অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ ১৫০,০০০ লাখ ডলার সহায়তা চান শরণার্থী
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর এবার ১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আইনজীবী ও শরণার্থী অধিকারকর্মী নিয়াদোল নিয়ুন। নিজের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে তিনি অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।
গোফান্ডমিতে প্রকাশিত আবেদনে নিয়ুন জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকায় তার মর্টগেজের বকেয়া, গৃহস্থালি বিল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ জমে গেছে। এমনকি বর্তমানে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের ব্যয় বহন করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সময়ে একটি পেশাগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছেন তিনি, যার বিস্তারিত আপাতত প্রকাশ করতে চান না। এই প্রক্রিয়া তার ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলেও জানিয়েছেন নিয়ুন।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগ্রহ করা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মর্টগেজের বকেয়া, জমে থাকা গৃহস্থালি বিল, ইউটিলিটি এবং গাড়ির ইন্স্যুরেন্সসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বাকি ১ লাখ ডলার ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খরচের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে চলমান পেশাগত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার আইনি ব্যয়ে তা ব্যবহার করা হবে বলে তহবিল সংগ্রহের পাতায় জানানো হয়েছে।
নিয়ুনের এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে মূলত তার সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করছেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালে মানবাধিকার ও শরণার্থী নারীদের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পদক থেকে তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
১৯৮৭ সালে ইথিওপিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া নিয়ুনের পরিবার দ্বিতীয় সুদানি গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়েছিল। শৈশবের একটি বড় সময় তিনি কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে কাটান। ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসিত হন। পরে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে আইন বিষয়ে জুরিস ডক্টর সম্পন্ন করেন। ধীরে ধীরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মানবাধিকার, শরণার্থী অধিকার, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ইস্যুতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ুন প্রকাশ্যে দ্বিধা ও হতাশার কথা বলেছেন। সেপ্টেম্বরে এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়াকে ভালোবাসেন, কিন্তু দেশটিকে আর নিজের ঘর বলে অনুভব করছেন না। এসব বক্তব্যের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ও ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের পূর্ববর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো নিয়ুনের নিজস্ব দাবি এবং সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান রয়েছে। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, তার প্রকাশ্য বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে নিয়ুন ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার অর্থায়নে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব ঘটনার পর ২০২৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এসব অভিজ্ঞতার প্রভাব নিজের জীবন ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্তের ওপর পড়েছে বলে তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে এটিও বলেছেন যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পুরো অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং দেশটির মানুষ ও সুযোগের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা রয়েছে।
নিয়ুনের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি এখনো সম্পন্ন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কেউ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে অন্য একটি দেশের নাগরিক হতে হয় অথবা আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হয়। নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট নবায়ন, বিদেশ থেকে ভিসা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা এবং বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলার সহায়তার মতো সুবিধা আর পান না।
অন্যদিকে, তহবিল সংগ্রহের আবেদনে নিয়ুন বলেছেন, তার লক্ষ্য এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়া এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে নিজের পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেওয়া। যারা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারবেন না, তাদেরও তহবিল সংগ্রহের তথ্য শেয়ার করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার পক্ষে কাউকে যোগাযোগ বা মুখোমুখি না করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেন সম্মানজনক ও তার প্রকাশ্যে দেওয়া তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেই অনুরোধও করেছেন নিয়ুন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreশ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, স্কুলের সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিতর্কিত দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বিক্ষোভ মূলত ফ্রান্সে মুসলিমদের দেশ দখলের অপচেষ্টা মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটছে তা অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপক অভিবাসনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ স্কুলের সমস্যা কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং এটি ইসলামের বিষয়, যা একসময়ের মহান রাষ্ট্র ফ্রান্সকে দখল করার চেষ্টা করছে। ব্যাপক অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ফ্রান্সে আজ এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, দুপুরের খাবারের সময় বাড়ানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং সর্বোপরি শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করা।
সরকারি কর্মকর্তা সেজে বিয়ে, ১৪ ভরি স্বর্ণ-নগদ নিয়ে উধাও নববধূ
৯ ঘণ্টার বিক্ষোভের পর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ
নোবেল জয়ের খবরের পরও সন্তানের স্কুল লাঞ্চ বানালেন স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানী
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার দ্বিতীয় একজনের মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাড জানিয়েছে, ইরকুতস্ক ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দ্বিতীয় মৃত্যুকে প্লেগজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বরং রাশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ শুরু হয় ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী কর্মী দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি গবেষণাগারে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এই দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিপিলোভা অজানা উৎসের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানায়, রাশিয়া তাদের কাছে ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার বলেন, মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নমুনায় বিপজ্জনক সংক্রামক জীবাণু শনাক্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে শিপিলোভার নিজের নমুনায় প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল কি না কিংবা তার ক্ষেত্রে প্লেগকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিল্যাড জানিয়েছে, কয়েকটি রুশ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত খবর পরে আর দেখা যায়নি। তবে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হয়। ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতাল এবং মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানেও বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয়েছে। দ্য মস্কো টাইমস জানিয়েছে, একটি মাতৃসেবা কেন্দ্রে রোগীদের সম্ভাব্য প্লেগ সংস্পর্শ নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। রসপোত্রেবনাদজর মঙ্গলবার ইরকুতস্ক অঞ্চলে কঠোর স্যানিটারি বিধিনিষেধ জারির খবরও অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবি সত্য নয় এবং অঞ্চলের মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তের স্যানিটারি ও কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহনেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাজাখস্তানও রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর নিউমোনিক ধরন ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর হতে পারে। তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হলে রোগটির চিকিৎসা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিক প্লেগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্কে প্লেগের প্রাদুর্ভাব বা দ্বিতীয় প্লেগজনিত মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। ফলে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উভয়ই এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম।
লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী
অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ ১৫০,০০০ লাখ ডলার সহায়তা চান শরণার্থী
স্কুলের ডিভাইসে পর্ণো গ্রাফি দেখার অভিযোগে শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ
জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগার ব্যবহার করতে চাইলেও দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেল তাঁকে অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি শাংরি-লা ইরোস নিউ দিল্লি হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ঘটনাটি নিয়ে ভারতে আলোচনা শুরু হলেও ভিডিওতে হোটেলকর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখা যায় না। ফলে ঠিক কী কারণে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। পোস্টদাতা প্রশ্ন তোলেন, হোটেলে থাকার জন্য নিবন্ধিত না হলেই জরুরি প্রয়োজনে কাউকে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না কেন। পোস্টে ভারতের ১৮৬৭ সালের সরাই আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে ওই আইনের উল্লেখ করে যে কেউ যেকোনো হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। সরাই আইনের ৭(২) ধারায় ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ বলতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর অনুমোদিত ব্যক্তির পরিদর্শনের জন্য প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ধারাটিতে সাধারণ মানুষের হোটেলের শৌচাগার ব্যবহারের সরাসরি অধিকার লেখা নেই। অন্য কোনো স্থানীয় নিয়ম এই হোটেলে প্রযোজ্য কি না, সেটিও এই ভিডিও থেকে নির্ধারণ করা যায় না। অনলাইনে প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। অনেকে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত। অন্যরা হোটেলের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলেছেন। কেউ কেউ নারীর বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ নয়। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা অভিযোগের বিষয়ে হোটেলের বক্তব্য চেয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব জানানো হয়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নারীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি, একটি ভুলেই জেল ও ডিপোর্টেশন