হোয়াইট হাউসের গাভীকে জবাইখানা থেকে উদ্ধার, দুধ চুরি করেছিলেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের একটি গাভী ট্রেনে করে প্রদর্শনীতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, একবার এক শিক্ষক হোয়াইট হাউসের লনে ঢুকে গোপনে ওই গাভীর দুধ দোহন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফটের আমলে পলিন ওয়েন নামের গাভীটিকে ঘিরে ঘটেছিল এসব ঘটনা। এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো সেই কাহিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণে পলিন ওয়েনকে ঘিরে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে গাভী পালন করা হতো। সেখান থেকেই প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ ও মাখনের ব্যবস্থা করা হতো। পলিন ছিল এমনই একটি গাভী, যেটি পরবর্তী সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফট ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর সময়েই হোয়াইট হাউসে পলিন ওয়েনের আগমন ঘটে। তবে পলিনই সেখানে প্রথম গাভী ছিল না। এর আগে প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত মুলি উলি নামের আরেকটি গাভী। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৯১০ সালে অতিরিক্ত ওটস খাওয়ার পর গাভীটি মারা যায়।
মুলি উলির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নতুন গাভীর ব্যবস্থা করেন উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর আইজ্যাক স্টিফেনসন। নিজের খামার থেকে হলস্টেইন জাতের পলিন ওয়েনকে উপহার হিসেবে পাঠান তিনি। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১০ সালের ৩ নভেম্বর গাভীটি ওয়াশিংটনে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে দুধ সরবরাহের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পরিবারের বিশেষ পোষা প্রাণী হিসেবেও পরিচিতি পায় পলিন।
উইসকনসিন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেনে করে রাজধানীতে আনা হয় গাভীটিকে। ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনে হোয়াইট হাউসের কর্মীরা সেটিকে গ্রহণ করেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ভবনের আস্তাবলে। পরে হোয়াইট হাউসের কাছের সবুজ লনে ঘাস খাওয়ার সুযোগ পায় পলিন। পরদিনই মার্কিন সংবাদমাধ্যমে তার আগমনের খবর প্রকাশিত হয়।
পলিন ছিল উন্নত জাতের দুধ উৎপাদনকারী গাভী। তৎকালীন সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে আসার সময় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত গ্যালন বা ২৮ লিটার দুধ দিত সে। পরবর্তী সময়ে তার দুধ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহে গাভীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে থাকার সময় একটি বাছুরের জন্ম দেয় পলিন। বাছুরটির নাম রাখা হয় বিগ বিল। পরে সেটিকে মেরিল্যান্ডের একটি খামারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট পরিবারের গাভী হিসেবে পলিনের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। তার চলাফেরা থেকে শুরু করে দুধ উৎপাদন, সবকিছুই তখন সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
১৯১১ সালে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক দুগ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য পলিনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই যাত্রায় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। প্রেসিডেন্টের গাভীটিকে একটি বিশেষ রেলবগিতে করে পাঠানো হচ্ছিল। একই ট্রেনের সঙ্গে আরও কয়েকটি পশুবাহী বগি যুক্ত ছিল, যেগুলোর গন্তব্য ছিল শিকাগোর পশুর বাজার ও জবাইখানা।
যাত্রাপথে রেলকর্মীদের ভুলে পলিনকে বহনকারী বগিটি অন্যদিকে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে গাভীটি নিখোঁজ হয়ে পড়ে। পলিনকে খুঁজে না পেয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মী ও প্রদর্শনীর আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে গাভীটির অবস্থান জানার চেষ্টা শুরু হয়।
প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর পলিনকে শিকাগোর পশুর বাজারসংশ্লিষ্ট একটি স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে কর্মীদের বোঝানো হয়, এটি সাধারণ কোনো গাভী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে জবাই হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
এই ঘটনাটি সে সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। একটি রেলবগির ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রেসিডেন্টের গাভী প্রায় জবাইখানায় পৌঁছে গিয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ও মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
তবে পলিনকে ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ১৯১২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে আরেকটি ঘটনা। এবার গাভীটি নিখোঁজ হয়নি, বরং তার দুধ নিয়ে ঘটে এক অভিনব কাণ্ড। ঐতিহাসিক সংবাদপত্র মিলওয়াকি সেন্টিনেলের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়াম জানায়, ওহাইও থেকে ওয়াশিংটনে বেড়াতে আসেন কৃষিবিষয়ক একজন শিক্ষক।
হোয়াইট হাউসের দক্ষিণের লনে পলিনকে ঘাস খেতে দেখে ওই শিক্ষকের কৌতূহল হয়। আশপাশে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি না দেখে তিনি গাভীটির কাছে এগিয়ে যান। এরপর গোপনে পলিনের দুধ দোহন করেন। তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, শিক্ষক পরে দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের গাভীর দুধের স্বাদ সম্পর্কে তিনি যেমন শুনেছিলেন, বাস্তবেও তেমনই ভালো লেগেছে তাঁর।
তবে ওই শিক্ষক গাভীটিকে চুরি করে নিয়ে যাননি। তিনি গোপনে গাভীটির দুধ দোহন করেছিলেন। এ কারণে ঘটনাটিকে গাভী চুরির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের গাভীকে ঘিরে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা তখন সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়।
পলিনের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছিল যে তার দুধ উৎপাদন, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও দৈনন্দিন চলাফেরার খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ছবিতেও গাভীটির উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সংগ্রহে সংরক্ষিত ছবিতে প্রেসিডেন্ট ভবনের আশপাশের লনে পলিনকে দেখা যায়।
সেই সময় হোয়াইট হাউসের আস্তাবলে ঘোড়ার পাশাপাশি গাভী রাখার ব্যবস্থাও ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের শাসনামলে মোটরগাড়ির ব্যবহার শুরু হওয়ায় ভবনটির পরিবহনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছিল। ১৯১১ সালে পুরোনো আস্তাবল ও গ্যারেজসংক্রান্ত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার ইতিহাসও রয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যেও পলিন হোয়াইট হাউসে থাকতে থাকে।
দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে থাকার পর পলিনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, ওয়াশিংটনের পরিবেশ ও ব্যস্ততার মধ্যে গাভীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় সেটিকে আবার উইসকনসিনের আগের খামারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পলিনকে উইসকনসিনের খামারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গাভীটির অবসরজীবন কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ সরবরাহ করা গাভীটির বিদায়ের খবরও সে সময় মার্কিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।
পলিন ওয়েনকে হোয়াইট হাউসে বসবাসকারী সর্বশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল গাভী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে সরকারি বাসভবনে কুকুর, বিড়াল ও পাখিসহ নানা ধরনের পোষা প্রাণী রাখা হয়েছে। তবে দুধ সরবরাহকারী গাভী হিসেবে পলিনের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসে আলাদা।
হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের সময় ভবনটির দক্ষিণের লনে ভেড়াও চরানো হতো। এসব ভেড়া ঘাস ছোট রাখার কাজে ভূমিকা রাখত। পরে ভেড়ার পশম বিক্রি করে রেডক্রসের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল পেট মিউজিয়ামের সংগ্রহে পলিনের ব্যবহৃত গলার ঘণ্টাটিও সংরক্ষিত রয়েছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি হোয়াইট হাউসের অতীত জীবনের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সেই সময়ের পরিবেশের পার্থক্যও এসব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে উঠে আসে। যে লনে একসময় প্রেসিডেন্টের গাভী ঘাস খেত এবং পরিবারের জন্য দুধ সরবরাহ করত, সেই ভবনেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্যাফটের আমলের পলিন ওয়েনের গল্প তাই শুধু একটি গাভীর ইতিহাস নয়। ট্রেনে নিখোঁজ হয়ে জবাইখানায় পৌঁছে যাওয়া, সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া এবং এক শিক্ষকের গোপনে দুধ দোহনের মতো ঘটনা হোয়াইট হাউসের শত বছরের পুরোনো দৈনন্দিন জীবনের অপ্রত্যাশিত অধ্যায়গুলোও সামনে নিয়ে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। জেলার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় স্যুটটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই সংযোগ সামনে আসে। গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের ধরন এবং স্যুটের ব্র্যান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মার্কিন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জস এ ব্যাংকের স্যুট পরার বিষয়টি সামনে আসার পর সেটির উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত ৮ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের স্যুটের উৎপাদনস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নাম নিশ্চিত করা হয়নি। এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, ট্রাম্পের পরা নেভি ব্লু স্যুটটি তাঁদের কারখানাতেই তৈরি হয়েছে। শরীফ জহিরের মতে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী দামের স্যুট পরা দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের পোশাক তৈরিতে দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় স্যুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পুরুষদের স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল ট্রাউজার, ওয়েস্টকোট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ পিস পুরুষদের পোশাক উৎপাদন করে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক কাটিং মেশিন, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং যন্ত্রপাতি এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদমজীর কারখানাটির আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। এখানে কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের স্যুট তৈরির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোশাক তৈরি করছে কারখানাটি। বিশেষ করে স্যুটের মতো তুলনামূলক জটিল ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার একটি উদাহরণ এই প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য সাধারণ পোশাক রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যুট, ব্লেজার এবং বিশেষায়িত ফরমাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আদমজীর ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার সেই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এদিকে ট্রাম্পের স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমেরিকান পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প নিজে স্যুটটির উৎপাদনস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর দপ্তর থেকেও স্যুটটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক বিশ্বের একাধিক দেশে উৎপাদিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হলেও উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হয় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কারখানায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার ফলে নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের অবদান। বিশেষ করে স্যুটের মতো পোশাক তৈরিতে নিখুঁত কাটিং, সেলাই, ফিটিং ও ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়। আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় এখানে ছিল ঐতিহাসিক আদমজী পাটকল। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করছে। নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় তৈরি স্যুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দাবি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য উৎপাদনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ও কারখানাগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীর দক্ষ কারিগরদের শ্রম। আর সেই সূত্রেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত
একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহবুব রহমান নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর মাহবুব রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ওয়ারেন পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার সময় অন্য কোনো যানবাহন জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মাহবুব রহমানের বয়স, মিশিগানে তাঁর বসবাসের সময়কাল কিংবা পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
টহল দিতে গিয়ে আহত পেঁচার দেখা, উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা
সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো ডায়রিয়া প্রকট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না ফল
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন ডেনভারের বাসিন্দা পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী ট্রান্সজেন্ডার নারী ক্যারিস ক্যাসিডি। ছোটবেলা থেকেই ইউরোপে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও প্রবল হয়। নিউজউইককে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেও আমেরিকায় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিভাজন ছিল এবং এখানকার তুলনায় ইউরোপে সামাজিক গতিশীলতা অনেক বেশি। আমেরিকায় সাধারণ মানুষের কাছে কেবল একটাই প্রত্যাশা থাকে যে তারা সারাজীবন কাজ করে যাবে। কেউ নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলে তাকে বিশাল ঋণের বোঝায় পড়তে হয় অথবা জীবনের অন্যান্য আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে মনে করেন ক্যাসিডি। ইউরোপকে নিজের স্বপ্ন পূরণের একটি আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করতেন ক্যাসিডি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার একজন পূর্বপুরুষ উনিশ শতকে লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এই সূত্র ধরেই প্রায় ছয় লাখ একানব্বই হাজার মানুষের ছোট ও স্থলবেষ্টিত দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব দাবি করার সুযোগ পান তিনি। দেশটির আইন অনুযায়ী, ১৮১৫ সাল বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো পূর্বপুরুষের সাথে অবিচ্ছিন্ন পুরুষ বংশানুক্রমিক সম্পর্ক থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী সন্তানরাও নারীদের মাধ্যমে এই নাগরিকত্ব পেতে পারেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর অবশেষে গত মার্চ মাসে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব লাভ করেন ক্যাসিডি। লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য কোনো ভাষা পরীক্ষা দেওয়া বা দেশটিতে ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা নেই। নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার কারণেই তিনি দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আমেরিকানই এখন বিকল্প পাসপোর্ট হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে এই ছোট্ট ইউরোপীয় দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য মার্কিনিদের আবেদন বহুগুণ বেড়ে গেছে। জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে তিন হাজার পাঁচশো চুয়াত্তর জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বছর ৬৫৭ জন মার্কিনি স্বেচ্ছায় আবেদনের মাধ্যমে নতুন নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। বাকিরা জন্মসূত্রে বা ১৯৪৮ সালের এপ্রিলের আগে দেশটিতে জন্মের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। নেব্রাস্কার বাসিন্দা ড্যানিয়েল অ্যাটজও একইভাবে ইউরোপে বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন এবং ২০০৮ সালের লুক্সেমবার্গের জাতীয়তা আইন তাকে সেই সুযোগ এনে দেয়। ওই আইন অনুযায়ী, ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা কোনো লুক্সেমবার্গ নাগরিকের বংশধররা তাদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পান। অ্যাটজ ২০১৪ সালে তার নাগরিকত্ব ফিরে পান এবং সেখানে নিজের হারিয়ে যাওয়া ইউরোপীয় আত্মীয়দের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি নিউজউইককে জানান, লুক্সেমবার্গের এই পরিবারটি তাকে অনেক মানসিক সমর্থন দিয়েছে এবং এই নাগরিকত্ব তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বর্তমানে অ্যাটজ লাক্সসিটিজেনশিপ ডটকম নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্যান্য আমেরিকানদের লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিনিদের মধ্যে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আর এখন প্রতি তিন মাসে প্রায় নয়শ জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অ্যাটজ জানান, ক্যাসিডির মতো এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে ভীত এবং তারা ইউরোপে স্থায়ী হতে চাইছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার হার বাড়লেও এর মানে এই নয় যে আমেরিকানরা দলে দলে লুক্সেমবার্গে গিয়ে বসবাস শুরু করছেন। লুক্সেমবার্গ ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ এবং সেখানে সব ধরনের পেশার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ নেই। তাই অনেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের টিকিট হিসেবে এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। অ্যাটজ জানান, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নব্বই শতাংশেরও বেশি মানুষ স্প্যানিশ, পর্তুগিজ বা ফরাসি শহরগুলোতে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি নিজেও লুক্সেমবার্গে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও আর্থিক দিক বিবেচনায় তিনি ইউরোপের অন্য কোনো দেশে বাস করার কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে বসবাসকারী অনেক আমেরিকান তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন এবং এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে ক্যাসিডি এখনই নিজের মার্কিন পাসপোর্ট ছাড়তে রাজি নন। তিনি বলেন, অনেক খারাপ ঘটনা ঘটলেও হয়তো আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তার ভেতরের আমেরিকান সত্তা এখনও আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং একটি সুন্দর সমাপ্তি দেখা যাবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটে, তা সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি। উৎস: নিউজউইক
বাড়ির সামনে থেকে সরে যেতে বলায় বৃদ্ধকে মারধর, ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিবিদ্ধ আইসিই কর্মকর্তা
ফোবানার ২০২৬–২০২৭ কমিটির যাত্রা শুরু, আগামী বছরের হিউস্টন সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ