ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাবলিক এনগেজমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জেস) পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থী পেশাগত এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা তৈরিতে কাজ করবেন। এ জন্য প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতা, খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ এবং পেশাগত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালনা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আগ্রহ থাকা প্রয়োজন।
এই পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরকার, সুশীল সমাজ, থিংকট্যাংক, পেশাজীবী সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের নিয়ে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সমন্বয় করবেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করতে হবে।
পদের নাম পাবলিক এনগেজমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জেস)। আবেদন করার শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬। নিয়োগের অন্যান্য যোগ্যতা, বেতন ও সুবিধাসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার অফিসিয়াল চাকরি সংক্রান্ত পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
আগ্রহী প্রার্থীদের ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার ওয়েবসাইটের চাকরি সংক্রান্ত পেজের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনের শর্তগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এই নিয়োগে পেশাগত যোগাযোগ, সংগঠন পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য তাই আবেদন করার আগে নিজেদের যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা বিজ্ঞপ্তির শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত শক্তিশালী রিপাবলিকান প্রার্থী কেসি আসকারকে হারিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক। নির্বাচনে পিয়া ডান্ডিয়া ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকার পান ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্লোরিডা থেকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি। পিয়া ডান্ডিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তার বাবা-মা ১৯৮০-এর দশকে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শৈশবে বিভিন্ন সময় ভারতে কাটানো স্মৃতি এবং আন্তর্জাতিক বৈষম্য দেখার অভিজ্ঞতাই তার জীবন ও চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা পিয়া তার ক্যারিয়ার শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি হারলেমের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তার নেতৃত্বে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরাও শতভাগ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস ফেলো হিসেবে শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক পরিষদে কাজ করেছেন এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলেও সরকারি খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় পিয়া মূলত জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি দমন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আগ্নেয়াস্ত্রের নিরাপত্তার মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ফ্লোরিডার রাজনীতিতে এই নির্বাচনটি ছিল অন্যতম ব্যয়বহুল। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিয়া প্রায় ৪৬ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আসকারের সংগ্রহ ছিল প্রায় ৭৪ লাখ ডলার। এর বাইরেও পিয়াকে হারাতে ট্রাম্পপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রায় ৬৫ লাখ ডলার এবং আসকারকে রুখতে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত গোষ্ঠী প্রায় ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করে। সব সমীকরণ পেছনে ফেলে ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট ফান্ডসহ স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার সমর্থন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন পিয়া ডান্ডিয়া।
ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা বন্ধ, নতুন নির্দেশনা জারি
হাসিনার সম্পত্তির বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার
'পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের হত্যার অধিকার আছে '- তথ্য উপদেষ্টা
রাজধানীর ডেমরায় একটি ইনসুলেশন কারখানা থেকে বিরল হালকা গোলাপি রঙের একটি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক ফুট লম্বা সাপটি মনোকলড কোবরা প্রজাতির বাচ্চা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যালবিনিজম বা রঞ্জক পদার্থের ঘাটতিজনিত জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সাপটির শরীরে এমন অস্বাভাবিক রং দেখা গেছে। ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি) নামের একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনের নির্দেশনায় সাপটি উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সাইফ রুদ্র। কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা সাপটির অস্বাভাবিক রং সাধারণ গোখরার তুলনায় একেবারেই আলাদা। মনোকলড কোবরা বাংলাদেশে পরিচিত বিষধর সাপের একটি প্রজাতি। সাধারণত এদের শরীর বাদামি, জলপাই বা কালচে রঙের হয়ে থাকে। ফণা তুললে পেছনের দিকে একক গোলাকার চিহ্ন দেখা যায়, যেখান থেকে মনোকলড কোবরা নামটির উৎপত্তি। তবে উদ্ধার হওয়া সাপটির শরীরে স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তে হালকা গোলাপি আভা দেখা গেছে। বন্যপ্রাণীবিজ্ঞানে অ্যালবিনিজম বলতে এমন একটি জিনগত অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শরীরে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন অনুপস্থিত বা অত্যন্ত কম থাকে। এর ফলে প্রাণীর স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা কিংবা ফ্যাকাশে হতে পারে। তবে শুধু শরীরের রং দেখে কোনো প্রাণীর অ্যালবিনিজম নিশ্চিত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে লিউসিজমসহ অন্যান্য রঞ্জকজনিত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটির ক্ষেত্রে অ্যালবিনিজমের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা বা জিনগত বিশ্লেষণের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে সাপটির অস্বাভাবিক রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ হওয়ায় বাচ্চা অবস্থাতেও এটি বিপজ্জনক হতে পারে। আকারে ছোট হলেও এর কামড়ে গুরুতর বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ চোখে পড়লে নিজে ধরতে বা সরাতে না গিয়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাপের ভূমিকা রয়েছে। মানুষের বসতি, কারখানা কিংবা কৃষিজমির আশপাশে সাপ পাওয়া গেলে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। ডেমরায় উদ্ধার হওয়া বিরল রঙের গোখরাটি বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা সেটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম
বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ
ভারতের আসাম রাজ্যের একটি ধানখেতে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারসামগ্রী কীভাবে ভারতের লখিমপুর জেলায় পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আসাম পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলার নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামে ব্যানারটি পাওয়া যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নাউয়ের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক কিশোর গরু চরাতে গিয়ে ধানখেতের কাছে কয়েকটি গ্যাসভর্তি বেলুন দেখতে পায়। বেলুনগুলোর সঙ্গে একটি বড় ব্যানার বাঁধা ছিল। পরে সেগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে কিশোরটি বেলুন ও ব্যানার সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ব্যানারটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের। ফ্লেক্সে ছাপানো ব্যানারে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ছিল। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছিল। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার ভারতের আসামের একটি গ্রামে পাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের নজর কাড়ে। বিষয়টি গ্রামবাসীর মাধ্যমে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। খবর পেয়ে ধলপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেটেকুজান গ্রামে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলুনগুলো কোথা থেকে উড়ানো হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলো লখিমপুর জেলার ওই গ্রামে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যানারটির উৎস এবং বেলুনগুলোর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় একই ধরনের ব্যানারসংবলিত বেলুন আকাশে ওড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও সামনে আসার পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কোনো আয়োজন থেকে ওড়ানো বেলুন বাতাসের প্রবাহে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের আসামে পৌঁছে থাকতে পারে। তবে আসামে পাওয়া বেলুনগুলো বাংলাদেশের ঠিক কোন স্থান থেকে ওড়ানো হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের নাম ব্যানারে থাকলেও সেটি সেখান থেকেই ওড়ানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও উদযাপনের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের অংশ হিসেবে ব্যানারযুক্ত বেলুন ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আসামের লখিমপুরে পাওয়া ব্যানারটি ওই উদযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও বেলুনগুলোর যাত্রাপথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও সামনে আসেনি। পুলিশ বেলুন ও ব্যানার নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর সেগুলোর উৎস শনাক্তে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনের একটি ব্যানার কীভাবে ভারতের আসামের ধানখেতে পৌঁছাল, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: আর টিভি
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের