সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পড়ালেখা ছেড়েছিলেন ৮০ বছর আগে, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা সনদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১২:৫৬
অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে নিজের অসম্পূর্ণ হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ হাতে পেলেন পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে নিজের অসম্পূর্ণ হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ হাতে পেলেন পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ৮০ বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার পল লিটলকে। ১৯৪৬ সালে ডালাস সেন্টার হাইস্কুল থেকে তার স্নাতক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করায় আর পড়াশোনা শেষ করা হয়নি। অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেলেন হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ।

 

সম্প্রতি ডালাস সেন্টারের একটি নার্সিং হোমে লিটলকে চমকে দিতে হাজির হন স্থানীয় ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস স্কুল জেলার কর্মকর্তারা। সেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য সম্মানসূচক ডিপ্লোমা। এত বছর পর ডিপ্লোমা হাতে পেয়ে লিটল জানান, অবশেষে তিনি স্নাতক হওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন।

 

স্কুলজীবন শেষ করতে না পারলেও শিক্ষার সঙ্গে লিটলের সম্পর্ক কখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন তিনি কৃষিকাজ করেছেন। নিজের প্রয়াত স্ত্রী এলেনরকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্যানোরামা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে তিনি বহু বছর ধরে অর্থ দিয়ে আসছেন।

 

প্যানোরামা স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক কেসি হিউবনার জানান, গত ১৫ থেকে ১৮ বছরে লিটল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তার সহায়তায় ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে।

 

ডালাস সেন্টারে ফিরে নার্সিং হোমে থাকার সময়ও শিক্ষার প্রতি তার এই আগ্রহ অব্যাহত ছিল। নিজের যে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ হয়নি, সেই ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস শিক্ষা ফাউন্ডেশনে তিনি ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

স্কুল জেলার তত্ত্বাবধায়ক স্কট ব্লুম বলেন, ১৯৪৬ সালের শ্রেণির জন্য লিটলকে সম্মানসূচক ডিপ্লোমা দিতে পারা তাদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

 

লিটল নিজেও শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার মতে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও অন্যদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা করে গেছেন তিনি। এ কারণেই ৯৮ বছর বয়সে পাওয়া ডিপ্লোমা শুধু তার নিজের শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বীকৃতিই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য তার দীর্ঘদিনের অবদানেরও একটি বিশেষ স্বীকৃতি হয়ে উঠেছে।

 

১৯৪৬ সালে যে ডিপ্লোমা পাওয়ার কথা ছিল, সেটি হাতে পেতে পল লিটলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় আট দশক। পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কৈশোরে পড়ালেখা ছাড়লেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার মানসিকতা কখনো থেমে থাকেনি। ৯৮ বছর বয়সে এসে সেই অসমাপ্ত অধ্যায় অবশেষে পূর্ণতা পেল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে কমলা হ্যারিসকে এড়িয়ে চলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রচারণায় বাড়ছে অস্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রে কমলা হ্যারিসকে এড়িয়ে চলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রচারণায় বাড়ছে অস্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে তাঁর এই ফেরা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রবল অস্বস্তি; অনেক ডেমোক্র্যাট নেতাই চাইছেন তিনি যেন প্রচারণায় অংশ না নেন। সম্প্রতি মিশিগানে বিতর্কিত মার্কিন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে গিয়ে নিজের পুরোনো ‘শব্দজট’ (ওয়ার্ড সালাদ) বা অসংলগ্ন বক্তব্যের বৃত্তেই আটকে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে।   জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং নেভাডায় অ্যারন ফোর্ডের জন্য কমলা হ্যারিসের প্রচারণার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সরাসরি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করছেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন তাঁর রাজ্যে হ্যারিসের সফরকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।   এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "তাঁকে অসম্মান করছি না, তবে তিনি আমার কোনো উপকারে আসবেন না। আমরা ভিন্ন ঘরানার ডেমোক্র্যাট... আমার রাজ্যে তাঁর আসার দরকার নেই, এতে উল্টো আমারই ক্ষতি হবে।"   রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের চোখেও হ্যারিসের এই প্রচারণায় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কাজ করা এক ডেমোক্র্যাট কর্মী জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস ইতিমধ্যেই অনেকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।   অন্যদিকে, এক রিপাবলিকান সূত্রের মতে, শীর্ষ প্রচারক হিসেবে হ্যারিসের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে এবং তাঁর জনসমর্থন অত্যন্ত হতাশাজনক। ওই সূত্রটি আরও দাবি করে, প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এখনও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন; বড়জোর জর্জিয়া বা মিসিসিপির মতো কয়েকটি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার টানতে তিনি কিছুটা কাজে আসতে পারেন।   সম্প্রতি ডেট্রয়েটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কমলা হ্যারিসের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভাবস্থা ও মাতৃকালীন পরিচর্যা নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে এবং ডেমোক্র্যাট কর্মীদের মধ্যেও হাসির খোরাক জোগায়।   একই অনুষ্ঠানে মিশিগানের আকার ও প্রকৃতি নিয়ে তিনি দীর্ঘ এক বক্তৃতা দিলেও সেখানে কোনো সারমর্ম ছিল না। তাঁর এমন আচরণে প্রার্থী এল-সায়েদকেও নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে হারার পর থেকে কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। হার্ভার্ড-হ্যারিসের একটি জরিপ অনুযায়ী, তাঁর পক্ষে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ, যেখানে বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ।   আলাস্কার সিনেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার কাছ থেকে প্রচারণার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হ্যারিস এখন এমন কয়েকটি নিরাপদ জায়গার সন্ধানে রয়েছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি অন্তত কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এত কিছুর পরও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর গড়ে তিনি সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন, যদিও সমালোচকদের মতে এটি কেবল তাঁর পরিচিতির কারণেই টিকে আছে এবং এই সমর্থন খুবই দুর্বল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৩:২৭
অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে নিজের অসম্পূর্ণ হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ হাতে পেলেন পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পড়ালেখা ছেড়েছিলেন ৮০ বছর আগে, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য জানাতে হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ট্যাক্স রিটার্নে নাগরিকত্ব বা ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দিতে হতে পারে, ২০২৬ সালের খসড়া ফর্মে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে এক শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা সফরে মর্মান্তিক মৃত্যু, ১০ বছরের শিক্ষার্থী ও তরুণী শিক্ষিকার প্রাণ গেল আইওয়ার লেকে

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
২৫ কোটি ডলারের মামলায় আইফোন ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের আবেদন শুরু, জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। সিরির কিছু ঘোষিত সুবিধা সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির মীমাংসা অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা প্রতি ফোনের জন্য সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পেতে পারেন। ক্লেইম জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬।   মীমাংসার আনুষ্ঠানিক নোটিশ অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৪ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কিনেছেন, এমন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা যোগ্য হতে পারেন। ফোনটি পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা হলে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়।   তবে নির্দিষ্ট মডেলের ফোন কেনাই ক্লেইম পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। আবেদনপত্রে ক্রেতাকে নিশ্চিত করতে হবে যে ফোন কেনার সময় তিনি সিরির নির্দিষ্ট অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু তা পাননি। ফোন কেনা ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও দিতে হবে।   বৈধ ক্লেইমের জন্য প্রাথমিক হিসাবে প্রতি যোগ্য ফোনে ২৫ ডলার ধরা হয়েছে। মোট কতগুলো ক্লেইম জমা পড়ে এবং আদালত অনুমোদিত খরচের পর কত অর্থ থাকে, তার ভিত্তিতে এই অঙ্ক বাড়তে বা কমতে পারে। তবে প্রতি ফোনে সর্বোচ্চ অর্থের সীমা ৯৫ ডলার। সব ক্লেইম যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে না।   মামলায় ক্রেতাদের অভিযোগ, অ্যাপল নির্দিষ্ট কিছু সিরি ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, সেগুলো সময়মতো দেয়নি। অ্যাপল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মীমাংসায় সম্মত হওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম স্বীকার করা নয়; আদালতও কোনো পক্ষের অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেননি।   যোগ্য ক্রেতাকে অর্থ পেতে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে মীমাংসা প্রশাসকের নির্ধারিত ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। আদালতে মীমাংসার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে শুনানি নির্ধারিত আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অর্থ দেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১১:৩০
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢোকার অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহোলে ঢুকে সোনা-দামি জিনিস খোঁজার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার কুইন্সের দুই ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি নতুন বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত

শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান তারেক রহমানের

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গান চেজের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা সহজ: বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ওই বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে আস্থা ও নীতির পূর্বানুমেয়তা প্রয়োজন। তাঁর সরকার বাংলাদেশে সেই পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে।   বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, পণ্য পরিবহন, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।   বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, নিয়মকানুন কতটা স্থিতিশীল থাকবে, বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে কি না এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়া যাবে কি না, এসব প্রশ্নের জবাব নীতি ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগের বাধা দূর করতে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:৯
আসক্ত করার অভিযোগে মামলা নিষ্পত্তিতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরের সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

0 Comments