- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ভারতের ১৯ বছর বয়সী সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ অধিকারী মার্কিন বিচার বিভাগের একটি নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য জমা দেওয়ার পর বিভাগের গবেষক স্বীকৃতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। অধিকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। বিভাগটি তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করেছে বলে তাঁর দাবি। তবে কোন ব্যবস্থায় কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তার কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ত্রুটি জানানোর কর্মসূচিতে বৈধ ত্রুটির তথ্য দায়িত্বশীলভাবে জমা দেওয়া গবেষকদের নাম স্বীকৃতির তালিকায় রাখা হয়। অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তালিকার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ত্রুটির তথ্য জানানোর জন্য কোনো অর্থ পাননি বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে জানানোর দাবিও করেছেন অধিকারী। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ জন্য হ্যাকারওয়ান প্ল্যাটফর্মে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের ধন্যবাদসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ওই ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানান অধিকারী। তাঁর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিষয়টি ভারতের সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানান এবং মে মাসে নিজের অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর তিনি আইআইটি কানপুরের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন। আইআইটি কানপুরের সঙ্গে তাঁর কাজের বিষয়টি জুনের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালাস ক্যাম্পাসে কম্পিউটারবিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েছেন ড. লতিফুর খান। ডেটা বিশ্লেষণ ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খান ১৯৯৩ সালে বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর এবং ২০০০ সালে পিএইচডি শেষ করেন। ২০০০ সালেই তিনি টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালাস ক্যাম্পাসে শিক্ষকতা শুরু করেন। ডেটা মাইনিং, সেমান্টিক ওয়েব এবং অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। বড় আকারের তথ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, নাসা ও এয়ার ফোর্স অফিস অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের সহায়তা এসেছে। ডালাস ক্যাম্পাসের তথ্য অনুযায়ী, লতিফুর খান ২০২২ সালে প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইইইইর ফেলো নির্বাচিত হন। পরে তিনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের ২০২৪ সালের ফেলো শ্রেণিতেও স্থান পান। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টেতে অবস্থানের পর গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলী ওরফে আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃ ত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি সম্ভাব্য হ ত্যা কা ণ্ড হিসেবেও তদন্ত করছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গুয়াহাটির আজারা এলাকার গারালের একটি হোমস্টেতে নিমিশা ও আসিফ অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় নিমিশাকে গারাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা মৃ ত ঘোষণা করেন। নিমিশার বয়স ২১ বছর। আসিফ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নিমিশা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ স দিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বক্তব্য সরাসরি গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঘটনাটি হ ত্যা কা ণ্ড হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছে নিমিশার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে এবং মৃ ত্যুর সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম য় না ত দ ন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে নিমিশার শেষ ফোনালাপও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাবা দীপ ঠাকুরিয়ার দাবি, রাত প্রায় ২টার দিকে নিমিশা তার মাকে ফোন করে জানান, তাকে মা র ধ র করা হচ্ছে এবং বুকে আঘাত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর ঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য একটি বর্ণনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের বরাতে নিমিশার শেষ কথাগুলোর মধ্যে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিমিশার বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ হোমস্টেটিও সিল করে দিয়েছে। অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগে হোমস্টের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিমিশার মোবাইল ফোনও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের মালিক ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার পর আজারা ও ধরাপুর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় মহাসড়ক ১৭ অবরোধ করে এবং ঘটনাটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার কথা জানায়নি এবং মৃ ত্যুর সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করা হচ্ছে। এনডিটিভি উল্লেখ করেছে, ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত ধারণা, যেখানে মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে দাবি করা হয়। নিমিশার ঘটনায় এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য উইক, দ্য স্টেটসম্যান, এএনআই
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে তিনি চিকিৎসাধীন এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভোরে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার করলে রুমমেটরা ঘুম থেকে উঠে কক্ষে সাপটি দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাপটিকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নুরনবীকে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা ওই কক্ষে গিয়ে প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি উদ্ধার করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো পরিবেশে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। কালাচ উষ্ণতার সন্ধানে মানুষের বিছানায় উঠে আসতে পারে বলেও তারা জানিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর হলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নুরনবীর রুমমেটদের একজনের দাবি, এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, স্নেক নেট স্থাপনসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি ও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার জানিয়েছেন, এর আগেও হলে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা, সাপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় কীভাবে সেটি কক্ষে প্রবেশ করেছে, তা নিশ্চিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে দুপুরের দিকে নুরনবীর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহীদ শামসুজ্জোহা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় অতিরিক্ত ফি দেওয়া কিছু গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে সেটেলমেন্টটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নেটওয়ার্কের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম খরচে লেনদেন সম্ভব হলেও গ্রাহকদের জন্য কম এটিএম সারচার্জ নির্ধারণ করতে পারতেন না। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অ্যাক্সেস ফি নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ভিসা ও মাস্টারকার্ড অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ভিসা দেবে ৮৮.৭৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং মাস্টারকার্ড দেবে ৭৮.৭২৫ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সেটেলমেন্ট ফান্ডের পরিমাণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার। তবে আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়সহ অন্যান্য অনুমোদিত খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কারা টাকা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন? সেটেলমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর কোনো অঞ্চলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়—এমন স্বাধীন এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে গিয়ে সারচার্জ বা অ্যাক্সেস ফি দিয়ে থাকলে আপনি সাধারণ শ্রেণির সদস্য হতে পারেন। সেই ফি আপনার ব্যাংক পুরোপুরি ফেরত দিয়ে থাকলে আপনি যোগ্য নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লেনদেনটি ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত এটিএম বা পিন-ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ তোলার হতে হবে। ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ অ্যাডভান্স বা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানের কিছু বাসিন্দা আলাদা স্টেটওয়াইড ক্লাসের আওতায়ও পড়তে পারেন। কত টাকা পাওয়া যাবে? প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে আইনজীবীদের ফি, মামলা ও প্রশাসনিক খরচসহ অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাই ব্যক্তিপ্রতি অর্থের পরিমাণ দাবির সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সেটেলমেন্ট আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর এবং কোনো আপিল না থাকলে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। অর্থ ইমেইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট হিসেবে পাঠানো হবে। পেপ্যাল বা ভার্চুয়াল ডেবিট কার্ডের মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং কাগজের চেকও চাওয়া যাবে। কীভাবে আবেদন করবেন? টাকা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে ক্লেইম জমা দিতে হবে। এই মুহূর্তে ক্লেইমের সঙ্গে কোনো নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরে দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসক ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্য কোনো প্রমাণ চাইতে পারেন। তাই পুরোনো এটিএম লেনদেনের তথ্য বা ব্যাংক রেকর্ড থাকলে তা সংরক্ষণ করা ভালো। ক্লেইম জমা দেওয়ার জন্য সেটেলমেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা যায়। ডাকযোগে পাঠাতে হলে ঠিকানা হলো: নন-ব্যাংক এটিএম সারচার্জ ফি সেটেলমেন্ট, সি/ও এ.বি. ডেটা লিমিটেড, পি.ও. বক্স ১৭৩০৫৩, মিলওয়াকি, উইসকনসিন ৫৩২১৭।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বি স্ফো রণের পর একটি দুইতলা ভবন ধসে ছয়জনের মৃ ত্যু হয়েছে। শনিবার ধ্বং স স্তূপে অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মৃ ত দে হ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নি হ তদের মধ্যে দুই পুরুষ ও দুই নারী ছিলেন। তাদের সঙ্গে পাওয়া নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে জানা গেছে, চারজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, শুক্রবারের বি স্ফো রণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বড় ধরনের গ্যাস লিককে দেখা হচ্ছে। বি স্ফো রণের প্রভাবে আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে সেসব ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্লাকা এথেন্সের অন্যতম ঐতিহাসিক এলাকা এবং অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে অবস্থিত। গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি অ্যাক্রোপলিস হওয়ায় এলাকাটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পাশের একটি ভবনে থাকা দুই নারীও বি স্ফো রণের ঘটনায় আ হ ত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৩০ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং তিনটি প্রশিক্ষিত কুকুর অংশ নেয়। বি স্ফো রণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বং সা বশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। ধসে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়ে কয়েকটি পার্ক করা গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়াস মার্তজাকলিস জানান, পাশের ভবন থেকে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই পর্যটক ছিলেন। এদিকে, কাছাকাছি একটি গির্জার যাজক জানিয়েছেন, বি স্ফো রণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববারের প্রার্থনা অনুষ্ঠান গির্জার ভেতরে নয়, বাইরে আয়োজন করা হবে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সাহস ও সংযমের প্রশংসা করেছেন সাংবাদিক শহিদুল আলম। দেশে থাকলে সালমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাকে জড়িয়ে ধরতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশে থাকলে তিনি সরাসরি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে চলে যেতেন এবং তার সাহস ও সংযমের জন্য তাকে জড়িয়ে ধরতেন। একই সঙ্গে সালমানকে শক্ত থাকার বার্তাও দেন তিনি। শহিদুল আলমের এই প্রতিক্রিয়া আসে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও বার্তার পর। হামলার পর স্টুডিওতে গিয়ে সালমান ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। বিভিন্ন আসবাব, টেলিভিশন, স্টুডিও সরঞ্জামসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র ভিডিওতে দেখা যায়। স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও সালমান মুক্তাদির তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, স্টুডিও ধ্বংস হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করবেন। তার এই অবস্থানই শহিদুল আলমের প্রশংসা পেয়েছে। শহিদুল আলম শুধু সালমানের সাহসের প্রশংসা করেই থামেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাঁড়ান তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। এদিকে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির চাঁদাবাজির অভিযোগের কথা বলেন। অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানানো হয়েছে। এর আগে সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই স্পষ্ট হবে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার গত প্রায় তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার কমেছে। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয়টি সময়পর্বের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭৬টি প্রথমবারের স্ট্রোকের ঘটনা শনাক্ত করেন। গবেষণায় দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে প্রতি ১ লাখ মানুষের হিসাবে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। এই বৃদ্ধি মূলত ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে হয়েছে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের হারও এই সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে এ ধরনের স্ট্রোকের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮টি, যা ২০২০ সালে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কয়েক ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি। গবেষণায় তরুণ বয়সে স্ট্রোক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি প্রচলিত ঝুঁকিও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের ব্যবহার—সবকটির হার বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। স্ট্রোক হওয়া তরুণদের মধ্যে নথিভুক্ত পদার্থ ব্যবহারের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির বড় অংশের সঙ্গে গাঁজা ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই গবেষণা থেকে গাঁজা ব্যবহারই স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড রবিনসন বলেছেন, গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজার ব্যবহার অনেক বেড়েছে এবং বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে হৃদ্রোগের সম্পর্ক থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও কঠোর ও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় অবশ্য একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। তরুণদের স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার উন্নতির কারণে আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোকের পর বেঁচে থাকছেন। তবে বেশি মানুষ বেঁচে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অক্ষমতা বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে জীবনযাপনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে—স্ট্রোক হয়নি এমন মানুষের মধ্যে একই ঝুঁকিগুলোর তুলনামূলক তথ্য না থাকায় এসব ঝুঁকি স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে। আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন। এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়। সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে। এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আইনি হেফাজতে নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আইসিইকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা কাউকেই আইনি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়নি। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিইর কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আপাতত আইনি হেফাজতে না নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নির্দেশনা আইসিইর অভ্যন্তরে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি সাময়িকও হতে পারে। তবে ডিএইচএস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তি আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় থাকতে পারেন। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কেউই তালিকার বাইরে নয়।’ এদিকে আইসিইর কৌশল পরিবর্তনের দাবি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে। তবে এই নির্দেশনা লিখিত নাকি মৌখিক, কিংবা এটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিএইচএসের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় আইসিইর অভ্যন্তরে কোনো সাময়িক বা সীমিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যা দেশজুড়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নীতিতে এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যার মাধ্যমে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি হেফাজত থেকে অব্যাহতি পাবেন। অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইসিই কীভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দাবি সামনে এসেছে। তবে নতুন কোনো জাতীয় নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএসের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিরা আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারেন।
আয়রন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২—শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পুষ্টি উপাদান। তবে এসবের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কোনটি খাবেন তা নয়, কীভাবে ও কখন খাবেন সেটিও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ‘সেরা সময়’ সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময় নয়; বরং খাবার, পানীয় ও অন্য ওষুধের সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার বিশেষ উপকারের প্রমাণ খুব কম। ৮৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদ্রোগ, ক্যানসার বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ দীর্ঘদিন গ্রহণের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার ভিটামিন এ-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন শরীরে জমে গিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে রক্ত পরীক্ষায় কোনো পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়লে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার আগে ও শুরুর সময়ে ফলিক অ্যাসিড, খাবার থেকে পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়া সম্ভব না হলে ভিটামিন বি১২ এবং শরতে ও শীতে ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ রয়েছে। আয়রন: খাওয়ার নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়রনের সাপ্লিমেন্ট সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু ক্লান্ত লাগছে বলেই নিজের ইচ্ছায় আয়রন খাওয়া ঠিক নয়। কারণ আয়রনের ঘাটতির পেছনে রক্তক্ষরণ বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা থাকতে পারে। তাই ঘাটতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর কারণও খুঁজে দেখা জরুরি। আয়রন খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, পানির বদলে কফির সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিলে আয়রন শোষণ ৫৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। সকালের নাশতার সঙ্গে নিলে শোষণ আরও কমেছিল। অন্যদিকে, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আয়রন শোষণ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারে বলে ওই গবেষণায় দেখা যায়। তবে ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি নিলে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি। গবেষণাটিতে সকালে আয়রন গ্রহণ করলে বিকেলের তুলনায় শোষণ কিছুটা বেশি হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তবে পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। তাই শুধু এই ফলাফলের ভিত্তিতে সকালে আয়রন খাওয়াকে বাধ্যতামূলক নিয়ম বলা যায় না। সাধারণভাবে খালি পেটে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। কিন্তু এতে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খালি পেটে খেলে সমস্যা হলে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পর গ্রহণ করা যেতে পারে। আয়রনের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালসিয়ামও একসঙ্গে গ্রহণ করলে আয়রন শোষণ কিছুটা কমাতে পারে, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে নিলে। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়াম দুটোই খাওয়ার পরামর্শ থাকলে কতক্ষণ ব্যবধানে খাবেন, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। ভিটামিন ডি: খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা ভালো ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণ করলে চর্বিহীন খাবারের তুলনায় শরীরে এটি ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। তাই ভিটামিন ডি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল সাধারণত দিনের প্রধান খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা সুবিধাজনক। তবে গবেষণায় সকালের নাশতা দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে ভালো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময়ের চেয়ে খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ওষুধ ভিটামিন ডি শরীরে শোষণ বা ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ওজন কমানোর ওষুধ অরলিস্ট্যাট এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত কিছু কর্টিকোস্টেরয়েড। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শুধু সাপ্লিমেন্টের সময় পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ভিটামিন বি১২: সময়ের চেয়ে কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মূলত প্রাণিজ খাবার ও বি১২ সমৃদ্ধ খাবার থেকে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাণিজ খাবার খান না এবং বি১২ সাপ্লিমেন্টও নেন না, তাদের শরীরে বি১২-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তাদের রক্তে বি১২-এর মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোর উন্নতি দেখা গেছে। বি১২ সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে কেন সাপ্লিমেন্টটি প্রয়োজন হচ্ছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মেটফরমিন এবং ওমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারে বি১২ শোষণ বা শরীরে এর মাত্রা কমাতে পারে। শুধু ওষুধ ও বি১২ আলাদা সময়ে খেলেই এ প্রভাব ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে সায়ানোকোবালামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে খালি পেটে খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে প্রেসক্রিপশন বা প্যাকেটের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত। সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে যা মনে রাখবেন কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে, সেটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই উপাদান একাধিক পণ্যে আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। মাল্টিভিটামিন, এনার্জি ড্রিংক বা বিভিন্ন ‘ওয়েলনেস’ পাউডারে একই ভিটামিন বা মিনারেল থাকতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খান, তাহলে সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ওষুধের পারস্পরিক প্রভাব বা কতটা ব্যবধান রাখা দরকার, তা ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। সবশেষে, সব সাপ্লিমেন্টের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যেখানে খাবার বা পানীয় শোষণে প্রভাব ফেলে, সেখানে সেটি বিবেচনা করা দরকার। আর যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বাড়তি সুবিধার প্রমাণ নেই, সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সময় বেছে নেওয়াই ভালো, যখন নিয়মিত খাওয়ার কথা মনে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে। এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
কুকুর শুধু মানুষের কথা শুনেই প্রতিক্রিয়া দেখায় না, মানুষের বলা কথাকে মস্তিষ্কে বিশ্লেষণও করতে পারে। হাঙ্গেরির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কথা বোঝার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্ক এমন একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যা এতদিন মূলত মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। হাঙ্গেরির ইএলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোইথোলজি রিসার্চ গ্রুপের গবেষকরা ২০ জন মানুষ ও ২০টি পোষা কুকুরের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া তুলনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু ধারাবাহিক শব্দ শোনানো হয়, যেখানে শব্দগুলোর মধ্যে কোনো বিরতি বা আলাদা সংকেত ছিল না। অর্থাৎ, কথাগুলোকে আলাদা শব্দ হিসেবে চেনার জন্য মস্তিষ্ককে শব্দের ভেতরের কাঠামো খুঁজে নিতে হয়েছে। গবেষণায় মূলত ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনির ভূমিকা পরীক্ষা করা হয়। প্রথম ধরনের শব্দধারায় ব্যঞ্জনধ্বনির পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ব্যবহার করে তিন সিলেবলের পরপর শব্দ তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধরনের ধারায় একইভাবে স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের কাঠামো তৈরি করা হয়। আর তৃতীয় ধরনের ধারায় কোনো পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ছিল না, ফলে সিলেবলগুলো এলোমেলোভাবে সাজানো ছিল। ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি বা ইইজি প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, ব্যঞ্জনধ্বনির ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রে মানুষ ও কুকুর—দুই প্রজাতির মস্তিষ্কেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, ব্যঞ্জনধ্বনিনির্ভর শব্দধারায় কুকুরের মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই শব্দের ছন্দের সঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম হয়েছে। স্বরধ্বনিনির্ভর বা এলোমেলো শব্দধারায় এমন শক্তিশালী সমন্বয় দেখা যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রতিটি শব্দ শুরুর প্রায় ৪০০ মিলিসেকেন্ড পর মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটে। তবে এই পরিবর্তনটি কেবল ব্যঞ্জনধ্বনির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ছিল। মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ধারাবাহিক কথাবার্তা থেকে আলাদা শব্দ শনাক্ত করার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগে থেকেই জানা ছিল। গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ও মনোবিজ্ঞানী কিংগা জি. টথ বলেন, কুকুরের মস্তিষ্কেও মানুষের মতো ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতি এমন প্রবণতা দেখা যাওয়ার এটিই প্রথম প্রমাণ। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, কথাবার্তা বিশ্লেষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার জন্য মানুষের মতো জটিল ভাষাগত ক্ষমতা বা আগে থেকেই নির্ধারিত বিশেষ মস্তিষ্কের কাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। গবেষক অ্যাটিলা অ্যান্ডিকসের মতে, কথাবার্তার নিয়মিত সংস্পর্শই হয়তো কুকুরের মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে এমন কিছু ভাষা-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা এতদিন শুধু মানুষের মধ্যেই দেখা গেছে। তবে গবেষণাটি কুকুর মানুষের ভাষা মানুষের মতো সম্পূর্ণভাবে বোঝে—এমন দাবি করছে না। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, মানুষের কথার ধারাবাহিক শব্দ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্কের কিছু প্রক্রিয়া মানুষের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ও রোববার সকালে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, পাশের একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে; সালমানের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। প্রথম আলোকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় চাঁদাবাজি হয়নি। শনিবার রাতে সালমান মুক্তাদির তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। সালমান জানান, হামলায় তাঁদের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও হামলার লক্ষ্য নিয়ে সালমানের বক্তব্য ও পুলিশের ভাষ্য এক নয়। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরে বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এ যোগ দিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও দুই শতাধিক বিমানবাহিনীর সদস্য। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর এ তথ্য জানান। এই মহড়ায় প্রথমবার অংশ নিচ্ছে মার্কিন এফ-৩৫। গোর জানান, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ভারতের বিমানবাহিনী ও মহড়ায় অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর বিমানের সঙ্গে উড়বে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজনে যোধপুর বিমানঘাঁটিতে শনিবার শুরু হওয়া মহড়াটি চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি অংশ নিচ্ছে। আরও কয়েকটি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছে। এফ-৩৫ এর আগে ভারতে বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নিলেও ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় এবারই প্রথম যোগ দিল। যৌথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এই মহড়ার উদ্দেশ্য।
ব্রাজিলের এসপিরিতু সান্তো রাজ্যের মিমোসো দো সুল শহরে ২০২৪ সালের মার্চের বন্যায় আটকা পড়েছিলেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এলিভান্দা দে সুজা ব্রান্দাও ও তাঁর স্বামী রুলিয়ান দিয়াস আমারাল। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় স্ত্রীকে একটি ফ্রিজের ভেতর বসিয়ে ভাসিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন রুলিয়ান। সেই রাত থেকে বেঁচে ফেরার পর এপ্রিলের শেষ দিকে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সংবাদমাধ্যম ইউওএলকে এলিভান্দা জানান, ভোরের দিকে পানি তাঁদের ঘরের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন ফ্রিজটি ছাড়া ভাসমান আর কিছু চোখে পড়ছিল না। রুলিয়ানের পরিকল্পনায় তিনি ফ্রিজে ওঠেন। প্রায় ১৫ মিনিট ভেসে যাওয়ার পর সেটি একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে কাত হয়ে যায়। ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে তিনি বেরিয়ে সাঁতরে কাছের একটি বাড়ির বারান্দায় পৌঁছান। রুলিয়ানও সেখানে পৌঁছান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আকুই নোতিসিয়াসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। বন্যায় ঘরের জিনিসপত্র হারানো দম্পতির জীবনে ২৮ এপ্রিল জন্ম নেয় কন্যা মারিয়া সেসিলিয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোওয়ান নতুন করে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস। চুক্তি সম্পর্কে জানেন এমন দুজনের বরাতে ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বলা হয়েছে। তবে মাইক্রোওয়ান এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ২৫ বছর বয়সী আলী আনসারি। গত বছরের শুরুতে মাইক্রোওয়ান মূলত কর্মী নিয়োগের ব্যবসা করত। পরে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের তৈরি তথ্য সরবরাহে মনোযোগ দেয়। এ কাজে তারা প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের যুক্ত করে। ফোর্বসের সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বিনিয়োগে এক্সএআইয়ের দুজন সহপ্রতিষ্ঠাতাও অংশ নিয়েছেন। তাঁদের নাম বা বিনিয়োগের পরিমাণ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। একই সূত্র অনুযায়ী, এক বছর আগে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যায়ন পাওয়া মাইক্রোওয়ানের এবারের মূল্যায়ন আট গুণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বৃদ্ধির হিসাবেও একটি পার্থক্য আছে। গত বছরের শুরুতে প্রায় ৭০ লাখ ডলারের বার্ষিক আয়ের হার থেকে মাইক্রোওয়ান চলতি বছরের আগস্টে ৫০ কোটি ডলারের গ্রস বার্ষিক হারে পৌঁছেছে বলে টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছিল। এই হার বর্তমান ব্যবসার গতি ধরে করা হিসাব; এটি পুরো বছরে আদায় করা নিশ্চিত আয় নয়। মাইক্রোওয়ানের এই পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিশেষজ্ঞদের তৈরি তথ্যের চাহিদা কীভাবে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। তবে বিনিয়োগ ও মূল্যায়নের সর্বশেষ তথ্য ফোর্বসের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনেই সীমিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুসলিম আমেরিকান নেতা ও গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুশীলনকে মার্কিন আইনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরায় মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। টেক্সাসে রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইনের স্থান নেই। একই অনুষ্ঠানে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট টেক্সাসে শরিয়া আইন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনব্যবস্থার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছেন। এসব বক্তব্যের জবাবে মুসলিম নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কাছে শরিয়া মূলত নামাজ, রোজা, দান ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ধর্মীয় দিকনির্দেশনার বিষয়। ইসলামি চিন্তাবিদ আবদুল্লাহ আহমেদ আন-নাইমের মতে, মুসলিমরা স্বেচ্ছায় ধর্ম পালন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক মূল্যবোধও ধারণ করতে পারেন। টেক্সাসে ডালাসভিত্তিক ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত শুরু করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মতো কাজ করছে কি না এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তাদের ধর্মীয় পরামর্শ ও মধ্যস্থতা মার্কিন আদালতের বিকল্প নয় এবং তারা আইনত বাধ্যতামূলক রায় দেয় না। তদন্ত শুরুর অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এই রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়কে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ায়। নির্বাচনের আগে বিতর্কটি এখন ধর্মপালনের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় আইনের সীমা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযানে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ইরানের বিমান সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে। বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেও নতুন বাধা এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অর্থ লেনদেন বন্ধ করেছে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযান শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরে ইরানের বিমান খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন। তবে আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেশগুলোর সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করেছে, এমন দাবি পাওয়া তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রকাশিত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যাংক ও লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধের কথাই জানায়।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে সালমানের একটি ভিডিও শেয়ার করে শফিকুর রহমান ঘটনাটিকে চাঁদাবাজদের হামলা বলে উল্লেখ করেন। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে কারা হামলা চালিয়েছে বা এর পেছনে চাঁদাবাজি ছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, শনিবার রাতে তাঁর স্টুডিওতে ঢুকে হামলাকারীরা সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙচুর করে এবং কিছু মালামাল নিয়ে যায়। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর অবস্থা দেখান তিনি। সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে আবাসন প্রকল্পে হামলা হয়েছিল এবং তার মধ্যেই তাঁর স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় তাঁর কোনো কর্মী আহত হননি। হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।