- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
দাবার জগতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ভারতীয় কিশোরী বোধনা শিবনন্দন। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে অংশ নিয়ে সে 'ওমেন গ্র্যান্ডমাস্টার' (ডব্লিউজিএম) খেতাব অর্জন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল চেস ফেডারেশন (ফিদে) নিশ্চিত করেছে যে, এই সম্মানজনক খেতাব অর্জনকারী বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী দাবাড়ু এখন বোধনা। দাবা অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বাঘা বাঘা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ১১টি গেমের মধ্যে ৮ পয়েন্ট অর্জন করে সে তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত ‘নর্ম’ পূরণ করেছে। এই বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে বোধনা ভেঙে দিয়েছে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার হয়ে খেলা ক্যাটেরিনা লাগনো। পরবর্তীতে চীনের হাউ ইয়েফানও ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতেছিলেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সেই শীর্ষ বোর্ডের খেলায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বোধনা। পড়াশোনার পাশাপাশি দাবায় এমন নজরকাড়া সাফল্যের পর লিচেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিশোরী জানায়, শনিবার নর্ম অর্জনের বিষয়টি বুঝতে পারলেও সে যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই রেকর্ড গড়েছে, তা সে জানত না। তবে খবরটি শোনার পর সে দারুণ আনন্দিত। বোধনার দাবা খেলার শুরুটা হয়েছিল বেশ চমকপ্রদভাবে। করোনা মহামারির সময় তার বাবার এক বন্ধু ভারতে যাওয়ার আগে নিজেদের বাড়িতে একটি দাবা বোর্ডসহ কিছু জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দাবার ঘুঁটিগুলোর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় পাঁচ বছর বয়সী বোধনার। এখন দাবা খেলাকে সে এতটাই উপভোগ করে যে, এটি তার গণিত ও হিসাব-নিকাশের মতো স্কুলের পড়াশোনাতেও সাহায্য করছে বলে জানায় সে। ব্রিটিশ রাজনীতিক র্যাচেল রিভস এক্সে (সাবেক টুইটার) এই খুদে সুপারস্টারের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় বোধনা; ফিদে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে খেলা চালিয়ে যেতে এবং আরও নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে হোয়াইট হাউসের 'জেমস এস. ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং রুম' ভেঙে পুনরায় সেখানে একটি সুইমিং পুল তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বর্তমান প্রেস রুম এবং স্বর্ণখচিত একটি সুইমিং পুলের 'আগে ও পরে' অবস্থার ছবি পোস্ট করে তিনি গণমাধ্যমকে একপ্রকার উপহাস করেছেন। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো'র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পরপরই এই ঘটনা ঘটলো। সম্প্রতি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ টিমোথি কেলি এক আদেশে হোয়াইট হাউসকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন অন্তত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের পুলভুক্ত শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং এনবিসি—সাময়িকভাবে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রেস রুমটির নিচে মূলত একটি ইনডোর সুইমিং পুলের কাঠামো রয়েছে। পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৩৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের জন্য এই পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হ্যারি ট্রুম্যান, জন এফ. কেনেডি এবং লিন্ডন জনসনের মতো প্রেসিডেন্টরাও এটি নিয়মিত ব্যবহার করতেন। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পুলটির ওপরে ফ্লোরিং করে বর্তমান ব্রিফিং রুমটি তৈরি করেন, যা পরে রোনাল্ড রিগ্যানের প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডির নামে নামকরণ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের ওপর গুপ্তহত্যার চেষ্টাকালে জেমস ব্র্যাডি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউস ও এর আশেপাশে ব্যাপক সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাম রুম, নর্থ পোরটিকো, ৪০ কোটি ডলারের বলরুম এবং সাউথ লনে নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণ তার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়ালের ভাস্কর্যগুলোর সংস্কারেও তিনি কাজ করছেন। তবে সাংবাদিকদের জন্য প্রেস রুমটি সংস্কারের কোনো ইচ্ছা তার নেই। গত বছর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ রসিকতার সুরেই বলেছিলেন, "আমি এটি করতে চাই না। আমি চাই না আপনারা এখানে আরামে থাকুন।"
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে। জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি শহরের কাছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক ডেভেলপার কোম্পানি। স্থানীয়দের রাজি করাতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হেজেল টাউনশিপের ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দাকে চিঠি দিয়ে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি এই প্রস্তাব দেয়। শহরটির গড় পারিবারিক আয় যেখানে ৬০ হাজার ডলার, সেখানে মোট ৪৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রস্তাব স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারতো। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই অর্থ দিয়ে অনায়াসেই কয়েক মাসের বাসাভাড়া বা দীর্ঘদিনের মুদি ও জ্বালানি খরচ মেটানো সম্ভব। এত লোভনীয় প্রস্তাবের পরও বেশিরভাগ বাসিন্দা এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারটি নির্মিত হলে এলাকায় শব্দ ও আলোক দূষণ বাড়বে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। প্রস্তাবটিকে অনেকেই ডেটা সেন্টারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য নিছক ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। ডেটা সেন্টারের প্রস্তাবিত এলাকার কাছের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জেফ ফাসনাচট জানান, ডেটা সেন্টার হলে তার সম্পত্তির যে পরিমাণ দাম কমবে, এই ১০ হাজার ডলার তার কাছে কিছুই নয়। আরেক বাসিন্দা এড নেগ্রা মনে করেন, সরাসরি নগদ অর্থের এই প্রস্তাব ডেভেলপারদের জন্য বুমেরাং হতে পারে, কারণ এতে মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। গত মে মাসের একটি গ্যালাপ জরিপে দেখা যায়, মানুষ তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টারের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেও বেশি সমর্থন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেভেলপাররা স্থানীয় উৎসবগুলোতে স্পন্সর করার পাশাপাশি স্কুল বা ফায়ার সার্ভিস তহবিলে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করছে। নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস জানান, স্থানীয়দের 'এতে আমাদের কী লাভ'—এমন প্রশ্নের জবাবেই এই নগদ অর্থের প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে শহরের পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য খাতে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। চার্লি লেশকোর মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ কেউ বাড়ি বা গাড়ি কেনার আশায় এই প্রস্তাবে কিছুটা আগ্রহী হলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত এটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন স্থাপনার কোনো প্রয়োজন নেই। ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের এই প্রবল আপত্তির প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও। জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে উভয় দলের নেতারাই এখন ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িক স্থগিত করেছেন এবং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুল বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো ডেভেলপারদের 'শোষণমূলক' আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) সই করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই পাঁচ তরুণ ব্রিটেনের নাগরিক এবং তারা লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। এর আগে রবিবার ভোরে বিস্ফোরকভর্তি তিনটি ভ্যানসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত গ্লুচেস্টারের হোয়েলফোর্ড গ্রামের এক স্থানীয় কৃষকের বুদ্ধিমত্তায় এই সম্ভাব্য হামলার ছক ভেস্তে যায়। রবিবার ভোরে একটি পার্টি থেকে ফেরার পথে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী কৃষক দেখতে পান, মাস্ক ও বালাক্লাভা পরা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি তিনটি সাদা ভ্যান ফেলে মাঠের ভেতর দিয়ে ঘাঁটির দিকে ছুটে যাচ্ছে। ভ্যানের গায়ে লেখা ‘ফুয়েল টু ইউ’ কোম্পানির নাম এবং একটি অসম্পূর্ণ ফোন নম্বর দেখে তার সন্দেহ আরও তীব্র হয়। তিনি দ্রুত গ্রামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সতর্কবার্তা পাঠান এবং পুলিশকে খবর দেন। দশ মিনিটের মধ্যেই সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশ। তবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্যে নতুন করে 'ইরানভীতি' ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট খবর প্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম বিভাগের প্রধান লরেন্স টেলর এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত জটিল ও বড় পরিসরের একটি তদন্ত। ঘটনার নেপথ্যের উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তবে সন্দেহভাজনরা আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং কৃষকের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, ঘাঁটিতে ফোন করে সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে কৃষকের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে ওই কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত ছিল আরও সতর্ক থাকা। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। গত জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘাঁটিকে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার জেরে সম্প্রতি সেখানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের মোগি গুয়াসু শহরে ক্যানসারে আক্রান্ত মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে। ২৮ বছর বয়সী সিবেলে ফার্নান্দা মার্চিস প্রথমে মারা যান। এর প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মারা যান তার ৫৬ বছর বয়সী মা মারিয়া এলিজাবেতে নোগেইরা। দুইজনই আলাদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে একই দিনে তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সিবেলে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মারা যান। তিনি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার মা মারিয়া তখন মোগি গুয়াসুর অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখা হয়েছিল। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৮ মিনিটের দিকে মারিয়াও মারা যান। দুই মৃত্যুর ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ ঘণ্টা। মা-মেয়ে দুজনের ক্যানসার ছিল ভিন্ন ধরনের। সিবেলের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির ক্যানসার ছিল, যা তুলনামূলকভাবে বিরল। অন্যদিকে মারিয়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তারা একই শহরের দুটি আলাদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও মেয়ে দুজনেই এমন পরিস্থিতির কথা আগে বলেছিলেন যে একজনের মৃত্যু হলে অন্যজন যেন তা জানতে না পারেন। সিবেলে মারা যাওয়ার সময় মারিয়া অন্য হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। ফলে মেয়ের মৃত্যুর খবর তিনি জানতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টা পর মারিয়ার মৃত্যুর খবরও পরিবার জানতে পারে, যখন তারা সিবেলের শেষ বিদায়ের আয়োজন করছিল। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, মা ও মেয়ের মধ্যে গভীর বন্ধন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন এবং একে অন্যের ওপর নির্ভর করতেন। মৃত্যুর ব্যবধান এত কম হওয়ায় পরিবারকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরপর দুটি শোকের সংবাদ সামলাতে হয়। সিবেলের বয়স ছিল ২৮ বছর। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি পেশায় উদ্যোক্তা ছিলেন এবং নিজের অসুস্থতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের অভিজ্ঞতা ও জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরতেন। মারিয়া এলিজাবেতে নোগেইরা স্থানীয়ভাবে ‘বিয়া নোগেইরা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তার বয়স ছিল ৫৬ বছর। তিনি মেয়ের অসুস্থতার পাশাপাশি নিজেও ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। দুইজনের চিকিৎসা চলছিল আলাদা হাসপাতালে এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনেরই মৃত্যু হয়। মা ও মেয়ের মৃত্যুর পর পরিবার দ্রুত শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে। ২৫ সেপ্টেম্বর মোগি গুয়াসুর সান্তো আন্তোনিও পৌর কবরস্থানে তাদের একসঙ্গে জানাজা ও দাফনের পরিবর্তে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী একই সময়ে শেষ বিদায় ও সমাহিত করার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি শহরটির বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারটির প্রতি বহু মানুষ সহমর্মিতা জানিয়েছেন। মা ও মেয়ের মৃত্যুর এই ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তাদের মৃত্যুর সময়ের অস্বাভাবিক নৈকট্যের কারণে। একজনের মৃত্যুর খবর আরেকজনের কাছে পৌঁছানোর আগেই দ্বিতীয়জনও মারা যান। ফলে পরিবারের কাছে তাদের শেষ বিদায়ও হয়ে ওঠে একই দিনের একটি যৌথ আয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলের মারে হিল এলাকায় দীর্ঘদিনের বড় রাস্তার গর্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। গর্তটি মেরামতের দাবিতে শেষ পর্যন্ত তার ভেতরেই একটি কলাগাছ লাগিয়ে দেন তারা। অস্বাভাবিক এই দৃশ্য দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফার্স্ট কোস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারে হিল এলাকার গভীর গর্তটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। গর্তটি সড়কের এমন একটি অংশে তৈরি হয়েছে, যেখান দিয়ে নিয়মিত গাড়ি চলাচল করে। একপর্যায়ে সেখানে কলাগাছ লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি নিয়ে জ্যাকসনভিল সিটি কাউন্সিলের সদস্য জিমি পেলুসো জানান, কলাগাছটি সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘটনাটি মজার মনে হলেও এর পেছনে ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ। সাধারণভাবে রাস্তার গর্তের ছবি বা অভিযোগ খুব বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। কিন্তু ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে একটি কলাগাছ দেখা যাওয়ায় বিষয়টি মুহূর্তেই ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোও গর্তটির সমস্যাকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। এরপর একই এলাকার আরেকটি গর্তেও কলাগাছ লাগানোর ঘটনা সামনে আসে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ এবং মেরামতে সময় লাগার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে রাস্তার গর্ত মেরামত করা সব সময় শুধু গর্তে অ্যাসফাল্ট ঢেলে দেওয়ার মতো সহজ কাজ নয়। জ্যাকসনভিল শহরের পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়কের সব গর্ত একই ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে মাটির নিচের পানি, ড্রেনেজ বা স্যুয়ার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তার নিচে বড় ধরনের ধস তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে মেরামতে তুলনামূলক বেশি সময় ও কাজের প্রয়োজন হয়। জ্যাকসনভিল শহর জানিয়েছে, রাস্তার গর্ত দেখলে বাসিন্দারা সেটি সিটি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে রিপোর্ট করতে পারেন। শহরের মাইজ্যাক্স ব্যবস্থার মাধ্যমেও গর্তের অবস্থান জানানো এবং ছবি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কলাগাছ লাগানো ছাড়াও রাস্তার সমস্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এদিকে কলাগাছ লাগানোর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে হাস্যরস তৈরি হলেও এর মাধ্যমে রাস্তার সমস্যাটি যে মানুষের নজরে এসেছে, তা স্পষ্ট। ফার্স্ট কোস্ট নিউজের পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাগাছ লাগানোর পরও রাস্তার মূল সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে হয়নি এবং মেরামতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে জ্যাকসনভিলের বাসিন্দাদের এই অভিনব প্রতিবাদ ইতোমধ্যে একটি সাধারণ রাস্তার গর্তকে আলোচিত ঘটনায় পরিণত করেছে। রাস্তার গর্তের জায়গায় কলাগাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়তো প্রচলিত কোনো মেরামত পদ্ধতি নয়, কিন্তু স্থানীয়দের বার্তাটি ছিল বেশ পরিষ্কার: মাসের পর মাস পড়ে থাকা গর্তটি এবার যেন আর কারও চোখ এড়িয়ে না যায়।
প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহৃত কম্পন প্রযুক্তি নিয়ে স্যান ডিয়েগোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্যাকশন টেকনোলজির করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলায় এটিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণের রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপলের ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’। এই প্রযুক্তি আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কম্পন তৈরি করে। ট্যাকশন টেকনোলজির দাবি, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি তাদের দুটি প্যাটেন্টে সুরক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। শুক্রবার দেওয়া রায়ে জুরি ট্যাকশনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় এবং অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্যাকশন টেকনোলজি ২০২১ সালে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটি হেডফোন ও গেমিং হেডসেটের মতো পণ্যে কম্পনভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহৃত ট্যাপটিক ইঞ্জিন তাদের প্যাটেন্ট করা প্রযুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মামলাটি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিষয়টি জুরি বিচারে গড়ায়। এর আগে ২০২৩ সালে স্যান ডিয়েগোর একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছিল যে অ্যাপল ট্যাকশনের প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেনি। পরে ফেডারেল সার্কিটের আপিল আদালত সেই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরির সামনে মামলাটির বিচার হয়। সেই বিচারে জুরি অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়। অ্যাপল অবশ্য জুরির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, তাদের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশন টেকনোলজির প্রযুক্তি থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। অ্যাপল আরও জানিয়েছে, তারা ট্যাকশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেনি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে জুরির দেওয়া ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণই শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে পরিশোধ করতে হবে কি না, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। মামলাটির রায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাটেন্ট বিরোধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় এমন বড় অঙ্কের রায় তুলনামূলকভাবে বিরল। মামলার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বারফোর্ড ক্যাপিটাল জানিয়েছে, তাদের চুক্তি অনুযায়ী এই রায় থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, এ ধরনের বড় ক্ষতিপূরণের অঙ্ক পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়ায় অপরিবর্তিত থাকে না। অ্যাপলের বিরুদ্ধে এটি সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় প্যাটেন্ট-সংক্রান্ত রায়। ২০২৫ সালের একটি পৃথক প্যাটেন্ট মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ের অঙ্ক সেই মামলার তুলনায় অনেক বেশি। তবে নতুন মামলাটির ক্ষেত্রে আপিলসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। ট্যাকশন টেকনোলজির প্যাটেন্ট নিয়ে অ্যাপলের সঙ্গে বিরোধের মূল বিষয় ছিল ব্যবহারকারীর স্পর্শ বা অন্য কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় ডিভাইসে কম্পন তৈরির প্রযুক্তি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই ধরনের কম্পন ব্যবহার করা হয়। জুরির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্টের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে অ্যাপল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফলে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের এই রায় আপাতত অ্যাপলের বিরুদ্ধে জুরির সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর রয়েছে, কিন্তু মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। অ্যাপলের আপিল এবং পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের পর ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত অঙ্ক ও রায়ের পরিণতি নির্ধারিত হবে। সূত্র: বিবিসি
বরিশালের উজিরপুরে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে চা ও রুটি খাওয়ানোর হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা সেই শিশুকন্যা তুবা বিনতে অরণির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে বহনের কথা জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। একই সঙ্গে তুবার বাবা অনিক সরদারকে চিকিৎসার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন অনিক সরদারকে আটক করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তার ৯ বছরের মেয়ে তুবা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তুবা। একপর্যায়ে পাশের দোকান থেকে চা ও রুটি কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাওয়াতে শুরু করে সে। চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা পেয়েছেন কি না, সেটিও জানতে চায় শিশুটি। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তুবা বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা অনিকের পরিবারে আরও একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যেও তুবার বাবার প্রতি মমতার দৃশ্যটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি করে। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। ঘটনার পর রোববার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা ও থানার কর্মকর্তারা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। তাকে অটোভ্যান দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে তা চালাতে না পারলে তার স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন ইউএনও। অন্যদিকে অনিকের চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে বামরাইল এলাকার বাড়ি থেকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তুবার পড়াশোনা নিয়েও প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, তুবার লেখাপড়ার পুরো খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। ফলে বাবার চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুটির শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘটনাটির মূল অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অনিকের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল। উজিরপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যেও তার বিরুদ্ধে অতীতে ছোটখাটো চুরির অভিযোগ ও মাদকাসক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অনিক নিজে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন আইনি নিষ্পত্তি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয়রা অনিককে আটক করে রাখলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি বলে উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন। ফলে চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে সোমবার বাবাকে তিন মাসের জন্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদায় জানান তুবা। এ সময় সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাবাকে ভালো হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা জানায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুটির বক্তব্য হিসেবে এসেছে, সে তার বাবাকে ভালো মানুষ বলে মনে করে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের সংকটের চিত্রই সামনে আনেনি, বরং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, শিশুর সামনে একজন অভিভাবককে মারধর করা এবং সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সবশেষে তুবার গল্পটি মানুষের কাছে যে কারণে এতটা নাড়া দিয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একজন শিশুর বাবার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাবাকে না ছেড়ে চা ও রুটি নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো ছোট্ট তুবার সেই দৃশ্য এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি নতুন আশার গল্পে পরিণত হয়েছে।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার কর্মসূচিটি চালু করা হয়। রাজ্য সরকারের তথ্য বিভাগের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, নারীর স্বাস্থ্যকে উৎসাহিত করা এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২৬ বা তার পর তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করেছে। ফলে কর্মসূচিটি শুধু ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্য নয়, নির্ধারিত তারিখের পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এই কর্মসূচির পেছনে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবহারে পরিবারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে সরকারি হাসপাতাল বেছে নিতে উৎসাহিত করার একটি প্রণোদনা হিসেবে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রসবের সঙ্গে এই উপহারকে যুক্ত করে নবজাতকের পরিবারকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও যুক্ত। দলটি চলতি বছর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার বিষয়টিও ছিল। পরে সেটিই সরকারি কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তামিলনাড়ু সরকারের এই উদ্যোগ এমন সময়ে চালু হলো, যখন রাজ্যটিতে জন্মসংখ্যা নিয়ে আলোচনাও রয়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার কম জন্ম নথিভুক্ত হয়েছিল বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এক গ্রাম সোনার আংটি দেওয়ার এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে নারীর স্বাস্থ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করার বিষয়টিও কর্মসূচির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ২৮ হাজার আংটি সংগ্রহের তথ্য থেকে বোঝা যায়, কর্মসূচিটি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রসবের হার বা জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা ভবিষ্যতে কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যাবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
জার্মানিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (BA) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি সংস্থাটিতে নিবন্ধিত ছিল। তবে এটিকে সরাসরি বিদেশিদের জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি বলা ঠিক হবে না, কারণ এসব পদে নিয়োগের যোগ্যতা, পেশা ও নিয়োগকর্তাভেদে শর্ত আলাদা। জার্মানির শ্রমবাজারে বিশেষ করে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের সরকারি বিশ্লেষণে ১৫৭টি পেশায় দক্ষ কর্মীর সংকট চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও কারিগরি পেশা, রাঁধুনি, পেশাদার চালক এবং শিশুদের শিক্ষাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশা রয়েছে। বিদেশি কর্মীদের গুরুত্বও জার্মানির শ্রমবাজারে বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি থাকা পেশাগুলোতে বিদেশি কর্মীদের অংশ প্রায় ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোন পেশায় সুযোগ বেশি? বর্তমানে জার্মানিতে তুলনামূলকভাবে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে— নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা নির্মাণ ও কারিগরি কাজ পেশাদার ড্রাইভিং রাঁধুনি শিশু শিক্ষা ও পরিচর্যা সামাজিক কাজ জরিপ ও কারিগরি পেশা বিভিন্ন বিশেষায়িত দক্ষ পেশা তবে সব ধরনের চাকরিতে সমান সুযোগ নেই। জার্মানির সরকারি বিশ্লেষণ বলছে, কিছু পেশায় কর্মীর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। তাই শুধু চাকরির সংখ্যা দেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও জার্মান ভাষার জ্ঞান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিদের জন্য ভিসার সুযোগ জার্মানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষ বিদেশি কর্মী আনার নিয়ম সহজ করেছে। নতুন Skilled Immigration Act-এর আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে বিদেশি দক্ষ কর্মীরা জার্মানিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট shortage occupation-এর ক্ষেত্রে EU Blue Card-এর জন্য বার্ষিক ন্যূনতম বেতনসীমা ৪৫,৯৩৪.২০ ইউরো। IT ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছরের সমমানের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে EU Blue Card-এর সুযোগ রয়েছে। তবে ৬ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি মানেই বিদেশিরা সরাসরি ৬ লাখ ৫৩ হাজার পদে আবেদন করতে পারবেন—এমন নয়। এটি জার্মানির Federal Employment Agency-তে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। বিদেশি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে চাকরির যোগ্যতা, স্বীকৃত শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রযোজ্য ভিসা বা আবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে। জার্মানির শ্রমবাজারে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির সরকারি সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে অভিবাসী কর্মীদের প্রয়োজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৪ সেপ্টেম্বর উত্থাপিত ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ পাস হলে নাগরিকদের বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্য প্রচলিত পারিবারিক গ্রিন কার্ডের পথ বন্ধ হবে। তবে বিলটি এখনো আইন হয়নি; আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে পারিবারিক ইমিগ্রেশন মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল এবং চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরির জায়গায় পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সিনেটর টিউবারভিলের দপ্তর প্রকাশিত বিলের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা, বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাবসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করার শর্তও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিসহ যাঁরা বাবা-মা বা ভাইবোনের জন্য পারিবারিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপন আর আইন কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া গ্রিন কার্ডের নিয়মে এই পরিবর্তন আসবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরিয়াল হলে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর ভবনটির আশপাশে থাকা শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়। পরে সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হলেও মেমোরিয়াল হল বন্ধ রাখা হয়। হুমকির সত্যতা যাচাইয়ে ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি সতর্কবার্তা পাঠায়। মেমোরিয়াল হলের কাছে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থানস্থলেই নিরাপদে থাকতে এবং অন্যদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে অবস্থানস্থলে থাকার নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ মেমোরিয়াল হল ও পাশের জিমার হল প্লাজা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। হুমকির পর শিক্ষার্থীদের মেমোরিয়াল হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভবনসংলগ্ন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খাবারের স্থান অ্যানেনবার্গ হল থেকেও শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। সতর্কতার অংশ হিসেবে মেমোরিয়াল চার্চ বন্ধ করা হয়। এ ঘটনায় আশপাশের কয়েকটি ক্লাস বাতিল হয়। মেমোরিয়াল হলের স্যান্ডার্স থিয়েটারে নির্ধারিত একটি ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পাশের জিমার হলের কিছু ক্লাস চলেছে। ক্যামব্রিজ পুলিশের এক মুখপাত্র দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসনকে জানিয়েছেন, মেমোরিয়াল হলে তল্লাশিতে তাঁরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে সহায়তা করছেন। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোরওয়া এলাকার বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসকেরা ৩০ বছর বয়সী নিধিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে নিধির প্রায় ৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লাখ অনুসারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নিধি অন্য রাজ্যে বসবাসকারী এক তরুণের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সিংরৌলির পুলিশ সুপার শিয়াজ কে এম জানিয়েছেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ওই কথোপকথনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিয়ু ও তাঁর সহযোগী আদেনিই আকিম সোমোয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয়। দুজনকে এর আগে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিয়ু সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন। এসবের মধ্যে আত্মীয়ের জন্য আবেদন, গ্রিন কার্ডের আবেদন, শর্তযুক্ত স্থায়ী বসবাসের শর্ত প্রত্যাহার এবং নাগরিকত্বের আবেদন ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আবেদন অনুমোদনের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, গানিয়ু ও সোমোয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার নিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি আবেদন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তা বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়নি। এই অভিযোগের তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর এবং এফবিআইয়ের ডালাস কার্যালয়। গানিয়ুর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে ডালাস এক্সপ্রেস জানিয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া মানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৭৮ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর ছেলে রাঘবেন্দ্র কুমারের অভিযোগ, এক অচেনা নারী পায়ে হাত দিয়ে ও আলিঙ্গন করে আস্থা অর্জনের পর তাঁর মায়ের গলার আসল হার খুলে নকল হার পরিয়ে দেন। হাতের স্বর্ণের বালাও নিয়ে যাওয়া হয়। পিল আঞ্চলিক পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে, ব্র্যাম্পটনের চিঙ্গুয়াকুসি রোড ও বোভেয়ার্ড ড্রাইভ ওয়েস্টের কাছের একটি আবাসিক এলাকায়। কুমার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪কে বলেন, তাঁর মা ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কাছে আসা নারীকে তিনি প্রথমে প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ ভেবেছিলেন। কুমারের হিসাবে, চুরি হওয়া অলংকারের ওজন প্রায় ১১০ গ্রাম। তাঁর প্রয়াত বাবা পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। ১৯৭১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য তিনি নিজ হাতে অলংকারগুলো তৈরি করেছিলেন। তাই অর্থমূল্যের বাইরেও পরিবারের কাছে সেগুলোর বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে তাঁর মা কাঁপছিলেন এবং বাড়ি ফেরার পর প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলতে পারেননি বলে জানান কুমার। হৃদ্রোগের সমস্যা থাকায় সে সময় মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর মা নিয়মিত সন্ধ্যার হাঁটাও বন্ধ করে দিয়েছেন। পিল পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স গাড়িকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুমারের দেওয়া ভিডিওতে দেখা নারীও তদন্তে আগ্রহের ব্যক্তি। টরন্টোর আরেকটি অলংকার চুরির ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলেও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
অপরাধে দণ্ডিত নন বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ডেইলি ওয়্যার ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরদিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার বন্ধ হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরিচয় প্রকাশ না করা আইসিই কর্মকর্তাদের বরাতে ডেইলি ওয়্যার জানায়, সাময়িকভাবে শুধু ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও ফৌজদারি রেকর্ড না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো না। অভিযানের সময় মূল লক্ষ্য ছাড়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও বন্ধ থাকার কথা ছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ডেইলি ওয়্যার জানিয়েছিল, মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি তারা। এরপর ফক্স নিউজকে প্রশাসন জানায়, মাঠপর্যায়ে গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এটি আনুষ্ঠানিক নীতিবদল নয়; বিষয়টি স্পষ্ট করে আইসিই দপ্তরগুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আইসিই এখনো গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছাড়া সেখানে পাওয়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এখানে ‘অপরাধের রেকর্ড নেই’ বলতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা অভিযোগ না থাকার কথা বোঝানো হচ্ছে। এতে কারও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান বা ডিপোর্টেশনের আদেশ বদলে যায় না। ডেইলি ওয়্যারের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবরণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও বর্তমান সরকারি অবস্থান হলো, আইসিইর গ্রেপ্তারনীতি বদলায়নি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, অপরাধের রেকর্ড বা মুলতবি ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য “ফলস” বা মিথ্যা। বিভাগটি বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউই গ্রেপ্তারের আওতার বাইরে নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিইর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিইর কিছু মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে অপরাধী ও গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং ভুল যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পরে আইসিইর মাঠ কার্যালয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে জানানো হয়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং অপরাধের অতিরিক্ত রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা করে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। কালবেলা ও দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশেদ ২০২৬ সালের ২৬ মে সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হিসাবে পোস্টটি দেন। ফলে পাওয়া সূত্রে বক্তব্যটি মে মাসের; এটিকে নতুন বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। পোস্টে রাশেদ দাবি করেন, এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একসময় তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ওই আলোচনা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদের ভাষ্য, পরে সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন পাটওয়ারী। এর জবাবে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জামায়াতের সঙ্গে দলটির সম্পর্ককে আক্রমণ করেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকেই বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। নির্বাচনী অর্থায়নের প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাবে এনসিপি দলীয় নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। জামায়াতে ইসলামী দেখিয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। তবে দলগুলোর জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব দিয়ে রাশেদের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণ বা খণ্ডন করা যায় না। পর্যালোচিত প্রতিবেদনে ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের কোনো নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এনসিপি বা জামায়াতের সরাসরি প্রতিক্রিয়াও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখযোগ্য, প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়।
শামিমা বেগমের সাবেক সহপাঠী শারমিনা বেগমকে সিরিয়ায় আটক করা হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে জার্মানির বার্লিনে প্রাইড উৎসবের কাছে প্রাণঘাতী হামলার তদন্তে হামলাকারীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়। তবে কোন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছে বা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেইল অন সানডের প্রতিবেদনের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জার্মান তদন্তকারীরা শারমিনা ও হামলাকারী আবদুল বল্লুতের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য পেয়েছেন। হামলার আগে বল্লুত আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি ভিডিও তাঁকে পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ওই বার্তার ভিত্তিতে হামলায় শারমিনার সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা জানা যায়নি। জুলাইয়ে বার্লিনের প্রাইড উৎসবের কাছে মানুষের ভিড়ে একটি ভ্যান চালিয়ে দেওয়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন বল্লুত বলে জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। এতে এক নারী নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। পরদিন পুলিশের অভিযানে বল্লুত গুলিতে নিহত হন। হামলার তদন্তে আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি ভিডিও পাওয়ার কথা জার্মান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেও ভিডিওটি শারমিনার কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনের শিক্ষার্থী শারমিনা ২০১৪ সালে সিরিয়ায় যান। পরের বছর তাঁর সাবেক সহপাঠী শামিমা বেগম আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে সেখানে যান। শারমিনা তাঁদের আইএসে যোগ দিতে প্রভাবিত করেছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। শারমিনা ও শামিমা আত্মীয় নন।
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় শুঁটকি, আচার, মসলা বা মিষ্টি নিতে চাইলে সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হলো খাবারের কথা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, খাবার সঙ্গে থাকলেই তা বাজেয়াপ্ত হবে না। পরীক্ষা করে কোনটি দেশে ঢুকতে পারবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সিবিপি কর্মকর্তারা। প্রথমত, ব্যাগে থাকা সব খাবার ও কৃষিজ পণ্য ডিক্লেয়ার করুন। ফরম দেওয়া হলে সেখানে জানান, আর কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরেও খাবারের কথা বলুন। কোনো পণ্য নিষিদ্ধ হলেও আগে থেকে সঠিকভাবে ডিক্লেয়ার করলে শুধু সেটি সঙ্গে আনার কারণে জরিমানা হয় না। তবে খাবারের কথা গোপন করলে জরিমানার ঝুঁকি থাকে। তাই ‘মিথ্যা বললেই ৩০০ ডলার জরিমানা নিশ্চিত’ এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, মাংস, ডিম, দুধের তৈরি খাবার, গাছ ও বীজ নেওয়ার আগে পণ্যভেদে নিয়ম দেখুন। এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত থাকতে পারে। আবার সব ডিম, মিষ্টি বা গাছের বীজকে একইভাবে নিষিদ্ধ বলাও ঠিক নয়। খাবারের উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি ও উৎপত্তিস্থল অনুযায়ী নিয়ম বদলায়। তৃতীয়ত, শুঁটকি বা অন্য মাছকে কাঁচা মাংসের নিয়মে ফেলবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বেশির ভাগ সামুদ্রিক খাবার আমদানির বিষয়টি তারা নিয়ন্ত্রণ করে না; অন্য সংস্থার নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে। শুঁটকি নেওয়ার আগে মাছের ধরন ও প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়ম জেনে নিন। পৌঁছে সেটি অবশ্যই ডিক্লেয়ার করুন। চতুর্থত, চা-পাতা, অধিকাংশ শুকনো মসলা ও প্রক্রিয়াজাত আচার সাধারণত আনা যায়, তবে এগুলোও ডিক্লেয়ার ও পরীক্ষা করাতে হবে। মুড়ি, চিড়া, চানাচুর বা বিস্কুটের ক্ষেত্রেও উপাদান গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কোনো পণ্যে মাংস, দুধ বা ডিম থাকলে। প্যাকেটে শুধু ‘মসলা’ লেখা থাকলেই তল্লাশি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পঞ্চমত, সম্ভব হলে খাবার মূল প্যাকেটেই রাখুন এবং কেনার রসিদ সঙ্গে নিন। এতে পণ্যের উপাদান ও উৎপত্তিস্থল বোঝা সহজ হয়। নিজের ব্যবহারের খাবারের জন্য সব পণ্যে একই ‘২ থেকে ৩ কেজি’ সীমা নেই; বেশি পরিমাণে নিলে প্রযোজ্য নিয়ম আগে যাচাই করা দরকার। ষষ্ঠত, গ্লোবাল এন্ট্রি থাকলেও খাবার ডিক্লেয়ার করার নিয়ম একই। খাবার গোপন করলে জরিমানার পাশাপাশি এই সুবিধাও হারানোর ঝুঁকি আছে। কোনো খাবার নিয়ে সন্দেহ থাকলে যাত্রার আগে সরকারি নিয়ম দেখুন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে সিবিপি কর্মকর্তাকে সেটি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিন।