ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে রাশিয়া, প্রথম কিস্তির অর্থ প্রস্তুত
ইরানকে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান তাদের ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেই এই অর্থ হস্তান্তর করা হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি মূলত ইরানকে রাশিয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুত ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার ঋণ প্যাকেজের প্রথম কিস্তি। তবে ঋণের অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে লেনদেনটি বর্তমানে আটকে আছে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ ব্যয়ের খাত নিয়ে ইরানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানি করার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল মন্ত্রণালয় তাদের শিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে।
আবার কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক। এমন বহুমুখী দাবির কারণে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইরান সরকার এবং এর ফলেই রাশিয়াকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা।
পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়া তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত জুনে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান।
সেসময় দেশটির একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন যে, তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে মস্কো, যার বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।
বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (VTB) ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এছাড়াও, ইরানকে অর্থ স্থানান্তরে ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreরাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে প্রকৌশল শিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এবার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে (এডব্লিউএস) প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের এই অ্যালামনাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় পিএইচডি করছেন। একই সঙ্গে এডব্লিউএসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শুরু করেছেন পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়। রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান আকিব। সেখানে দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। দেশে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ এগিয়ে যায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে। মাস্টার্সে পড়াশোনার সময় একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও অবদানের জন্যও স্বীকৃতি পান আকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘দ্য এডওয়ার্ড এল. জুনিয়র অ্যান্ড রুথ এস. হেনেসি ডিস্টিংগুইশড স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘দ্য ভাইস অ্যাডমিরাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার যাত্রায় এই দুটি অর্জন তাঁর একাডেমিক ও নেতৃত্বের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। মাস্টার্স শেষ করেই উচ্চশিক্ষার পথ থামাননি আকিব। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন তিনি। উচ্চতর গবেষণার এই পর্যায়ে থাকার মধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে পেশাগত ক্যারিয়ারও শুরু করেছেন রুয়েটের সাবেক এই শিক্ষার্থী। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। এর মধ্য দিয়ে একদিকে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে পেশাগত অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে শুরু হওয়া আকিবের পথচলায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেশে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি তৈরি, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স, একাডেমিক ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি, পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা এবং সবশেষে এডব্লিউএসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ক্যারিয়ার। এই ধারাবাহিকতা তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অ্যালামনাই হিসেবে এডব্লিউএসে আকিবের যোগদান বিভাগের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। দেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পৌঁছানোর তাঁর এই পথচলা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনেও নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ তুলে ধরছে। আকিব জাবেদের বর্তমান যাত্রায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য একই জায়গায় এসে মিলেছে। রুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া সেই পথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের পেশাগত অঙ্গনে পৌঁছেছে। তাঁর এই পথচলা শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার অগ্রগতির গল্প নয়। রুয়েটসহ বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে রাশিয়া, প্রথম কিস্তির অর্থ প্রস্তুত
দেশরক্ষায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবেলায় অস্ত্র হাতে ইরানের লাখো নারী
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ, শীর্ষে বন্ধু দেশ ভারত
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ‘এফ-১’ (F-1) ভিসার আবেদনকারী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী দালাল বা এজেন্টের চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি রেডিট (Reddit) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য তার এজেন্ট অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি (প্রায় ২৩০ ডলার) দাবি করে। কিন্তু এই অন্যায্য অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই এজেন্ট তার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয়। রেডিটের ওই পোস্ট অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর ‘আই-২০’ (I-20) ফর্মে ক্লাস শুরুর তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট, ২০২৬। তবে এর আগে ইন্টারভিউয়ের কোনো স্লট না পাওয়ায় এজেন্ট তাকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনে ভর্তির পরামর্শ দেয়। পরে হঠাৎ করেই ওই এজেন্ট জানায় যে, ১৯ অক্টোবরের জন্য একটি ইন্টারভিউ স্লট পাওয়া গেছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি দিতে হবে। এটি সরকারি কোনো ফি কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এজেন্ট সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয় এবং শিক্ষার্থী এর কনফার্মেশনও পান। বর্তমানে মার্কিন ভিসা পোর্টালে তার আবেদনটি ‘ওপেন’ দেখালেও মুম্বাইয়ের জন্য কোনো স্লট খালি নেই। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, এফ, এম এবং জে ভিসার জন্য সরকারি আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের ‘সেভিস’ (SEVIS) ফি দিতে হলেও ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি’ নামে ২৩০ ডলারের কোনো সরকারি চার্জ নেই। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) আবেদনকারীদের সতর্ক করে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা বা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এখন নিজে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, নাকি নতুন আই-২০ ফর্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
সরকারি কর্মকর্তা সেজে বিয়ে, ১৪ ভরি স্বর্ণ-নগদ নিয়ে উধাও নববধূ
৯ ঘণ্টার বিক্ষোভের পর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ফিরে গেলেন প্রতিদিনের পারিবারিক দায়িত্বে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরথ ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও সকালে নিজের সন্তানদের জন্য স্কুল লাঞ্চ তৈরি করেছেন। বিশ্বজুড়ে সম্মান পাওয়ার সেই ব্যস্ত সকালেও বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। ৫ অক্টোবর নোবেল অ্যাসেম্বলি ঘোষণা করে, কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগেম্যান এবং গিওর্গ নাগেল যৌথভাবে ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন। আলোকসংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ডাইসেরথ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক। তিনি হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের একজন গবেষকও। তাঁর গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপটোজেনেটিকস বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে। অপটোজেনেটিকস এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করা যায়। এই পদ্ধতি গবেষকদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষ কীভাবে আচরণ, অনুভূতি ও বিভিন্ন স্নায়বিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে, তা আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিয়েছে। নোবেল জয়ের খবরটি ডাইসেরথ পান ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ডে নিজের বাড়িতে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৭ মিনিটে নোবেল কমিটির প্রথম ফোনটি তিনি ধরতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মিশেল মঞ্জে ডাইসেরথের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানতে পারেন, স্টকহোম থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হচ্ছে। হঠাৎ এত বড় খবর শুনে কিছু সময় কথা বলতেই পারছিলেন না বলে পরে জানিয়েছেন ডাইসেরথ। এরপর শুরু হয় একের পর এক ফোনকল, সাক্ষাৎকার ও অভিনন্দনের বার্তা। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় তাঁকে। কিন্তু সকাল হওয়ার পর তিনি স্ট্যানফোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে প্রায় এক ঘণ্টার বিরতি চান। কারণ তখন তাঁর সন্তানদের ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়ে গেছে এবং স্কুলে যাওয়ার আগে তাদের লাঞ্চ তৈরি করতে হবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নোবেল জয়ের সকালেও ডাইসেরথ প্রতিদিনের মতো সন্তানদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। স্ট্যানফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাড়িতে থাকা তিন সন্তানের জন্য তিনি মোট ছয়টি স্যান্ডউইচ তৈরি করেন। সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিটির উপকরণও ছিল আলাদা। ডাইসেরথের পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে সোফি বাবার নোবেল জয়ের খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ১৩ বছর বয়সী মেয়ে এমাও বাবাকে অভিনন্দন জানায়। তাঁদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে হাডসন বাবাকে অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বড় ছেলে আলেকজান্ডার বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ডাইসেরথের স্ত্রী মিশেল মঞ্জে ডাইসেরথ নিজেও স্ট্যানফোর্ডের একজন বিজ্ঞানী ও শিশু নিউরো অনকোলজিস্ট। নোবেল জয়ের খবর পাওয়ার সেই সকালে পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়ার কিছু মুহূর্ত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ করেছে। কার্ল ডাইসেরথের জন্ম ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিক্যাল সায়েন্সেসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে স্ট্যানফোর্ড থেকে নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি এবং মেডিকেল ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ডে নিজের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি লাস্কার বেসিক মেডিকেল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, কিয়োটো প্রাইজ, ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস, জাপান প্রাইজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। তিন বিজয়ী এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। তবে নোবেল জয়ের সকালটির সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে তাঁর গবেষণাগার বা পুরস্কারের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্ত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও সন্তানদের স্কুলের খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ফিরে যাওয়া ডাইসেরথের সেই মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
রাশিয়ায় ‘প্লেগে দ্বিতীয় মৃত্যুর’ দাবি, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী