টেসলায় আগুন-বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা, মালিকদের নিরাপত্তা ও ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় বর্তমান মালিকদের নিরাপত্তা এবং নতুন করে টেসলা কেনার কথা ভাবছেন এমন ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোর কারণ এক নয়, আর কোনো ঘটনাকেই এখন পর্যন্ত সরাসরি টেসলার ব্যাটারির ত্রুটি হিসেবে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি।
গত আগস্টে ওয়াশিংটনের অবার্নে একটি বাড়ির গ্যারেজে থাকা টেসলায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই অগ্নিনির্বাপক আহত হয়ে হাসপাতালে যান। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গাড়িটি কেন বিস্ফোরিত হয়েছিল তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে জর্জিয়ার আটলান্টার নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরে সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গাড়িটিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাড়িটি কোনো দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্টে মাদেরায় একটি টেসলা বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং এলাকায় আগুনে চারটি টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি গাড়িতে আগুন শুরু হয়ে পাশের তিনটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন মূল ব্যাটারি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনেন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলেছেন এবং এটি দুর্ঘটনাজনিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্লোরিডায় আরও গুরুতর একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হারিকেন হেলেনের সময় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসার পর একটি ২০২১ সালের টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে একটি পরিবারের প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বাড়ি ধ্বংস হয় এবং তাদের পোষা কুকুর মারা যায়। তবে এগুলো আদালতে করা অভিযোগ; ঘটনার কারণ বা টেসলার দায় এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো টেসলা মালিকদের জন্য সতর্কতার বিষয়টি সামনে এনেছে। দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে যাওয়ার পর গাড়ি পরীক্ষা না করে চালানো বা চার্জ না দেওয়া এবং ধোঁয়া, অস্বাভাবিক শব্দ কিংবা অতিরিক্ত তাপ দেখা দিলে গাড়ি থেকে দূরে সরে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব ঘটনাকে একই কারণে ঘটেছে বলে ধরে না নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযানে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ইরানের বিমান সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে। বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেও নতুন বাধা এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অর্থ লেনদেন বন্ধ করেছে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযান শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরে ইরানের বিমান খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন। তবে আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেশগুলোর সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করেছে, এমন দাবি পাওয়া তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রকাশিত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যাংক ও লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধের কথাই জানায়।
টেসলায় আগুন-বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা, মালিকদের নিরাপত্তা ও ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ও সতর্কবার্তা
তুর্কি বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে করলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী আলিনা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার বেশিরভাগ ক্যাটাগরি অপরিবর্তিত থাকলেও এফ-১ থেকে শুরু করে এফ-৪ পর্যন্ত পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভিসা পাওয়ার তারিখ অনেকটাই এগিয়েছে। ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো কলাম না থাকায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সাধারণত বৈশ্বিক সাধারণ তালিকার (All Chargeability Areas) ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সেই তালিকাতেই এবার বড় পরিবর্তনের দেখা মিলেছে। পরিবারভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে এফ-১ ক্যাটাগরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য এই ক্যাটাগরিতে ভিসার তারিখ ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এক ধাক্কায় এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি করা হয়েছে। গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ-২এ ক্যাটাগরির তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানদের এফ-২বি ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০ মাসের বিশাল অগ্রগতি হয়ে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য এফ-৩ ক্যাটাগরির তারিখ ২০১২ সালের মে মাস থেকে এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভাই-বোনদের জন্য প্রযোজ্য এফ-৪ ক্যাটাগরির তারিখ ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক লাফে এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক ভিসায় এমন বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ইবি-১ এবং ইবি-২ ক্যাটাগরি সেপ্টেম্বরেও 'কারেন্ট' বা বর্তমান অবস্থায় রয়েছে। ইবি-৩ ক্যাটাগরির তারিখ আগের মতোই ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যান্য কর্মী ক্যাটাগরির তারিখ ২০২২ সালের ১ এপ্রিলে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ইবি-৪ ক্যাটাগরিতে কিছুটা পরিবর্তন এসে তারিখ দাঁড়িয়েছে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। এছাড়া ইবি-৫-এর সাধারণ ক্যাটাগরিসহ গ্রামীণ এলাকা ও উচ্চ বেকারত্ব অঞ্চলের বিশেষ ক্যাটাগরিগুলোও বাংলাদেশিদের জন্য 'কারেন্ট' রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকাতেও পরিবারভিত্তিক ভিসার বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ভিসার চাহিদা বেড়ে গেলে বার্ষিক নির্ধারিত সংখ্যা সামলাতে কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে তারিখ আবারও পিছিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে এশিয়া অঞ্চলের কাট-অফ র্যাঙ্ক ৪০ হাজার নির্ধারণ করা হলেও, দেশভিত্তিক যোগ্যতার নিয়মের কারণে বাংলাদেশিদের জন্য এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন পরিবারভিত্তিক ভিসায় অপেক্ষারত বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের আশার আলো দেখালেও, চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর পিটিশন ও অন্যান্য আইনি শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
ফ্লোরিডায় জোড়া খুনে দোষী কিশোরী, মা ও প্রেমিককে হ ত্যার দায়ে ৫০ বছরের সাজা
নিউইয়র্কে ভ য়াবহ ঝড়, ব্রুকলিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে নি হত ৫৬ বছরের ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প
সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্পটি যেন স্বপ্ন থেকে বাস্তবের এক দীর্ঘ যাত্রা। জীবনীমূলক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার। সেই সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শুরু করা পথচলা পরবর্তীতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতের একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্পটি যেন স্বপ্ন থেকে বাস্তবের এক দীর্ঘ যাত্রা। জীবনীমূলক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার। সেই সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শুরু করা পথচলা পরবর্তীতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতের একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর জন্মভূমি সিলেটের গোলাপগঞ্জ। তিনি সিলেটের এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষে কলকাতায় এমবিবিএস করেন। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেন। তিনি অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান বোর্ড অব অর্থোপেডিক সার্জারি থেকে সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত পরিচিতি গড়ে তোলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি জীবনীমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি একটি হাসপাতালে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরে তিনি সেখানে কাজের সুযোগ পান এবং একপর্যায়ে হাসপাতালটির প্রশাসকের কাছে একদিন ওই হাসপাতাল নিজেই কেনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তখন সেই বক্তব্য অনেকের কাছেই ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে যাননি ড. কালী প্রদীপ। একই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ বছর পর তিনি সত্যিই সেই হাসপাতাল অধিগ্রহণ করেন। এই ঘটনাকেই তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যবসায়িক যাত্রা থেকেই গড়ে ওঠে কেপিসি গ্রুপ। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে কেপিসি গ্রুপের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপটি রিয়েল এস্টেট, হেলথ কেয়ার ও অবকাঠামো খাতে কাজ করছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রুপটির সঙ্গে সাতটি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের কলকাতায় রয়েছে কেপিসি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। কলকাতার কেপিসি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালও ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর অন্যতম বড় উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, জাদবপুরে ৪৮ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই মেডিকেল এডুকেশন কমপ্লেক্সে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ৭৫০ শয্যার হাসপাতাল। চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কেপিসি গ্রুপের কার্যক্রম শুধু স্বাস্থ্যসেবাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জীবনী ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট, ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি, শিক্ষা, অবকাঠামো, কৃষি, আর্কিটেকচার ও ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে গ্রুপটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। কেপিসি গ্রুপের বর্তমান ওয়েবসাইটেও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জন্মভূমি বাংলাদেশের সঙ্গেও ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকার পূর্বাচলে তাঁর নেতৃত্বাধীন কেপিসি গ্রুপের মাধ্যমে একটি বড় টাওয়ার, কনভেনশন সেন্টার, হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলেও বাংলাদেশের বড় পরিসরের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে। ব্যবসার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা বিভিন্ন সাম্প্রতিক জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, শিক্ষা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর প্রতিষ্ঠান ও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের কথাও এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর গল্প থেকে শুরু করে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল অধিগ্রহণ এবং পরবর্তীতে বহুমুখী ব্যবসা গড়ে তোলার যাত্রা ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পথচলা দেখিয়েছে, বড় স্বপ্নের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা মানসিকতা যুক্ত হলে একজন অভিবাসী কীভাবে নতুন দেশে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
১০–১৫ হাজার ডলারের পুঁজিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শপিং মল কার্ট ব্যবসার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মা দক-অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৮৯ ও ৭৩ বছরের দুই কিউবান অভিবাসী