- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের মানুষের ভোগব্যয় শক্তিশালী থাকলেও সেই ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে। জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আগের তুলনায় অনেক বেশি আমেরিকান এখন বিনিয়োগ হিসাব থেকে অর্থ তুলে চেকিং অ্যাকাউন্টে আনছেন, যেখান থেকে দৈনন্দিন খরচ মেটানো সম্ভব। প্রবণতাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে উচ্চ আয়ের ও বয়স্ক আমেরিকানদের মধ্যে। গবেষণাটি জেপিমরগ্যান চেজের ২ কোটির বেশি গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখা ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে ৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিনিয়োগ হিসাব থেকে নিট অর্থ চেকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। ২০১৯ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৪ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আরও বড়। সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে চেকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ আনতেন। ২০২৬ সালে সেই হার বেড়ে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ উচ্চ আয়ের প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজন সাম্প্রতিক তিন মাসের হিসাবে এ ধরনের অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তবে এটিকে শুধু অর্থকষ্টের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। জেপিমরগ্যানের গবেষণা বলছে, গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবারের বিনিয়োগ সম্পদ বেড়েছে। ফলে আয় থেকে সব খরচ না মিটিয়ে বিনিয়োগে জমে থাকা সম্পদের একটি অংশ ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিনিয়োগ থেকে আসা অর্থের ওপর ভোগব্যয়ের নির্ভরতাও বাড়ছে। ২০১৫ সালে মোট ব্যয়ের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ আসছিল বিনিয়োগ হিসাব থেকে। ২০১৯ সালে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রতি মাসেই এই হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বড় বৈষম্যও সামনে এসেছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ আমেরিকান দেশের মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশ মানুষের অংশ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বয়সের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোগব্যয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ করেছেন। জেপিমরগ্যানের গবেষণাও বলছে, উচ্চ আয় ও অবসর বয়সের মানুষের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ ব্যয়ে ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে শেয়ারবাজারের বড় উত্থানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শুধু সরাসরি ও পরোক্ষভাবে থাকা করপোরেট শেয়ারের মূল্যই ওই প্রান্তিকে প্রায় ১০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তবে এখানেই অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। জেপিমরগ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেয়ারবাজার পতনের সময় বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার প্রবণতাও কমেছিল। অর্থাৎ মানুষের ভোগব্যয়ের একটি বড় অংশ যদি ক্রমেই বিনিয়োগ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে শেয়ারবাজারের বড় পতন সরাসরি ভোক্তা ব্যয়েও চাপ তৈরি করতে পারে। গবেষণাটি তাই শুধু ধনী আমেরিকানদের খরচের গল্প নয়। এটি দেখাচ্ছে, শেয়ারবাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব অর্থনীতির সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও গভীর হচ্ছে। বাজার বাড়লে বিনিয়োগের সম্পদ থেকে ব্যয়ের সুযোগ বাড়ছে, আর বড় ধরনের বাজার পতন হলে সেই ব্যয়ও দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ১৬ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ জন আ হ ত হয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, আগের ৪৮ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে আরও সাতজনের ম র দে হ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নতুন করে নি হ ত হয়েছেন এবং একজন আগের আ ঘা তে মা রা গেছেন। একই সময়ে আরও ৩৮ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ধ্বং স স্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক ম র দে হ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকারী ও অ্যাম্বুলেন্স দল সব জায়গায় পৌঁছাতে না পারায় প্রকৃত হ তা হ তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তাদের দাবি। গত বছরের অক্টোবরে যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পর বড় আকারের লড়াই কমে এলেও গাজায় হা ম লা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা হু ম কি বা হা ম লার জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাচ্ছে। রোববারও মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হা ম লায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং কয়েকজন আ হ ত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে হা ম লায় একজন নি হ ত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে একজন সামরিক অপারেটিভকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় আরেক হা ম লায় একজন নি হ ত ও তিনজন আ হ ত হন। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হা ম লায় নি হ তদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা হিসাব দেয় না। তবে তাদের বিস্তারিত হ তা হ তের নথিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নি হ তদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মানবিক প্রতিবেদনেও গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলা হয়েছে। ব্যাপক ধ্বং স, চলমান হা ম লা, জরুরি সরঞ্জাম প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক সেবা মারাত্মক চাপে রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় থাকার ঝুঁকিও বাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের ইসরায়েলে হা ম লায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নি হ ত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, এবং ২৫১ জনকে জি ম্মি করা হয়। এরপর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যু দ্ধ বি রতির পরবর্তী ধাপও অনেকটাই স্থবির। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯৫৩ জন আ হ ত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ৭৪ হাজার ১৬ জন নি হ তের এই সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করা হিসাব। যু দ্ধ চলমান থাকায় এবং ধ্বং স স্তূপের নিচে ও দুর্গম এলাকায় বহু মানুষ পড়ে থাকার কথা জানানোয় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আরব নিউজ
টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও যানবাহন আংশিক ডুবে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নগরীর খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায় এবং অনেক এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারেনি। বিশেষ করে রাজধানীর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানিতে ব্যাংককের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের কিছু অংশ পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে খাল ও জলপথের আশপাশের এলাকায়। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সমন্বয় করা। কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে দ্রুত পানি সরানোর চেষ্টা করছে। ব্যাংককের মেয়র চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার কথা। বন্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে অনেক মানুষকে। শহরজুড়ে ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিছু স্কুলকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় থাই সামরিক বাহিনীও মাঠে নেমেছে। তারা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার পাশাপাশি ফিল্ড কিচেন বা অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবার সরবরাহ করা যায়। দুর্গম ও পানিবন্দি এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বন্যার মধ্যে ব্যাংককের সুvar্নভূমি বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। তবে সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বিমানযাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্যাংককের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ব্যাংকক নয়, থাইল্যান্ডের আরও অনেক এলাকাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত দেশের ২১টি প্রদেশে ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার মধ্যে মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি। তবে ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পানি পাম্প করে সরানোর কাজ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডা থেকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি নাগরিকের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে, ২০২৬ সালে কানাডা থেকে মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ বিদেশি নাগরিকের অপসারণ কার্যকর করেছে সিবিএসএ। নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ৩৪০ জন নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে সিবিএসএর চলমান অপসারণের তালিকায়। সরকারি হিসাবে, বর্তমানে ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহসহ অপসারণের পথে থাকা বিভিন্ন বাধা সমাধানের চেষ্টা করে সংস্থাটি। তবে তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশিকেই নিশ্চিতভাবে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হবে, এমন অর্থ এই পরিসংখ্যানের নয়। সিবিএসএ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং আইনি বা প্রশাসনিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি অপসারণ ব্যবস্থার বিভিন্ন তালিকায় স্থানান্তরিত হতে পারেন। কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের কারণও এক নয়। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত পূরণ না করা রিফিউজি ক্লেইমেন্টদের ক্ষেত্রে - সংখ্যাটি ১২ হাজার ৫। এছাড়া সাধারণ ইমিগ্রেশন নন-কমপ্লায়েন্স, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা, ভুল তথ্য দেওয়া এবং অন্যান্য কারণেও অপসারণ কার্যকর হয়েছে। তবে সিবিএসএর প্রকাশিত তথ্যে ৩৪০ বাংলাদেশির মধ্যে কে কোন কারণে অপসারিত হয়েছেন, তার আলাদা হিসাব নেই। ফলে তাদের সবাই আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে অপসারিত হয়েছেন - এমন সিদ্ধান্ত সরকারি তথ্য থেকে দেওয়া যায় না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানাডার সরকারি হিসাবে সব অপসারণই ‘ডিপোর্টেশন’ নয়। দেশটিতে ডিপারচার অর্ডার, এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ডিপোর্টেশন অর্ডার - তিন ধরনের রিমুভাল অর্ডার রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৮ হাজার ৫৭৭টি ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার কার্যকর হয়েছে। তাই বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ‘৩৪০ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে’ বলার চেয়ে ‘৩৪০ বাংলাদেশিকে অপসারণ করা হয়েছে’ বলা বেশি নির্ভুল। কারণ নাগরিকত্বভিত্তিক সরকারি টেবিলে ওই ৩৪০ জনের মধ্যে কোন ধরনের রিমুভাল অর্ডার কতটি ছিল, তা আলাদাভাবে দেখানো হয়নি। সিবিএসএর হিসাবে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডায় সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি। অর্থাৎ কানাডার অভিবাসন আইন প্রয়োগের চলমান প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। সূত্র: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি নিজে ওই কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। ককরোচ জণতা পার্টি বা সিজেপি ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। ওয়াংচুক বলেন, দেশের জবাবদিহি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার যেকোনো উদ্যোগই সমর্থনের যোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, কোনো আন্দোলন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে গণতন্ত্রের আর কী অবশিষ্ট থাকে? সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ওয়াংচুক। উদাহরণ হিসেবে লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। জবাবদিহি ও ন্যায়ের জন্য কাজ করা সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সমর্থনের কথাও জানান তিনি। ২ অক্টোবরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে ওয়াংচুক বলেন, এ দিন মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায়ের যে পদ্ধতি গান্ধী অনুসরণ করেছিলেন, তা বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওয়াংচুকের এই বক্তব্য এসেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদনের পর জানিয়েছে, এসআইআর–সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংশোধন প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাওয়া ভোটারদের সহায়তায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য বা ম্যাপিং-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বুথ লেভেল কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে সহায়তা করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এদিকে বিরোধী দলগুলোর একটি অংশও এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে। ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক করে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ২ অক্টোবরের কর্মসূচিটি মুম্বাই থেকে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। ওয়াংচুকের সমর্থন থাকলেও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
জাপানে বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন ভারতীয় নারী সোনম মিধা। কাঁধে আঘাতের পাশাপাশি বেঁকে যায় সাইকেলের হ্যান্ডেল, ভেঙে যায় আইফোনের স্ক্রিনও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর এক অপরিচিত জাপানি দোকানির কাছ থেকে পাওয়া মানবিক আচরণই শেষ পর্যন্ত তার কাছে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। সোনম জানান, বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় সেটি পিছলে যায়। পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পান তিনি। কোনোভাবে অফিসে পৌঁছানোর পর সহকর্মী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন। দুপুরের বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেলটি নিয়ে কাছের একটি মেরামতের দোকানে যান সোনম। তার ধারণা ছিল, সাইকেল ঠিক করতে ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। কারণ এর আগে শুধু সাইকেলের সিটের অবস্থান ঠিক করতেই তাকে ৫০০ ইয়েন দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু দোকানে পৌঁছানোর পর ঘটে অন্য ঘটনা।সাইকেল দেখার আগে দোকানি সোনমের আঘাতের দিকে নজর দেন। প্রথমেই জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেল ঠিক করে দেন। কাজ শেষে সোনম জাপানি ভাষায় জানতে চান, ‘ইকুরা দেশু কা?’ অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে? দোকানির উত্তর ছিল মাত্র দুটি শব্দ - ‘নো প্রাইস।’ অর্থাৎ কোনো টাকা লাগবে না। বিনা পয়সাতেই সাইকেলটি ঠিক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আরও নিরাপদে সাইকেল চালাতে হবে, সে বিষয়েও সোনমকে পরামর্শ দেন ওই দোকানি। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনম। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে চাননি তিনি। কাছের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দোকানির জন্য খাবার প্যাকেট করেন। এরপর আবার বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ফিরে যান সেই দোকানে। সোনমকে আবার দোকানে ঢুকতে দেখে প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। সোনমের ধারণা, দোকানি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি আবার পড়ে গেছেন কিংবা সাইকেলে নতুন কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সোনম যখন জানান, তার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, তখন দোকানির প্রতিক্রিয়াও বদলে যায়। সোনমের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত ও দৃশ্যত আনন্দিত হয়ে ওঠেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই অপরিচিত মানুষের পারস্পরিক এই আচরণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একজন বিনা পয়সায় সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলেন, অন্যজন সেই আন্তরিকতার জবাব দিয়েছেন নিজের দেশের খাবার দিয়ে। সোনম জানিয়েছেন, দিনটি তার মনে থাকবে সাইকেল দুর্ঘটনা, আহত কাঁধ কিংবা ভাঙা ফোনের জন্য নয় - বরং অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতার জন্য। মজার বিষয় হলো, জাপানে সোনমের এমন অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে তিনি একটি ব্যাগ হারিয়েছিলেন, যেখানে নগদ অর্থ, বাড়ির চাবি ও দামি মাইক্রোফোনসহ প্রায় এক লাখ রুপির জিনিস ছিল। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি খুঁজে পেয়ে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে জমা দিয়ে গেছেন। সূত্র: সোনম মিধার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে। এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে। আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে। কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে। এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে গ্যাং ও সংগঠিত অ পরাধ মোকাবিলায় শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মতো করে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাবেক মাদক পা চার কারীদের পডকাস্ট, তরুণদের জন্য মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ, চাকরির সুযোগ তৈরি এবং অ পরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে মায়েদের উদ্যোগ—এভাবেই অ পরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির মানুষের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে জননিরাপত্তা। প্রার্থীরাও সংগঠিত অ পরাধ মোকাবিলায় নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো অ পরাধী চক্রের প্রভাব কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অ পরাধ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও বড় ভূমিকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলছেন। এরই মধ্যে গত বছর রিওতে পুলিশের একটি অভিযানে ১২০ জনের বেশি মানুষ নি হত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা ও বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, সশস্ত্র সংঘর্ষনির্ভর অভিযান অনেক সময় প্রাণ হা নি ঠেকাতে পারে না। সেই জায়গা থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে নানা বিকল্প উদ্যোগ গড়ে উঠছে। অ পরাধের বিরুদ্ধে সাবেক অ পরাধীদের পডকাস্ট রিওর প্রান্তে একটি ছোট স্টুডিওতে সপ্তাহে একদিন জড়ো হন সাবেক মাদক পা চার কারীদের একটি দল। নিজেদের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা এবং অ পরাধজগত থেকে বেরিয়ে আসা অন্যদের গল্প নিয়ে তারা তৈরি করেন ০১ সোব্রেভিভেন্তেস বা ০১ সারভাইভারস নামের পডকাস্ট। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই পডকাস্টটি ইউটিউব ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়। ইনস্টাগ্রামে এর অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারের বেশি। অনুষ্ঠানে সাবেক অ পরাধীরা তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অ পরাধে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি হতে পারে কারা গার, পঙ্গুত্ব কিংবা মৃ ত্যু। পডকাস্টটির উপস্থাপক ফাবিও সান্তোস নিজেও একসময় অ পরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২৫ বছর কারা গারে কাটিয়েছেন। এখন তিনি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণদের অ পরাধ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, কিছু মাদক পা চার কারীও এই অনুষ্ঠান শুনেছেন এবং কয়েকজন অ পরাধের পথ থেকে সরে এসেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তরুণদের গ্যাং থেকে দূরে রাখছে মার্শাল আর্ট রিওর কমপ্লেক্সো দো আলেমাও এলাকার বাসিন্দা অ্যালান দুয়ার্তে সহিং সতায় তাঁর পরিবারের ১০ সদস্যকে হারিয়েছেন। ছোটবেলায় যে এলাকায় বড় হয়েছেন, সেখানকার তরুণদের অ পরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি ২০১৪ সালে আব্রাসো কামপেয়াও নামে একটি অলাভজনক উদ্যোগ শুরু করেন। প্রকল্পটিতে বক্সিং, জিউ-জিৎসু, মুয়াই থাই ও কাপোয়েইরার পাশাপাশি শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নমূলক আলোচনা হয়। ক্লাস, ইউনিফর্ম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; ভবিষ্যতে তা ১ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দুয়ার্তের মতে, গ্যাংয়ের প্রতি তরুণদের যে বিষয়গুলো আকৃষ্ট করে—পরিচয়, সম্মান, মনোযোগ, কর্তৃত্ব ও একটি গোষ্ঠীর অংশ হওয়ার অনুভূতি—মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও সেই চাহিদাগুলো ইতিবাচকভাবে পূরণ করা সম্ভব। চাকরির সুযোগও বদলে দিচ্ছে জীবন অ পরাধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও জোর দিচ্ছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। রিওর একটি ফাভেলায় বিদ্যুতের কাজ শেখানোর প্রশিক্ষণে একসময় দুই সশস্ত্র ব্যক্তি যোগ দিতে এসেছিলেন। তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে প্রশিক্ষণ দেন ভানদারসন রোশা সিলভা। বর্তমানে দুজনই ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। রোশা সিলভা নিজেও কঠিন পরিবেশে বড় হয়েছেন। আট বছর বয়সে মাদক পা চারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর জীবনের একপর্যায়ে কারা গারে যান। পরে ধর্মীয় জীবনে ফিরে এসে অ পরাধজগত ছেড়ে দেন। এখন তাঁর আর৩ নামের একটি সংগঠন মানসিক সহায়তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, রেফ্রিজারেশন ও ইংরেজি ভাষার বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ দেয়। একসময় মাদকাসক্তি ও অ পরাধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৩৭ বছর বয়সী দানিলো গোমেস দা সিলভা এখন ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। তিনি বলেন, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। ছেলেকে হারিয়ে তরুণদের জন্য কাজ করছেন এক মা রিওর চাপাদাও ফাভেলা কমপ্লেক্সে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন ক্লেইভারসন। তিনি স্থানীয় মানুষের মধ্যে খাবার, ওষুধ ও পোশাক বিতরণ করতেন। ২০২২ সালে ১৭ বছর বয়সে পুলিশের গু লিতে তাঁর মৃ ত্যুর পর তাঁর মা নাদিয়া দোস সান্তোস ছেলের উদ্যোগকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখন তাঁর লক্ষ্য ২৬ বছরের কম বয়সী তরুণদের চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া, যাতে তারা অ পরাধী চক্রের টানে না জড়ায়। অর্থের অভাবে প্রকল্পটি এখনও ছোট পরিসরে চলছে। ভবিষ্যতে নিজের একটি বাড়িকে প্রকল্পের কার্যালয়ে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেখানে কম্পিউটার ব্যবহারের জায়গা ও একটি কমিউনিটি ফুড সেন্টার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ছেলের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্য শোকাহত মায়েরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, শিক্ষা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে তরুণদের অ পরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে। এভাবেই রিওর বিভিন্ন কমিউনিটিতে অ পরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে নতুন পথ খুঁজছেন—কেউ গল্প বলছেন, কেউ খেলাধুলার সুযোগ দিচ্ছেন, কেউ চাকরির ব্যবস্থা করছেন, আবার কেউ হারানো সন্তানের স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে অন্য তরুণদের জন্য ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছেন।
সৌদি আরবে আবাসিক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৮ জনকে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে আবাসিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ হাজার ৫৯৩ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ৩ হাজার ৫৩১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৫০৪ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া সৌদিতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ১৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি অবৈধভাবে সৌদি আরব ছাড়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও ২৭ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের পর ১২ হাজার ৬২৮ জনকে ইতোমধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ১৮ হাজার ৫৪৯ জনকে ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৮১৫ জনের ফেরার ভ্রমণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মোট ৩১ হাজার ৩৯৮ জন বিদেশি নাগরিক তাদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ১৮ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৮০ জন নারী। অন্যদিকে, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যভাবে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়ার মতো কাজে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। প্রয়োজনে এসব কাজে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাসের মান তুলনামূলক ভালো—এ প্রশ্নের নতুন একটি গবেষণায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিনেসোটা। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দ্বিদলীয় স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব সূচকের গড় অবস্থানের হিসাবে মিনেসোটা প্রথম হয়েছে। গবেষণায় শিক্ষা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনসন্তুষ্টি, পরিবেশ, নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্পর্ক, বৈষম্য ও নাগরিক স্বাধীনতাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। মিনেসোটা বিশেষভাবে ভালো করেছে নাগরিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের হিসাবে নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রের সূচকে রাজ্যটির অবস্থান দ্বিতীয়, শিক্ষায় চতুর্থ এবং সামাজিক পুঁজিতে চতুর্থ। ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও মিনেসোটা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও মিনেসোটার বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মিনেসোটাবাসী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত। এ ধরনের নাগরিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততাই রাজ্যটির সামগ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সূচক থেকে দেখা যায়। তবে গবেষণাটি মিনেসোটাকে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা রাজ্য হিসেবে দেখায়নি। পরিবেশ ও নাগরিক স্বাধীনতার কিছু সূচকে রাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। তরুণদের বিষণ্নতার হারও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রথম হলেও মিনেসোটারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে, সিএনবিসির ২০২৬ সালের ‘আমেরিকাস টপ স্টেটস ফর বিজনেস’ প্রতিবেদনে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি, কর্মশক্তি ও মূলধন পাওয়ার সুযোগের মতো ক্ষেত্রে রাজ্যটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের উপশ্রেণিতে টেক্সাস ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৯তম হয়েছে। সিএনবিসির জীবনযাত্রার মানের মূল্যায়নে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, অপরাধ, কর্মীদের সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে টেক্সাসের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্তিশালী হলেও জীবনযাত্রার মানের সূচকে তার অবস্থান তুলনামূলক নিচে এসেছে। দুটি গবেষণার পদ্ধতি অবশ্য এক নয়। টিউলেনের স্টেট অব দ্য স্টেটস প্রতিবেদনটি মূলত মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক অগ্রগতির ৩১টি সূচকের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। আর সিএনবিসির প্রতিবেদনটি ব্যবসার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণ করতে ১০টি বিভাগ ও ১৩৮টি সূচক ব্যবহার করেছে। তাই দুটি তালিকার ফলাফলকে একই ধরনের র্যাংকিং হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল ও নিউ ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলো ৩১টি সূচকের গড় ফলাফলে তুলনামূলক ভালো করেছে। বিপরীতে দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো গড়ে নিচের দিকে ছিল। একই সঙ্গে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, প্রায় সব রাজ্যই একাধিক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে—বিশেষ করে জীবনসন্তুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, আয়বৈষম্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মতো বিষয়গুলোতে। সব মিলিয়ে, নতুন এই গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে—কোনো অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, অর্থনীতি বা ব্যবসায়িক পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক সূচক বিবেচনা করা প্রয়োজন। মিনেসোটা জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের গড় ফলাফলে শীর্ষে থাকলেও, সেখানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। একইভাবে টেক্সাস ব্যবসায়িক দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে পিছিয়ে রয়েছে।
জার্মানিতে শ্রমবাজারে এখনো বিপুল সংখ্যক চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংস্থাটিতে ৬ লাখ ৫৩ হাজারটি শূন্যপদ নিবন্ধিত ছিল। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব সুযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। অপরচুনিটি কার্ড মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি আবাসন অনুমতি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে উপযুক্ত কাজ খুঁজতে পারেন। সাধারণত এই কার্ড সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এই সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। চাকরি খোঁজার অংশ হিসেবে কোনো নিয়োগকর্তার কাছে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজও করার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে অপরচুনিটি কার্ডের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অন্য ধরনের আবাসন অনুমতির আবেদন করা যায়। অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অথবা অন্তত দুই বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণের যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে অন্তত বি২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। এরপর বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মানির সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়া হয়। মোট অন্তত ৬ পয়েন্ট পেলে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়। তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ থাকার প্রমাণ দেখানো যায়, অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যভাবে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। জার্মানিতে আগে থেকেই উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব পাওয়া উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লু কার্ড। এর জন্য সাধারণত জার্মান বা সমমানের স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা এবং অন্তত ছয় মাসের উপযুক্ত চাকরির প্রস্তাব প্রয়োজন। ২০২৬ সালে সাধারণ ক্ষেত্রে ব্লু কার্ডের জন্য ন্যূনতম বার্ষিক মোট বেতনের শর্ত ৫০ হাজার ৭০০ ইউরো। ব্লু কার্ডধারীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও তুলনামূলক দ্রুত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ২৭ মাস যোগ্য চাকরিতে কাজ ও পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখার পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করা যায়। জার্মান ভাষায় বি১ পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে ২১ মাস হতে পারে। তবে জার্মানির ৬ লাখ ৫৩ হাজার নিবন্ধিত শূন্যপদকে সরাসরি বিদেশি কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি দেশটির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিতে নিবন্ধিত মোট চাকরির চাহিদার সংখ্যা। কোন পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার শর্ত এবং আবেদনকারীর ভিসা ও আবাসন অনুমতির ওপর। জার্মানিতে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য তাই অপরচুনিটি কার্ড চাকরি খোঁজার একটি সম্ভাব্য পথ হলেও আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষাজ্ঞান, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তগুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় এবার জবাব দিতে হবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে। দেশটির সিনেটের একটি তদন্ত কমিটি অল্টম্যানকে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে। একই শুনানিতে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকেও উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এ শুনানি হওয়ার কথা। এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বচ্ছতা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে সিনেট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকা মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, ১৮ জুন ওপেনএআইয়ের গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করছিল। তথ্য খোঁজার সময় এআই এজেন্টটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। এরপর সেটি ওই বাধা এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ারের একটি সরকারি পোর্টালের কিছু অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে। সেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের ফাইলেই প্রবেশ করা হয়। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভারে ফাইল লেখার কাজও করেছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি যে পোর্টালে ঘটেছে সেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ও ব্যয়সংক্রান্ত অ-সংবেদনশীল তথ্য ছিল। একই সঙ্গে ফরেনসিক তদন্ত চলছে এবং সরকারি নেটওয়ার্কের আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, ঘটনার পর ওপেনএআই সরকারকে জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। সেটিও পাঠানো হয়েছিল সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ একটি পাবলিক মেইলবক্সে। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। ঘটনাটি প্রকাশের দিনই অ্যালবানিজ স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং ঘটনাটি জানাতে এত দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যালবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের প্রক্রিয়া যথেষ্ট ভালো ছিল না। এরপর অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, এআই দপ্তর, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট এবং সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত সাইবার ঘটনা মোকাবিলায় বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের এআই কার্যক্রমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু সিস্টেমও সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি। সিনেটের আসন্ন শুনানিতে তাই এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও আরও তথ্য নিতে চাইছে।
নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলেই এখনো তুলনামূলক কম দামে নিজের বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হাউজিং মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালোতে বাড়ির দাম নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর এসব শহরে বাড়ি কিনেছেন এমন কয়েকজন প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মিল থাকলে নিউইয়র্ক স্টেটের অন্য শহরেও বাড়ি কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে। এর একটি উদাহরণ জি নাহার। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বাড়িটি সাজিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা বাংলাকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জি নাহার বলেন, নিউইয়র্কে এত বছর ভাড়া দিতে যে অর্থ খরচ করেছেন, তার কিছুটা যদি আগে বাড়ি কেনার দিকে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আরও আগেই নিজের একটি বাড়ি হয়ে যেত। দেরিতে হলেও এখন নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে—এটাই তার কাছে বড় বিষয়। নিজের বাড়ি হওয়ায় সেটিকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা নিউইয়র্কে বহু বছর ধরে ভাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির দাম দেখে কেনার কথা ভাবছেন না। বিংহ্যামটন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরে হলেও এটি নিউইয়র্ক স্টেটেরই একটি শহর। ফলে শহর বদলালে জীবনযাপনের ধরন, যাতায়াত, চাকরি ও কমিউনিটির সুযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যোগ্য ক্রেতারা স্টেটভিত্তিক কিছু বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিংহ্যামটনের বাড়ির বাজার এখনো তুলনামূলক কম দামের। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সেখানে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯০ ডলার। তবে এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও দাম বাড়ছে। বিংহ্যামটনে মুসলিম কমিউনিটিরও উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব দ্য সাদার্ন টিয়ারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউইয়র্ক সিটি থেকে দূরে গিয়েও মুসলিম পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারে। শুধু বিংহ্যামটন নয়, বাফালোর অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি বাফালোতে নিজের বাড়ি কিনেছেন প্রবাসী মামুন চৌধুরী। মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি যদি আরও আগে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এখন তাকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হয়েছে। তার মতে, দুই বছর আগে বা তারও কিছু আগে একই ধরনের বাড়ি আরও কম দামে কেনার সুযোগ ছিল। তবে বর্তমান বাজার নিয়েও তার অভিজ্ঞতা হলো, বাফালোতে এখনো তুলনামূলক যুক্তিসংগত দামে বাড়ি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যারা এখনো বাড়ি কেনেননি, তাদের জন্য বাজার পুরোপুরি নাগালের বাইরে চলে যায়নি। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বাফালোর বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৮ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে প্রায় ১৫ দিন লাগছে। বাফালোতে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও কমিউনিটি, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকার আরেকটি শহর রচেস্টার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে রচেস্টারে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ ডলার। এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাড়িগুলো গড়ে মাত্র ১০ দিনে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। সিরাকিউজে একই সময়ে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ১১০ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে বাড়ি বাজারে থাকার গড় সময় ২৬ দিন। অন্যদিকে ইউটিকায় বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ডলার, যা এক বছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৩৫ দিন সময় লাগছে। পাঁচ শহরের বাজারে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মর্টগেজের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ির মালিকের ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির অবস্থা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং চাকরির সুযোগও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বর্তমান মর্টগেজের সুদের হার বাড়ি কেনার মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য কাজে আসতে পারে। যেমন, সনিমা ডিপিএএল প্লাস ২০২৬ কর্মসূচিতে যোগ্য স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ এবং নির্দিষ্ট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য পরিবারের আয় নির্ধারিত এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং তহবিল শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মালিকের বসবাস করা প্রাথমিক বাড়ির জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্টার ক্রেডিটের আয়ের সীমা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত। তবে এটি মূলত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। তাই বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা কিংবা বাফালোতে বাড়ি কিনলেই নিউইয়র্ক সিটির সব সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নয়। বরং এসব শহরে বসবাসের খরচ, চাকরি, যাতায়াত, কমিউনিটি ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য হলে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রযোজ্য বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। জি নাহার ও মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় আরেকটি দিক তুলে ধরে। একজন দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন। অন্যজন বাফালোতে বাড়ি কিনে মনে করছেন, আরও আগে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো কম দামে কেনার সুযোগ পেতেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে তুলনামূলক কম দামের কিছু বাজার এখনো রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের সক্ষমতা, চাকরি ও জীবনযাপনের পছন্দের ওপর। তবে নিউইয়র্কে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেন্ট দিচ্ছেন এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তাদের জন্য বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালো হাউজিং মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শহর হতে পারে।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
ফিলিপাইনে এক নারী যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ই-ট্যাক্সিচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল করেছে দেশটির ল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিস বা এলটিও। ফলে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতের। অভিযোগকারী নারী জানান, ট্যাক্সিতে যাত্রার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। নির্ধারিত গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে চালক তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে যৌন নিপীড়ন করেন বলে তার অভিযোগ। এলটিওর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত ও শুনানিতে চালক স্বীকার করেন, ১২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩টার সময় তিনিই ওই ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। শপথনামায় গাড়ির ভেতরে যৌন কার্যকলাপ হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে এই স্বীকারোক্তি নিজে থেকেই অভিযোগকারী নারীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ফৌজদারি সত্যতা নির্ধারণ করে না। তদন্ত শেষে এলটিও তাকে মোটরযান চালানোর জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তার লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগ সামনে আসার পর চালক ও ট্যাক্সিটির অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল এলটিও। চালকের লাইসেন্স ৯০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্ত চলাকালে সেটি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ট্যাক্সিটির অপারেটরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলটিও জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির শর্ত লঙ্ঘন এবং অসৌজন্যমূলক চালক নিয়োগের দায় পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িটিও এখনো এলটিওর ‘অ্যালার্ম স্ট্যাটাসে’ রয়েছে। এলটিও প্রধান মার্কুস লাকানিলাও বলেছেন, যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। সড়কে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপব্যবহার সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসার পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং যাত্রীর বুকিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে ফিলিপাইন স্টার জানিয়েছে।
চকলেট দেওয়ার কথা বলে কর্মীদের সঙ্গে ছোট্ট মজা। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই কারও হাতে নতুন আইফোন ১৮, কারও হাতে বড় চকলেট বার। আর যারা চকলেট পেয়েছিলেন, কিছুক্ষণ পর তাদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় নতুন আইফোন। দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পুরস্কৃত করার এমন ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি দুবাইভিত্তিক ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নিশাদ এবং তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নিশাদ হুসাইন মিলে এবার সেরা পারফর্ম করা ১২ কর্মীকে নতুন আইফোন উপহার দিয়েছেন। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীদের মধ্যে কয়েকটি প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। প্যাকেটগুলোর অর্ধেকের মধ্যে রাখা হয়েছিল নতুন আইফোন ১৮, আর বাকি অর্ধেকে ছিল বড় চকলেট বার। কর্মীরা একসঙ্গে প্যাকেট খুলতেই শুরু হয় আসল চমক। যারা ফোন পেয়েছিলেন তারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে যারা চকলেট পেয়েছিলেন, তারাও সেটি হাসিমুখেই গ্রহণ করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত হন হাসিনা নিশাদ। চকলেট পাওয়া কর্মীদেরও একে একে নতুন আইফোন তুলে দেওয়া হয়। হাসিনা জানান, চকলেট ছিল শুধুই ছোট্ট একটি প্র্যাঙ্ক - শুরু থেকেই ১২ জন কর্মীর প্রত্যেকের জন্য ফোন রাখা হয়েছিল। হাসিনা বলেন, চকলেট পাওয়া কর্মীদের প্রতিক্রিয়াই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ফোন না পেয়ে তাদের কাউকে হতাশ হতে দেখেননি। তারা যা পেয়েছিলেন সেটিই খুশিমনে গ্রহণ করেছিলেন। পরে আইফোন পাওয়ার পর তাদের মুখের আনন্দকেই নিজেদের জন্য বড় উপহার হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। কর্মীদের পুরস্কৃত করা এবারই প্রথম নয় ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ে এমন আয়োজন নতুন নয়। গত বছরও ভালো পারফর্ম করা কর্মীদের আইফোন দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ১৬ কর্মীর জন্য আরও ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পাঁচ তারকা হোটেলে থাকা, চালকসহ বিলাসবহুল গাড়িতে ভ্রমণ এবং ইয়ট পার্টির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরও আগে ২০২৩ সালে কর্মীদের জন্য বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। হাসিনা নিশাদের দাবি, কর্মীদের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানে কর্মী ধরে রাখার হার ভালো। অনেক কর্মী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের সঙ্গে রয়েছেন। হাসিনা ও নিশাদ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন। হাসিনার ভাষায়, শুরুতে ছিলেন শুধু তারা দুজন। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান বড় হয়েছে এবং কর্মীদেরই তারা ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, কর্মীদের যথাযথ যত্ন নিলে প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে যায়।
ইরাকের একটি মসজিদে নামাজ চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। মুসল্লিরা কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। হঠাৎ মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে দুই হরিণশাবক। অপ্রত্যাশিত দুই অতিথির উপস্থিতিতে তৈরি হয় বিরল এক দৃশ্য, যার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের দুহোকে। গালফ নিউজের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নামাজ চলাকালে দুটি হরিণশাবক মসজিদের নামাজের স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপরিচিত পরিবেশে প্রাণী দুটিকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। তবে হরিণশাবক দুটি ঢুকে পড়লেও মুসল্লিদের মধ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি। অধিকাংশ মুসল্লি কাতারে থেকেই নামাজ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে কয়েকজন মুসল্লি এগিয়ে এসে হরিণশাবক দুটিকে ধীরে ধীরে মসজিদের বাইরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করেন। পরে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ চালিয়ে যান। পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে। নামাজরত মুসল্লিদের মধ্যে দুই হরিণশাবকের এমন অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিই ভিডিওটিকে আলোচনায় নিয়ে আসে। সূত্র: গালফ নিউজ
গাজার পরিবার ও শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় মানবিক উদ্যোগ। শনিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব খাদ্যসহায়তার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। ‘আহমেদ বিন রাশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামের এই উদ্যোগ আয়োজন করে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। সহযোগিতায় ছিল গাজায় আমিরাতের চলমান মানবিক কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের স্মরণে উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবারের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং শেখ আহমেদ বিন রাশিদের শুভানুধ্যায়ীরা একসঙ্গে গাজার জন্য খাবারের প্যাকেজ প্রস্তুত করেন। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব খাদ্যসহায়তা গাজার পরিবার ও শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গেরগাওয়িসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আয়োজকেরা বলছেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু খাদ্য পাঠানো নয়, আমিরাতের মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী করা। ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ সালেহ আল শরিফ বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের পাশাপাশি গাজার শীতকালীন পরিস্থিতি সামনে রেখে আরেকটি বড় সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করেছে আমিরাত। দেশটি ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার শীতকালীন কিট পাঠানো হয়েছে, যাতে ৫০ হাজার জ্যাকেট, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে। দ্য ন্যাশনালের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর আওতায় গাজার জন্য আমিরাতের সহায়তার পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামের বেশি। এর আগেও গাজার জন্য একই ধরনের বড় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়েছিল আমিরাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের আরেক কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী নরইস্টার ঝড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস, উপকূলীয় বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিমান চলাচল ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, সামনের জোয়ারের সময় উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। শনিবার নিউইয়র্ক শহরে ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি গাছ ভেঙে পড়ে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির এক কর্মী নিহত হন। ধীরগতির নরইস্টারটি রোববারও অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছিল। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস এবং বিপজ্জনক ঢেউয়ের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার সকালে ঝড়টি লং আইল্যান্ডের দক্ষিণে এবং উত্তর নিউ জার্সিয়ার পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার প্রধান পূর্বাভাসবিদ বব ওরাভেক জানান, ঝড়টি আরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা ওই অঞ্চলের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। উত্তর নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক শহর, লং আইল্যান্ড ও দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ডে রোববারও সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। ঝড়ের শক্তি ধীরে কমলেও সকাল ও সন্ধ্যার জোয়ারের সময় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি থেকে যায়। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল উপকূলীয় এলাকার মানুষকে পানির কাছাকাছি না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সপ্তাহান্তে পানিতে বা পানির কাছে যাওয়া আক্ষরিক অর্থেই জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার মতো। ঝড়ের প্রভাবে কিছু এলাকায় ঢেউ প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং জোয়ারের পানি উপকূলীয় সড়কে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রোববার সকালে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন বলে পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির উপকূল, লং আইল্যান্ড ও উপকূলীয় কানেকটিকাটে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়। লং আইল্যান্ডে গাছ পড়ে বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, অঞ্চলটির জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রগুলো বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় নিউ ইংল্যান্ডে জরুরি কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় পর্যায়েও সতর্কতা জারি রয়েছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কয়েকটি এলাকায় শনিবার বন্যার পানিতে মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে। নিউ জার্সির সি ব্রাইটে বন্যার পানিতে আটকে পড়া একটি গাড়ি থেকে এক নারী ও তাঁর কুকুরকে উদ্ধার করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। সার্ফ সিটিতে একটি নৌঘাটেও পানি ঢুকে পড়ে। সেখানে কয়েকটি নৌকা ও জলযান ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভার্জিনিয়ার নরফোকে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোও পানির মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় ধরনের ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার হ্যাটেরাস দ্বীপে বন্যার কারণে মহাসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা আটকা পড়েন। প্রায় ৪৫ জন অতিথি দ্বীপে পৌঁছাতে না পারায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী বাতাস ও জোয়ারজনিত বন্যা। ঝড়টি ধীরে সরে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব থাকতে পারে। ২০১২ সালের সুপারস্টর্ম স্যান্ডির কথা মনে করিয়ে দিলেও বর্তমান ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর আট দিন তাঁর মরদেহ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক তানজিলা ইসলাম আশা। হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধের কথা বলে মরদেহ আটকে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চাওয়ার পর শনিবার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আটকে রাখার অভিযোগের জবাব দেয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে আশা জানান, স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজের চিকিৎসার জন্য তাঁরা ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে যান। পরদিন শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে সবুজকে ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মনিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। আশার অভিযোগ, চিকিৎসার সময় তিনি কয়েক কিস্তিতে সাড়ে সাত লাখ রুপি পরিশোধ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দিতে বলা হয়। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে মরদেহ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আশা। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সবুজের এক বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় শুক্রবার আশা তাঁর পাসপোর্ট ফেরত পান এবং মরদেহ দেশে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। শনিবার হাসপাতাল মরদেহ হস্তান্তর করে। বন্ধু জানান, আগে পরিশোধ করা অর্থের বাইরে আশাকে আর কোনো টাকা দিতে হয়নি। মনিপাল হাসপাতাল জানিয়েছে, সবুজকে গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। নিবিড় পরিচর্যা ও অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা দেওয়া হলেও ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসা বিল এবং মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া