- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর আট দিন তাঁর মরদেহ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক তানজিলা ইসলাম আশা। হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধের কথা বলে মরদেহ আটকে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চাওয়ার পর শনিবার মরদেহ বুঝে পেয়েছেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আটকে রাখার অভিযোগের জবাব দেয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে আশা জানান, স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজের চিকিৎসার জন্য তাঁরা ৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে যান। পরদিন শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে সবুজকে ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মনিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। আশার অভিযোগ, চিকিৎসার সময় তিনি কয়েক কিস্তিতে সাড়ে সাত লাখ রুপি পরিশোধ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দিতে বলা হয়। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে মরদেহ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আশা। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সবুজের এক বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় শুক্রবার আশা তাঁর পাসপোর্ট ফেরত পান এবং মরদেহ দেশে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। শনিবার হাসপাতাল মরদেহ হস্তান্তর করে। বন্ধু জানান, আগে পরিশোধ করা অর্থের বাইরে আশাকে আর কোনো টাকা দিতে হয়নি। মনিপাল হাসপাতাল জানিয়েছে, সবুজকে গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। নিবিড় পরিচর্যা ও অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা দেওয়া হলেও ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসা বিল এবং মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আগামী দুই মাসে তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। তবে এখন পর্যন্ত এই তিন দেশ সফরের সম্ভাব্য সূচিতে প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রথমে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর তিন থেকে চার দিনের হতে পারে। সফরটি সামনে রেখে ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। জাপান সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। এরপর নভেম্বরে তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশটির আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন - কপ৩১। প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও এর আগে তারেক রহমানের কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তুরস্কের পর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণ কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে সম্ভাব্য এই তিন দেশ সফরের তালিকায় ভারত না থাকলেও দিল্লি সফরের আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ সেপ্টেম্বর জানায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব তারা পায়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নিয়েও আলোচনা করছে। ফলে বর্তমানে ভারত সফর বাতিল হয়েছে বা হচ্ছে না - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কূটনৈতিক সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এখন সামনে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তিন সফরের প্রস্তুতি এগোলেও তারিখগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মিসরে ছয় সপ্তাহ ধরে আটক ব্রিটিশ নাগরিক ইমান এল-শাজলির মুক্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁর স্বামী জিশার্ন মোস্তফা। চার সন্তানের মা ৪৫ বছর বয়সী ইমান অসুস্থ মাকে দেখতে কায়রো গিয়েছিলেন। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে আটক করে। ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোস্তফা বলেন, মাকে ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে হয়েছে তাঁদের সন্তানদের। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিবারটির আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইমানের বোন মোনা এল-শাজলির সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে ইমানকে আটক রাখা হয়েছে। এটি পরিবারের অভিযোগ; আটকের কারণ হিসেবে তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইমানের স্বামীর আইনজীবী আরফান রশিদ জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের জানিয়েছে, মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইমানের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান ও অর্থায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং বিক্ষোভে আহ্বানের অভিযোগ এনেছে। ইমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীর দাবি, মিসরে তাঁর আইনজীবী অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি। মিসরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌঁসুলির কার্যালয় আগস্টে তদন্ত চলাকালে ইমানকে ১৫ দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রিডম অব থট অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। একই মামলায় তাঁর দুই ভাইও আটক আছেন। গ্রেপ্তার বা তদন্তাধীন থাকা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমান নয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, মিসরে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে তারা সহায়তা করছে এবং মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইমানের স্বামী চান, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক।
সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ বছর বয়সী ছেলেকে হারানোর কয়েক মাস পর ২২ বছরের বেশি সময় হিমায়িত রাখা ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন গ্রিসের ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়। মা ও মেয়েকে ঘিরে ঘটনাটি একই পরিবারের দীর্ঘদিন আগের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। ২০০৪ সালে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ চিকিৎসায় তৈরি ভ্রূণ থেকে দম্পতির প্রথম সন্তান, একটি ছেলে, জন্ম নেয়। ওই চিকিৎসার সময় তৈরি আরেকটি ভ্রূণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেই ছেলেই ২০২৫ সালের অক্টোবরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টিনার চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোস। ছেলের মৃত্যুর পর সংরক্ষিত ভ্রূণটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ক্রিস্টিনা ও তাঁর স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপ্তিস। গত ডিসেম্বরে ভ্রূণটি ক্রিস্টিনার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এর পর জন্ম নেওয়া মেয়েটি তাঁদের প্রথম সন্তানের সহোদরা। ক্রিস্টিনার বয়স এখন ৫৪ বছর। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসে আইভিএফ চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিই নারীদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত বয়স। দম্পতির আরও ভ্রূণ সংরক্ষিত থাকলেও বয়সসংক্রান্ত নিয়মের কারণে নতুন করে সন্তান নেওয়ার সুযোগ তাঁরা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এখানে ‘২২ বছরের ভ্রূণ’ বলতে শিশুটির বয়স বোঝানো হচ্ছে না। জন্মের আগে ভ্রূণটি ২২ বছরের বেশি সময় হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
মাত্র নয় মাসে ২০০টির বেশি গবেষণাপত্র। একই বছরে তার নামে প্রকাশিত বা প্রকাশের তালিকায় থাকা বইয়ের সংখ্যা ১৪। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের এমন অস্বাভাবিক গবেষণা উৎপাদন নিয়ে এখন একাডেমিক জগতে প্রশ্ন উঠেছে - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাকে দ্রুত করছে, নাকি গবেষণার মান ও স্বচ্ছতার সামনে নতুন সংকট তৈরি করছে? আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক নিকোলাস পলসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রবার্ট ল জুনিয়র প্রফেসর অব ইকোনোমেট্রিক্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস এবং দীর্ঘদিন ধরে বেইজিয়ান পরিসংখ্যান, ফাইন্যান্সিয়াল ইকোনোমেট্রিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করছেন। আগস্টের শেষ দিকে অর্থনীতিবিদ জেরেমি হরপেডাল পলসনের এসএসআরএন প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে জানান, শুধু ২০২৬ সালেই তার নামে ২৫৮টি ওয়ার্কিং পেপার পোস্ট হয়েছিল। আগস্ট মাসেই পোস্ট হয়েছিল ১০৪টি। এমনকি ২৬ আগস্ট এক দিনেই ছয়টি পেপার পোস্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অনেক গবেষণাপত্র ছিল ২৭ থেকে ৫৮ পৃষ্ঠার। গবেষণাগুলোর বেশির ভাগ উন্নত পরিসংখ্যান ও গণিতকেন্দ্রিক হলেও বিষয়বস্তুর পরিধিও নজর কেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক চাপ, দাবা খেলোয়াড়দের কৌশলগত দক্ষতা এবং টিকটকের সুপারিশব্যবস্থার মতো বিষয়েও পলসনের নামে গবেষণাপত্র ছিল। তার শতাধিক গবেষণাপত্রে নিয়মিত সহলেখক হিসেবে ছিলেন সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ভাদিম সোকোলভ। এরপরই বিষয়টি আরও বড় মোড় নেয়। গবেষণাপত্র প্রকাশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এসএসআরএন পলসনের লেখা বা সহলেখক হিসেবে থাকা ২৫৭টি কাজ সরিয়ে দেয় এবং যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে সেগুলো আপলোড হয়েছিল সেগুলো স্থগিত করে। এত অস্বাভাবিক সংখ্যায় গবেষণাপত্র জমা পড়ার বিষয়টি তাদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল। পলসন অবশ্য এআই ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেননি। তিনি নিশ্চিত করেন, গবেষণার কাজে তিনি এআই ব্যবহার করেছেন। তার বক্তব্য, এআই গবেষণার সময়সাপেক্ষ অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে এবং একজন উৎপাদনশীল গবেষককে আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। তবে প্রতিটি গবেষণাপত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়টি তিনি প্রকাশ করেছিলেন কি না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি। এখানে বিতর্কের মূল বিষয় গবেষণার অস্বাভাবিক গতি, এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং এত বিপুল সংখ্যক গবেষণাপত্রের মান যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব কি না। বিতর্ক আরও বেড়েছে তার নামে থাকা বইয়ের সংখ্যা নিয়ে। অনুসন্ধানে অ্যামাজনের তালিকায় ২০২৬ সালে পলসনের নামে ১৪টি বই প্রকাশিত এবং আরও দুটি পরবর্তী মাসগুলোতে প্রকাশের জন্য নির্ধারিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে পলসন ওই সব বই সত্যিই তার কি না, তা নিশ্চিত করার অনুরোধে জবাব দেননি। অধিকাংশ বইয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় অথবা পরিচিত গবেষণা-সহযোগীদের নাম ছিল। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন একাডেমিক গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গবেষকেরা সাহিত্য পর্যালোচনা, তথ্য অনুসন্ধান, কোড লেখা ও প্রাথমিক ডেটা বিশ্লেষণের মতো কাজে এআই ব্যবহার করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে ভুল তথ্য, অস্তিত্বহীন সূত্র, পুনরাবৃত্ত গবেষণা এবং বিশ্লেষণের ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। তাই নিকোলাস পলসনের ঘটনা শুধু একজন অধ্যাপক কীভাবে নয় মাসে শত শত গবেষণাপত্র তৈরি করলেন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সামনে এনেছে আরও বড় প্রশ্ন - এআই যদি একজন গবেষকের কয়েক বছরের কাজ কয়েক মাসে নামিয়ে আনতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে গবেষণার মূল্যায়ন হবে সংখ্যায়, নাকি মান, মৌলিকত্ব ও যাচাইযোগ্যতায়? সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো বুথ স্কুল অব বিজনেস
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি গাড়ির বিষয়ে খবর পেয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরের এ ঘটনার তদন্ত করছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। বিমানঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীও ব্যবহার করে। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত পৌনে একটার দিকে গাড়িগুলো বিমানঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল বলে খবর আসে। সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাছের হুইলফোর্ড এলাকায় পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে। প্রথমে বিস্ফোরক আইনে অপরাধের সন্দেহে এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁরা পুলিশ হেফাজতে আছেন। গাড়িগুলো পরীক্ষা করছে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। সতর্কতা হিসেবে গাড়িগুলোর চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং আশপাশের প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। গাড়িতে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না কিংবা বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনাটিকে ব্যর্থ বোমা হামলা হিসেবে বর্ণনা করার ভিত্তি নেই। পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও গাড়ি পরীক্ষার কাজ চলছে। তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত ঘটনা নিয়ে অনুমান না করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ভারতের জয়পুরে গত ২৩ আগস্ট মুকুট জেতার পর বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে দেওয়া কথা রেখেই তাঁর এই সফর। ১৯ বছর বয়সী কাজিয়াহ আবুধাবিতেই বড় হয়েছেন। মুকুট জয়ের পর গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বন্ধু, স্কুল ও শিক্ষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুকুট নিয়ে সেখানে ফিরবেন। ফেরার পর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা ও সহাবস্থানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন এই আইন শিক্ষার্থী। সাক্ষাতের ভিডিওতে তাঁকে মুকুট ও প্রতিযোগিতার পরিচয়ফিতা পরা অবস্থায় দেখা যায়। ভারতের কেরালার সঙ্গে পারিবারিক শিকড় থাকা কাজিয়াহ বলেছেন, আবুধাবিতে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কও ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া খেতাব জয়ের সুবাদে এবার আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়াহ। তাঁর আবুধাবি সফরটি তাই নতুন প্রতিযোগিতায় নামার আগে বেড়ে ওঠার শহরে ফিরে যাওয়ারও একটি মুহূর্ত।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে অবস্থিত সালমানের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও ভাঙচুর হয়। সালমান পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন। হামলার কারণ নিয়ে সালমান ও পুলিশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। সালমান চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, আবাসন প্রকল্পটির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা হয়েছে; স্টুডিওটি হামলাকারীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল। অনিকের গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে নিজেদের এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণের তথ্য প্রকাশের পর সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। শনিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের পর এসব কাজ আবার শুরু হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটজিপিটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার সময় তথ্য খুঁজতে গিয়ে কিছু এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং জনগণনা ব্যুরোর ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টের কাজ তাকে দেওয়া নির্দেশনার সীমা ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে। এদিকে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুসের দাবি, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া এজেন্টগুলো শিক্ষা বিভাগের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা সফল হয়নি। ওপেনএআই ওই নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে নিজেদের এজেন্টের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেনি। শিক্ষা বিভাগও জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইট বা তথ্যভান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন মুখপাত্রও বলেছেন, তাঁদের কোনো অপ্রকাশিত তথ্য দেখা হয়নি। ওপেনএআইয়ের পর্যালোচনায় এখন পর্যন্ত ওই সংস্থার তথ্য বা ব্যবস্থায় পরিবর্তন কিংবা অননুমোদিত প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশিক্ষণ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পেছনে আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর একটি পরীক্ষাধীন এজেন্ট ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধের ফাঁক খুঁজে বাইরের একটি চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি সেই কার্যক্রম বন্ধ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর টুল ব্যবহারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রয়েছে।
কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নারী কানুপ্রিয়া ইনস্টাগ্রামের এক ভিডিওতে প্রবাসজীবনের আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত কষ্টের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিদেশে আয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা হয় বেশি; পরিবার থেকে দূরে থাকতে গিয়ে কী কী মুহূর্ত হারিয়ে যায়, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না। কানুপ্রিয়া বলেন, দুই বা তিন বছর পর দেশে ফিরে কেউ হয়তো হঠাৎ খেয়াল করেন, এই সময়ের মধ্যে মা-বাবার বয়স কতটা বেড়েছে। দূরে থাকার কারণে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও সশরীরে যোগ দেওয়া হয় না; ভিডিও কলেই উপস্থিত থাকতে হয়। অসুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশে পরিবার না থাকলে ওষুধ খাওয়া, নিজের জন্য রান্না করা এবং দৈনন্দিন কাজ সামলাতে হয় নিজেকেই। কখনো অসুস্থ অবস্থায়ও কাজে যেতে হয় বলে জানান কানুপ্রিয়া। উৎসবের সময় দূরত্ব আরও বেশি অনুভূত হয় বলে তাঁর মন্তব্য। দেশে পরিবারের সবাই যখন একসঙ্গে উদ্যাপন করেন, তখন প্রবাসে থাকা কাউকে হয়তো নিয়মিত কর্মদিবস কাটাতে হয়। কানুপ্রিয়ার বক্তব্যের মূল কথা, বিদেশে জীবন গড়ার সিদ্ধান্তকে শুধু বেতনের অঙ্ক দিয়ে বোঝা যায় না। সেই জীবনের সঙ্গে পরিবার থেকে দূরে থাকার ব্যক্তিগত মূল্যও জড়িয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তুলতে ফি দিয়েছেন, এমন অনেক গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের মামলার সমঝোতা থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি জমা দিতে হবে। সমঝোতাটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা অন্য নেটওয়ার্কে লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের খরচ কম হলেও গ্রাহকদের কম ফি নিতে পারতেন না। ফলে গ্রাহকদের বেশি ফি দিতে হয়েছে বলে মামলাকারীদের দাবি। ভিসা ও মাস্টারকার্ড কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। আদালত অনুমোদিত সমঝোতার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর অধীন অঞ্চলে স্বাধীন এটিএম থেকে কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে যাঁরা ফি দিয়েছেন, তাঁরা যোগ্য হতে পারেন। শর্ত হলো, তাঁদের ব্যাংক ওই ফি পুরোপুরি ফেরত দেয়নি। এখানে স্বাধীন এটিএম বলতে ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়, এমন এটিএম বোঝানো হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ অগ্রিম নেওয়া কিংবা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই দাবির আওতায় পড়ে না। দাবি জমার সময় প্রমাণপত্র দিতে না হলেও পরে দাবির পক্ষে নথি চাইতে পারেন সমঝোতার প্রশাসক। মোট তহবিলের পুরো অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে ভাগ হবে না। আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, কর ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যোগ্য দাবিদারদের অর্থ দেওয়া হবে। একজন কত টাকা পাবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সমঝোতাটির চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই দাবি জমা দিলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়; দাবির যোগ্যতা যাচাই এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করবে।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
শৈশবে পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়া, পড়াশোনার খরচ চালাতে বারে নাচ এবং যৌনকর্মীর কাজ - কঠিন পথ পেরিয়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিচিতি পেয়েছেন ভারতের রূপান্তরকামী মডেল নাজ জোশী। ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তত দিনে সাতটি আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বীকৃতির পরও স্থায়ী আয়ের অনিশ্চয়তা কাটেনি। ২০২১ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নাজ ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে পোশাক নকশায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। নিজের ব্যাচে শীর্ষ স্থানও অর্জন করেন। পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁকে বারে নাচতে এবং যৌনকর্মীর কাজ করতে হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় তাঁর মেয়েলি আচরণ মেনে নিতে পারেননি বাবা-মা। প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাঁকে মুম্বাইয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই বেড়ে ওঠেন নাজ। নিজের খরচ নিজে জোগাড় করলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছাড়েননি। শুরুতে মডেল হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন পোশাক নকশা। পরে ২০১২ সালে মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৪ সালে প্রথম সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। নাজ ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটি খেতাব জেতেন। এরপর ২০২০ সালে অর্জন করেন মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটি খেতাব। ২০২১ সালে তাঁর সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হয় এমপ্রেস আর্থের মুকুট। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সমসাময়িক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমপ্রেস আর্থ প্রতিযোগিতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে আর্থিক নিশ্চয়তা আসেনি। ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও একাধিক খেতাব থাকা সত্ত্বেও তখন স্থায়ী চাকরি পাননি নাজ। তাঁর সেই সময়ের জীবনের গল্পে তাই সাফল্যের পাশাপাশি উঠে আসে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে। একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি। অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে। তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
জাপানের পারিবারিক সংস্কৃতিতে এমন একটি প্রথা রয়েছে, যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে কোনো কোনো পরিবার একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার কাঠামোর অংশ করে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নেওয়ার ঐতিহ্যকে জাপানি সংস্কৃতিতে ‘মুকোয়োশি’ (Mukoyoshi) বলা হয়। জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক নেওয়া আইনত সম্ভব। দেশটির দেওয়ানি আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং নাবালক দত্তকের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক দত্তকের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তাও আলাদা। ছেলে না থাকলে জামাইই হতে পারেন উত্তরসূরি ঐতিহাসিকভাবে জাপানের ‘ইয়ে’ বা পারিবারিক কাঠামোয় পরিবারের নাম ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোনো পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারে দত্তক নেওয়া হতো। এর মাধ্যমে তিনি শুধু জামাই থাকতেন না, আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিতে পরিণত হতেন। বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানের কিছু পারিবারিক কোম্পানি রক্তের সম্পর্কের উত্তরাধিকারীর পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তানকে ব্যবসার পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে। দত্তক নেওয়ার পর কী পরিবর্তন হয়? জাপানের সাধারণ দত্তক ব্যবস্থায় দত্তক সন্তান আইনগতভাবে দত্তক পরিবারের সন্তানের মর্যাদা পান। ফলে পরিবারটির উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় তার অধিকার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পারিবারিক পদবিও পরিবর্তিত হতে পারে। জাপানের দেওয়ানি আইনের অনুবাদে দত্তক সম্পর্ক ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তবে দত্তক নেওয়া মানেই পরিবারের সব সম্পত্তি সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যের নামে চলে যায়—এমন নয়। উত্তরাধিকার, উইল, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার আলাদা আইনি বিষয়। জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক এত বেশি কেন? এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, জাপানে দত্তকের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শিশু নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের Library of Congress-এর একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের তথ্য অনুযায়ী দত্তক নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ২০ ও ৩০-এর কোঠার পুরুষ। গবেষকদের ধারণা ছিল, তাদের অনেককে পরিবার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি করার উদ্দেশ্যে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। আর ২০০২ সালের একটি Japan Times প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন জাপানের আইনগত দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক এবং এর বড় অংশের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার ও পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তবে এই ৯০ শতাংশের তথ্যটি পুরোনো। তাই এটিকে বর্তমান ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশিরাও কি সুযোগ পাবেন? বিদেশি নাগরিককে জাপানি পরিবার দত্তক নিতে পারে কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য জাপানি ও বিদেশি আইনের ওপর। জাপানের আইনে বিদেশি নাগরিকের দত্তক সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে, তবে ‘বাংলাদেশি জামাই আবেদন করলেই জাপানি পরিবার তাকে দত্তক নেবে’—এমন কোনো সাধারণ সরকারি স্কিম নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়। জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘Spouse or Child of Japanese National’ ধরনের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস মূলত জাপানি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী, জৈবিক সন্তান বা বিশেষ দত্তক সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে জাপানি নাগরিকত্বও শুধু দত্তক হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। জাপানের জাতীয়তা আইনে নাগরিকত্বের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে এবং সাধারণভাবে বিদেশির naturalization বা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ naturalization-এর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অন্তত পাঁচ বছর জাপানে বৈধভাবে বসবাসসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার অভিনব মডেল জাপানের এই প্রথার মূল আকর্ষণ এখানেই। একটি পরিবারে ছেলে সন্তান নেই, কিন্তু কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা ব্যবসা ও পারিবারিক নাম ধরে রাখতে হবে—এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।ফলে তিনি একই সঙ্গে জামাই এবং আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান হয়ে উঠতে পারেন। যোগ্যতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরিও করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে জাপানের পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনায় এই ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থা বিশেষভাবে পরিচিত। তবে এটিকে শুধু ধনী পরিবারের রীতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি জাপানের বৃহত্তর পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি এমন ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাইলে তাকে জাপানের পরিবার আইন, পারিবারিক রেজিস্ট্রি, উত্তরাধিকার আইন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ম—সবগুলো আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। দত্তক হওয়া নিজে থেকে স্থায়ী বসবাস বা জাপানি নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয় না।
সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করেছেন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহগুলো সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বেটা পিক্টোরিস বি নামের ওই গ্রহ থেকে আসা রেডিও সিগন্যালের আকস্মিক তীব্রতা বা ‘বার্স্ট’ সম্ভবত গ্রহটির বিশাল অরোরার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গবেষণাটি এখনো বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৪ আলোকবর্ষ দূরে থাকা বেটা পিক্টোরিস বি একটি তরুণ ও বিশাল গ্যাসীয় বহির্গ্রহ। এর ভর বৃহস্পতির প্রায় ১২ গুণ। হার্ভার্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার কারু মরুভূমিতে থাকা মিয়ারক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করা হয়। ৬৪টি সংযুক্ত রেডিও ডিশের এই বিশাল পর্যবেক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে গবেষকরা সিগন্যালটির উৎস শনাক্ত করেন। গবেষকদের মতে, সিগন্যালটি গ্রহটির অরোরাজনিত রেডিও বিকিরণ থেকে এসেছে। কোনো গ্রহের চৌম্বক মেরুর কাছে উচ্চশক্তির কণা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে গ্যাসের অণু বা পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে অরোরা তৈরি হতে পারে। গবেষণায় বেটা পিক্টোরিস বি-এর চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি প্রায় ১ হাজার ২৫০ গস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বৃহস্পতির প্রায় ৪ দশমিক ৩ গস চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় প্রায় ২৯১ গুণ বেশি শক্তিশালী। গবেষকদের দাবি, কোনো বহির্গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্র পরিমাপের ক্ষেত্রেও এটি প্রথম ঘটনা। চৌম্বকক্ষেত্র একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা এখন একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও কয়েকটি বিশাল বহির্গ্রহ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার। মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়। শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল। মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে। উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বেতন বাড়া সব পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনে না। আয় একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে কোনো পরিবার স্ন্যাপের খাদ্য সহায়তা হারাতে পারে। নতুন আয় যদি হারানো সহায়তার চেয়ে কম হয়, তাহলে আগের তুলনায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি ‘বেনিফিটস ক্লিফ’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপ স্বল্প আয়ের পরিবারকে খাবার কেনার জন্য সহায়তা দেয়। কত সহায়তা পাওয়া যাবে, তা পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং নিয়মে অনুমোদিত কিছু খরচের ওপর নির্ভর করে। ফলে একই পরিমাণ বেতন বাড়লেও সব পরিবারের সহায়তায় একই পরিবর্তন আসে না। সাধারণভাবে আয় বাড়ার সঙ্গে স্ন্যাপ সহায়তার পরিমাণ কমতে পারে। তবে কোনো পরিবার যোগ্যতার সীমা পেরিয়ে গেলে সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে বর্ধিত বেতন দিয়ে হারানো খাদ্য সহায়তার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে পরিবারটি আর্থিক চাপে পড়ে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে এই সংকটের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁরা নতুন চাকরি, বাড়তি কর্মঘণ্টা বা বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে স্ন্যাপ পাচ্ছেন। স্ন্যাপের যোগ্যতা ও সহায়তার হিসাব রাজ্য এবং পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই আয় পরিবর্তনের পর কত সহায়তা থাকবে, তা নিজ রাজ্যের স্ন্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়াই নির্ভরযোগ্য উপায়।
ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু রের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন। সাদিয়া তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং মানা যায় না!’ তিনি আরও লেখেন, ‘এত অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে যে ওরা ভালো কিছু জীবনে দেখেনি আর দেখলেও সেটা হজম করতে পারে না।’ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু র হয় বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টুডিওর ভা ঙ চু রের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। স্টুডিওতে থাকা একজনের অভিযোগ, হা ম লা কা রীরা ভেতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যায় এবং যা নিতে পারেনি, তা ভে ঙে ফেলে। ঘটনার সময় তাঁরা দুজন সেখানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হা ম লা কা রীদের লক্ষ্য সালমানের স্টুডিও ছিল না। জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হা ম লা টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে হা ম লার কারণ সম্পর্কে সাদিয়ার মন্তব্যকে তদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: চ্যানেল ২৪
ভারতের ১৯ বছর বয়সী সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ অধিকারী মার্কিন বিচার বিভাগের একটি নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য জমা দেওয়ার পর বিভাগের গবেষক স্বীকৃতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। অধিকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। বিভাগটি তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করেছে বলে তাঁর দাবি। তবে কোন ব্যবস্থায় কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তার কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ত্রুটি জানানোর কর্মসূচিতে বৈধ ত্রুটির তথ্য দায়িত্বশীলভাবে জমা দেওয়া গবেষকদের নাম স্বীকৃতির তালিকায় রাখা হয়। অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তালিকার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ত্রুটির তথ্য জানানোর জন্য কোনো অর্থ পাননি বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে জানানোর দাবিও করেছেন অধিকারী। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ জন্য হ্যাকারওয়ান প্ল্যাটফর্মে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের ধন্যবাদসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ওই ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানান অধিকারী। তাঁর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিষয়টি ভারতের সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানান এবং মে মাসে নিজের অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর তিনি আইআইটি কানপুরের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন। আইআইটি কানপুরের সঙ্গে তাঁর কাজের বিষয়টি জুনের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছিল।