দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক, ইরানের নিরাপত্তায় দোয়া কামনা মোজতবা খামেনির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বার্তাটি প্রকাশ করে।
মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। ইরানের বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসীমা, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁর ভাষায়, ইরানের পুলিশ বাহিনী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মধ্যেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও সদস্যরা বিকল্প উপায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি পুলিশ স্টেশন ও স্থায়ী কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এবং যানবাহনের মধ্য থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন।
খামেনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। অথচ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পেছনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তবুও তাঁদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মূল্য রয়েছে।
বার্তায় জনগণের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা সমাজেরই অংশ। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যদের মতো তাঁরাও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন।
সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খামেনির মতে, পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়।
একই সঙ্গে ইরানের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু জনবল বৃদ্ধি কিংবা প্রচলিত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায়ও উন্নতি আনতে হবে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
খামেনি বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে পারে।
তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইরানের পুলিশপ্রধানসহ বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার জন্য ইরানি জাতি কৃতজ্ঞ।
বার্তার শেষ অংশে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে পুলিশের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি সফল হবেন। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য প্রচলিত শিয়া ধর্মীয় প্রার্থনাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিয়া ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী হলেন দ্বাদশ ইমাম, যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে শিয়া মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। মোজতবা খামেনির এই বার্তাতেও সেই ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে তিনি ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পুলিশ বাহিনীর অবদান, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পটভূমিতে তাঁর এই বার্তায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনিজেদের বিয়েতে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজের আয়োজন না করে সেই অর্থ দিয়ে প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার খাইয়েছিলেন তুরস্কের এক নবদম্পতি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের সঙ্গে জীবনের বিশেষ দিনটির আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। শুধু খাবারের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি, বিয়ের পোশাক পরে নিজেরাই শরণার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে ঘটে যাওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই নবদম্পতি হলেন ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাত। তুরস্কের কিলিস শহরে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সাধারণত বিয়ের দিন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ধরনের ভোজের আয়োজন করা হয়। তবে ফেতুল্লাহ ও এসরা নিজেদের বিয়ের দিনটি অন্যভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। অতিথিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ তাঁরা ব্যয় করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আশ্রয় নিতে আসা মানুষের খাবারের পেছনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ জমিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ নিজেদের অতিথিদের আপ্যায়নের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে ব্যবহার করেন নবদম্পতি। এতে তাঁদের বিয়ের আনন্দের অংশ হয়ে ওঠেন প্রায় চার হাজার অসহায় মানুষ। সে সময় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবেশী তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কিলিস শহরটি যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। অনেক শরণার্থী নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা কাজ করছিল। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলু ছিলেন তুরস্কের মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক। শরণার্থীদের দুর্দশা তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ছেলের বিয়ের আনন্দ ভিন্নভাবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, আশপাশে এত মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছেন, এমন সময় শুধু আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ভোজের আয়োজন করার পরিবর্তে অসহায় মানুষদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া বেশি অর্থবহ হবে। আলি তাঁর ছেলে ও হবু পুত্রবধূকে বিয়ের খাবারের জন্য রাখা অর্থ শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করার পরামর্শ দেন। প্রথমে এই প্রস্তাব শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন এসরা পোলাত। কারণ নিজের বিয়ের দিনটি ঘিরে তাঁরও কিছু প্রত্যাশা ছিল। তবে পরে তিনিও এই উদ্যোগে সম্মতি দেন। এরপর নবদম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের আনন্দ নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শরণার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর মুখপাত্র হাতিসে আভজি নবদম্পতির উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানান, বিয়ের জন্য পরিবারের জমানো অর্থ শরণার্থীদের খাবার সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটি তখন কিলিস শহর ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত। বিয়ের দিন নবদম্পতির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করে সংস্থাটি। খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় তাদের একটি বিশেষ খাবারবাহী ট্রাক। সেখানে প্রায় চার হাজার শরণার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি নিজেরাও খাবার বিতরণের কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তাঁরা, সরাসরি শরণার্থীদের কাছে গিয়ে খাবার পরিবেশন করেন। সেই দিনের প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, এসরা সাদা বিয়ের পোশাক পরে শরণার্থীদের খাবার দিচ্ছেন। তাঁর মাথায় ছিল বিয়ের সাজের বিশেষ অলংকার। অন্যদিকে বর ফেতুল্লাহও বিয়ের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরেই খাবার বিতরণ করছিলেন। বিয়ের প্রচলিত ভোজের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবার পরিবেশনের এই দৃশ্য দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মু নবদম্পতির খাবার বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর সেসব ছবি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ব্রিটেনের দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং আইটিভি নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি নিউজের ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনে এসরা পোলাত দিনটিকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রকৃত অর্থে যাঁদের খাবারের প্রয়োজন, তাঁদের সঙ্গে নিজেদের বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রচলিত বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল। বর ফেতুল্লাহও শরণার্থী শিশুদের মুখে আনন্দ দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের নতুন জীবন শুরু করতে পারা ছিল বিশেষ অনুভূতির। বিয়ের দিনটি শুধু নিজেদের জন্য নয়, অন্য মানুষের জন্যও আনন্দময় করে তুলতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলুও ছেলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। শরণার্থীদের কঠিন পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, ছেলের বিয়ের এই উদ্যোগ অন্য মানুষদেরও জীবনের বিশেষ দিনে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। ২০১১ সালে দেশটিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ নিরাপত্তার সন্ধানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁদের একটি বড় অংশ তুরস্কে প্রবেশ করেন। সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে শরণার্থীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কিলিসে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা শরণার্থীদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের অর্থ শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে নবদম্পতির সরাসরি খাবার বিতরণের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, ফেতুল্লাহ ও এসরা শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেননি। বিয়ের পোশাক পরেই তাঁরা শরণার্থীদের কাছে যান এবং নিজের হাতে খাবার তুলে দেন। কোনো পৃথক দাতব্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নিজেদের বিয়ের দিনেই এই আয়োজন করেছিলেন তাঁরা। ফলে ব্যক্তিগত আনন্দের সঙ্গে মানবিক সহায়তার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাতের এই উদ্যোগ সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়। তাঁদের বিয়ে এবং প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার বিতরণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ছবিগুলোতে ধরা রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনের স্মৃতি। যেখানে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের নিয়ে বড় ভোজের পরিবর্তে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো হাজারো মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফেতুল্লাহ ও এসরার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত আনন্দকে অসহায় মানুষের সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ হয়ে আছে। নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে তাঁরা উদযাপন করেছিলেন শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়ে। বিয়ের পোশাক পরে হাজারো মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যই তুর্কি নবদম্পতির উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত করে তুলেছিল।
দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক, ইরানের নিরাপত্তায় দোয়া কামনা মোজতবা খামেনির
চীনের রাস্তায় ময়লার নোংরা স্তূপ দেখে ভারতীয় পর্যটকের প্রশ্ন, শুধু ভারতই কেন বদনাম?
নেদারল্যান্ডসে হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তুতিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী
শিক্ষক সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলন টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুলগুলো অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি স্কুলের কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলোতে লাখো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে মিছিল শুরু করেছে। এর আগে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রেন শহরের একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভরত ১৮ বছর বয়সী হানা এএফপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। সালিনা নামের ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল এবং এমন একটি জরুরি বিষয় মাসের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার মতো কোনো বিষয় নয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়েও দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ইংরেজি শিক্ষক শার্লট বোবো পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'অতিরিক্ত কঠোর' বলে মন্তব্য করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন ফরাসি রাজনীতিতে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মারিন ল্য পেন দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা স্কুলের যে ক্ষতি করেছে তার মেরামতের খরচ তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থি প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে পুলিশের 'বর্বর আচরণের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ ও দাবি জানানোর জন্য চালু করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই ৪৩ হাজারের বেশি সাড়া পড়েছে। বিএফএম টিভির জন্য এলাবের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ চান দ্রুত এই বিক্ষোভের অবসান হোক।
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত
রাস্তার ধারের বিশাল বিলবোর্ডে সাধারণত চলচ্চিত্র তারকা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের কিছু শহর এই পরিচিত দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারকার বদলে সেখানে এখন জায়গা পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা, মেট্রো স্টেশন ও ব্যস্ত সড়কের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের যুগান্তকারী সব অবদানের কথা। এই তালিকায় রয়েছেন চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কিয়ান শুয়েসেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানী দেং জিয়াশিয়ান এবং কিংবদন্তি কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। তাঁদের এই কাজগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জনসমাগমের স্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের পরিচিতি বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চীনের এই উদ্যোগ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা আগামী প্রজন্মের সামনে কাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছি? কেবল বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারিগরদের কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? বিজ্ঞানীদের এই ধরনের জনস্বীকৃতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও যদি বিজ্ঞানীদের অবদানকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করা যায়, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা