- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠিত 'ব্রাউনফিশ স্টুডিও'-তে একদল দুর্বৃত্ত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। জানা গেছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জের ধরেই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত স্টুডিওটিতে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্টুডিওর এমন করুণ অবস্থার কথা অনুসারীদের জানান সালমান নিজেই। রাজধানীর নিউ গিনি প্রোপার্টিজ অফিসের ভেতরে অবস্থিত এই স্টুডিওটিতে হামলার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রকাশিত তথ্য ও ভিডিও অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা স্টুডিওর ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বেশিরভাগ মূল্যবান সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র নির্মমভাবে ভাঙচুর করে তছনছ করে দিয়েছে। শুধু ভাঙচুরই নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করেও নিয়ে যায় তারা। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের নিজস্ব স্টুডিওতে চাঁদার দাবিতে এমন সন্ত্রাসী হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মাদক বিক্রি এবং চোরাই অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগে দুই প্রবীণ কিউবান অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিজার ভালদেস (৮৯) এবং ম্যাগডালেনো মেদিনা (৭৩) নামের এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, ১৯৮০ সালের মে মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামলে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। গত ৪৬ বছর ধরে তারা দেশটিতে অবৈধভাবেই বসবাস করে আসছিলেন। গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে এক গোপন অভিযানে ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে মেদিনা ৬০ ডলারের কোকেইন বিক্রি করলে এই দুই প্রবীণের সাম্প্রতিক অপরাধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্য ও তল্লাশি পরোয়ানাসহ পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সে সময় বাড়িতে ভালদেস উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি চোরাই আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। এছাড়া সেখান থেকে ১৪১ গ্রাম কোকেইন এবং ১ হাজার ২৭৮ গ্রাম গাঁজাভর্তি কয়েক ডজন স্বচ্ছ ব্যাগও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কোকেইন পাচার এবং আগ্নেয়াস্ত্র চুরির মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) আটকাদেশের আওতায় মায়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আইসিই কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেদিনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোকেইন চোরাচালান, মাদক রাখা ও ব্যবসার মতো অন্তত চারটি গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে, ভালদেসও ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কোকেইন রাখা এবং প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। আইসিই-এর এক মুখপাত্র কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারী কোনো অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না; বরং তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার পর নিজ দেশে বিতাড়িত করা হবে।
নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় সিটি বাইক (Citi Bike) ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস ই-বাইকের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৮ মাইল থেকে কমিয়ে ১৫ মাইল করার নির্দেশ দেন। শহরজুড়ে রাস্তা ও পার্কের ভেতরের পথগুলোতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যাত্রীরা যাতায়াতে বেশি সময় লাগার পাশাপাশি বাড়তি খরচের অভিযোগ করছেন। লিফটের (Lyft) মালিকানাধীন সিটি বাইক বর্তমানে সদস্যদের ই-বাইক চালানোর জন্য প্রতি মিনিটে ২৭ সেন্ট করে চার্জ কাটে। ফলে গতি কমার কারণে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনি পকেট থেকে খসছে বাড়তি অর্থ। নিয়মিত সিটি বাইক ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রু কামের মতে, বাইকের গতি কমার কারণে সেবাটির মান কমার পাশাপাশি এটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তিনি হিসাব করে দেখিয়েছেন, গতি কমার কারণে চেম্বারস স্ট্রিট থেকে ১২৫তম স্ট্রিট পর্যন্ত ৬ মাইলের একটি সাধারণ যাত্রায় এখন আগের চেয়ে অন্তত ১ ডলার ৮ সেন্ট বেশি খরচ হচ্ছে। আগে ১৮ মাইল বেগে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত প্রায় ২০ মিনিট এবং খরচ হতো ৫ ডলার ৪০ সেন্ট। কিন্তু বর্তমান ১৫ মাইল গতিসীমার কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অন্তত ২৪ মিনিট সময় লাগছে, যার ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। অনেক সাধারণ যাত্রী ব্যাপারটি বুঝতে না পারায় অ্যান্ড্রু কাম একে সিটি বাইক ব্যবহারকারীদের ওপর একধরনের ‘লুক্কায়িত কর’ বা হিডেন ট্যাক্স হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, যাত্রীদের খরচ বাড়লেও গতি কমানোর এই নিয়মের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিটি বাইকের আয়ের খাতায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী সিটি বাইক ব্যবহার করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ (২৪.৭ মিলিয়ন) ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২৪ সালের ৬৮ লাখ (৬.৮ মিলিয়ন) ডলারের তুলনায় বহুগুণ বেশি। মূলত উইলিয়ামসবার্গে একটি ই-বাইক দুর্ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু আহত হওয়ার পর তৎকালীন ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র্যান্ডি মাস্ত্রোর চাপে মেয়র অ্যাডামস গতি কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও ওই দুর্ঘটনায় কোনো সিটি বাইক জড়িত ছিল না। বর্তমানে নিউইয়র্কের সাইকেল আরোহী এবং বেশ কয়েকজন সিটি কাউন্সিল মেম্বার বাড়তি খরচের এই লাগাম টানতে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁরা সদস্যদের জন্য ই-বাইক রাইডের সর্বোচ্চ খরচ ৩ ডলারে সীমিত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নিউইয়র্কের রাস্তায় দ্রুতগতির আরোহীদের বাধ্য হয়েই ধীরগতিতে চলতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিটেইল জায়ান্ট কস্টকো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ প্রান্তিকে তারা ১৮ কোটি ৪০ লাখ (১৮৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার শুল্ক ফেরত পেয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মুনাফা হিসেবে রেখে না দিয়ে, এর বড় একটি অংশ গ্রাহকদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কস্টকো নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ওয়্যারহাউসগুলোতে কেনাকাটা করা সদস্যদের জন্য খাদ্যপণ্য ও পানীয়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কমানো হয়েছে। সম্প্রতি এক আর্নিংস কলে কস্টকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রন ভ্যাচরিস জানান, চতুর্থ প্রান্তিকে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু শুল্ক ফেরত পেয়েছেন এবং গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু বা সুবিধা নিশ্চিত করতে এই অর্থের একাংশ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রান্তিকের দ্বিতীয়ার্ধে শাকসবজি-ফলমূল, মাংস, পানীয় থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র ও হার্ডওয়্যারের মতো বেশ কিছু খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। কস্টকোর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) গ্যারি মিলারচিপ এই উদ্যোগকে সদস্যদের জন্য 'শুল্ক ফেরতের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, যে পণ্যগুলোর দাম কমালে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, মূলত সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই অর্থ ব্যবহার করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। মিলারচিপ জানান, কস্টকোর প্রাপ্ত ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার হলো মূল শুল্ক ফেরত এবং বাকি ১ কোটি ডলার এসেছে সুদ হিসেবে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনে যে পরিমাণ শুল্ক ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা কস্টকো করছে, এটি তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রথম প্রান্তিকেও তারা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতেও প্রাপ্ত শুল্কের বড় অংশ একইভাবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিনিয়োগ করা। গত বছর কস্টকোর পণ্যের ওপর শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইও ভ্যাচরিস জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিক থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র নয় মাস পর নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি প্রকাশিত কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক নতুন জরিপে এই অভাবনীয় তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৪৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার মামদানিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। এর বিপরীতে ৩৬ শতাংশের তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে এবং ১৫ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। একই দিনে প্রকাশিত সিয়েনা কলেজের আরেকটি পৃথক জরিপেও মামদানির পক্ষে ৪৬ শতাংশ ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানানো হলেও, সেখানে তাঁর নেতিবাচক রেটিং কিছুটা বেশি—৪৪ শতাংশ। কুইনিপিয়াক জরিপে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতাদের চেয়েও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, রাজ্যজুড়ে মার্কিন প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের পক্ষে ইতিবাচক সমর্থন ৪১ শতাংশ এবং নেতিবাচক সমর্থন ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমারের পক্ষে ইতিবাচক সমর্থন মাত্র ৩৪ শতাংশ, যেখানে তাঁর নেতিবাচক রেটিং ৫১ শতাংশ। মামদানি এবং ওকাসিও-কর্তেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন 'ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা'-র পক্ষে ২৯ শতাংশ ইতিবাচক ও ৪৩ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন ভোটাররা। এছাড়া, একই জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যানের চেয়ে ৫৮-৩৯ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যজুড়ে মামদানির প্রায় সমকক্ষ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। পুরো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় খোদ নিউইয়র্ক সিটিতে জোহরান মামদানির জনসমর্থন আরও বেশি সুসংহত। সিটির পাঁচটি বরো বা এলাকার ৬০ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যার বিপরীতে নেতিবাচক মত দিয়েছেন মাত্র ২৯ শতাংশ ভোটার। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর এই আকাশচুম্বী রেটিং গভর্নর ক্যাথি হোকুল, প্রতিনিধি ওকাসিও-কর্তেজ এবং সিনেটর চাক শুমারের মতো বাঘা বাঘা নেতাদের ইন-সিটি রেটিংকেও ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এই জরিপটি রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ২৬ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে, যার ভুলের মাত্রা বা মার্জিন অব এরর প্লাস-মাইনাস ৪.১ শতাংশ পয়েন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রোসারি বা মুদি পণ্যের বাজারে গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি কৌশল অনুসরণ করে কস্টকো (Costco) এবং অ্যালডি (Aldi)। কস্টকো যেখানে মেম্বারশিপ-ভিত্তিক ওয়্যারহাউস মডেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে, অ্যালডি সেখানে ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেট ফরম্যাটের সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে উভয়েরই উদ্দেশ্য একটাই—সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা পণ্য পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের মন জয় করা। ইউগভ ব্র্যান্ডইনডেক্সের (YouGov BrandIndex) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক ভ্যালু পারসেপশনের দিক থেকে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৮ নিট স্কোর নিয়ে অ্যালডিকে (৩৫) পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে কস্টকো। তবে বিভিন্ন প্রজন্মের ক্রেতাদের মনোভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানে বেশ কিছু চমকপ্রদ পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বাজেট-সচেতন এই দুটি ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি দেখা যায় জেন-জি (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, জেন-জি ক্রেতাদের কাছে কস্টকোর ভ্যালু স্কোর ছিল ৪৪, যেখানে অ্যালডির স্কোর ছিল ৩২—অর্থাৎ ১২ পয়েন্টের স্পষ্ট ব্যবধান। মিলেনিয়ালদের (Millennials) মধ্যেও ৯ পয়েন্টের ব্যবধান (৪৩ বনাম ৩৪) নিয়ে কস্টকো এগিয়ে থাকলেও, জেনারেশন এক্স (Gen X) ক্রেতাদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো; সেখানে ৩৩ স্কোর পাওয়া কস্টকোর চেয়ে ৩৫ স্কোর নিয়ে এগিয়ে আছে অ্যালডি। অন্যদিকে, বেবি বুমারস+ (Baby Boomers+) প্রজন্মের কাছে ব্র্যান্ড দুটির অবস্থান সমান (উভয়েরই স্কোর ৩৭)। তবে সামগ্রিক হিসাবের বাইরে ২০২৬ সালজুড়ে জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের ক্ষেত্রে বেশ উত্থান-পতন দেখা গেছে। উভয় রিটেইলারের জন্যই জেন-জি ক্রেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউগভ প্রোফাইলসের তথ্যমতে, বর্তমানে কস্টকোর মোট গ্রাহকের ১৮ শতাংশ এবং অ্যালডির ১৩ শতাংশই হলেন প্রাপ্তবয়স্ক জেন-জি মার্কিনি। বছর শুরুতে এই প্রজন্মের মাঝে কস্টকোর ব্যাপক আধিপত্য (৪৬ বনাম ২৭ স্কোর) থাকলেও, বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই লড়াই আরও তীব্র হয়। জানুয়ারির শেষে অ্যালডি তাদের স্কোর ৪০-এ উন্নীত করে কস্টকোর (৪৯) সঙ্গে ব্যবধান ৯ পয়েন্টে নামিয়ে আনে। গ্রীষ্মের শুরুতে (৭ জুন) কস্টকো আবারও ৫১ স্কোর নিয়ে অ্যালডির (৩৩) চেয়ে অনেক এগিয়ে যায়, কিন্তু জুন থেকে আগস্টের মধ্যে কস্টকোর স্কোর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে (আগস্টের শেষে তা ৩৮-এ দাঁড়ায়)। একই সময়ে অ্যালডির স্কোর তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল (আগস্ট শেষে ৩৩)। ফলে বছরের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে জেন-জি ক্রেতাদের কাছে ব্র্যান্ড দুটির ভ্যালু পারসেপশনের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে কস্টকোর ধারাবাহিক অবনমন এবং অ্যালডির ধীরগতির উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন ছুটির মৌসুমে জেন-জি ক্রেতাদের সেরা ভ্যালু ব্র্যান্ডের মুকুট নতুন কারও মাথায় উঠতে পারে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় সন্দেহভাজন গ্যাস বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে অ্যাক্রোপোলিস সংলগ্ন এলাকায় তিনতলা ওই ভবনটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এথেন্সের মেয়র হ্যারিস ডুকাস জানিয়েছেন, সম্ভবত গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন পর্যটক রয়েছেন, যাঁরা একটি পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত এক বয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিক ও তাঁর গ্রিক স্ত্রী। জানা গেছে, নিহত ওই মার্কিন পরিবারটি প্রথম তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন এবং শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তুতিকালেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশপাশের সম্পত্তি এবং রাস্তায় পার্ক করে রাখা একাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লিসিক্রাটাস স্ট্রিটের পাশের একটি ভবন থেকে অন্তত দুজন নারী আহত হয়েছেন। শনিবার ঘটনাস্থলে এএফপির সাংবাদিকদের থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখতে পাওয়া যায়। এথেন্সের মেয়র ডুকাস পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘অবিশ্বাস্য বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের কারণে পার্শ্ববর্তী দুটি ভবনও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নাকি ভেঙে ফেলতে হবে, তা নির্ধারণে বর্তমানে নিবিড় পরিদর্শন চলছে। গ্রিক দৈনিক কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্লাকা এলাকার বাসিন্দারা প্রায় এক বছর আগেই সম্ভাব্য গ্যাস লিকেজ বা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয় এক নাগরিক গ্রুপ জানায় যে, বিস্ফোরণের আগে এক বাসিন্দা গ্যাসের তীব্র গন্ধ পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছিলেন। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ অ্যাক্রোপোলিসের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়, যেখানে গত বছর প্রায় ৪৬ লাখ দর্শনার্থী ভ্রমণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আদালতের তিনটি নির্দেশ অমান্য করে এক আশ্রয়প্রার্থীকে এল সালভাদরে বিতাড়িত করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ স্টেফানি গ্যালাগার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের নথিতে 'ই.এল.এ.' (E.L.A.) হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিতাড়নের কোনো আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সরকারকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দুবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রথমবার বিতাড়নের পর তিনি গত ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং নিজেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সমর্পণ করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বন্দি রাখার পর মার্কিন সরকার তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন একটি দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠায়, যেখানে তিনি নিপীড়নের আতঙ্কে ছিলেন। এই ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলার অংশ, যা অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অধিকার আইনিভাবে রক্ষা করে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকা অন্তত ১০৭ জন ব্যক্তিকে (যার মধ্যে ৫৪ জন নিশ্চিত এবং ৫৩ জন সম্ভাব্য সুরক্ষিত সদস্য) তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে। এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ২,৫০০ ডলার অনুদান দেওয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসেও বিচারক গ্যালাগার ডিএইচএস-কে দেওয়ানি অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, আইনগত বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার বারবার তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিতাড়িত করছে। সর্বশেষ এই ঘটনা নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস-এর কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুক্রবারের ওই আদেশে আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ওই আশ্রয়প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি আদালতকে জানাতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সদ্যোজাত সন্তানকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ১৬ মাসের তদন্ত শেষে ওই শিশুর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অ্যাস্ট্রিড নোহেমি লোপেজ রামোস নামের ২৬ বছর বয়সী ওই নারীকে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যানিং শহরের ল্যারি ডি. স্মিথ কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের জন্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে আদালত। রিভারসাইড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ২০২৫ সালের ৪ মে জ্যাকসন স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের কাছে বৃষ্টির মধ্যে এক নবজাতককে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে তখনও নাড়ি যুক্ত ছিল এবং কোনো ধরনের আবরণ ছাড়াই তাকে বৃষ্টির মাঝে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুটির জন্ম হয়েছিল। রিভারসাইড পুলিশের যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন বিভাগের গোয়েন্দারা এই ঘটনার দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত মাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি রিভারসাইড হল অব জাস্টিসে অভিযুক্তকে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সেফলি সারেন্ডারড বেবি ল’-এর কথা আবারও বাসিন্দাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনো মা চাইলে সন্তান জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের আইনি জবাবদিহি ছাড়াই নবজাতককে নিরাপদ আশ্রয়ে সমর্পণ করতে পারেন। মূলত শিশু পরিত্যাগের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে তাঁর এই ফেরা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রবল অস্বস্তি; অনেক ডেমোক্র্যাট নেতাই চাইছেন তিনি যেন প্রচারণায় অংশ না নেন। সম্প্রতি মিশিগানে বিতর্কিত মার্কিন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে গিয়ে নিজের পুরোনো ‘শব্দজট’ (ওয়ার্ড সালাদ) বা অসংলগ্ন বক্তব্যের বৃত্তেই আটকে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং নেভাডায় অ্যারন ফোর্ডের জন্য কমলা হ্যারিসের প্রচারণার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সরাসরি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করছেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন তাঁর রাজ্যে হ্যারিসের সফরকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "তাঁকে অসম্মান করছি না, তবে তিনি আমার কোনো উপকারে আসবেন না। আমরা ভিন্ন ঘরানার ডেমোক্র্যাট... আমার রাজ্যে তাঁর আসার দরকার নেই, এতে উল্টো আমারই ক্ষতি হবে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের চোখেও হ্যারিসের এই প্রচারণায় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কাজ করা এক ডেমোক্র্যাট কর্মী জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস ইতিমধ্যেই অনেকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। অন্যদিকে, এক রিপাবলিকান সূত্রের মতে, শীর্ষ প্রচারক হিসেবে হ্যারিসের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে এবং তাঁর জনসমর্থন অত্যন্ত হতাশাজনক। ওই সূত্রটি আরও দাবি করে, প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এখনও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন; বড়জোর জর্জিয়া বা মিসিসিপির মতো কয়েকটি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার টানতে তিনি কিছুটা কাজে আসতে পারেন। সম্প্রতি ডেট্রয়েটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কমলা হ্যারিসের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভাবস্থা ও মাতৃকালীন পরিচর্যা নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে এবং ডেমোক্র্যাট কর্মীদের মধ্যেও হাসির খোরাক জোগায়। একই অনুষ্ঠানে মিশিগানের আকার ও প্রকৃতি নিয়ে তিনি দীর্ঘ এক বক্তৃতা দিলেও সেখানে কোনো সারমর্ম ছিল না। তাঁর এমন আচরণে প্রার্থী এল-সায়েদকেও নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে হারার পর থেকে কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। হার্ভার্ড-হ্যারিসের একটি জরিপ অনুযায়ী, তাঁর পক্ষে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ, যেখানে বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। আলাস্কার সিনেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার কাছ থেকে প্রচারণার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হ্যারিস এখন এমন কয়েকটি নিরাপদ জায়গার সন্ধানে রয়েছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি অন্তত কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এত কিছুর পরও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর গড়ে তিনি সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন, যদিও সমালোচকদের মতে এটি কেবল তাঁর পরিচিতির কারণেই টিকে আছে এবং এই সমর্থন খুবই দুর্বল।
পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ৮০ বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার পল লিটলকে। ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে তার স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করায় আর পড়াশোনা শেষ করা হয়নি। অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেলেন হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ। সম্প্রতি ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিং হোমে লিটলকে চমকে দিতে হাজির হন স্থানীয় ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস স্কুল জেলার কর্মকর্তারা। সেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য সম্মানসূচক ডিপ্লোমা। এত বছর পর ডিপ্লোমা হাতে পেয়ে লিটল জানান, অবশেষে তিনি স্নাতক হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন। স্কুলজীবন শেষ করতে না পারলেও শিক্ষার সঙ্গে লিটলের সম্পর্ক কখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন তিনি কৃষিকাজ করেছেন। নিজের প্রয়াত স্ত্রী এলেনরকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্যানোরামা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে তিনি বহু বছর ধরে অর্থ দিয়ে আসছেন। প্যানোরামা স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক কেসি হিউবনার জানান, গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে লিটল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তার সহায়তায় ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। ডালাস সেন্টারে ফিরে নার্সিং হোমে থাকার সময়ও শিক্ষার প্রতি তার এই আগ্রহ অব্যাহত ছিল। নিজের যে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি, সেই ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস শিক্ষা ফাউন্ডেশনে তিনি ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক স্কট ব্লুম বলেন, ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য লিটলকে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা দিতে পারা তাদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে। লিটল নিজেও শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার মতে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও অন্যদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করে গেছেন তিনি। এ কারণেই ৯৮ বছর বয়সে পাওয়া ডিপ্লোমা শুধু তার নিজের শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতিই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের অবদানেরও একটি বিশেষ স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে। ১৯৪৬ সালে যে ডিপ্লোমা পাওয়ার কথা ছিল, সেটি হাতে পেতে পল লিটলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় আট দশক। পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কৈশোরে পড়ালেখা ছাড়লেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার মানসিকতা কখনো থেমে থাকেনি। ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসমাপ্ত অধ্যায় অবশেষে পূর্ণতা পেল।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি আছে কি না, তা জানাতে হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএসের প্রকাশ করা ২০২৬ সালের খসড়া ফর্ম ১০৪০-এ প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে সরাসরি একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো খসড়া এবং চূড়ান্ত ট্যাক্স ফর্মে এই প্রশ্ন থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। খসড়া ফর্ম ১০৪০-এর একটি অংশে করদাতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সময় তিনি এবং যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দিলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত কোনো বিদেশি কি না। করদাতা ও স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদাভাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ঘর রাখা হয়েছে। আইআরএসের এই খসড়া পরিবর্তনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস নির্দিষ্ট কিছু রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের রিফান্ডযোগ্য অংশ, আমেরিকান অপরচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট এবং অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিটের রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। এসব সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা আইনে সংজ্ঞায়িত ‘যোগ্য বিদেশি’ হতে হবে। আইআরএসের নতুন খসড়া শিডিউল ৩-এ-তেও এ বিষয়ে আলাদা স্ব-ঘোষণার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে করদাতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বা তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা যোগ্য বিদেশি কি না। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে একজন স্বামী বা স্ত্রী এই যোগ্যতার মধ্যে থাকলেও নির্দিষ্ট রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে নতুন ফর্ম ১০৪০-এর প্রশ্নটি শিডিউল ৩-এ-এর প্রশ্নের চেয়ে কিছুটা আলাদা। ফর্ম ১০৪০-এ নাগরিকত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমোদনের বিষয়টি সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে। ফলে ট্যাক্স রিটার্নে এমন তথ্য প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে করদাতা ও ট্যাক্স পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য হতে পারেন, যদিও তার কাজের অনুমোদনের অবস্থা আলাদা হতে পারে। একইভাবে ব্যক্তিগত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা আইটিআইএন থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পাওয়া যায় না। প্রস্তাবিত নিয়মে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিটের যে অংশ করদাতার আয়কর দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে রিফান্ড হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, মূলত সেই অংশকেই ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি ওই রিফান্ডযোগ্য অংশের জন্য যোগ্য না হলেও, করের দায় কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রেডিটের যে অংশ প্রযোজ্য, সেটি পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। আইআরএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফর্ম ১০৪০ এবং শিডিউল ৩-এ এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। তাই আগামী ট্যাক্স মৌসুমে করদাতারা যে চূড়ান্ত ফর্ম ব্যবহার করবেন, সেখানে প্রশ্নগুলোর ভাষা বা কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়াও রেখেছে। ফলে নাগরিকত্ব, কাজের অনুমতি এবং রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়ে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা| চুয়াডাঙ্গার মাটিতে জন্ম নেওয়া এমন একজন কৃতী সন্তানের নাম এন. এন. সাহা, যার সৃষ্টি আজও বহন করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। সরকারি দপ্তর, সচিবালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, সরকারি সিলমোহর, বাংলাদেশ পাসপোর্টের প্রচ্ছদ এবং অসংখ্য প্রশাসনিক নথিতে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁর নকশা করা রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই কৃতী মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা জাতীয় সম্মাননা। এ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী এলেই নতুন করে উঠে আসে একই প্রশ্ন—যাঁর সৃষ্টি রাষ্ট্র প্রতিদিন ব্যবহার করছে, সেই মানুষটির অবদান কি রাষ্ট্র ভুলে গেছে? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব উল হকের আহ্বানে এন. এন. সাহা মুজিবনগর সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের একাধিক নকশা প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত নকশাটি ২ এপ্রিল সরবরাহ করা হয়। সেই নকশার ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে সরকারি মনোগ্রাম ব্যবহৃত হতে থাকে। ১০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার কারণে অনুষ্ঠানটি বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) স্থানান্তরিত হয়। রাষ্ট্রীয় এই মনোগ্রামের নকশায় রয়েছে—বৃত্তের ঠিক মাঝখানে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র, বৃত্তের ওপরের অংশে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” এবং নিচের অংশে “সরকার” লেখা। বৃত্তের দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা সংযোজিত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সব দাপ্তরিক কার্যক্রম, সরকারি সিলমোহর এবং বাংলাদেশ পাসপোর্টের প্রচ্ছদে এই মনোগ্রামটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শুধু মনোগ্রামের নকশাকারই নন, এন. এন. সাহা ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট কবিরাজ, শিল্পী ও সমাজসেবক। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং শিল্পসৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু সেই ইতিহাস আজও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। চুয়াডাঙ্গার মানুষের কাছে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানের প্রশ্ন নয়; এটি জেলার গৌরবেরও প্রশ্ন। এই জেলার সন্তান হিসেবে এন. এন. সাহা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক নির্মাণ করেছেন। অথচ তাঁর নামে জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নেই। যদিও স্থানীয়ভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি বহুবার উঠেছে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন, যেন তাঁর অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়। তাঁদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহের বিষয় নয়; বরং ইতিহাসের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অংশ। একজন শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রগঠনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে এন. এন. সাহার যথাযথ মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে সহায়ক হবে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন একজন রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতার অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে না? কেন তাঁর জীবন ও কর্ম জাতীয় পাঠ্যক্রম, জাদুঘর কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মাননার আলোচনায় স্থান পাবে না? ২০০২ সালের ২ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এন. এন. সাহা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সহধর্মিণী বিমলা বালা সাহাও পরবর্তীতে পরলোকগমন করেন। তাঁদের চার পুত্রের মধ্যে মেজো পুত্র মনোজ কুমার সাহাও আর বেঁচে নেই। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ যে মানুষের সৃষ্টি আজও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দাপ্তরিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাঁর পরিবারই আজ অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এন. এন. সাহার মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা শুধু তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হবে না, বরং তাঁর পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। চুয়াডাঙ্গাবাসীর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলার গর্ব এন. এন. সাহার অবদান দ্রুত সরকারি উদ্যোগে যাচাই করে তাঁকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সরকার এগিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশাও স্থানীয় মানুষের। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একটি জাতি তার প্রকৃত কৃতীদের সম্মান জানাতে পারলেই ইতিহাসের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পূর্ণতা পায়। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু সাংবাদিক, ছড়াকার ও গীতিকার বড়বাজার, চুয়াডাঙ্গা ০১৮১৮-৩৪৩৯৩৬
স্বামীকে হারানোর পর সন্তানদের পড়াশোনা চালাতে দিনমজুরি করেছেন সখুবাই পাডিভার। পরে মুম্বাইয়ে গিয়ে বর্জ্য কুড়িয়ে সংসার চালিয়েছেন। তাঁর ছেলে গৌতম পাডিভার এখন ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা। সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা গৌতমের অফিসে গিয়ে তাঁর চেয়ারে বসেন সখুবাই। সেই মুহূর্তের ছবি ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁদের জীবনসংগ্রাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের আয় এত কম ছিল যে কখনো কখনো তাঁদের না খেয়েও থাকতে হয়েছে। সখুবাই নিজে স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। তবু তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। পরিবারের অভাব যেন তাঁদেরও দিনমজুরির কাজে নামতে বাধ্য না করে, সেটিই ছিল তাঁর চেষ্টা। গৌতম মহারাষ্ট্রের জালনায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়েছেন। এরপর কোচিং ছাড়াই প্রকৌশলে ভর্তির পরীক্ষা পাস করে সুযোগ পান আইআইটি মাদ্রাজে। পরে ২০২২ সালের ভারতীয় বন পরিষেবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ১৩৯তম স্থান অর্জন করেন। ২০২৩ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ছত্তিশগড়ে কর্মজীবন শুরু করেন গৌতম। বর্তমানে তিনি রাজ্যের জগদলপুরে কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর মায়ের অফিস পরিদর্শনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। মাকে নিজের অফিসের চেয়ারে বসানোর মুহূর্তটি নিয়ে গৌতম তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব সখুবাইকেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আজ তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে রয়েছে মায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান ও তার ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা হান্নাহ জর্গেনসেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, আইওয়া সিটির বরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ শিক্ষা সফরের সময় ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, দুপুরের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার ও লেক ম্যাকব্রাইডের স্পিলওয়ে এলাকার পানিতে লোকজন থাকার খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বরলগ এলিমেন্টারির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হান্নাহ জর্গেনসেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর পানিতে নিখোঁজ থাকা ১০ বছরের শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমানকে খুঁজতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরদিন বুধবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হলে দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার থেকে আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের অফিস জানায়, আহমেদ আইওয়া সিটির বাসিন্দা ছিল। ঘটনার সঠিক কারণ কী এবং কীভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তার ছেলে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর হান্নাহ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমেদকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই হান্নাহ পানিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত দুজনই মারা যান। এই বিবরণটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে; কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। হান্নাহ জর্গেনসেন বরলগ এলিমেন্টারিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি গার্নার এলিমেন্টারিতে প্যারাএডুকেটর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সেখানে প্র্যাকটিকাম ও স্টুডেন্ট টিচিংও সম্পন্ন করেছিলেন। গার্নার এলিমেন্টারির পক্ষ থেকে তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ও নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। আহমেদের মৃত্যুতে আইওয়া সিটির বাংলাদেশি ও সুদানি কমিউনিটিতেও শোক নেমে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে আহমেদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। স্বজন ও পরিচিতরা তাকে হাসিখুশি, ভদ্র ও বুদ্ধিমান শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তারা জানান, আহমেদ ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। এদিকে ঘটনার পর আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী শিক্ষা সফরগুলো বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্কুল স্টাফদের জন্য কাউন্সেলর এবং অতিরিক্ত সাপোর্ট স্টাফের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে জনসন কাউন্টি মেট্রো ডাইভ টিম, স্থানীয় ফায়ার ও পুলিশ বিভাগ, আইওয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস, আইওয়া স্টেট প্যাট্রোল, ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্সসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। ঘটনাটির তদন্ত এখনো জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের নেতৃত্বে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। সিরির কিছু ঘোষিত সুবিধা সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির মীমাংসা অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা প্রতি ফোনের জন্য সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পেতে পারেন। ক্লেইম জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬। মীমাংসার আনুষ্ঠানিক নোটিশ অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৪ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কিনেছেন, এমন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা যোগ্য হতে পারেন। ফোনটি পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা হলে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলের ফোন কেনাই ক্লেইম পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। আবেদনপত্রে ক্রেতাকে নিশ্চিত করতে হবে যে ফোন কেনার সময় তিনি সিরির নির্দিষ্ট অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু তা পাননি। ফোন কেনা ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও দিতে হবে। বৈধ ক্লেইমের জন্য প্রাথমিক হিসাবে প্রতি যোগ্য ফোনে ২৫ ডলার ধরা হয়েছে। মোট কতগুলো ক্লেইম জমা পড়ে এবং আদালত অনুমোদিত খরচের পর কত অর্থ থাকে, তার ভিত্তিতে এই অঙ্ক বাড়তে বা কমতে পারে। তবে প্রতি ফোনে সর্বোচ্চ অর্থের সীমা ৯৫ ডলার। সব ক্লেইম যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে না। মামলায় ক্রেতাদের অভিযোগ, অ্যাপল নির্দিষ্ট কিছু সিরি ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, সেগুলো সময়মতো দেয়নি। অ্যাপল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মীমাংসায় সম্মত হওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম স্বীকার করা নয়; আদালতও কোনো পক্ষের অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেননি। যোগ্য ক্রেতাকে অর্থ পেতে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে মীমাংসা প্রশাসকের নির্ধারিত ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। আদালতে মীমাংসার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে শুনানি নির্ধারিত আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অর্থ দেওয়া হবে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে শহরের ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোঁজার অভিযোগে কুইন্সের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানায়, কেভিন রদ্রিগেজ ও স্যামুয়েল রেভেরনের বিরুদ্ধে ট্রেসপাসিং ও কনস্পিরেসির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৬১ স্ট্রিটের কাছে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে ছয়জনের একটি দল ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। নজরদারি ক্যামেরায় তাদের ম্যানহোলে নামতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কয়েকজনকে একই ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরে তারা দুটি গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে যায়। কুইন্সবরো ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেট ও ভেহিকল শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিক হিসেবে রদ্রিগেজ ও রেভেরনকে শনাক্ত করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুজন পুলিশকে জানান, তারা স্যুয়ার ও স্টর্ম ড্রেনে ভেসে আসা মূল্যবান জিনিস খুঁজতে ম্যানহোলে ঢুকেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খোঁজার কথাও বলেছেন বলে আদালতের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে। যে এলাকায় ম্যানহোলটি রয়েছে, সেটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবস্থান করা একটি হোটেলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও ফেডারেল এজেন্টরা এলাকায় অতিরিক্ত তল্লাশি চালালেও কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হয়ে রদ্রিগেজ ও রেভেরন নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষী নন বলে জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় দুজনকেই জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রেভেরনকে সুপারভাইজড রিলিজ এবং রদ্রিগেজকে নিজের দায়িত্বে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ম্যানহোল ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া মানুষের প্রবেশের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কয়েকটিতে মানুষ স্টর্ম ড্রেন ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় ভেসে আসা স্ক্র্যাপ মেটাল ও মূল্যবান জিনিস খুঁজতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপার ইস্ট সাইডের ঘটনাটিও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিস্ফোরণের পর শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনটিতে অবস্থান করা দুই মার্কিন দম্পতির সদস্যরাও হতাহত ও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। উদ্ধার অভিযান চলছে। এথেন্সের পর্যটনকেন্দ্র অ্যাক্রোপলিসের কাছে দুই তলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার প্রথমে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবার পরিচয় তখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ভবনটির একটি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে দুই মার্কিন দম্পতি ছিলেন। অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন এক ব্রিটিশ পুরুষ ও এক গ্রিক নারী। শুক্রবার বিকেলে এথেন্স থেকে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল মার্কিন পর্যটকদের, কিন্তু তাঁরা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাননি বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও দুজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়ি, দোকান ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন তিনজন। পাশের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় উদ্ধারকাজ সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এথেন্সের মেয়র হারিস দোকাস প্রাথমিকভাবে গ্যাসসংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ কারণ অনুসন্ধান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি বিল এনেছেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে ডিভি লটারি বন্ধ হবে, মার্কিন নাগরিকদের মা-বাবাসহ কয়েকটি পারিবারিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের সুযোগ শেষ হবে এবং চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়ার নিয়ম বদলে পয়েন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বিলটি এখনো আইন হয়নি; বর্তমান আবেদনকারীদের নিয়মেও এ কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকের মা-বাবাকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক তাঁর মা-বাবার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিলটি কয়েকটি পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিও বাতিল করতে চায়। তবে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আবেদনের পথ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনেই সীমিত নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিলের প্রস্তাব থাকা ক্যাটাগরিগুলোতে বিচারাধীন আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। বিল কার্যকর হওয়ার আগে অনুমোদিত আবেদন থেকে কতজন ভিসা পাবেন, তার ওপরও একটি অন্তর্বর্তী সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন হলে ইতিমধ্যে আবেদন করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরিগুলোর জায়গায় পয়েন্ট পদ্ধতি আনার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব, বয়স, ইংরেজিতে দক্ষতা, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে এবং তাঁকে অন্তত ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত বেতনের শর্তও পূরণ করতে হবে। বিলে চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার বার্ষিক প্রাথমিক সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলের নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমতে পারে। ডিভি লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়াও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। টিউবারভিলের সিনেট বিলের আগে এপ্রিলে প্রতিনিধি পরিষদে একই উদ্দেশ্যে একটি বিল এনেছিলেন আলাবামার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্যারি মুর। সিনেটের প্রস্তাবে কিছু শর্ত ও কার্যকরের সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া পেরোতে হবে। তত দিন গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারির নিয়ম বদলে গেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় ইরান, তবে হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের মুখে কোনো সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার আগ্রহের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আস্থার সংকটও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পেজেশকিয়ান এর আগে অভিযোগ করেছেন, আলোচনা চলার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি। এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ স্পষ্ট করতে হবে বলে তিনি জানান। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে সংলাপের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সরাসরি আলোচনার ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।