সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৮:৪৯
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন  ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর—দুই উপকূল থেকেই একই সঙ্গে তিনটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে 'র‍্যাচেল' (Rachel) ও 'সাইমন' (Simon) নামের দুটি ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে, অন্যদিকে আটলান্টিকের দিক থেকে মেক্সিকো উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসছে 'ইসায়াস' (Isaias)। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল 'ট্রিপল থ্রেট' বা ত্রিমুখী হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড় 'র‍্যাচেল' এই সপ্তাহান্তেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে উত্তর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরাংশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া র‍্যাচেলের প্রভাবে সৃষ্ট আর্দ্রতা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগের দিকে ছড়িয়ে পড়বে, যার ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

 

একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের আরও দক্ষিণাংশে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন সিস্টেম 'সাইমন'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে রূপ নেবে এবং শনিবার মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলে একটি বড় ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন (Major Hurricane) হিসেবে আঘাত হানবে। সাইমনের কারণে মেক্সিকো উপকূলে বিধ্বংসী বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক ভূমিধসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, মেক্সিকোতে সাইমন এবং বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে র‍্যাচেলের হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ইসায়াস'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, রাতের বেলা শক্তি সঞ্চয় করে এটি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সব মিলিয়ে এই ত্রিমুখী ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা, তবে মনের কোণে সযত্নে রয়ে গিয়েছিল ছোটবেলার স্মৃতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই নিজের ছোটবেলার আয়াকে খুঁজে বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি নাগরিক পিয়েরে ডুপন্ট। গত ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই আবেগঘন পুনর্মিলনের খবরটি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।   পিয়েরে যখন একেবারে ছোট ছিলেন, তখন তার পরিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে বসবাস করত। সেখানে আয়েশা নামের এক স্থানীয় নারী পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পিয়েরের পরিবার ফ্রান্সে ফিরে গেলে আয়েশার সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   তবে পিয়েরে কখনোই তার সেই স্নেহময়ী আয়াকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তিনি আয়েশাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পুরনো দিনের অ্যালবামের ছবি ঘেঁটে এবং সাবেক প্রতিবেশীদের সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সেনেগালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি তার সেই প্রিয় আয়ার সন্ধান পান।   খবর পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়েশাকে দেখতে সরাসরি সেনেগালে ছুটে যান পিয়েরে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে তারা দুজনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়।   আয়ার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে পিয়েরে তাকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৯ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি আয়েশার শেষ বয়সের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে তার জন্য একটি স্থায়ী মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছেন এই ফরাসি নাগরিক।   প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে আয়েশা তার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ছোটবেলার একজন আয়ার প্রতি এমন অভাবনীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীতে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৯:৭
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন  ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

চীনে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে বিলবোর্ডে তারকাদের বদলে বিজ্ঞানীদের ছবি

চীনে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে বিলবোর্ডে তারকাদের বদলে বিজ্ঞানীদের ছবি, বাংলাদেশে কবে?

ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এই ঘোষণা দেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিধিমালা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর আওতায় থেকেই সম্পূর্ণ আইনিভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   মোহাম্মদ এসলামি আরও জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে এবং এটিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের মূল ভিত্তি হওয়ায় এ নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।   এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই তাদের জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাই ইরানের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন নেতিবাচক দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা।   মূলত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোহাম্মদ এসলামির এই কঠোর বার্তা সামনে এলো। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বৈধ অধিকার।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:১
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা

বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে

যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের ভুল সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী। ছবি: সংগৃহীত

টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদার, বিপদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলী দম্পতির পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন স্বেচ্ছাসেবীরা

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার বিশিষ্ট লেখক অ্যান কার্সন। ছবি: সংগৃহীত
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক

চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, গদ্য, নাটক ও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর সৃজনশীল ও পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত।   সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য অ্যান কার্সনকে এবারের পুরস্কারে নির্বাচিত করা হয়েছে।   পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।   ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কার্সন। ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা তাঁর চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।   কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কার্সনের সাহিত্যকর্ম শুধু কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখায় একই সঙ্গে পাওয়া যায় কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়। কোনো একটি সাহিত্যধারার নিয়ম মেনে লেখার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ধারাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে নতুন ধরনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন।   অ্যান কার্সনের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। কবিতার আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি।   বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল রঙের এক দানব হিসেবে পরিচিত এই চরিত্রকে কার্সন তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তাঁর লেখায় গেরিয়নের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে।   সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির আরেকটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এই বইয়ের রচনাগুলো নির্দিষ্ট কোনো ক্রম অনুসরণ না করেও পড়া যায়। প্রচলিত বইয়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক।   কার্সনের ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইটিও তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখার পরিচয় বহন করে। এতে সাহিত্য, শিল্প, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন উপাদান স্থান পেয়েছে। তাঁর অনেক লেখায় নাট্যরীতি ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রভাবও দেখা যায়।   প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে অ্যান কার্সনের। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে তাঁর অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া সফোক্লিস ও ইউরিপিডিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারের রচনাও অনুবাদ করেছেন তিনি।   অনুবাদের ক্ষেত্রেও শুধু মূল ভাষার অর্থ তুলে ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্সন। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক পাঠকের কাছে কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে, সেটিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ নামের দীর্ঘ কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিশ্লেষণ এবং কবিতার ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন তিনি।   লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যশিল্প, নৃত্য, সংগীত, অপেরা ও থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন অ্যান কার্সন। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি।   তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার ব্যবহার। একটি শব্দের উৎপত্তি, তার অর্থের পরিবর্তন এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শব্দটি কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করে, এসব বিষয় নিয়ে কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অনেক সময় শব্দের ইতিহাস থেকেই তাঁর নতুন লেখার ভাবনা তৈরি হয়েছে।   দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি টি এস এলিয়ট পুরস্কার, গ্রিফিন কবিতা পুরস্কার এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই লেখক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সত্তর বছর বয়সের পর বক্সিং অনুশীলনও শুরু করেন তিনি।   নোবেল পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অবস্থান করা এই লেখক পুরস্কার ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন।   অ্যান কার্সন সাহিত্যে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক। এর আগে ২০১৩ সালে কানাডার ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো এই সম্মাননা অর্জন করেন। এবারের পুরস্কারের মাধ্যমে কানাডার সাহিত্য আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল।   ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ একাডেমি প্রতিবছর বিশ্বসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করে।   অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেননি। বরং সেই সাহিত্য থেকে চরিত্র, ভাষা ও ভাবনা গ্রহণ করে আধুনিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন।   কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে লেখালেখির নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৫১
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে মালালার সঙ্গে ডিনারে অংশ নিলেন প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল

ইসলাম গ্রহণ করা ছেলেকে ওমরাহ পালনে মক্কায় পাঠাল তামিলনাড়ুর হিন্দু পরিবার

ইসলাম গ্রহণ করা ছেলেকে ওমরাহ পালনে মক্কায় পাঠাল তামিলনাড়ুর হিন্দু পরিবার

ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার পরের দৃশ্য

রাশিয়ার প্রযুক্তি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন হা ম লা, ইউক্রেনে রুশ হা ম লায় নি হ ত বহু মানুষ

0 Comments