প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহৃত কম্পন প্রযুক্তি নিয়ে স্যান ডিয়েগোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্যাকশন টেকনোলজির করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলায় এটিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণের রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপলের ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’। এই প্রযুক্তি আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কম্পন তৈরি করে। ট্যাকশন টেকনোলজির দাবি, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি তাদের দুটি প্যাটেন্টে সুরক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। শুক্রবার দেওয়া রায়ে জুরি ট্যাকশনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় এবং অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ট্যাকশন টেকনোলজি ২০২১ সালে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটি হেডফোন ও গেমিং হেডসেটের মতো পণ্যে কম্পনভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহৃত ট্যাপটিক ইঞ্জিন তাদের প্যাটেন্ট করা প্রযুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মামলাটি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিষয়টি জুরি বিচারে গড়ায়।
এর আগে ২০২৩ সালে স্যান ডিয়েগোর একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছিল যে অ্যাপল ট্যাকশনের প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেনি। পরে ফেডারেল সার্কিটের আপিল আদালত সেই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরির সামনে মামলাটির বিচার হয়। সেই বিচারে জুরি অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্ট লঙ্ঘন করেছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়।
অ্যাপল অবশ্য জুরির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, তাদের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশন টেকনোলজির প্রযুক্তি থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। অ্যাপল আরও জানিয়েছে, তারা ট্যাকশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেনি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে জুরির দেওয়া ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণই শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে পরিশোধ করতে হবে কি না, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
মামলাটির রায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাটেন্ট বিরোধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় এমন বড় অঙ্কের রায় তুলনামূলকভাবে বিরল। মামলার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বারফোর্ড ক্যাপিটাল জানিয়েছে, তাদের চুক্তি অনুযায়ী এই রায় থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, এ ধরনের বড় ক্ষতিপূরণের অঙ্ক পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়ায় অপরিবর্তিত থাকে না।
অ্যাপলের বিরুদ্ধে এটি সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় প্যাটেন্ট-সংক্রান্ত রায়। ২০২৫ সালের একটি পৃথক প্যাটেন্ট মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন রায়ের অঙ্ক সেই মামলার তুলনায় অনেক বেশি। তবে নতুন মামলাটির ক্ষেত্রে আপিলসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।
ট্যাকশন টেকনোলজির প্যাটেন্ট নিয়ে অ্যাপলের সঙ্গে বিরোধের মূল বিষয় ছিল ব্যবহারকারীর স্পর্শ বা অন্য কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় ডিভাইসে কম্পন তৈরির প্রযুক্তি। আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের বিভিন্ন কার্যক্রমে এই ধরনের কম্পন ব্যবহার করা হয়। জুরির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের দুটি প্যাটেন্টের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে অ্যাপল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ফলে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের এই রায় আপাতত অ্যাপলের বিরুদ্ধে জুরির সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর রয়েছে, কিন্তু মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। অ্যাপলের আপিল এবং পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের পর ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত অঙ্ক ও রায়ের পরিণতি নির্ধারিত হবে।
সূত্র: বিবিসি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলের মারে হিল এলাকায় দীর্ঘদিনের বড় রাস্তার গর্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। গর্তটি মেরামতের দাবিতে শেষ পর্যন্ত তার ভেতরেই একটি কলাগাছ লাগিয়ে দেন তারা। অস্বাভাবিক এই দৃশ্য দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফার্স্ট কোস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারে হিল এলাকার গভীর গর্তটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। গর্তটি সড়কের এমন একটি অংশে তৈরি হয়েছে, যেখান দিয়ে নিয়মিত গাড়ি চলাচল করে। একপর্যায়ে সেখানে কলাগাছ লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি নিয়ে জ্যাকসনভিল সিটি কাউন্সিলের সদস্য জিমি পেলুসো জানান, কলাগাছটি সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘটনাটি মজার মনে হলেও এর পেছনে ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ। সাধারণভাবে রাস্তার গর্তের ছবি বা অভিযোগ খুব বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। কিন্তু ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে একটি কলাগাছ দেখা যাওয়ায় বিষয়টি মুহূর্তেই ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোও গর্তটির সমস্যাকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। এরপর একই এলাকার আরেকটি গর্তেও কলাগাছ লাগানোর ঘটনা সামনে আসে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ এবং মেরামতে সময় লাগার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে রাস্তার গর্ত মেরামত করা সব সময় শুধু গর্তে অ্যাসফাল্ট ঢেলে দেওয়ার মতো সহজ কাজ নয়। জ্যাকসনভিল শহরের পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়কের সব গর্ত একই ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে মাটির নিচের পানি, ড্রেনেজ বা স্যুয়ার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তার নিচে বড় ধরনের ধস তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে মেরামতে তুলনামূলক বেশি সময় ও কাজের প্রয়োজন হয়। জ্যাকসনভিল শহর জানিয়েছে, রাস্তার গর্ত দেখলে বাসিন্দারা সেটি সিটি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে রিপোর্ট করতে পারেন। শহরের মাইজ্যাক্স ব্যবস্থার মাধ্যমেও গর্তের অবস্থান জানানো এবং ছবি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কলাগাছ লাগানো ছাড়াও রাস্তার সমস্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এদিকে কলাগাছ লাগানোর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে হাস্যরস তৈরি হলেও এর মাধ্যমে রাস্তার সমস্যাটি যে মানুষের নজরে এসেছে, তা স্পষ্ট। ফার্স্ট কোস্ট নিউজের পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাগাছ লাগানোর পরও রাস্তার মূল সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে হয়নি এবং মেরামতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে জ্যাকসনভিলের বাসিন্দাদের এই অভিনব প্রতিবাদ ইতোমধ্যে একটি সাধারণ রাস্তার গর্তকে আলোচিত ঘটনায় পরিণত করেছে। রাস্তার গর্তের জায়গায় কলাগাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়তো প্রচলিত কোনো মেরামত পদ্ধতি নয়, কিন্তু স্থানীয়দের বার্তাটি ছিল বেশ পরিষ্কার: মাসের পর মাস পড়ে থাকা গর্তটি এবার যেন আর কারও চোখ এড়িয়ে না যায়।
প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
গ্রিন কার্ডের পারিবারিক আবেদন সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিল, জানুন বিস্তারিত
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিয়ু ও তাঁর সহযোগী আদেনিই আকিম সোমোয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয়। দুজনকে এর আগে ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিয়ু সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন। এসবের মধ্যে আত্মীয়ের জন্য আবেদন, গ্রিন কার্ডের আবেদন, শর্তযুক্ত স্থায়ী বসবাসের শর্ত প্রত্যাহার এবং নাগরিকত্বের আবেদন ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আবেদন অনুমোদনের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, গানিয়ু ও সোমোয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার নিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি আবেদন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদিত হয়েছে, তা বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়নি। এই অভিযোগের তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর এবং এফবিআইয়ের ডালাস কার্যালয়। গানিয়ুর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে ডালাস এক্সপ্রেস জানিয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া মানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
অপরাধের রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধের নির্দেশ আইসিই কর্মকর্তাদের
জেএফকে বিমানবন্দরে এই ভুলগুলো করলে, ব্যাগ আটকে দিতে পারে ইউএস কাস্টমস, জানুন বিস্তারিত
শিক্ষার্থী রেইপের ৭ জনকে নিয়ে ওয়েবসাইট খুললেন ‘সাউথ পার্ক’ লেখক, বললেন ‘জবাবদিহির সময় আসছে’
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। জন এফ কেনেডি, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ভাড়া এবং আশপাশের কয়েক দিনের যাত্রার তারিখ তুলনা করলে সাশ্রয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে কোনো কৌশলেই ৩০০ ডলার সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই। গুগল ফ্লাইটসে যাত্রার শহর দিয়ে খোঁজার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলো আলাদাভাবেও দেখে নেওয়া যায়। লাগার্ডিয়া থেকে দেশের ভেতরের যাত্রা এবং জেএফকে বা নিউয়ার্ক থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রার ভাড়া তুলনা করুন। ফেরার ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে নামলে দাম কমছে কি না, সেটিও দেখার সুযোগ আছে। বিমানবন্দর বদলালে সেখানে যাওয়া-আসার খরচ ও সময় মোট হিসাবের সঙ্গে যোগ করতে হবে। যাত্রার তারিখে কিছুটা ছাড় থাকলে ক্যালেন্ডারে কয়েক দিন আগে-পরে ভাড়া দেখুন। গুগল ফ্লাইটস প্রতিদিনের সর্বনিম্ন প্রদর্শিত ভাড়া দেখায়। স্কাইস্ক্যানারের ‘হোল মান্থ’ সুবিধায় পুরো মাসের বিভিন্ন দিনের দাম তুলনা করা যায়। পছন্দের ফ্লাইটের দাম নজরে রাখতে গুগল ফ্লাইটসে প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে পরিবর্তনের খবর ইমেইলে পাওয়া যায়। টিকিট কাটতে মঙ্গলবার বা বুধবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে, এমন নির্ভরযোগ্য নিয়ম নেই। গুগলের প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, টিকিট কেনার দিনের কারণে গড় দামে পার্থক্য সামান্য। একইভাবে দেশের ভেতরের টিকিট ২১ থেকে ৪৫ দিন এবং আন্তর্জাতিক টিকিট দুই থেকে চার মাস আগে কাটলেই সেরা দাম মিলবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। রুট, মৌসুম ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী উপযুক্ত সময় বদলায়। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি একবার যাত্রাবিরতির ফ্লাইটও তুলনা করুন। কম ভাড়া দেখালেও যাত্রার মোট সময়, সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার সুযোগ এবং লাগেজের নিয়ম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কম দামের টিকিটে ব্যাগেজ ও আসন বাছাইয়ের আলাদা খরচ থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট দাম বেড়ে যেতে পারে। ক্রেডিট কার্ড পয়েন্ট বা এয়ারলাইন মাইলস থাকলে টিকিট কাটার আগে কত পয়েন্ট লাগছে এবং সঙ্গে কত কর বা ফি দিতে হচ্ছে, তা মিলিয়ে নিন। পয়েন্ট ব্যবহার করলেই টিকিট পুরোপুরি বিনা খরচে পাওয়া যায় না। বুকিংয়ের আগে এয়ারলাইনের নিজস্ব সাইটে চূড়ান্ত দাম এবং টিকিট পরিবর্তন ও বাতিলের শর্তও দেখে নিন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য ২৪ ঘণ্টার বুকিংসংক্রান্ত নিয়ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেনা টিকিটে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। বারবার একই ফ্লাইট খুঁজলে কুকির কারণে দাম বাড়ে, তাই ইনকগনিটো মোডে টিকিট কাটতে হবে - এমন দাবিরও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ভাড়া বদলাতে দেখলে যাত্রার তারিখ, ব্যাগেজসহ মোট দাম ও বুকিংয়ের শর্ত আবার মিলিয়ে দেখাই বেশি কার্যকর।
নিউ জার্সির বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় দেখা গেল হাঙর, ভিডিওতে চাঞ্চল্য
‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স