- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুসলিম আমেরিকান নেতা ও গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুশীলনকে মার্কিন আইনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরায় মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। টেক্সাসে রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইনের স্থান নেই। একই অনুষ্ঠানে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট টেক্সাসে শরিয়া আইন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনব্যবস্থার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছেন। এসব বক্তব্যের জবাবে মুসলিম নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কাছে শরিয়া মূলত নামাজ, রোজা, দান ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ধর্মীয় দিকনির্দেশনার বিষয়। ইসলামি চিন্তাবিদ আবদুল্লাহ আহমেদ আন-নাইমের মতে, মুসলিমরা স্বেচ্ছায় ধর্ম পালন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক মূল্যবোধও ধারণ করতে পারেন। টেক্সাসে ডালাসভিত্তিক ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত শুরু করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মতো কাজ করছে কি না এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তাদের ধর্মীয় পরামর্শ ও মধ্যস্থতা মার্কিন আদালতের বিকল্প নয় এবং তারা আইনত বাধ্যতামূলক রায় দেয় না। তদন্ত শুরুর অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এই রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়কে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ায়। নির্বাচনের আগে বিতর্কটি এখন ধর্মপালনের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় আইনের সীমা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযানে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ইরানের বিমান সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে। বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেও নতুন বাধা এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অর্থ লেনদেন বন্ধ করেছে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযান শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরে ইরানের বিমান খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন। তবে আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেশগুলোর সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করেছে, এমন দাবি পাওয়া তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রকাশিত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যাংক ও লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধের কথাই জানায়।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে সালমানের একটি ভিডিও শেয়ার করে শফিকুর রহমান ঘটনাটিকে চাঁদাবাজদের হামলা বলে উল্লেখ করেন। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে কারা হামলা চালিয়েছে বা এর পেছনে চাঁদাবাজি ছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, শনিবার রাতে তাঁর স্টুডিওতে ঢুকে হামলাকারীরা সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙচুর করে এবং কিছু মালামাল নিয়ে যায়। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর অবস্থা দেখান তিনি। সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে আবাসন প্রকল্পে হামলা হয়েছিল এবং তার মধ্যেই তাঁর স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় তাঁর কোনো কর্মী আহত হননি। হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় বর্তমান মালিকদের নিরাপত্তা এবং নতুন করে টেসলা কেনার কথা ভাবছেন এমন ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোর কারণ এক নয়, আর কোনো ঘটনাকেই এখন পর্যন্ত সরাসরি টেসলার ব্যাটারির ত্রুটি হিসেবে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি। গত আগস্টে ওয়াশিংটনের অবার্নে একটি বাড়ির গ্যারেজে থাকা টেসলায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই অগ্নিনির্বাপক আহত হয়ে হাসপাতালে যান। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গাড়িটি কেন বিস্ফোরিত হয়েছিল তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে জর্জিয়ার আটলান্টার নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরে সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গাড়িটিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাড়িটি কোনো দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্টে মাদেরায় একটি টেসলা বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং এলাকায় আগুনে চারটি টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি গাড়িতে আগুন শুরু হয়ে পাশের তিনটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন মূল ব্যাটারি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনেন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলেছেন এবং এটি দুর্ঘটনাজনিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় আরও গুরুতর একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হারিকেন হেলেনের সময় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসার পর একটি ২০২১ সালের টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে একটি পরিবারের প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বাড়ি ধ্বংস হয় এবং তাদের পোষা কুকুর মারা যায়। তবে এগুলো আদালতে করা অভিযোগ; ঘটনার কারণ বা টেসলার দায় এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো টেসলা মালিকদের জন্য সতর্কতার বিষয়টি সামনে এনেছে। দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে যাওয়ার পর গাড়ি পরীক্ষা না করে চালানো বা চার্জ না দেওয়া এবং ধোঁয়া, অস্বাভাবিক শব্দ কিংবা অতিরিক্ত তাপ দেখা দিলে গাড়ি থেকে দূরে সরে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব ঘটনাকে একই কারণে ঘটেছে বলে ধরে না নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কানাডার কুইবেক প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তাতে থাকা চারজনই নিহত হয়েছেন। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার পর মন্ট্রিয়ল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাঁত-ব্রিজিদ-দিবেরভিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর মহাসড়কের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। চার আরোহীকেই সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়। কুইবেক পুলিশের মুখপাত্র অড্রে-অ্যান বিলোদো জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি সমস্যায় পড়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল এবং সেটিই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডকেও ঘটনা জানানো হয়েছে।
অস্টিওসারকোমা হাড়ের এক ধরনের বিরল ক্যানসার। এটি সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে টিউমারটি হাঁটুর কাছের হাড়ে পাওয়া যায়। কখনো কখনো এক্সরেতে টিউমার থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা সরু রেখার মতো নতুন হাড় দেখা যায়। সূর্যের রশ্মির মতো দেখতে এই চিহ্নকে চিকিৎসকেরা ‘সানবার্স্ট’ বলে থাকেন। তবে অস্টিওসারকোমার সব এক্সরেতে এমন চিহ্ন দেখা যায় না। হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা এ রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। একই লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ বা এক্সরের চিহ্ন দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করেন। টিউমারের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রিটেনে সিলেটিদের বসতি গড়ার ইতিহাসের একটি অংশ জড়িয়ে আছে জাহাজের লস্করদের সঙ্গে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে সিলেটসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশ জাহাজে নাবিক, ডেকের কর্মী ও ইঞ্জিনকক্ষের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের কেউ কেউ পরে ব্রিটেনেই থেকে যান। সমুদ্রযাত্রা ছিল কঠিন, আর ব্রিটেনে পৌঁছানোর পরও কাজ ও থাকার জায়গা খুঁজতে হতো। প্রথম দিকের এই নাবিকদের উপস্থিতি ব্রিটেনের বন্দরশহরগুলোতে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ছোট ছোট জনপদ গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে কাজের সুযোগ বাড়লে অভিবাসনের গতি বদলায়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আরও বেশি মানুষ সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ফলে লস্করদের আগমনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয় কর্মসংস্থান ও পরিবার নিয়ে বসতি গড়ার নতুন অধ্যায়। লন্ডনের ইস্ট এন্ড, বিশেষ করে ব্রিক লেন, পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে রেস্তোরাঁ, দোকান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে কমিউনিটির উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়। আজকের ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস তাই শুধু এক দফা অভিবাসনের গল্প নয়। জাহাজে কাজ করতে আসা মানুষ, যুদ্ধের পর কর্মসংস্থানের খোঁজে আসা অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবার মিলে কয়েক প্রজন্ম ধরে এই কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। সূত্র: সিলেট ভয়েস
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত এ ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে ‘আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা’ জারি হয়েছে বলে উল্লেখ করেনি দপ্তরটি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে রোববার রাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে আরও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি এবং আশপাশের অনেক এলাকায় দেড় থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। বৃষ্টির কোনো কোনো অংশে অল্প সময়ে বেশি পানি জমতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সির উপকূলীয় কিছু এলাকায় উপকূলীয় বন্যার পৃথক সতর্কবার্তা কার্যকর রয়েছে। জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হওয়ার এই সতর্কবার্তা ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকে আলাদা। বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য দেখতে এবং পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও পানি জমার প্রবণতা থাকা পথে চলাচলের আগে পরিস্থিতি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী আলিনা হাব্বা তুরস্কের ব্যবসায়ী তুরহান মিলডনকে বিয়ে করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। মিলডন তুরস্কের মিলার হোল্ডিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী। বিয়ের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হাব্বা ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে তিনি নিউ জার্সিতে ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁর আগের স্বামী গ্রেগ রুবেনের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই ন্যস্ত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং এই জোরালো বার্তা প্রদান করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের দেশ পরিচালনা করবে এবং এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম তীরের সার্বিক উন্নয়ন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ফিলিস্তিন সংকটের একটি চিরস্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য যত দ্রুত সম্ভব 'দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক' সমাধানের ফর্মুলায় ফিরে যাওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এককভাবে কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোকে চরম অন্যায় আখ্যা দিয়ে হান ঝেং বলেন, যেকোনো বিরোধ কেবল আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৃহৎ শক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি রক্ষার্থে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন সচল রাখার বিষয়েও তিনি জোর দেন। ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সংকট নিয়েও অধিবেশনে কথা বলেন চীনের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিজস্ব উদ্যোগে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের একতরফা ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকি অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও জোরালো দাবি জানান তিনি। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গে হান ঝেং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার যেন কেবল মানবকল্যাণেই নিবেদিত হয়। বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।
জাপানের সমাজে বিয়ের পর সাধারণত নারীরা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশটিতে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অদ্ভুত পারিবারিক ব্যবস্থাও বেশ প্রচলিত। ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরাধিকারী বানানো হয়। ‘মুকোয়োশি’ বা ‘দত্তক ঘরজামাই’ নামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক ও আইনি রীতির মাধ্যমে জামাইরা শুধু পরিবারের সদস্যই হন না, বরং শ্বশুরবাড়ির পদবি, ব্যবসা, সম্পদ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা উত্তরাধিকারেরও মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুদের দত্তক নেওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও জাপানের মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশিই হলো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। মূলত পারিবারিক আবেগ এবং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা আজও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন এবং জন্মসন্তানের মতোই পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনাসহ সব দায়িত্ব ও অধিকার লাভ করেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং শত বছরের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবারের ভেতরেই রাখা। জাপানে এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, পুত্রসন্তান বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু জামাই বেছে নেওয়া যায়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে। জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার গভীর প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকি নিজেও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। এছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের দত্তকের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রথাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিও চাইলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে দত্তক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না, এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে জাপানের এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথা নিছক কোনো দত্তক নেওয়ার গল্প নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার এক বিস্ময়কর কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার বেশিরভাগ ক্যাটাগরি অপরিবর্তিত থাকলেও এফ-১ থেকে শুরু করে এফ-৪ পর্যন্ত পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভিসা পাওয়ার তারিখ অনেকটাই এগিয়েছে। ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো কলাম না থাকায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সাধারণত বৈশ্বিক সাধারণ তালিকার (All Chargeability Areas) ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সেই তালিকাতেই এবার বড় পরিবর্তনের দেখা মিলেছে। পরিবারভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে এফ-১ ক্যাটাগরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য এই ক্যাটাগরিতে ভিসার তারিখ ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এক ধাক্কায় এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি করা হয়েছে। গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ-২এ ক্যাটাগরির তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানদের এফ-২বি ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০ মাসের বিশাল অগ্রগতি হয়ে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য এফ-৩ ক্যাটাগরির তারিখ ২০১২ সালের মে মাস থেকে এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভাই-বোনদের জন্য প্রযোজ্য এফ-৪ ক্যাটাগরির তারিখ ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক লাফে এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক ভিসায় এমন বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ইবি-১ এবং ইবি-২ ক্যাটাগরি সেপ্টেম্বরেও 'কারেন্ট' বা বর্তমান অবস্থায় রয়েছে। ইবি-৩ ক্যাটাগরির তারিখ আগের মতোই ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যান্য কর্মী ক্যাটাগরির তারিখ ২০২২ সালের ১ এপ্রিলে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ইবি-৪ ক্যাটাগরিতে কিছুটা পরিবর্তন এসে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। এছাড়া ইবি-৫-এর সাধারণ ক্যাটাগরিসহ গ্রামীণ এলাকা ও উচ্চ বেকারত্ব অঞ্চলের বিশেষ ক্যাটাগরিগুলোও বাংলাদেশিদের জন্য 'কারেন্ট' রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকাতেও পরিবারভিত্তিক ভিসার বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ভিসার চাহিদা বেড়ে গেলে বার্ষিক নির্ধারিত সংখ্যা সামলাতে কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে তারিখ আবারও পিছিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে এশিয়া অঞ্চলের কাট-অফ র্যাঙ্ক ৪০ হাজার নির্ধারণ করা হলেও, দেশভিত্তিক যোগ্যতার নিয়মের কারণে বাংলাদেশিদের জন্য এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন পরিবারভিত্তিক ভিসায় অপেক্ষারত বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের আশার আলো দেখালেও, চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর পিটিশন ও অন্যান্য আইনি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ মা এবং মায়ের প্রেমিককে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে জুলিয়া এগলার নামের এক কিশোরীকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার আদালতের চূড়ান্ত চুক্তির (প্লি ডিল) অংশ হিসেবে দ্বিতীয় মাত্রার খুন (সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার)-এর অভিযোগ স্বীকার করে নেন তিনি। এর ফলে সম্ভাব্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পান জুলিয়া। ২০২৪ সালে যখন জোড়া খুনের এই ঘটনাটি ঘটে, তখন জুলিয়ার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। পাম বে পুলিশের কাছে সে সময় একটি ভুয়া ফোন করে সে জানিয়েছিল যে, তাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী মা কেলি ম্যাককলামের সঙ্গে ২২ বছর বয়সী ম্যাথিউ সেজনর্কের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি জুলিয়া। পাশাপাশি জুলিয়ার লিঙ্গ পরিবর্তন (জেন্ডার ট্রানজিশন) নিয়ে তার মায়ের তীব্র আপত্তি ছিল। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই সে এমন নির্মম পথ বেছে নেয়। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগটি কমিয়ে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। বিচার চলাকালীন সময়ে পুলিশি হেফাজতেই হাইস্কুলের গণ্ডি পেরোনো জুলিয়া আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। অনুতপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি তখন নিতান্তই এক শিশু ছিলাম, যে কি না একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। হাতের কাছে বন্দুকটি ছিল বলেই আমি কাজটি করে ফেলি, এর পেছনে আমার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না"। প্রতিদিন এই কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমার দুঃস্বপ্নেও তাদের মুখগুলো ভেসে ওঠে, যা আমাকে দিনরাত তাড়া করে বেড়ায়।" অন্যদিকে, নিহত ম্যাথিউ সেজনর্কের ভাই আদালতে দেওয়া তার আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, ২২ বছর বয়সে কারও মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নেওয়া কতটা কঠিন, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, "এই মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা শুধু ওই মানুষটিকেই হারাইনি, ভবিষ্যতে তার জীবনের সম্ভাব্য সব সুন্দর মুহূর্তগুলোও আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" পরিবারের আরেক সদস্য ম্যাথিউকে তাদের ‘পৃথিবীর বুকে এক দেবদূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ব্রেভার্ড কাউন্টির বিচারক মিশেল নাবেরহাউস শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জুলিয়া এগলারকে দোষী সাব্যস্ত করে এই ৫০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের শর্ত অনুযায়ী, ২৫ বছর কারাভোগের পর তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদি তিনি প্যারোলে মুক্তি পান, তবে ৪৩ বছর বয়সে জেল থেকে বের হতে পারবেন। তবে মুক্তির পরও তাকে কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূলে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নর-ইস্টার’-এর প্রভাবে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার আঘাত হানা এই শক্তিশালী ঝড়ে এটিই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা। আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার ৭০০ ইউক্লিড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র বাতাসের তোড়ে একটি বিশাল গাছ ভেঙে সরাসরি ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির ওপর পড়ে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিকেল ৫টার পরপরই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল পর্যন্ত। রোববার এই ঝড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাবে কোনো কোনো অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের সরকারি ব্যয় বা বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসী সেবা এবং বৈচিত্র্য ও সমতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের বরাদ্দ ছাঁটাই করতে এক বিরল ও বিতর্কিত আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এই পদক্ষেপকে সরকারের ‘সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যয়’ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই তহবিলগুলোর আর প্রয়োজন নেই। ফলে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত শরণার্থী ও অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশুদের সহায়তা সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলোতেই সবচেয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। অভিবাসী সহায়তা ছাড়াও শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী কর্মসূচি, বিচার বিভাগের বর্ণগত উত্তেজনা প্রশমন দপ্তর, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং আবাসন বিভাগের কাউন্সেলিং সেবার বরাদ্দও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথাকথিত 'ওক' (woke) কর্মসূচি থেকে ৭ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য গবেষণা অনুদান থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১ কোটি ডলার এবং জলবায়ু নীতিতে অর্থায়ন করা বিদেশি দেশগুলোর ঋণ মওকুফ তহবিল থেকে ৯০ লাখ ডলার প্রত্যাহার করছে প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সংস্থার বেশ কয়েকটির নেতৃত্বে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ার ও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কোনো পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই পদক্ষেপকে কংগ্রেসের আর্থিক ক্ষমতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একে ‘অবৈধ কার্যক্রম’ অভিহিত করে জানান, ওএমবি কোনোভাবেই কোন কর্মসূচি চলবে আর কোনটি বন্ধ হবে তা এককভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রকাশ্য চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দ্বিদলীয় ঐকমত্যে পাস হওয়া এই অর্থ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে প্রশাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচনের ওপর পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসকে ৪৫ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতে এবং প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়ে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সরকারের ওয়াচডগ সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর মতে, আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে তহবিল বাতিল করার এই 'পকেট রিসিশন' কৌশলটি আইনসম্মত নয়। এর আগেও গত বছর বিদেশি সহায়তার প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আটকে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবার অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে একই ধরনের হস্তক্ষেপ করায় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে নতুন করে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্পটি যেন স্বপ্ন থেকে বাস্তবের এক দীর্ঘ যাত্রা। জীবনীমূলক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার। সেই সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শুরু করা পথচলা পরবর্তীতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতের একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্পটি যেন স্বপ্ন থেকে বাস্তবের এক দীর্ঘ যাত্রা। জীবনীমূলক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার। সেই সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শুরু করা পথচলা পরবর্তীতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতের একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর জন্মভূমি সিলেটের গোলাপগঞ্জ। তিনি সিলেটের এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষে কলকাতায় এমবিবিএস করেন। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেন। তিনি অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান বোর্ড অব অর্থোপেডিক সার্জারি থেকে সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত পরিচিতি গড়ে তোলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি জীবনীমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি একটি হাসপাতালে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরে তিনি সেখানে কাজের সুযোগ পান এবং একপর্যায়ে হাসপাতালটির প্রশাসকের কাছে একদিন ওই হাসপাতাল নিজেই কেনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তখন সেই বক্তব্য অনেকের কাছেই ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাননি ড. কালী প্রদীপ। একই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ বছর পর তিনি সত্যিই সেই হাসপাতাল অধিগ্রহণ করেন। এই ঘটনাকেই তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যবসায়িক যাত্রা থেকেই গড়ে ওঠে কেপিসি গ্রুপ। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে কেপিসি গ্রুপের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটি রিয়েল এস্টেট, হেলথ কেয়ার ও অবকাঠামো খাতে কাজ করছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রুপটির সঙ্গে সাতটি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের কলকাতায় রয়েছে কেপিসি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। কলকাতার কেপিসি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালও ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর অন্যতম বড় উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, জাদবপুরে ৪৮ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই মেডিকেল এডুকেশন কমপ্লেক্সে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ৭৫০ শয্যার হাসপাতাল। চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কেপিসি গ্রুপের কার্যক্রম শুধু স্বাস্থ্যসেবাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জীবনী ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট, ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি, শিক্ষা, অবকাঠামো, কৃষি, আর্কিটেকচার ও ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে গ্রুপটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। কেপিসি গ্রুপের বর্তমান ওয়েবসাইটেও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জন্মভূমি বাংলাদেশের সঙ্গেও ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকার পূর্বাচলে তাঁর নেতৃত্বাধীন কেপিসি গ্রুপের মাধ্যমে একটি বড় টাওয়ার, কনভেনশন সেন্টার, হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলেও বাংলাদেশের বড় পরিসরের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে। ব্যবসার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা বিভিন্ন সাম্প্রতিক জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, শিক্ষা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর প্রতিষ্ঠান ও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের কথাও এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্প থেকে শুরু করে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল অধিগ্রহণ এবং পরবর্তীতে বহুমুখী ব্যবসা গড়ে তোলার যাত্রা ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পথচলা দেখিয়েছে, বড় স্বপ্নের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা মানসিকতা যুক্ত হলে একজন অভিবাসী কীভাবে নতুন দেশে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
জন্মের আগে থেকেই জীবনযুদ্ধে লড়ছে দুই বছর বয়সী শিশু আয়ান। একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুটির অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থের। এমন কঠিন সময়ে আশার আলো হয়ে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। 'হোপ আমেল' (Hope Amel) নামক একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে অপরিচিত মানুষের ভালোবাসায় মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে আয়ানের চিকিৎসার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম। আয়ানের বাবা বশির আহমাদ পাকিস্তানি এবং মা রাহমাওয়াতি বিন কার্তাহ ইন্দোনেশীয় নাগরিক। বশির দুবাইয়ের একটি গাড়ি ভাড়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যার মাসিক আয় ৫ হাজার দিরহামের চেয়েও কম। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি নিজের জমানো সব অর্থ খরচ করার পাশাপাশি পাকিস্তানে থাকা বসতবাড়িটিও বিক্রি করে দেন। এরপরও যখন চিকিৎসার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বশিরের পরিচিত এক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন 'হোপ আমেল'-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাবি কাদোম। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আয়ানের গল্পটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে সরাসরি হাসপাতালে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানান। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৩ লাখ ৯০ হাজার দিরহাম উঠে আসে। এক সপ্তাহের মধ্যে মোট ১০০টিরও বেশি ব্যক্তিগত স্থানান্তরের মাধ্যমে অনুদান পৌঁছায় ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহামে। এর মধ্যে এক বেনামি দাতা একাই ২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ দিরহাম দান করেন। এই অপ্রত্যাশিত সহায়তায় আবেগাপ্লুত অ্যাবি বলেন, দুবাইয়ের মতো শহরে যেখানে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে থাকেন, সেখানে অপরিচিত মানুষরাই যেন একটি পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে। ওই বেনামি দাতাকে তিনি ছদ্মবেশী এক দেবদূত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বর্তমানে আয়ান দুবাইয়ের আল জলিলা চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় কেমোথেরাপি নিচ্ছে। এরপর তাকে আবুধাবির বুর্জিল মেডিকেল সিটিতে স্থানান্তর করে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হবে। অনুদানের অর্থে ট্রান্সপ্লান্ট ও পরবর্তী ১০০ দিনের চিকিৎসার খরচ মিটে গেলেও, আয়ানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধের জন্য বশিরের লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে দেশ-বিদেশের অপরিচিত মানুষদের এই অভূতপূর্ব সহায়তায় আয়ানের পরিবার এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে এবং সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বড় দোকান বা বিপুল মূলধন ছাড়াই খুচরা ব্যবসা শুরু করার একটি সম্ভাব্য পথ হলো শপিং মলের কার্ট বা কিয়স্ক ব্যবসা। মোবাইল ফোনের কভার ও আনুষঙ্গিক পণ্য, ইমিটেশন জুয়েলারি, পার্স-ব্যাগ, প্রসাধনী, ফ্যাশন সামগ্রী, শিশুদের পণ্য ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শপিং সেন্টারে কার্ট, কিয়স্ক ও স্বল্পমেয়াদি খুচরা জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মলের অবস্থান, ভাড়া, লিজের মেয়াদ, পণ্যের ধরন ও অন্যান্য খরচের ওপর প্রাথমিক বিনিয়োগ নির্ভর করলেও ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মতো মূলধন থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা উপযুক্ত সুযোগ পেলে এ ধরনের ব্যবসা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এ ধরনের ব্যবসার একটি বাস্তব উদাহরণ ওকলাহোমার উদীয়মান ব্যবসায়ী সেলিম খান। আমেরিকা বাংলাকে তিনি জানান, প্রায় ৫ হাজার ডলার দিয়ে একটি শপিং মল কার্টের মাধ্যমে তার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম কার্ট ভালোভাবে চলার পর তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে আটলান্টা, টেক্সাস ও ওকলাহোমা মিলিয়ে তার মোট ছয়টি কার্ট রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তার অভিজ্ঞতা দেখায়, ছোট পরিসরে শুরু করে ব্যবসার আয় ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে নতুন লোকেশনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেলিম খানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত একটি কার্টে কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক খরচ বাদ দেওয়ার পর মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার অবশিষ্ট থাকে। সে হিসাবে একটি কার্ট থেকে বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলার অবশিষ্ট আয় হতে পারে। ছয়টি কার্টে একই গড় ধরে হিসাব করলে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অবশিষ্ট আয়ের হিসাব দাঁড়ায়। সেলিম জানান, যে কার্টে তিনি নিজে বসে ব্যবসা পরিচালনা করেন, সেখানে আয়ের হিসাব আরও ভিন্ন। কর্মচারীর বেতন না দেওয়ার কারণে একটি ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজের শ্রমের উপার্জনও যুক্ত হয়। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এমন একটি কার্টে ব্যবসায়িক খরচ বাদ দেওয়ার পর নিজের শ্রমের আয়সহ মোট বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ মালিক নিজে কাজ করলে ব্যবসা থেকে অবশিষ্ট আয়ের পাশাপাশি নিজের শ্রমের উপার্জনও যুক্ত হয়। অন্যদিকে কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করলে মালিকের দৈনন্দিন উপস্থিতির প্রয়োজন কমলেও কর্মচারীর বেতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়। শপিং মল কার্ট ব্যবসায় পণ্যের ধরন ও লোকেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কার্টে মোবাইল কভার, স্ক্রিন প্রটেক্টর ও অন্যান্য মোবাইল সামগ্রী বিক্রি করা যেতে পারে। অন্য কার্টে ইমিটেশন জুয়েলারি, ঘড়ি, সানগ্লাস, নারীদের অলংকার, পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা বা উপহারসামগ্রী রাখা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো মোবাইল মেরামতের মতো সেবাও যুক্ত করা সম্ভব। তবে এ ধরনের ব্যবসায় মলের অনুমোদন, দক্ষ কর্মী, সরঞ্জাম ও প্রযোজ্য বীমার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হয়। একটি মলে যে পণ্য ভালো বিক্রি করছে, অন্য মলেও সেটি একইভাবে বিক্রি হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। পূর্ণাঙ্গ দোকানের তুলনায় কার্ট বা কিয়স্কে তুলনামূলক কম জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। কিছু শপিং সেন্টারে স্বল্পমেয়াদি লিজের সুযোগ থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি বড় দোকানের চুক্তিতে যাওয়ার আগে নিজেদের পণ্য ও ব্যবসায়িক ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন। তবে কার্টের রেন্ট, অগ্রিম জমা, পণ্যের মজুত, কর্মচারীর বেতন, বীমা, অনুমোদন, লেনদেনের খরচ এবং কয়েক মাসের পরিচালন ব্যয় আগে থেকেই হিসাব করা জরুরি। ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মূলধন থাকলে পুরো অর্থ একবারে কার্ট ও পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় না করে পর্যাপ্ত পরিচালন মূলধন হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য শপিং মল কার্ট ব্যবসা একটি সম্ভাব্য খুচরা ব্যবসার মডেল হতে পারে। একটি ছোট কার্ট দিয়ে বাজার যাচাই করে বিক্রি, খরচ ও লাভের হিসাব বোঝার পর ধাপে ধাপে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কার্টে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। সেলিম খানের ৫ হাজার ডলার দিয়ে শুরু করে বর্তমানে আটলান্টা, টেক্সাস ও ওকলাহোমায় ছয়টি কার্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ। তবে একই ফলাফল প্রত্যেক উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে হবে না। সঠিক পণ্য, উপযুক্ত লোকেশন, লিজের শর্ত, পর্যাপ্ত পরিচালন মূলধন এবং নিয়মিত ব্যবসায়িক হিসাবের ওপরই শেষ পর্যন্ত এই ধরনের ব্যবসার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে।
জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠিত 'ব্রাউনফিশ স্টুডিও'-তে একদল দুর্বৃত্ত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। জানা গেছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জের ধরেই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত স্টুডিওটিতে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্টুডিওর এমন করুণ অবস্থার কথা অনুসারীদের জানান সালমান নিজেই। রাজধানীর নিউ গিনি প্রোপার্টিজ অফিসের ভেতরে অবস্থিত এই স্টুডিওটিতে হামলার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রকাশিত তথ্য ও ভিডিও অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা স্টুডিওর ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বেশিরভাগ মূল্যবান সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র নির্মমভাবে ভাঙচুর করে তছনছ করে দিয়েছে। শুধু ভাঙচুরই নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করেও নিয়ে যায় তারা। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের নিজস্ব স্টুডিওতে চাঁদার দাবিতে এমন সন্ত্রাসী হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মাদক বিক্রি এবং চোরাই অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগে দুই প্রবীণ কিউবান অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিজার ভালদেস (৮৯) এবং ম্যাগডালেনো মেদিনা (৭৩) নামের এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, ১৯৮০ সালের মে মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামলে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। গত ৪৬ বছর ধরে তারা দেশটিতে অবৈধভাবেই বসবাস করে আসছিলেন। গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে এক গোপন অভিযানে ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে মেদিনা ৬০ ডলারের কোকেইন বিক্রি করলে এই দুই প্রবীণের সাম্প্রতিক অপরাধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্য ও তল্লাশি পরোয়ানাসহ পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সে সময় বাড়িতে ভালদেস উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি চোরাই আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। এছাড়া সেখান থেকে ১৪১ গ্রাম কোকেইন এবং ১ হাজার ২৭৮ গ্রাম গাঁজাভর্তি কয়েক ডজন স্বচ্ছ ব্যাগও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কোকেইন পাচার এবং আগ্নেয়াস্ত্র চুরির মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) আটকাদেশের আওতায় মায়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আইসিই কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেদিনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোকেইন চোরাচালান, মাদক রাখা ও ব্যবসার মতো অন্তত চারটি গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে, ভালদেসও ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কোকেইন রাখা এবং প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। আইসিই-এর এক মুখপাত্র কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারী কোনো অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না; বরং তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার পর নিজ দেশে বিতাড়িত করা হবে।