সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় শুঁটকি, আচার, মসলা বা মিষ্টি নিতে চাইলে খাবারের কথা কাস্টমসকে জানানো জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
জেএফকে বিমানবন্দরে এই ভুলগুলো করলে, ব্যাগ আটকে দিতে পারে ইউএস কাস্টমস, জানুন বিস্তারিত

ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় শুঁটকি, আচার, মসলা বা মিষ্টি নিতে চাইলে সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হলো খাবারের কথা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, খাবার সঙ্গে থাকলেই তা বাজেয়াপ্ত হবে না। পরীক্ষা করে কোনটি দেশে ঢুকতে পারবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সিবিপি কর্মকর্তারা।    প্রথমত, ব্যাগে থাকা সব খাবার ও কৃষিজ পণ্য ডিক্লেয়ার করুন। ফরম দেওয়া হলে সেখানে জানান, আর কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরেও খাবারের কথা বলুন। কোনো পণ্য নিষিদ্ধ হলেও আগে থেকে সঠিকভাবে ডিক্লেয়ার করলে শুধু সেটি সঙ্গে আনার কারণে জরিমানা হয় না। তবে খাবারের কথা গোপন করলে জরিমানার ঝুঁকি থাকে। তাই ‘মিথ্যা বললেই ৩০০ ডলার জরিমানা নিশ্চিত’ এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।    দ্বিতীয়ত, মাংস, ডিম, দুধের তৈরি খাবার, গাছ ও বীজ নেওয়ার আগে পণ্যভেদে নিয়ম দেখুন। এগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত থাকতে পারে। আবার সব ডিম, মিষ্টি বা গাছের বীজকে একইভাবে নিষিদ্ধ বলাও ঠিক নয়। খাবারের উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি ও উৎপত্তিস্থল অনুযায়ী নিয়ম বদলায়।    তৃতীয়ত, শুঁটকি বা অন্য মাছকে কাঁচা মাংসের নিয়মে ফেলবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বেশির ভাগ সামুদ্রিক খাবার আমদানির বিষয়টি তারা নিয়ন্ত্রণ করে না; অন্য সংস্থার নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে। শুঁটকি নেওয়ার আগে মাছের ধরন ও প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়ম জেনে নিন। পৌঁছে সেটি অবশ্যই ডিক্লেয়ার করুন।    চতুর্থত, চা-পাতা, অধিকাংশ শুকনো মসলা ও প্রক্রিয়াজাত আচার সাধারণত আনা যায়, তবে এগুলোও ডিক্লেয়ার ও পরীক্ষা করাতে হবে। মুড়ি, চিড়া, চানাচুর বা বিস্কুটের ক্ষেত্রেও উপাদান গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কোনো পণ্যে মাংস, দুধ বা ডিম থাকলে। প্যাকেটে শুধু ‘মসলা’ লেখা থাকলেই তল্লাশি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    পঞ্চমত, সম্ভব হলে খাবার মূল প্যাকেটেই রাখুন এবং কেনার রসিদ সঙ্গে নিন। এতে পণ্যের উপাদান ও উৎপত্তিস্থল বোঝা সহজ হয়। নিজের ব্যবহারের খাবারের জন্য সব পণ্যে একই ‘২ থেকে ৩ কেজি’ সীমা নেই; বেশি পরিমাণে নিলে প্রযোজ্য নিয়ম আগে যাচাই করা দরকার।    ষষ্ঠত, গ্লোবাল এন্ট্রি থাকলেও খাবার ডিক্লেয়ার করার নিয়ম একই। খাবার গোপন করলে জরিমানার পাশাপাশি এই সুবিধাও হারানোর ঝুঁকি আছে। কোনো খাবার নিয়ে সন্দেহ থাকলে যাত্রার আগে সরকারি নিয়ম দেখুন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে সিবিপি কর্মকর্তাকে সেটি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১০:০
স্কটল্যান্ডে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিয়ানা ম্যাকে। ছবি: সংগৃহীত
ফোন স্ক্রল করার সময় হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় তরুণীর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন ২১ বছরের তরুণী

স্কটল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে ঘরে বসে ফোন দেখছিলেন ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিয়ানা ম্যাকে। জুলাইয়ের শুরুতে হঠাৎ তাঁর খিঁচুনি শুরু হয়। সোফা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি শ্বাস নেওয়া বন্ধ করলে মা দ্রুত সিপিআর শুরু করেন। বাড়িতে থাকা ডিফিব্রিলেটর দিয়েও তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় রিয়ানাকে।    ল্যাডবাইবেলকে রিয়ানা জানান, ঘটনার সময় কী হয়েছিল, তা তাঁর মনে নেই। তাঁর মা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় দ্রুত বুঝতে পারেন কখন সিপিআর শুরু করতে হবে। রিয়ানাকে স্কটল্যান্ডের কেইথনেস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দে প্রভাব ফেলা ‘লং কিউটি সিনড্রোম’ শনাক্ত করেন।    চিকিৎসার অংশ হিসেবে রিয়ানার বুকে একটি ডিফিব্রিলেটর বসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ওষুধও খেতে হবে তাঁকে। অসুস্থতার কারণে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যেতে পারেননি তিনি। সেদিন হাসপাতালের বিছানাতেই তাঁর জন্য ছোট একটি কেকের ব্যবস্থা করেন নার্সরা।    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, লং কিউটি সিনড্রোমে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হঠাৎ হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:৩৫
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন মামলার বিবাদীদের নিয়ে ওয়েবসাইট খুলেছেন ‘সাউথ পার্ক’-এর সাবেক লেখক টবি মর্টন। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী রেইপের ৭ জনকে নিয়ে ওয়েবসাইট খুললেন ‘সাউথ পার্ক’ লেখক, বললেন ‘জবাবদিহির সময় আসছে’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলার সাত বিবাদীকে নিয়ে একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন ‘সাউথ পার্ক’-এর সাবেক লেখক টবি মর্টন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইটটিতে সাতজনের জন্য আলাদা পাতা রাখা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ২০২৪ সালে কর্নেলের ‘চি ফাই’ ছাত্রসংগঠনের একটি ভবনে তাঁকে মাদক সেবনে বাধ্য করে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ছাত্রী। পরিচয় গোপন রেখে তিনি চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, সংগঠনটির কয়েকটি শাখা ও বর্তমান ও সাবেক সাত শিক্ষার্থীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।   মর্টন জানিয়েছেন, মামলার নথি, সংবাদ প্রতিবেদন ও এ বিষয়ে পাওয়া তথ্য তিনি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে চান। সেখানে সাত বিবাদীর নামে আলাদা পাতা থাকলেও সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর তৈরি সাইটটি কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার প্রকাশনা নয়।   কর্নেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ‘চি ফাই’-এর সংশ্লিষ্ট শাখা এখনো ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যসংক্রান্ত আইনের কারণে কার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়।   এদিকে টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তাঁর দপ্তর অভিযোগটি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত আবার শুরু করছে। নতুন করে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এর আগে এ ঘটনায় কাউকে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি।   সাত বিবাদীর একজনের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ওয়েবসাইটে কারও নাম প্রকাশ এবং দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ আনার বিষয়টি অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:২৯
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?

বাংলাদেশ যেখানে ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট, ব্যাংকিং খাতে আস্থার অভাব,এবং জ্বালানী ও বিদ্যুৎ ঘাটতিজনিত চ্যালেঞ্জে জর্জরিত , সেখানে ভারত তার প্রতিবেশী কূটনীতিতে আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায় যোগ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে নয়াদিল্লি তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের—যাদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম—যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, পরিচয় যাচাই কিংবা কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে বহিষ্কার (“পুশ-ইন”) অভিযান শুরু করেছে।   ভারতের এই কর্মকাণ্ড শুধু অমানবিক বা বেআইনি নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তির (ICCPR) ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগতভাবে বসবাসরত কাউকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বহিষ্কার করা যায় না। একই চুক্তির ১২(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে ইচ্ছামতো তার নিজ দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য মূলত বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং এমন এক সময়ে আঞ্চলিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যখন দিল্লির কাশ্মীর-কেন্দ্রিক কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।   একবার ভেবে দেখুন—দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিমানে তুলে এনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমান্তে ফেলে দেওয়া হলে তাকে আর কী বলা যায়? বিশ্বের অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা বড় আন্তর্জাতিক সংবাদে পরিণত হতো: বিচার ছাড়াই গণহারে বহিষ্কার, আদালতে হাজির না করেই আটক, এবং গভীর রাতে শিশু, নারী এমনকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) সুরক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের সীমান্তে ফেলে যাওয়া।বিবিসির একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে আসামের বহু মুসলিম, যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এবং যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতে বসবাস করছেন, তাদেরও আটক করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ২০০-র বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে শতাধিক ভারতে UNHCR-এর নিবন্ধিত শরণার্থী ছিলেন।এই “পুশ-ইন” অভিযান কেবল কয়েকশত অসহায় মানুষকে কাঁটাতারের ওপারে ঠেলে দেওয়ার বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক বার্তা—হতাশা ও নিয়ন্ত্রণের বহিঃপ্রকাশ, যা বাস্তবে একধরনের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার প্রতিফলন।   ভারতীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী , যাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে তারা বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গত ১৪ জুন থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নয়জন বাংলাভাষী মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে “পুশ-ইন” করার চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দিলে তারা শূন্যরেখায় আটকে পড়েন। পরে ১৭ জুন রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর মানবিক কারণে ৪ জনকে শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছেন জামালপুরের ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান।আবার রাজস্থান, গুজরাট ও ত্রিপুরায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলিম—যাদের কারও কাছে বৈধ আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং বহু বছরের বসবাসের প্রমাণ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারকে অভিযানের মাধ্যমে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেন তারা কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত বস্তু। .   ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিকীকৃত সীমান্তগুলোর একটি; যার মধ্যে প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে এসব অবকাঠামো অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি যেন এখন একটি মানব পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ভারতের এই “পুশ-ইন” নীতি যেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাতিগত নিধনের এক অভিন্ন রূপ।মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মতোই দিল্লিও হয়তো বিশ্বাস করছে যে “অবাঞ্ছিত” জনগোষ্ঠীকে প্রতিবেশী দেশে ঠেলে দিলে তাদের জনসংখ্যাগত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সমাধান হবে।   বাংলাদেশের উচিত এই সমস্যা সমাধানে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা। কেবল কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে দায় শেষ করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুসংগঠিত, জোরালো এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগ। জাতিসংঘ, UNHCR এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামগুলোকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করা উচিত। পাশাপাশি, সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান, আগত প্রত্যেক ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক আইনগত পথ অনুসন্ধানও জরুরি।   সবশেষে, যদি ভারত সত্যিই নিজেকে আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবিদার মনে করে, তাহলে তাকে প্রথমেই এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে হবে। ভয় এবং চাপের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না; তেমনি প্রতিবেশী নীতিও নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ বা মতাদর্শগত আতঙ্ক দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। Writter: Nasrin Akter Mitu, Undergraduate Student Department of International Relations, Jahangirnagar University

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:২১
বিমানের টিকিট বুকিংয়ের আগে বিভিন্ন রুট ও ভাড়া তুলনা করা যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!

নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। জন এফ কেনেডি, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ভাড়া এবং আশপাশের কয়েক দিনের যাত্রার তারিখ তুলনা করলে সাশ্রয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে কোনো কৌশলেই ৩০০ ডলার সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।   গুগল ফ্লাইটসে যাত্রার শহর দিয়ে খোঁজার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলো আলাদাভাবেও দেখে নেওয়া যায়। লাগার্ডিয়া থেকে দেশের ভেতরের যাত্রা এবং জেএফকে বা নিউয়ার্ক থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রার ভাড়া তুলনা করুন। ফেরার ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে নামলে দাম কমছে কি না, সেটিও দেখার সুযোগ আছে। বিমানবন্দর বদলালে সেখানে যাওয়া-আসার খরচ ও সময় মোট হিসাবের সঙ্গে যোগ করতে হবে।    যাত্রার তারিখে কিছুটা ছাড় থাকলে ক্যালেন্ডারে কয়েক দিন আগে-পরে ভাড়া দেখুন। গুগল ফ্লাইটস প্রতিদিনের সর্বনিম্ন প্রদর্শিত ভাড়া দেখায়। স্কাইস্ক্যানারের ‘হোল মান্থ’ সুবিধায় পুরো মাসের বিভিন্ন দিনের দাম তুলনা করা যায়। পছন্দের ফ্লাইটের দাম নজরে রাখতে গুগল ফ্লাইটসে প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে পরিবর্তনের খবর ইমেইলে পাওয়া যায়।    টিকিট কাটতে মঙ্গলবার বা বুধবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে, এমন নির্ভরযোগ্য নিয়ম নেই। গুগলের প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, টিকিট কেনার দিনের কারণে গড় দামে পার্থক্য সামান্য। একইভাবে দেশের ভেতরের টিকিট ২১ থেকে ৪৫ দিন এবং আন্তর্জাতিক টিকিট দুই থেকে চার মাস আগে কাটলেই সেরা দাম মিলবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। রুট, মৌসুম ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী উপযুক্ত সময় বদলায়।    সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি একবার যাত্রাবিরতির ফ্লাইটও তুলনা করুন। কম ভাড়া দেখালেও যাত্রার মোট সময়, সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার সুযোগ এবং লাগেজের নিয়ম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কম দামের টিকিটে ব্যাগেজ ও আসন বাছাইয়ের আলাদা খরচ থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট দাম বেড়ে যেতে পারে।   ক্রেডিট কার্ড পয়েন্ট বা এয়ারলাইন মাইলস থাকলে টিকিট কাটার আগে কত পয়েন্ট লাগছে এবং সঙ্গে কত কর বা ফি দিতে হচ্ছে, তা মিলিয়ে নিন। পয়েন্ট ব্যবহার করলেই টিকিট পুরোপুরি বিনা খরচে পাওয়া যায় না। বুকিংয়ের আগে এয়ারলাইনের নিজস্ব সাইটে চূড়ান্ত দাম এবং টিকিট পরিবর্তন ও বাতিলের শর্তও দেখে নিন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য ২৪ ঘণ্টার বুকিংসংক্রান্ত নিয়ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেনা টিকিটে সরাসরি প্রযোজ্য নয়।    বারবার একই ফ্লাইট খুঁজলে কুকির কারণে দাম বাড়ে, তাই ইনকগনিটো মোডে টিকিট কাটতে হবে - এমন দাবিরও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ভাড়া বদলাতে দেখলে যাত্রার তারিখ, ব্যাগেজসহ মোট দাম ও বুকিংয়ের শর্ত আবার মিলিয়ে দেখাই বেশি কার্যকর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:২
হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এ অংশ নেওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের প্রকল্পের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) আয়োজিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬ হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাঁদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৩০১টি প্রকল্প জমা পড়ে এবং ৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮৩ জন হ্যাকার এতে অংশ নেন। স্পেসএক্সএআইয়ের ‘মেক ইট লেজেন্ডারি’ চ্যালেঞ্জে ৫০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকাশ্য বিজয়ী তালিকায় ‘স্কুটারিস’-এর নামও রয়েছে।   আশরাফুল ও তানভীরের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।   আশরাফুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ একটি এআইচালিত কক্ষপথ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম। এতে সেলেসট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সেই তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য খুঁজে বের করে। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিটি কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করা হয় এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়।   প্রকল্পটিতে তথ্যকে শুধু লিখিত আকারে উপস্থাপন না করে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের অবস্থান, তাদের কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব এবং ঝুঁকির মাত্রা দেখানো যায়। ফলে মহাকাশের জটিল কক্ষপথ-সংক্রান্ত তথ্য তুলনামূলক সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।   তানভীর ইবনে আলম জানান, হ্যাকএমআইটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। পরে বিচারকেরা প্রকল্পের সরাসরি প্রদর্শন বা ডেমো মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দল স্পেসএক্সএআইয়ের চ্যালেঞ্জটি বেছে নেয় এবং বাস্তব মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।   হ্যাকএমআইটির এবারের আয়োজনে স্পেসএক্সএআই ছাড়াও ওপেনএআই, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল। আয়োজকদের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৫০।   আশরাফুল ইসলাম ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তাঁকে এআই গবেষক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণার তথ্যও রয়েছে।   অন্যদিকে তানভীর ইবনে আলম ডেটা সায়েন্স ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রহণকারী যুগল নক্ষত্র বা ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্পে সক্রিয়।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্যকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। আশরাফুল বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। বাস্তব মহাকাশের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দেখানোই ছিল তাঁদের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য পরিসংখ্যান পাতায় প্রকল্পটির নির্দিষ্ট পুরস্কারের ধরন বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: প্রথম আলো, হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:৫৬
ঝড়ে প্লাবিত সার্ফ সিটির পানিতে হাঙরের মতো প্রাণীর চলাচলের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় দেখা গেল হাঙর, ভিডিওতে চাঞ্চল্য

শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়ে নিউ জার্সির সার্ফ সিটির রাস্তায় পানি জমেছে। এর মধ্যে প্লাবিত একটি রাস্তায় হাঙরের মতো একটি প্রাণী সাঁতার কাটার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ভিডিওতে প্রাণীটিকে রাস্তার জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে একটি বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গার দিকে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১২ জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের এক দর্শক পাঠিয়েছেন। প্রাণীটি হাঙর কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এটিকে সম্ভাব্য হাঙর দেখা যাওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   এদিকে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে নিউ জার্সির উপকূলে প্রবল বাতাস, উঁচু ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। নিচু উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে রাস্তা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিও ছিল।   ভাইরাল ভিডিওতে প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে আলোচনা চললেও এর প্রজাতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:৪৫
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স

কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নেওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ‘অল ইন’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন এবং নতুন এইচ-১বি আবেদনে এক লাখ ডলার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   ভ্যান্সের ভাষ্য, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা, যাঁরা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কম বেতনের কর্মী নিয়োগের পথ হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।   ভ্যান্স আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে, অন্যদিকে তাঁদের বদলে বিদেশি কর্মী খুঁজবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের নিয়োগ ঠেকানোর উপায়ও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানান।   এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রযুক্তিসহ বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। কর্মসূচির অপব্যবহার ও মার্কিন কর্মীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভ্যান্সের মন্তব্য এল।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার দেওয়ার শর্ত ঘোষণা করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সেই শর্তের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে শর্তটি সব এইচ-১বি আবেদন বা বর্তমানে এই ভিসায় থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।   এক লাখ ডলারের শর্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে ওই অর্থ আদায় থেকে বিরত রাখার রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিল বিচারাধীন। ফলে হোয়াইট হাউস মেয়াদ বাড়ালেও অর্থ আদায়ের শর্তটি বর্তমানে কার্যকর করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:২১
ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ
ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।   বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু পুরো মসজিদ নয়, বরং সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত সীমানার মধ্যে পড়া মসজিদের একটি অংশ। উজ্জয়নের কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ। সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   প্রস্তাবিত অপসারণ ঠেকাতে রোববার রাত থেকেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তাদের কেউ কেউ মসজিদের ভেতরেও রাত কাটান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।   স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের অংশ সরানোর পরিবর্তে বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বিকল্পভাবে রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও ধর্মীয় স্থাপনাটি বাদ রেখে বিকল্প পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়েছে।   সোমবার প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত অপসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মসজিদের আশপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। পরে এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও মোতায়েন করা হয়।   স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একজন নারী পুলিশ পরিদর্শক আহত হয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে।   সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলাকায় প্রায় দুই হাজার বা তার বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।   প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষ যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।   উজ্জয়নে ২০২৮ সালে সিমহাস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।   কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পে একাধিক স্থাপনা রাস্তার নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ২৭২ থেকে ২৭৪টি স্থাপনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে।    প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা প্রশস্ত করার কাজটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না; প্রকল্পের সীমানায় থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এ বিষয়ে করা দুটি আবেদন খারিজ করেছিল বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।   আদালত বলেছিল, পৌর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়টি জনস্বার্থ ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত সিমহাস্থ মেলার সময় উজ্জয়নে সম্ভাব্য ব্যাপক জনসমাগমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়।    তবে মসজিদ কমিটি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে শুনানির কথাও ছিল। একই দিনে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াটিও নতুন করে আলোচনায় আসে।    শাহী মসজিদটির বয়স নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম মসজিদটি প্রায় ৬৩৬ বছরের পুরোনো এবং ১৩৯০ সালের দিকে নির্মিত বলে দাবি করেছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মসজিদের বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ফলে ৬৩৬ বছরের দাবিটিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।    এ কারণে বর্তমান বিরোধে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দাবি এবং সরকারি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প—দুই বিষয়ই আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সোমবারের সংঘর্ষের পর উজ্জয়নের শাহী মসজিদ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও বিরোধটির পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রস্তাবিত ১৫ মিটার সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে পড়া মসজিদের নির্দিষ্ট অংশ অপসারণ নিয়েই বর্তমান বিরোধ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষই এখন উজ্জয়নের সবচেয়ে আলোচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:৫
বোরকা ও মাস্ক পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ছবি: সংগৃহীত
বোরকা পরে ভূমি অফিসে ঢাকার ডিসি ফরিদা, চাইলেন সেবা

ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বোরকা ও মাস্ক পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। পরিচয় প্রকাশ না করে সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি নামজারি প্রক্রিয়া ও সরকারি ফি সম্পর্কে খোঁজ নেন।   অফিসে তখন জমির নামজারি ও তথ্য জানতে আসা মানুষের ভিড় ছিল। ফরিদা খানমও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অপেক্ষা করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভূমিসেবা নিতে এসেছেন।   পরিদর্শনের সময় সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন জেলা প্রশাসক। কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।   জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতারা বিলম্ব, অনিয়ম বা হয়রানির মুখে পড়ছেন কি না, তা সরাসরি জানতেই তিনি পরিচয় গোপন রেখে অফিসে যান। তবে ওই পরিদর্শনে নির্দিষ্ট কোনো অনিয়ম শনাক্ত বা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।   পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন ফরিদা খানম। সেবা নিতে এসে কাউকে যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি। সূত্র: আমার দেশ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৮:০
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদকে সমর্থন দিল অঙ্গরাজ্যটির বৃহত্তম সংবাদপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস আসন্ন মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটারদের এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়।   সম্পাদকীয়তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে নিয়ে পত্রিকাটি তীব্র সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে রজার্সকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন যা পত্রিকাটির মতে মিশিগানের মূলধারার মানুষের অবস্থান থেকে অনেক দূরে।   তবে ‘চরমপন্থী’ শব্দটি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয় মূল্যায়ন, কোনো নিরপেক্ষ সরকারি বা আদালতের শ্রেণিবিন্যাস নয়। রজার্সের প্রচারণা এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নিয়ে এমন সমালোচনা থাকলেও সেই প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ নন। এরপর পত্রিকাটি এল-সায়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রচারণার বিষয় তুলে ধরে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে।   মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের প্রার্থী মাইক রজার্স। দুজনই ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   এল-সায়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ম্যালরি ম্যাকমরো এবং হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলে দলের প্রার্থী হন। প্রাইমারির আগে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অবশ্য অন্য প্রার্থী ম্যালরি ম্যাকমরোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল।   অন্যদিকে রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি। চলতি নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কও নির্ধারিত হয়েছে। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে একটি বিতর্ক এবং ২১ অক্টোবর ডেট্রয়েটে আরেকটি বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে।   এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমর্থনও দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২২ সেপ্টেম্বর এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ কয়েকটি সংগঠনও এল-সায়েদকে সমর্থন দিয়েছে।   অন্যদিকে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র ডেট্রয়েট নিউজ চলতি মাসের শুরুতে রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সমর্থন দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছে।   ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অতীতের দুই মিশিগান সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল। তাই এবারের সমর্থনকে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্রের সমর্থন নিজে থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।   নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মিশিগানের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচারণা ও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস, ডেট্রয়েট নিউজ, নিউজউইক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:৫২
অনলাইন লেনদেন ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতীকী।
অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা

অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ২২টি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ও গেটওয়ে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমকে বেআইনি ঘোষণা করে সম্প্রতি সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া কোনো পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বা গেটওয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা আইনবিরোধী এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’-এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া দেশের ভেতরে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি পেমেন্ট ব্যবস্থা পরিচালনা বা কোনো ধরনের পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে না।   আইন অমান্য করলে একই আইনের ৩৭(১) ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে অনুমোদনহীন কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করলে ব্যবহারকারীরাও আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ মানুষকে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার না করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা কার্যক্রমে যুক্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিহ্নিত অবৈধ পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর তালিকায় রয়েছে—BohudurPay, ZiniPay, PayTiller, BengaliPay, Payora BD, SohojPay BD, EasyPayWay, AK Pay, BD PAY, ShajgarPay, AsthaPay/CPay, UddoktaPay, Walletmix, BttPay, Easy Pay Automation, UniquePay BD, BD AUTO PAY, RH Pay BD, EzePay, AutoPay Ltd, Biswasto এবং PipraPay।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো অনুমোদনহীন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতা থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া। তাই অনলাইনে অর্থ লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট সেবা বা প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:৩৩
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাসা আনোজন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান প্রবাসী কর্মী আনোজন শিবরাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ ২২ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে রায়ের বিষয়টি জানান। তাঁর সরকার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।    শ্রীলঙ্কার কালমুনাইয়ের বাসিন্দা শিবরাসা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি মন্তব্যের পর ২০২৬ সালের ২ জুলাই তাঁকে আটক করা হয় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    মামলায় প্রথমে সৌদি আরবের একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। সাজা কমাতে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করেন। অন্যদিকে সাজা বাড়াতে আপিল করেন সৌদি কৌঁসুলি।    শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালত কৌঁসুলির আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত মন্তব্যটিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আগের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আগের জরিমানাটি বাতিল করা হয়।    শিবরাসার পরিবার তাঁকে রক্ষায় সরকারের সহায়তা চেয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনি ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহর কাছে ক্ষমা বা সাজা লাঘবের আবেদন জানাবেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    আপিল আদালতের রায়ের পরও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:৬
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

হন্ডুরাস থেকে যাত্রা শুরু করা ৬০০-এর বেশি অভিবাসীর একটি বহর বর্তমানে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। ‘ফে ই এসপেরানজা’ বা ‘বিশ্বাস ও আশা’ নামের এই বহরে হন্ডুরাসের পাশাপাশি এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হাইতির নাগরিকরাও রয়েছেন।   স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী ছোট ছোট দলে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গুয়াতেমালার সীমান্তে পৌঁছানো।   এরপর মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে বহরটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এতে ৬০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ সদস্য নিয়ে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলায় পৌঁছেছিল। পরে দক্ষিণ মেক্সিকোতে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।   ফলে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি মানুষের এই বহরকে শুধু হন্ডুরাস থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসীদের কয়েকজন ইএফইকে জানিয়েছেন, হন্ডুরাস ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সংকট ও কাজের অভাব। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করা এক নারী জানান, দেশে তার জন্য কোনো কাজ নেই। আরেক অভিবাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো কঠিন হবে জানলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান।   সান পেদ্রো সুলার বাসিন্দা হোসে সেলাইয়া জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে হন্ডুরাস ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কাজ করে দেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিবাসীদের কেউ তাদের পরিচালনা করছে না বলেও দাবি করেন সেলাইয়া। তার ভাষায়, তাদের সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই, ক্ষুধা ও প্রয়োজনই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে।   তবে এই বহর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। শেষ পর্যন্ত কতজন উত্তর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া অভিবাসী বহরের অনেকগুলো সংগঠিত দল হিসেবে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি।   মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ অতীতেও উত্তরমুখী অভিবাসী বহরগুলোকে থামিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কখনো অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে, আবার কখনো তাদের মেক্সিকোর অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছর আগস্টেও তাপাচুলা থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর একটি বহর মেক্সিকো সিটির দিকে যাত্রা করেছিল। ওই দলটির অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে মেক্সিকোতেই বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।   এবারের বহরের যাত্রা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় সামরিক ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এসব নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ৮ হাজার ৮৭০টি গ্রেপ্তারের ঘটনা রেকর্ড করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ের মাসিক গড়ের তুলনায় এটি ৯৪ শতাংশ কম। একই মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দেয়নি এবং টানা ১৬ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ নতুন বহরের সদস্যদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তেগুসিগালপায় মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবপাচারকারীদের কথায় বিশ্বাস না করতেও অভিবাসীদের সতর্ক করা হয়।   বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন রাজনীতিক এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন এই বহরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।   মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে তাপাচুলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকাগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর শহরটিতে বহু অভিবাসী আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের আগস্টে ইএফই জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসী মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে নথিপত্র ও বৈধ অবস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।   বর্তমান বহরটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীরা প্রবেশের চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:৫২
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে হ্রদের পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে হ্রদের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম (২০) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরটিভি অনলাইন জানিয়েছে, একটি লেকের পাশে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান তিনি। নাঈম সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে।   নাঈম পানিতে পড়ে যাওয়ার পর পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি পানিতে নেমে নাঈমকে খুঁজতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ লেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।y   প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওয়েলসের একটি হ্রদে ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ অনুসন্ধান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল।   নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পরিবার জানতে পারে স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন।   পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান নাঈম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে। নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।   ওয়েলসের প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, প্রবল বাতাস, পানির গভীরতা এবং তলদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সাঁতার জানা ব্যক্তিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাজেট আইনের কারণে আগামী অক্টোবর থেকে স্ন্যাপ ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার নিয়ম, যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি SNAP এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি Medicaid-এর নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বাজেট আইনের আওতায় নেওয়া কয়েকটি পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে SNAP পরিচালনার ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক দায়িত্ব এবং কিছু বৈধ অভিবাসীর Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মে পরিবর্তন। অন্যদিকে Medicaid-এর নতুন কাজ বা সামাজিক অংশগ্রহণের শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও কোনো কোনো রাজ্য চাইলে এর আগেও তা চালু করতে পারবে।   এসব পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের সরাসরি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। তবে যোগ্যতা যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যগুলোর অর্থায়নের দায়িত্বে পরিবর্তন আসায় সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।   SNAP পরিচালনার ব্যয়ে রাজ্যের দায়িত্ব বাড়ছে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে।   মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও পুষ্টি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার কার্যকর করার জন্য কৃষি বিভাগ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।   SNAP-এর প্রশাসনিক ব্যয়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের আবেদন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের খরচ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং কিছু জালিয়াতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় সহায়তা কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন নিজে থেকে SNAP সুবিধার অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। বরং কর্মসূচিটি পরিচালনার খরচ কে কতটা বহন করবে, সেই কাঠামোতে পরিবর্তন হচ্ছে। রাজ্যগুলো বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   পরবর্তী সময়ে SNAP সুবিধার খরচেও রাজ্যের অংশ আসতে পারে SNAP-এর ক্ষেত্রে আরও একটি পরিবর্তন ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব রাজ্যে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার নির্দিষ্ট ফেডারেল সীমার ওপরে থাকবে, সেসব রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে SNAP সুবিধার অর্থের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে।   এটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। এতদিন SNAP-এর সুবিধা দেওয়ার অর্থ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করে আসছিল। তবে এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। তাই চলতি বছরের অক্টোবরের পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ব্যয় ভাগাভাগির নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।   কিছু অভিবাসীর Medicaid সুবিধায় পরিবর্তন ১ অক্টোবর থেকে Medicaid ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি CHIP-এর ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণ Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়ন সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নির্দিষ্ট নাগরিকদের জন্য অব্যাহত থাকবে।   এর বাইরে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্দিষ্ট ধরনের প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো কিছু শ্রেণির জন্য ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ Medicaid সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়ন আর সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, যদি তারা অন্য কোনো যোগ্য শ্রেণির মধ্যে না পড়েন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য Medicaid-এর বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। পাশাপাশি কোনো কোনো রাজ্য নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফেডারেল বিধানের আওতায় বিশেষ সুযোগও থাকতে পারে।   রাজ্যগুলোকে তাই ১ অক্টোবরের আগে সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত সুবিধাভোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এ বিষয়ে বর্তমান সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও উল্লেখ করা হয়েছে।   Medicaid পেতে কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমের নতুন শর্ত Medicaid-এর আরেকটি বড় পরিবর্তন ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা। নির্দিষ্ট শ্রেণির ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী, গর্ভবতী নন এবং মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   এই শর্ত পূরণ করা যাবে চাকরি, নির্দিষ্ট কর্মসূচি, কমিউনিটি সার্ভিস বা অনুমোদিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট আয় অর্জনের মাধ্যমেও শর্ত পূরণ করতে পারবেন। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র জানিয়েছে, এই নতুন শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো রাজ্য চাইলে তার আগেও এটি কার্যকর করতে পারবে।   তবে এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব, প্রতিবন্ধিতা, সাবেক পালক পরিচর্যা ব্যবস্থায় থাকা এবং কিছু বিশেষ পরিস্থিতির মানুষ ছাড় পেতে পারেন।   সরকারের যুক্তি ও সমালোচকদের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো।   CMS প্রশাসক মেহমেত ওজ বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের উদ্বেগ হলো, নতুন রিপোর্টিং ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়মের কারণে প্রকৃতপক্ষে যোগ্য কিছু মানুষও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারাতে পারেন।   খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফিডিং আমেরিকাও SNAP-এ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন নিয়মের প্রকৃত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যগুলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। একই ফেডারেল নিয়ম বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিকভাবে ভিন্নভাবে কার্যকর হতে পারে।   কখন কোন পরিবর্তন ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামার বিধান কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে নির্দিষ্ট বৈধ অভিবাসী শ্রেণির জন্য পূর্ণ Medicaid ও CHIP সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নতুন সীমাবদ্ধতাও কার্যকর হবে।   এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট Medicaid সুবিধাভোগীর জন্য মাসে ৮০ ঘণ্টার কাজ বা অনুমোদিত সামাজিক কার্যক্রমের শর্ত কার্যকর করার কথা। রাজ্যগুলো চাইলে এর আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। আর SNAP সুবিধার ব্যয় ভাগাভাগির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর নতুন আর্থিক দায়িত্ব ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কার্যকর হওয়ার কথা।   ফলে অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সুবিধাভোগীদের যোগ্যতার ওপর নয়, রাজ্যগুলোর বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার পরিচালনার ওপরও পড়তে পারে।   সূত্র: মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA), মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র (CMS), Newsweek

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:১২
শেখ তানভীর বারী হামিম
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ঘোষিত ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।   সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামিম এই কর্মসূচিতে কেউ যেন অর্থ না দেন, সেই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসনাত ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন তিনি।    এর আগে একই দিন হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’র ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ‘অনাহারী’ অবস্থায় রয়েছে এবং মানুষের দেওয়া ১ টাকাও কাউকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখতে পারে।   হাসনাত জানান, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালু করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটরে একটি বিশেষ দানবক্স উন্মুক্ত করার কথা জানান তিনি। তিনি জনগণকে দান করার আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘জাতীয় পুনর্বাসন’ কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেন।    অন্যদিকে হামিম তার ফেসবুক পোস্টে কর্মসূচিটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নতুন ধান্দা’ শুরু হয়েছে এবং তিনি অনুসারীদের এতে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও বন্যার অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অভিযোগের পক্ষে হামিম তার পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   হামিম তার পোস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর হাসনাতদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন। পোশাক, মোবাইল ফোন, সাইকেল ও গাড়ির উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরপরও কেন তাদের অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হচ্ছে।    এ পর্যায়ে হামিম আরও অভিযোগ করেন, দান সংগ্রহের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্জিত কথিত ‘কালো টাকা সাদা’ করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটিও তার ব্যক্তিগত অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে এর পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ নেই।   পোস্টের শেষ দিকে হামিম কর্মসূচিতে অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন।অন্যদিকে হাসনাতের ঘোষণার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে দান সংগ্রহ এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা। কর্মসূচিটি রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হাসনাত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন এবং হামিম প্রকাশ্যে সেটির বিরোধিতা করেছেন। তবে হামিমের আর্থিক অনিয়ম, পূর্বের বন্যার অনুদান আত্মসাৎ কিংবা ‘কালো টাকা সাদা’ করার অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো স্বাধীন প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৫৮
কন্যাসন্তান জন্মের পর এথেন্সের ক্লিনিকে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ক্রিস্টিনা রাপতি জেলেপি এবং তার স্বামী কনস্টান্টিনোস। ছবি: সংগৃহীত
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী

গ্রিসের এক দম্পতি ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এর কয়েক মাস আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। সন্তানের মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গ্রিসের আইনে নারীদের আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় তাদের সামনে ছিল সময়ের কঠিন চাপ।   ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এথেন্সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্য ব্যবহৃত ভ্রূণটি ২০০৪ সালের ১৭ মার্চ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভ্রূণটি সংরক্ষণের পর থেকে শিশুটির জন্ম পর্যন্ত সময় ছিল ২২ বছর পাঁচ মাসেরও বেশি।   ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপতিকে প্রায় ৩০ বছর আগে পরিচয়ের পর বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও তিন বছর সফল না হওয়ায় তারা আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে প্রথমবারের চেষ্টাতেই ক্রিস্টিনা গর্ভবতী হন এবং একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তাদের ছেলে জর্জ একই ভ্রূণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিল।   তবে প্রসবের সময় জটিলতার কারণে জর্জকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তখন ক্রিস্টিনাকে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার জরায়ুর গঠনসংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। ফলে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দম্পতি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে আইভিএফের সময় তৈরি হওয়া অবশিষ্ট ১২টি ভ্রূণ তারা ক্লিনিকে সংরক্ষণ করে রাখেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী জর্জ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোস। কিন্তু সেই সময়ই তারা সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন।   ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেকে হারানোর পর তারা মনে করেছিলেন, আরেকটি সন্তান হয়তো তাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার শক্তি দেবে। তার স্বামীও মনে করতেন, জর্জ চাইত তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং পরিবার হিসেবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুক।   কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চাপ তৈরি হয়। গ্রিসের আইনে নারীদের সহায়ক প্রজনন বা আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৫৪ বছর। ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় সহায়ক প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রিসে এই বয়সসীমা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়েছিল।   ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। ২৩ ডিসেম্বর একটি ভ্রূণ তার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ভ্রূণটি ২০০৪ সালের একই ব্যাচের ছিল, যে ব্যাচ থেকে জর্জও জন্মেছিল।   চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের পুরো সময়টি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবেই এগিয়েছে। ৩৯ সপ্তাহ দুই দিন পর ক্রিস্টিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে এর আগে ১৮ বছর তিন মাস এবং ১৭ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত ছিল।   শিশুটির জন্মের পর পরিবারটির দীর্ঘ শোকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিস্টিনা বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে তাদের মনে হয়েছে যেন আবার আলো ফিরে এসেছে। তার স্বামীর ভাষায়, এই সন্তান তাদের জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে।   তবে মেয়ের জন্মের পরও তাদের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথে বাধা রয়েছে। তাদের আরও নয়টি ভ্রূণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এবং তারা মেয়েটির জন্য একজন ভাই বা বোন চান। কিন্তু গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমার কারণে ক্রিস্টিনা দেশটিতে আর আইভিএফ করতে পারবেন না। তাই আইন পরিবর্তন না হলে তারা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ভাবছেন।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রিসের আইভিএফ আইন পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। চিকিৎসক পান্তোস মনে করেন, বয়সসীমা প্রয়োজন হলেও তা শুধু জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   গ্রিসে সন্তান জন্মদানের বয়সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ৩১ দশমিক ২ বছর, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৯ দশমিক ৯ বছর।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণেই গ্রিসে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।   ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোসের কাছে নতুন সন্তান তাদের হারানো ছেলের বিকল্প নয়। বরং ছেলেকে হারানোর পরও জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে তারা মেয়ের জন্মকে দেখছেন।   সূত্র: Newsweek

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪৫
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ

ভারতে গরুকে ‘জাতীয় প্রাণী’ ঘোষণার দাবির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা গরুকে ‘মা’ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, তাঁদের কাছে সেই সম্পর্কের জন্য সরকারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর লখনৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাবেক নেতা অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।    যোগী বলেন, গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার দাবি তিনি শুনছেন। এর জবাবে তিনি গরুর সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং গরুর সুরক্ষা ও লালনপালনে গুরুত্ব দিতে বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর সরকারের গো-আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন।    এই দাবির একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত মে মাসে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি গরুকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এ ধরনের স্বীকৃতি গরু রক্ষার নামে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ধর্মীয় অনুভূতির রাজনৈতিক ব্যবহার কমাতে সহায়ক হতে পারে।   যোগী জুন মাসেও ওই দাবির বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে লখনৌর বক্তব্যকে তাঁর নতুন কোনো নীতি ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তিনি আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:১২
সাইখুন খান
থানার সামনেই পাথরের আঘাতে মুসলিম যুবক খুন, দাড়ি-টুপি দেখে টার্গেট

রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় থানার সামনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে ৪০ বছর বয়সী সাইখুন খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বারোদা মেও থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা সাইখুন খান নিজের মোটরসাইকেলের জন্য টায়ার কিনতে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারোদা মেও থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকার তাকে থামায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে পাথর দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    গুরুতর আহত সাইখুনকে প্রথমে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আলওয়ারের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।    ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত হর্ষকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে হাজির করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, সাইখুন ও অভিযুক্তের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং তার মনোরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে।    তবে নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারণ থাকার অভিযোগ তুলেছে। সাইখুনের ভাই ইরশাদ খানের দাবি, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সন্দেহ, সাইখুনের দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে মুসলিম হিসেবে শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় হত্যার কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।    পুলিশ অবশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ নাকচ করেছে। আলওয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার স্থানটি থানার ভেতর থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন।    এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বারোদা মেও থানার সামনে এবং আলওয়ার জেলা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভের সময় আলওয়ার-ভরতপুর সড়কেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।    ঘটনাটি নিয়ে ভারতের বিরোধী কংগ্রেস নেতারাও পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘটনার তদন্তের প্রমাণ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।    সাইখুন খানকে থানার সামনে পাথর দিয়ে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অভিযুক্তের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর পরিবারের অভিযোগ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তদন্ত ও মেডিকেল/আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪