেছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। প্রদেশটির চলমান দাবানল পরিস্থিতিতে বহু মানুষকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সংসদে কসোভো প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও তীব্র
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে মানবতার শেষ প্রহরী ওলেক্সি ইউকভ আর নেই