নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসার পথে নারীদের ভয়াবহ নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার প্রায় সবাই
যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা নারী অভিবাসীদের ভয়াবহ যৌন সহিংসতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকারী প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
রোববার ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদ বলেন, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের একটি অংশ মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব চক্র কারা নৌকায় উঠবে, কখন যাত্রা করবে এবং কীভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে, তার ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন নারী ও শিশুরা। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রার কোনো পর্যায়ে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কিছু পুরুষও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এই বক্তব্যকে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি শাবানা মাহমুদের নিজস্ব মূল্যায়ন ও সতর্কতা। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নারী অভিবাসীদের মধ্যে ধর্ষণের নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত করা যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যকে দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।
মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্তে কারা প্রবেশ করবে তা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ, নিপীড়ন বা অন্য কোনো গুরুতর সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে অপরাধী চক্রের ওপর নির্ভর করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে হচ্ছে—এটি মানবিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকেই গুরুতর সমস্যা।
ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, খারাপ আবহাওয়া, শক্তিশালী স্রোত এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবপাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা।
৫ অক্টোবরও ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা সমস্যায় পড়ার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়। দুজন ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে অন্য একটি নৌকা থেকে প্রায় ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়।
চ্যানেল পারাপারের এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। কারণ বিপজ্জনক এই পথ দিয়ে মানুষের যাত্রা বন্ধ করা গেলেও যুদ্ধ, নিপীড়ন ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন থেকেই যাচ্ছে।
শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। যারা প্রকৃত অর্থে আশ্রয়ের প্রয়োজন নিয়ে ইউরোপে আসছেন, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে মানবপাচারকারী চক্রের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য নতুন কিছু নিরাপদ ও বৈধ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শরণার্থী অধিকারকর্মীদের মতে, বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে চালু থাকা ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থাও সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে অন্য কিছু শরণার্থীকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রায় দেড় হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হলেও একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলে ছোট নৌকার যাত্রা বন্ধে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের নিয়ে উগ্র ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত বিক্ষোভ করছে। ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডের গোসপোর্ট এলাকায় অভিবাসীদের আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাবানা মাহমুদ নিজেও উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর বিদ্বেষের কথা জানিয়েছেন। মুসলিম পরিচয়ের কারণে তিনি এসব গোষ্ঠীর কাছ থেকে বৈরিতা ও হুমকির আশঙ্কা করেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ সরকারের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন সহিংসতার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এই অভিযোগের প্রকৃত মাত্রা কতটা, তা নির্ধারণ করতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়া ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এমন বক্তব্যকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা নারী অভিবাসীদের ভয়াবহ যৌন সহিংসতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাকারী প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। রোববার ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদ বলেন, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের একটি অংশ মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব চক্র কারা নৌকায় উঠবে, কখন যাত্রা করবে এবং কীভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে, তার ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন নারী ও শিশুরা। তাঁর দাবি, উত্তর ফ্রান্সে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রার কোনো পর্যায়ে যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কিছু পুরুষও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এই বক্তব্যকে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি শাবানা মাহমুদের নিজস্ব মূল্যায়ন ও সতর্কতা। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নারী অভিবাসীদের মধ্যে ধর্ষণের নির্দিষ্ট হার নিশ্চিত করা যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যকে দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্তে কারা প্রবেশ করবে তা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ, নিপীড়ন বা অন্য কোনো গুরুতর সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে অপরাধী চক্রের ওপর নির্ভর করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে হচ্ছে—এটি মানবিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকেই গুরুতর সমস্যা। ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, খারাপ আবহাওয়া, শক্তিশালী স্রোত এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবপাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা। ৫ অক্টোবরও ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা সমস্যায় পড়ার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়। দুজন ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে অন্য একটি নৌকা থেকে প্রায় ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। চ্যানেল পারাপারের এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। কারণ বিপজ্জনক এই পথ দিয়ে মানুষের যাত্রা বন্ধ করা গেলেও যুদ্ধ, নিপীড়ন ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন থেকেই যাচ্ছে। শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। যারা প্রকৃত অর্থে আশ্রয়ের প্রয়োজন নিয়ে ইউরোপে আসছেন, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে মানবপাচারকারী চক্রের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য নতুন কিছু নিরাপদ ও বৈধ শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শরণার্থী অধিকারকর্মীদের মতে, বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এদিকে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে চালু থাকা ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থাও সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে অন্য কিছু শরণার্থীকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রায় দেড় হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হলেও একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ফলে ছোট নৌকার যাত্রা বন্ধে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের নিয়ে উগ্র ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত বিক্ষোভ করছে। ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডের গোসপোর্ট এলাকায় অভিবাসীদের আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাবানা মাহমুদ নিজেও উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর বিদ্বেষের কথা জানিয়েছেন। মুসলিম পরিচয়ের কারণে তিনি এসব গোষ্ঠীর কাছ থেকে বৈরিতা ও হুমকির আশঙ্কা করেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ সরকারের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন সহিংসতার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এই অভিযোগের প্রকৃত মাত্রা কতটা, তা নির্ধারণ করতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়া ‘প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার’—এমন বক্তব্যকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা থমকে গেল, রুশ তেল নিয়ে বাড়ছে শুল্কের চাপ
আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য
এপস্টেইন নথি তল্লাশি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে শরণাপন্ন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর
লিবিয়া থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি এখন মিশরে অবস্থান করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযানে বিপদের মুখে পড়ার পর বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫৮ জন মিশরের পোর্ট সাঈদ এবং ৫৩ জন দামিয়াতের নিরাপত্তা কেন্দ্রে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের একজন কর্মকর্তা ৩ ও ৪ অক্টোবর পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমুদ্রযাত্রা, দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও করে দেওয়া হয়। পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর তারা লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় এক রাত ও এক দিন তারা উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের সংকেত পাঠান। বিপদসংকেত পাওয়ার পর জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। একই নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন যাত্রী নিয়ে তবরুক থেকে আরেকটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর ওই নৌকাও ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় দুই দিন ভেসে থাকার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এ অবস্থায় যাত্রীরা জরুরি বিপদসংকেত পাঠালে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে। ওই জাহাজ তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও ৩৯ যাত্রী তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তারা জানিয়েছেন, একই দিন তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই নৌকাটি ঝড়ের মধ্যে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রীরা আশপাশের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধার কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠান। পরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়াগেনবর্গ শিপিংয়ের ‘আইজেবর্গ’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, জাহাজটি আর প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছালে নৌকায় থাকা সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার ভেতরে পানি বাড়ছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির কেউই মিশরকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করা। কিন্তু ঝড়, নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি ও পানি ঢুকে পড়ার কারণে তাদের যাত্রা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে। দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা, ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম ১১১ বাংলাদেশির কায়রো থেকে ঢাকা ফেরার টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বলে দূতাবাসের কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরানো হবে। যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। বাকিদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এনেছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ রাবারের নৌকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উদ্ধার পেতে বিলম্বের কারণে এই রুটে যাত্রা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসও মানবপাচারকারী এবং অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা মুহূর্তেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না
কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা
কিডনি আবার হবে’ বলে অঙ্গ বি ক্রি, দালালের এমন কথায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে ‘কিডনি ভ্যালি’
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব। জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে। জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন। সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার