সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
ক্যাম্পাস

ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৫:১৯
গ্রুপ ছবি
গ্রুপ ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ।

 

তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে।

 

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল।

 

এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ।

 

জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন।

 

পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন।

 

বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত।

 

এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে।

 

চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে।

 

জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।

 

এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

 

সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ।

 

আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ক্যাম্পাস

View more
গ্রুপ ছবি
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ।   তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে।   চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল।   এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ।   জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন।   পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন।   বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত।   এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে।   চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে।   জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।   এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ।   আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৫:১৯
সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের  সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ I ছবি: আমেরিকা বাংলা

মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা

নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়

চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়

শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং সাউথ এশিয়ান লিডারস ইনিশিয়েটিভ’ (ওয়াইএসএএলআই) ফেলোশিপ পেয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত। এই বিশেষ সাফল্যের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান এক্সিলেন্স, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে তিনি নিজ দেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি গত ৩০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের নিয়ে আয়োজিত অত্যন্ত চমৎকার ও শিক্ষণীয় এই পুরো প্রোগ্রামটি আয়োজনে বিশেষ সহায়তা করেছে আমেরিকার ওমাহার নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটি এবং দ্য ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টার।   বর্তমানে শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ব্যাপী সেই ফলপ্রসূ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি লব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।   এবারের আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশ থেকে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ারসহ মাত্র ৬ জন দক্ষ শিক্ষার্থী।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় এই বিশেষ আঞ্চলিক প্রোগ্রামটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় তরুণদের নেতৃত্বের বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং যুব ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গৃহীত একটি অনন্য উদ্যোগ।   এই মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিভাবান তরুণ সমাজকে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে নিজ নিজ অঞ্চলের অভিন্ন বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৯:৪০
ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

শাহবাগ থানার ভেতরেই দুই ডাকসু নেতার ওপর ছাত্রদলের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

‘কীসের সাংবাদিক’ বলে ঢাবির ১০ রিপোর্টারকে পেটালো ছাত্রদল

সারাদেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
সারাদেশে শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে এবং সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে অংশ নিচ্ছে।   সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগে সর্বাধিক ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নিচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন। বেশিরভাগ বিভাগেই ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছাত্রদের তুলনায় বেশি।   এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।   পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। সব পরীক্ষাকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষামন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য সহনশীল ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।   সূচি অনুযায়ী, আজ বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকাশ: এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১:২৯
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

ছবি: সংগৃহীত

বেরোবিতে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘শহিদ আবু সাঈদ বইমেলা’; নববর্ষ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

নিজের মৃত্যুর গুজবে অবাক রাফিয়া; স্ট্যাটাসে জানালেন ‘আমি সুস্থ আছি’

0 Comments